ট্রেনে হামলা ও বিবস্ত্রের ঘটনায় গ্রেপ্তার বলিউড অভিনেত্রী

রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্সের (আরপিএফ) সদস্যদের ওপর রেজর ব্লেড দিয়ে হামলা, গালিগালাজ ও ট্রেনের কামরায় বিবস্ত্র হওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলিউড অভিনেত্রী অন্তরা ব্যানার্জিকে। গত ১২ আগস্ট বান্দ্রা-গঙ্গানগর আরাবলি এক্সপ্রেসে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ফ্রি প্রেস জার্নাল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুটিংয়ের কাজে সুরাট যাচ্ছিলেন অন্তরা। তার কাছে স্লিপার শ্রেণির টিকিট থাকলেও তিনি সংরক্ষিত এসি কামরায় ওঠেন। এ নিয়ে এক যাত্রীর সঙ্গে তার বিরোধের সূত্রপাত হয়। রাত সাড়ে ৯টা থেকে রাত ১০টা ৫০ মিনিটের মধ্যে বোরিভালি ও দাহানুর মধ্যবর্তী এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।
মামলার নথিতে বলা হয়েছে, এক যাত্রী তার সংরক্ষিত আসন ছেড়ে দেওয়ার জন্য অন্তরাকে অনুরোধ করেন। তিনি তা প্রত্যাখ্যান করলে বিষয়টি টিকিট পরীক্ষক হরিকেশ ত্রিপাঠি ও আরপিএফ সদস্যদের জানানো হয়।
খবর পেয়ে আরপিএফের সহকারী সাব-ইন্সপেক্টর যামিনিকান্ত মিশ্রা ও কনস্টেবল রাজেশ কুমার ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। অভিযোগ, এ সময় অন্তরা কর্মকর্তাদের গালিগালাজ করেন এবং পরে সহিংস হয়ে ওঠেন।
পুলিশের অভিযোগ, একপর্যায়ে অন্তরা নিজের পোশাক খুলে ফেলেন এবং একটি রেজর ব্লেড বের করে ভয় দেখান। এ সময় তিনি যামিনিকান্ত মিশ্রা ও নিজেকেও আহত করেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া মিশ্রার ইউনিফর্ম ও মোবাইল ফোন ভাঙচুরের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আরপিএফ সদস্যরা এসি কামরার দরজা বন্ধ করে দেন। অভিযোগ, পরে অন্তরা সেখান থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন এবং ট্রেনের জানালার কাচ ভাঙার চেষ্টা করেন। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এ ঘটনায় ট্রেনের অন্য যাত্রীরাও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
পরে দাহানু স্টেশনে তাকে নামিয়ে সরকারি রেলওয়ে পুলিশের (জিআরপি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরদিন সকালে বোরিভালি রেলওয়ে পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়।
বোরিভালি জিআরপির পরিদর্শক কুন্ডা গাভাডের ভাষ্য, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, এসি কামরার টিকিট না পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে অন্তরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ তাকে আত্মীয়স্বজন বা আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দিতে চাইলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং নিজেই তাকে গ্রেপ্তার করার দাবি জানান।
পুলিশের দাবি, এফআইআর নথিভুক্ত হওয়ার পর অন্তরা শান্ত হন।
গত ১৩ আগস্ট তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। জনসাধারণের নিরাপত্তা বিপন্ন করা, সরকারি কর্মচারীদের গুরুতর আহত করা, হামলা এবং ইচ্ছাকৃতভাবে অপমান করার মতো অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। পরে জামিনে মুক্তি পান এই অভিনেত্রী।


