logo

সিনেমার চরিত্র নয়, সত্যিই কারগিলের যুদ্ধে ছিলেন নানা পাটেকার

এশিয়া পোস্ট বিনোদন
এশিয়া পোস্ট বিনোদন
সিনেমার চরিত্র নয়, সত্যিই কারগিলের যুদ্ধে ছিলেন নানা পাটেকার
কারগিল যুদ্ধে নানা পাটেকার। ছবি: ভারতীয় গণমাধ্যম থেকে

বলিউডের পর্দায় সেনা কর্মকর্তার চরিত্রে অভিনয় করেছেন বহু অভিনেতা। কেউ কেউ আবার চরিত্রকে বাস্তবসম্মত করে তুলতে সেনাবাহিনীর কাছ থেকে প্রশিক্ষণও নিয়েছেন। কিন্তু সিনেমার প্রস্তুতির সেই অভিজ্ঞতাকে বাস্তব যুদ্ধের ময়দান পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার ঘটনা নিঃসন্দেহে বিরল। বলিউড অভিনেতা নানা পাটেকারের জীবনে তেমনই এক অধ্যায় রয়েছে।

অভিনেতা হিসেবে পরিচিত হলেও ১৯৯৯ সালের কারগিল যুদ্ধের সময় ভারতীয় সেনাদের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে ছিলেন অভিনেতা নানা পাটেকার। প্রায় দুই মাস তিনি সেনাসদস্যদের সঙ্গে বিভিন্ন সংঘাতপ্রবণ এলাকায় অবস্থান করেন। এমনকি যুদ্ধের সময় ‘কুইক রিঅ্যাকশন টিম’-এর সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন বলে জানিয়েছিলেন তিনি।

নানা পাটেকরের আসল নাম বিশ্বনাথ পাটেকার। ১৯৭৮ সালে ‘গমন’ সিনেমার পার্শ্বচরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রে তার যাত্রা শুরু হয়। পরে ‘সালাম বম্বে’, ‘পারিন্দা’, ‘অঙ্গার’ ও ‘প্রহার’-এর মতো সিনেমায় অভিনয় করে নিজের অবস্থান শক্ত করেন। অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি। ২০১৩ সালে পান ভারতের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পদ্মশ্রী।

তবে কারগিলের সঙ্গে নানা পাটেকারের সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল আরও আগে। ১৯৯১ সালে মুক্তি পায় তার পরিচালিত ও অভিনীত সিনেমা ‘প্রহার: দ্য ফাইনাল অ্যাটাক’। এতে তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর মারাঠা লাইট ইনফ্যান্ট্রির একজন মেজর চরিত্রে অভিনয় করেন। চরিত্রটির জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে তিনি সত্যিকারের সেনা প্রশিক্ষণ নেন। প্রায় তিন বছর মারাঠা লাইট ইনফ্যান্ট্রির সঙ্গে কঠোর প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে যান তিনি। এই প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতাই পরে তাকে নিয়ে যায় বাস্তব যুদ্ধের ময়দানে।

১৯৯৯ সালে কারগিল যুদ্ধ শুরু হলে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেন নানা। এ জন্য প্রথমে সেনাবাহিনীর আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। তবে সাধারণ একজন অভিনেতাকে যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানানো হয়। পরে তাকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী জর্জ ফার্নান্দেজের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়।

২০২৪ সালে এক সাক্ষাৎকারে সেই ঘটনার কথা জানান নানা পাটেকার। তিনি বলেন, জর্জ ফার্নান্দেজকে ফোন করে যুদ্ধের এলাকায় যাওয়ার ইচ্ছার কথা জানালে প্রথমে তাকে বলা হয়েছিল, এটি সম্ভব নয়। তখন নানা জানান, সাধারণ সামরিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তিনি মারাঠা লাইট ইনফ্যান্ট্রির সঙ্গে তিন বছর প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং অস্ত্র ও রাইফেল চালনায়ও তার অভিজ্ঞতা রয়েছে। নানার প্রশিক্ষণের কথা জানার পর প্রতিরক্ষামন্ত্রী তার সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলেন। শেষ পর্যন্ত যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়ার অনুমতি পান এই অভিনেতা।

প্রায় ৬০ দিন তিনি সেনাসদস্যদের সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় ছিলেন। দ্রাস, কুপওয়ারা, বারামুল্লা ও সোপোরসহ সংঘাতপ্রবণ এলাকাগুলোতে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। যুদ্ধের সময় ‘কুইক রিঅ্যাকশন টিম’-এর সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন বলে জানান নানা। তবে সেখানে তার নির্দিষ্ট দায়িত্ব কী ছিল, তা প্রকাশ করেননি। এ বিষয়ে কিছু তথ্য প্রকাশের ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

কারগিলের সেই অভিজ্ঞতা নানার জন্য মোটেও সহজ ছিল না। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, শ্রীনগরে পৌঁছানোর সময় তার ওজন ছিল ৭৬ কেজি। প্রায় দুই মাস পর বাড়ি ফেরার সময় ওজন কমে দাঁড়িয়েছিল ৫৬ কেজিতে। তবু সেই সময়কে জীবনের বিশেষ একটি অভিজ্ঞতা হিসেবেই দেখেছেন নানা পাটেকার। তার ভাষায়, ‘আমি নিজেকে সুখী মনে হচ্ছিল। দেশের জন্য অন্তত কিছুটা তো করতে পারলাম।’

কারগিল যুদ্ধের পর অনেক তারকাই আহত সেনাসদস্যদের সঙ্গে দেখা করেছেন, তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু যুদ্ধ চলাকালে সরাসরি সেনাদের সঙ্গে যুদ্ধক্ষেত্রে অবস্থান করা তারকাদের তালিকায় নানা পাটেকরের নামটি আলাদা করে উল্লেখ করা হয়। সিনেমার পর্দায় সেনা কর্মকর্তার চরিত্রে অভিনয় করা থেকে শুরু করে সত্যিকারের যুদ্ধের সময়ে সেনাদের পাশে দাঁড়ানো- তার জীবনের এই অধ্যায় তাই আজও ব্যতিক্রমী।

তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়া টুডে, টাইমস অব ইন্ডিয়া