logo

অভিনয়ের পাশাপাশি নানা পাটেকার ছিলেন দুর্দান্ত রাঁধুনি

এশিয়া পোস্ট বিনোদন
এশিয়া পোস্ট বিনোদন
অভিনয়ের পাশাপাশি নানা পাটেকার ছিলেন দুর্দান্ত রাঁধুনি
রাঁধতে ভালোবাসতেন নানা পাটেকার। ছবি: ভারতীয় গণমাধ্যম থেকে

অভিনেতা হিসেবে ভারতীয় চলচ্চিত্রে নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করেছিলেন নানা পাটেকার। অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনাতেও রেখেছেন দক্ষতার ছাপ। এমনকি কারগিল যুদ্ধের সময় ভারতীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি। তবে পর্দার বাইরের নানা পাটেকার ছিলেন একেবারেই অন্যরকম। সাদামাটা জীবনযাপন, নিজের হাতে কাজ করা আর রান্নার প্রতি ভালোবাসার কারণে কাছের মানুষের কাছে ছিলেন বেশ আপন একজন।

বিশেষ করে রান্নার প্রতি তার ছিল আলাদা টান। রান্না করতে যেমন ভালোবাসতেন, তেমনি নিজের হাতে রান্না করে অন্যকে খাওয়াতেও আনন্দ পেতেন। এতটাই যে, একবার নিজেই বলেছিলেন- অভিনয়ের চেয়ে তিনি ভালো রাঁধুনি।

২০১৫ সালে দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নানা পাটেকার বলেছিলেন, রান্না তার আরেকটি শখ। মানুষকে খাওয়াতে তার খুব ভালো লাগে। এমনকি নিজের রান্নার দক্ষতা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী হয়ে তিনি বলেছিলেন, অভিনেতার চেয়ে তিনি ভালো রাঁধুনি।

শুধু নিজের জন্য রান্না করেই থেমে থাকতেন না নানা। একসঙ্গে প্রায় ২০০ মানুষের জন্য রান্না করতে পারতেন তিনি। দ্য লাল্লানটপকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়েছিলেন অভিনেতা।

শুটিং সেটেও মাঝেমধ্যে রান্নার আয়োজন করতেন নানা পাটেকার। তবে সেখানে রান্নার সব দায়িত্ব নিজের কাঁধে রাখতেন না। সহকর্মীদেরও কাজে যুক্ত করতেন। কাউকে সবজি কাটতে দিতেন, কেউ করতেন খোসা ছাড়ানোর কাজ। এভাবেই রান্নার আয়োজনটা হয়ে উঠত সবার অংশগ্রহণের একটি মুহূর্ত।

রান্নার ক্ষেত্রে নানার বিশেষ দক্ষতা ছিল মাংসের বিভিন্ন পদে। খাসির পায়া, কিমা কলিজা ও মগজের মতো খাবার তৈরিতে পারদর্শী ছিলেন তিনি। রান্নায় ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় মশলাও অনেক সময় বাড়িতেই তৈরি করে নিতেন।

তার হাতের রান্নার প্রশংসা করেছেন চলচ্চিত্রের অনেক তারকাও। অভিনেতা রাজপাল যাদবের সঙ্গে নানার একটি পুরোনো ভিডিওতেও দেখা যায়, নিজের হাতে রান্না করা খাবার তাকে খাওয়াচ্ছেন অভিনেতা। খাবারের পাশাপাশি মানুষকে আপন করে নেওয়ার এই স্বভাবটিও ছিল নানা পাটেকারের ব্যক্তিত্বের অন্যতম দিক।

চলচ্চিত্রের ব্যস্ততা না থাকলে পুনের সিংহগড় দুর্গের কাছের নিজের খামারবাড়িতে সময় কাটাতেন নানা। সেখানে জমিতে চাষাবাদ করতেন, সবজি ফলাতেন এবং নিজের মতো করে সময় কাটাতেন। দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া সেই সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, তার প্রায় ১০ একর জমি ছিল। সেখানে কৃষকের মতো নিজেই জমি চাষ করতেন এবং মহিষও দেখাশোনা করতেন।

পর্দায় নানা পাটেকারকে যতটা কঠোর, তীব্র কিংবা শক্তিশালী চরিত্রে দেখা গেছে, ব্যক্তিজীবনে তার এই সরল ও ঘরোয়া দিকটি ছিল অনেকটাই আলাদা। রান্না, কৃষিকাজ আর কাছের মানুষদের নিয়ে সময় কাটানোতেই যেন খুঁজে নিতেন নিজের স্বস্তি।

তবে সেই মানুষটি আর নেই। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে ৭৫ বছর বয়সে মারা গেছেন নানা পাটেকার। গোয়ার নিজ বাসভবনে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও বাঁচানো যায়নি। তার মৃত্যুতে ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

অভিনয় দিয়ে কোটি দর্শকের মনে জায়গা করে নেওয়া নানা পাটেকারের এই অন্য পরিচয়গুলোও তার ভক্তদের কাছে হয়তো তাকে আরও আপন করে তুলবে একজন তারকা হিসেবে নয়, বরং নিজের হাতে রান্না করা খাবার দিয়ে মানুষকে খুশি করতে ভালোবাসা এক সাধারণ মানুষ হিসেবে।

সূত্র: দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, দ্য লাল্লানটপ, এনডিটিভি।