logo

রাহুলের শেষকৃত্য সম্পন্ন

রাহুলের শেষকৃত্য সম্পন্ন

শোকের আবহে আড়ম্বরহীনভাবেই সম্পন্ন হলো অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের শেষকৃত্য। সোমবার বিকেলে তার দেহ নিয়ে যাওয়া হয় কেওড়াতলা মহাশ্মশানে, যেখানে সম্পন্ন হয় শেষকৃত্য।

ধারাবাহিকের শ্যুটিংয়ের জন্য দিন কয়েক আগে তালসারি গিয়েছিলেন অভিনেতা। সেখানেই সমুদ্রের ধারে শুটিং চলাকালীন ঘটে দুর্ঘটনা। সহ-অভিনেত্রী শ্বেতার সঙ্গে পানিতে পড়ে যান তিনি। শ্বেতাকে দ্রুত উদ্ধার করা গেলেও দীর্ঘ সময় নিখোঁজ ছিলেন রাহুল। পরে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে রোববার (২৯ মার্চ) চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে জানা যায়, পানিতে ডুবেই মৃত্যু হয়েছে অভিনেতার। তার ফুসফুসে প্রচুর পরিমাণে বালি ও নোনা পানি পাওয়া গেছে। এছাড়াও খাদ্যনালি, শ্বাসনালি এবং পাকস্থলীতেও বালি প্রবেশ করেছিল। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকার ফলেই ফুসফুস ফুলে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। অনুমান, অন্তত এক ঘণ্টা ডুবে ছিলেন তিনি।

ময়নাতদন্তের পর তমলুক থেকে তার দেহ নিয়ে আসা হয় বিজয়গড়ের বাড়িতে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রিয়ঙ্কা সরকার, বৃদ্ধা মা এবং ১১ বছরের পুত্র সহজ।

এরপর শেষবারের মতো অভিনেতাকে দেখতে ভিড় জমান প্রতিবেশী, অনুরাগী ও সহকর্মীরা। তবে পরিবারের তরফে অনুরোধ জানানো হয়, কোনো রকম আড়ম্বর না করে তাদের ব্যক্তিগত সময় দেওয়া হোক। সন্তানের কথা ভেবেই শেষকৃত্যে সরলতা বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নেয় পরিবার।

এদিন শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন—টলিউডের বহু পরিচিত মুখ। তাদের মধ্যে ছিলেন সব্যসাচী চক্রবর্তী, মিঠু চক্রবর্তী, গৌরব চক্রবর্তী, ঋদ্ধিমা ঘোষ, ইশা সাহা, দিতিপ্রিয়া রায়, রূপম ইসলাম, শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়সহ আরও অনেকে। উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ সেলিমসহ রাজনৈতিক মহলের প্রতিনিধিরাও।

পরিবারের ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে বাড়ি থেকে পদযাত্রার মাধ্যমে শববাহী গাড়ি নিয়ে যাওয়া হয় মহাশ্মশানের উদ্দেশে। পথে সাধারণ মানুষ ও বামপন্থি সমর্থকদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। ‘জাগো জাগো সর্বহারা’ গান এবং ‘লাল সেলাম’-এর মধ্য দিয়েই অভিনেতাকে শেষ বিদায় জানান সবাই।