পাকিস্তানি সিনেমার এক অজানা উপাখ্যান

কাহিনির গভীরতা, অনবদ্য অভিনয় এবং সামাজিক প্রেক্ষাপটের শক্তিশালী উপস্থাপন পাকিস্তানি সিনেমাকে ক্ল্যাসিক করে তুলেছে। ধীরে ধীরে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা বাড়ছে এই ইন্ডাস্ট্রির। পাকিস্তানি সিনেভুবনের সবচেয়ে আলোচিত ও দর্শকপ্রিয় সিনেমা হলো ‘দ্য লিজেন্ড অব মাওলা জাট’। এই সিনেমা শুধু দর্শকপ্রিয়ই নয়, পাকিস্তানের ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যবসাসফলও বটে।
এক সময় বাংলাদেশের সব শ্রেণির মানুষের কাছে ব্যাপক চাহিদা ছিল ভারতীয় বিভিন্ন বাংলা আর হিন্দি সিনেমা ও সিরিয়াল। রাজনৈতিক নানা টানাপোড়েনে পাকিস্তানি সিনেমা এদেশে খুব বেশি একটা প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি। বর্তমানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের হাওয়া দেশের সিনেপ্রেমীদের মধ্যেও বইছে। পাকিস্তানি সিনেমা সম্পর্কে খুব বেশি একটা জানা নেই এদেশের মানুষের। হলিউড-বলিউড-দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রির সিনেমা নিয়ে চর্চা থাকলেও পাকিস্তানি সিনেমা নিয়ে সেভাবে আলোচনা হয় না।
পাকিস্তানি সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম কালজয়ী সিনেমা ‘দ্য লিজেন্ড অব মাওলা জাট’। সুপার অ্যাকশন, প্রতিশোধের নেশা এবং গ্রামীণ সমাজের রীতিনীতির ওপর ভিত্তি করে এই সিনেমা নির্মিত। মোদ্দাকথা, পাকিস্তানের ঐতিহ্যবাহী সিনেমার এক নিদর্শন। পুরো ১৫৩ মিনিট দর্শককে পর্দায় বুঁদ করে রাখতে সক্ষম হয় সিনেমাটি। মাওলা জাট আসলেই পাকিস্তানের লিজেন্ট। চলচ্চিত্রে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন ফাওয়াদ খান, হামজা আলি আব্বাসি, হুমাইমা মালিক এবং মাহিরা খান। এই অ্যাকশন সিনেমাটি মাওলা জাট নামে একজন স্থানীয় ব্যক্তির সঙ্গে তার নৃশংস জাতশত্রুর গোষ্ঠীগত সংঘাত ও প্রতিশোধের মিশন নিয়েই নির্মিত হয়েছে।
বিলাল লাসারির পরিচালিত ও চিত্রনাট্যে ২০২২ সালের নির্মিত হয় পাকিস্তানি পাঞ্জাবি ভাষার অ্যাকশনধর্মী এই ড্রামাটিক সিনেমা। এটি ১৯৭৯ সালের কাল্ট ক্ল্যাসিক ‘মাওলা জাটে’র নতুন সংস্করণ। সিনেমাটি পাকিস্তানি বক্স অফিস তোলপাড় করে তুলে নেয় ২০৫ কোটি পাকিস্তানি রুপি, যা সর্বোচ্চ আয় করা পাকিস্তানি সিনেমায় পরিণত হয়।
দুই গোত্রের গোষ্ঠীগত সংঘাতের চূড়ান্ত পর্যায়ে সর্দার জাটের হাবেলিতে আক্রমণ চালায় জিবা নাট ও গোত্রের লোকজন। সেই আক্রমণে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় সর্দার জাট ও তার স্ত্রীকে। ভাগ্যগুণে বেঁচে যাওয়া সর্দার জাটের ছেলে মাওলা এক নারীর কাছে বেড়ে ওঠে। আর ধীরে ধীরে নিজেকে গড়ে তোলে। তার গহিনে প্রতিশোধের নেশা প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকে। মাওলা বড় হয়ে একজন বিখ্যাত কুস্তিগির হয়। পাশাপাশি মনে মনে লড়াই করতে থাকে তার অতীতের হিংস্র স্বপ্নের সঙ্গে।
জিবা নাটের ছেলে মাখা নাটের অত্যাচারে আতঙ্কিত থাকে পুরো গ্রাম। বিভিন্ন ঘটনা প্রবাহে মাওলার মনে জ্বলতে থাকে প্রতিশোধের নেশা। বহু বাধা-বিপত্তি আর কাহিনির পর মাওলা নাটের বংশধরকে ধ্বংস করে হয়ে ওঠে গ্রামের মানুষের মধ্যমণি। এভাবেই ছোটবেলার পিতা-মাতার হত্যার প্রতিশোধ নেয় মাওলা জাট। এভাবেই পরিসমাপ্তি ঘটে পাকিস্তানের অন্যতম সফল সিনেমাটির।
লাসারি ফিল্মস ও এনসাইলোমিডিয়ার ব্যানারে ‘দ্য লিজেন্ড অব মাওলা জাট’ প্রযোজনা করেছেন আম্মারা হিকমত ও আসাদ জামিল খান। ২০২২ সালের ১২ অক্টোবর লাহোরের কিউ সিনেমাসে প্রথম প্রদর্শিত হয় ও ১৩ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়। এর দুর্দান্ত পরিচালনা, শিল্পীদের অভিনয়, সংগীত পরিচালনা, অভাবনীয় অ্যাকশন দৃশ্যের পাশাপাশি ভিজ্যুয়াল ইফেক্টের জন্য সমালোচকদের দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়। এটি বিশ্বব্যাপী ২০৫ কোটি পাকিস্তানি রুপি বা ৯০ লাখ ডলারের বেশি আয় করে। এর ফলে বক্স-অফিস রেকর্ড ভেঙে সর্বকালের সর্বোচ্চ আয়কারী পাকিস্তানি চলচ্চিত্র হয়ে ওঠে।
