logo

প্রচারে দেব-শুভশ্রীর ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত, ‘নাটক-পাবলিসিটি স্টান্ট’ বলে কটাক্ষ

এশিয়া পোস্ট বিনোদন
এশিয়া পোস্ট বিনোদন
প্রচারে দেব-শুভশ্রীর ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত, ‘নাটক-পাবলিসিটি স্টান্ট’ বলে কটাক্ষ
দেব ও শুভশ্রী গাঙ্গুলি। ছবি: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে

দীর্ঘ বিরতির পর ফের জুটি বেঁধে আলোচনায় আছেন ভারতীয় বাংলা সিনেমার তারকা দেব ও শুভশ্রী গাঙ্গুলি। আসন্ন সিনেমা ‘দেশু ৭’-এর শুটিং থেকে শুরু করে বর্তমানে প্রচারে তাদের একের পর এক মুহূর্ত ঘিরে তৈরি হচ্ছে নতুন আলোচনা। এবার ত্রিপুরা ও শ্রীরামপুরে সিনেমাটির প্রচারণার সময় দেবের সঙ্গে শুভশ্রী ও ইধিকা পালের কিছু মুহূর্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সমালোচনাও শুরু হয়েছে।

সিনেমাটির প্রচারে ত্রিপুরায় হাজির হয়েছিলেন দেব, শুভশ্রী, ইধিকা পাল ও অনির্বাণ ভট্টাচার্য। সেখানকার একটি অনুষ্ঠানের ভিডিওতে দেখা যায়, শুভশ্রী ও ইধিকার মাঝখানে বসে আছেন দেব। একপর্যায়ে শুভশ্রীর কপালে লেগে থাকা কিছু একটা টিস্যু দিয়ে মুছে দেন তিনি। পরে একইভাবে ইধিকার কপালেও লেগে থাকা কিছু মুছে দিতে দেখা যায় তাকে।

ঘটনাটি অনেকের কাছে স্বাভাবিক ও মিষ্টি মুহূর্ত মনে হলেও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর ভিন্ন ব্যাখ্যাও দিয়েছেন কেউ কেউ। তাদের দাবি, সিনেমার প্রচারণাকে আকর্ষণীয় করে তুলতেই নায়িকাদের সঙ্গে দেবের এমন আচরণ।

শুধু তাই নয়, প্রচারের মঞ্চে শুভশ্রীর সঙ্গে দেবের আরেকটি মুহূর্তও নজর কেড়েছে। ‘তোর শুধু তোর’ গানে পারফর্ম করার সময় হাঁটু মুড়ে বসে শুভশ্রীর হাতে চুমু দেন দেব। মুহূর্তটি দেখে উপস্থিত দর্শকদের উচ্ছ্বাসও ছড়িয়ে পড়ে। পরে ইধিকা পালের সঙ্গে ‘ইলিশ চন্দনা’ গানে নাচতে দেখা যায় তাকে। একপর্যায়ে শুভশ্রীকেও হাত ধরে মঞ্চের মাঝখানে নিয়ে আসেন দেব।

এসব দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মন্তব্যের ঘরে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ দেবের আচরণকে ‘নাটক’ ও ‘পাবলিসিটি স্টান্ট’ বলে মন্তব্য করেছেন। আবার কেউ লিখেছেন, ‘নাটকের শেষ নেই।’ আরেকজন দেবকে উদ্দেশ করে মন্তব্য করেছেন, ‘শাহরুখ হওয়ার চেষ্টা করো না, তুমি পারবে না হতে, তোমায় প্লেবয় লাগছে সিরিয়াসলি।’

আরেক নেটিজেন লিখেছেন, ‘নেকামো আর গেল না, সিনেমা চালানোর জন্য কী না করতে পারে এরা।’ কেউ আবার দেবের বর্তমান প্রেমিকা রুক্মিণী মৈত্রর প্রসঙ্গ টেনে প্রশ্ন তুলেছেন, ‘রুক্মিণী দিদি কিছু বলছে না?’

তবে সব মন্তব্য যে সমালোচনামূলক, তা নয়। অনেকেই দেব-শুভশ্রীর পুরোনো রসায়ন দেখে নস্টালজিক হয়েছেন। তাদের মতে, একসময় দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় এই জুটির পর্দার বাইরের এমন স্বচ্ছন্দ মুহূর্তও স্বাভাবিকভাবেই আগ্রহ তৈরি করছে।

দেব নিজেও অবশ্য তাদের নিয়ে চলমান আলোচনা নিয়ে কিছুটা অস্বস্তির কথা জানিয়েছেন। কয়েক দিন আগে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আজকাল প্রাক্তনের সঙ্গে কথা বলতেও ভয় পাচ্ছি।’ তার ভাষ্য, দুজনেই সবকিছু স্বাভাবিক করার চেষ্টা করলেও আশপাশের মানুষের নানা আলোচনা সেই স্বাভাবিকতাকে বাধাগ্রস্ত করছে। এমন পরিস্থিতিতে সিনেমার প্রচার করতেও তিনি ভয় পাচ্ছেন বলে জানান অভিনেতা।

একসময় বাস্তব জীবনেও প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন দেব ও শুভশ্রী। ২০০৯ সালে রাজ চক্রবর্তী পরিচালিত ‘চ্যালেঞ্জ’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় এই জুটির যাত্রা শুরু হয়। পর্দার রসায়নের পাশাপাশি ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়েও তখন ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। এরপর ‘পরাণ যায় জ্বলিয়া রে’, ‘রোমিও’ ও ‘খোকাবাবু’র মতো সিনেমায় একসঙ্গে অভিনয় করেন তারা।

২০১৩ সালে ‘খোকা ৪২০’ মুক্তির পর তাদের সম্পর্কে ভাঙন আসে। এরপর দুজনই নিজেদের জীবনে আলাদা পথে এগিয়ে যান। দীর্ঘ বিরতির পর ২০১৫ সালে ‘ধূমকেতু’ সিনেমায় আবারও জুটি বাঁধেন তারা। দীর্ঘদিন আটকে থাকার পর সিনেমাটি গত বছর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়।

বর্তমানে শুভশ্রী পরিচালক রাজ চক্রবর্তীর সঙ্গে সংসার করছেন। অন্যদিকে দেবের সঙ্গে মডেল ও অভিনেত্রী রুক্মিণী মৈত্রর সম্পর্কের কথা দীর্ঘদিন ধরেই প্রকাশ্যে রয়েছে। ফলে পুরোনো প্রেমের জুটি আবার একসঙ্গে পর্দায় ফেরায় তাদের নিয়ে দর্শকদের আগ্রহও নতুন করে তৈরি হয়েছে।

এদিকে ‘দেশু ৭’ সিনেমার প্রচারণায় শুভশ্রীকে নেওয়ার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন দেব। মঞ্চে তিনি বলেন, “শুভশ্রী যদি ‘দেশু ৭’-এর টিমে থাকে, তাহলে আমার জেতার ৯৯ শতাংশ চান্স আছে। ‘দেশু ৭’ সিনেমায় নায়িকা হিসেবে শুভশ্রীকে প্রথম পছন্দ করার কারণ এটাই।”

দুর্গাপূজা উপলক্ষে মুক্তি পেতে যাওয়া সিনেমাটির মাধ্যমে পরিচালক হিসেবেও অভিষেক হচ্ছে দেবের। অভিনয়ের পাশাপাশি সিনেমাটির প্রযোজনার দায়িত্বেও রয়েছেন তিনি। এতে দেব-শুভশ্রীর পাশাপাশি অভিনয় করেছেন ইধিকা পাল, অনির্বাণ ভট্টাচার্য, রজতাভ দত্ত, অপরাজিতা আঢ্য, প্রিয়াঙ্কা সরকার, কাঞ্চন মল্লিক, লোকনাথ দেসহ আরও অনেকে।

আগামী ১৬ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে ‘দেশু ৭’-এর। সিনেমার মুক্তির আগে দেব-শুভশ্রীর এই প্রচারণার মুহূর্তগুলো নতুন করে দর্শকদের মধ্যে কতটা আগ্রহ তৈরি করে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা, সংবাদ প্রতিদিন