logo
Advertisement

সালমানের মধ্যে উইল স্মিথের ছায়া দেখেছেন ‘৭ ডগস’-এর নির্মাতারা

এশিয়া পোস্ট বিনোদন
সালমানের মধ্যে উইল স্মিথের ছায়া দেখেছেন ‘৭ ডগস’-এর নির্মাতারা
উইল স্মিথ ও সালমান খান

বলিউড সুপারস্টার সালমান খানকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে আন্তর্জাতিক অ্যাকশন থ্রিলার সিনেমা ‘৭ ডগস’। মরোক্কান-বেলজিয়ান নির্মাতা জুটি আদিল এল আরবি ও বিলাল ফালাহ পরিচালিত সিনেমাটিতে সালমানের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ উপস্থিতি রয়েছে সঞ্জয় দত্ত, ইতালীয় তারকা মনিকা বেলুচ্চি ও হলিউড অভিনেতা জিয়ানকার্লো এসপোসিতোর। সিনেমাটির প্রধান চরিত্রে রয়েছেন মিসরের তারকা করিম আবদেল আজিজ ও আহমেদ এজ।

Advertisement

২১ আগস্ট ভারতের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে ‘৭ ডগস’। মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে সিনেমাটি এরই মধ্যে মুক্তি পেয়েছে। ভারতীয় মুক্তিতে সালমান ও সঞ্জয় দত্তের ক্যামিওই দর্শকদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।

সিনেমাটিতে সালমানের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে নির্মাতাদের প্রশংসা নতুন মাত্রা যোগ করেছে সিনেমাটিকে ঘিরে আগ্রহে। আদিল এল আরবি জানান, ক্যামেরার সামনে সালমানের উপস্থিতি এবং স্বাভাবিক তারকাসুলভ আকর্ষণ তাকে বারবার হলিউড তারকা উইল স্মিথের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ক্যামেরা সালমানের দিকে তাক করা মাত্রই দৃশ্যের আবহ বদলে যায়। তার উপস্থিতির মধ্যে এমন এক ধরনের স্বাভাবিক ‘স্টার পাওয়ার’ রয়েছে, যা অভিনয় না করেও দর্শকের মনোযোগ কেড়ে নিতে পারে।

আদিলের মতে, সালমান খুব দ্রুত বুঝে নিতে পারেন একটি দৃশ্যে পরিচালক আসলে কী চান। প্রয়োজনীয় টেক দেওয়ার পরও নিজের অভিজ্ঞতা ও অভিনয়বোধ থেকে চরিত্রে অতিরিক্ত কিছু যোগ করেন তিনি। ফলে অনেক সময় একটি সাধারণ দৃশ্যও তার উপস্থিতিতে আলাদা মাত্রা পেয়ে যায়।

সালমানের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতাকে চলচ্চিত্র নির্মাণ শেখার এক ধরনের ‘ফিল্ম স্কুল’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন আদিল। তার মতে, একজন প্রতিষ্ঠিত তারকা কীভাবে ক্যামেরার সামনে মুহূর্তকে নিয়ন্ত্রণ করেন, সালমানের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে সেটিও শেখার সুযোগ হয়েছে।

সহ-পরিচালক বিলাল ফালাহও সালমানের অভিনয়শৈলীর প্রশংসা করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, শুটিংয়ের সময় সালমান কখনো কখনো নিজের পক্ষ থেকে সংলাপের ছোট পরিবর্তন কিংবা সূক্ষ্ম অভিব্যক্তি যোগ করতেন। পরে সম্পাদনার সময় সেই মুহূর্তগুলোই আলাদা করে নজর কাড়ত।

বিলালের মতে, খুব সামান্য একটি অঙ্গভঙ্গি কিংবা সংলাপের ধরন দিয়েও সালমান একটি দৃশ্যকে দর্শকের মনে গেঁথে দিতে পারেন। তার এই সহজাত ক্ষমতাই ক্যামেরার সামনে তাকে আলাদা করে তোলে।

এর আগে সালমান নিজেও ‘৭ ডগস’-কে বড় পর্দার জন্য তৈরি সিনেমা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সিনেমাটির আকার, অ্যাকশন এবং নির্মিত জগত—সবকিছুই বড় পরিসরের। তার মতে, বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্রশিল্প ও সংস্কৃতির মানুষের একসঙ্গে কাজ করার সুযোগও সিনেমাটিকে বিশেষ করে তুলেছে।

‘৭ ডগস’ নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৪ কোটি ডলারের বেশি। সিনেমাটিকে সৌদি আরবের অন্যতম উচ্চাভিলাষী চলচ্চিত্র প্রকল্প হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। পুরো সিনেমার শুটিং হয়েছে রিয়াদের আল-হিসন বিগ টাইম স্টুডিওসহ বিভিন্ন লোকেশনে। সিনেমাটির গল্প লিখেছেন সৌদি আরবের জেনারেল এন্টারটেইনমেন্ট অথরিটির চেয়ারম্যান তুর্কি আলালশিখ এবং চিত্রনাট্য লিখেছেন মোহাম্মদ আল-দাব্বাহ।

গল্পে ইন্টারপোল কর্মকর্তা খালিদ আল-আজাজি একটি আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রের প্রধানকে গ্রেপ্তার করেন। পরবর্তী সময়ে ভয়ংকর একটি নতুন মাদক মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা শুরু হলে সেই অপরাধচক্রের সঙ্গেই তাকে জটিল এক জোটে যেতে হয়। ফলে সিনেমাটিতে অপরাধ, আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র ও উচ্চমাত্রার অ্যাকশনের সমন্বয় ঘটেছে।

সিনেমাটির সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি এর বিশাল অ্যাকশন সেটপিস। ‘৭ ডগস’-এর শুটিংয়ের সময় রিয়াদে করা একটি বিস্ফোরণ ইতোমধ্যে দুটি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়েছে।

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, সিনেমাটির একটি দৃশ্যে ১৭০.৭ টন টিএনটি-এর সমতুল্য শক্তির বিস্ফোরণ ঘটানো হয়, যা ‘লার্জেস্ট ফিল্ম স্টান্ট এক্সপ্লোশন’ হিসেবে রেকর্ড হয়েছে। বিস্ফোরণটি ২০২৫ সালের ২৯ আগস্ট রিয়াদে ধারণ করা হয়েছিল।

একই শুটে ৪০৫.৮৫ কেজি টিএনটি ইকুইভ্যালেন্ট উচ্চমাত্রার বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়, যা একক চলচ্চিত্র দৃশ্যে সবচেয়ে বেশি হাই এক্সপ্লোসিভস ডিটোনেটেড ব্যবহারের রেকর্ডও গড়েছে। গিনেসের তথ্য অনুযায়ী, এই বিস্ফোরণে ৩২৫ কেজি নাইট্রাম ইমালশন, প্রায় ৪ কিলোমিটার পিইটিএন-ভিত্তিক ডিটোনেশন কর্ড, ১৫৯টি ইলেকট্রিক ব্লাস্টিং ক্যাপ এবং ২১ হাজার ২০০ লিটারের বেশি পেট্রোল ব্যবহার করা হয়েছিল।

বিস্ফোরণের প্রভাব আরও বাস্তবসম্মত করতে প্রায় ২০ টন বেন্টোনাইট ব্যবহার করা হয় এবং বেশ কয়েকটি বিশেষভাবে তৈরি ট্রাক ও ট্রেলার বিস্ফোরণে ধ্বংস করা হয়। ফলে ‘৭ ডগস’ শুধু আন্তর্জাতিক তারকাবহুল সিনেমা নয়, অ্যাকশন নির্মাণের দিক থেকেও বড় ধরনের প্রযুক্তিগত প্রদর্শনী হয়ে উঠেছে।

‘ব্যাড বয়েজ ফর লাইফ’ ও ‘ব্যাড বয়েজ: রাইড অর ডাই’-এর মতো হলিউড অ্যাকশন সিনেমা নির্মাণের অভিজ্ঞতা রয়েছে আদিল এল আরবি ও বিলাল ফালাহর। এবার সেই অভিজ্ঞতাকে আরব বিশ্বের বিশাল বাজেট ও আন্তর্জাতিক তারকাদের সঙ্গে মিলিয়ে তৈরি করেছেন ‘৭ ডগস’।

সালমান খান, সঞ্জয় দত্ত, মনিকা বেলুচ্চি, জিয়ানকার্লো এসপোসিতোসহ আন্তর্জাতিক তারকাদের উপস্থিতি এবং গিনেস রেকর্ড গড়া অ্যাকশনের কারণে সিনেমাটি ইতোমধ্যেই আরবি চলচ্চিত্রের গণ্ডি পেরিয়ে বৈশ্বিক দর্শকের আগ্রহ তৈরি করেছে। ভারতের প্রেক্ষাগৃহে ২১ আগস্ট মুক্তির পর সালমান-সঞ্জয়ের উপস্থিতি সিনেমাটিকে নতুন দর্শকগোষ্ঠীর কাছেও কতটা টেনে নিতে পারে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

সালমানের মধ্যে উইল স্মিথের ছায়া দেখেছেন ‘৭ ডগস’-এর নির্মাতারা