যশের অতি আত্মবিশ্বাসে বড় লোকসানের মুখে ‘টক্সিক’

কন্নড় তারকা যশের বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘টক্সিক: আ ফেয়ারিটেল ফর গ্রোন-আপস’ ঘিরে শুরু থেকেই ছিল তুমুল আগ্রহ। গীতু মোহনদাস পরিচালিত সিনেমাটি মুক্তির আগে একাধিক বিতর্কে জড়ালেও ট্রেইলারে অ্যাকশন, রোমান্স ও তারকাদের উপস্থিতি দর্শকের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি করেছিল। তবে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর সেই প্রত্যাশা ধরে রাখতে পারেনি সিনেমাটি। এবার প্রেক্ষাগৃহের ব্যবসার পাশাপাশি ডিজিটাল স্বত্ব নিয়েও বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে ‘টক্সিক’।
বলিউড হাঙ্গামার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিনেমাটির ডিজিটাল স্বত্ব এখনও চূড়ান্তভাবে বিক্রি হয়নি। অথচ মুক্তির আগে একটি শীর্ষস্থানীয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘টক্সিক’-এর পোস্ট-থিয়েট্রিক্যাল স্বত্বের জন্য ১৫০ কোটি রুপির প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু নির্মাতাদের প্রত্যাশা ছিল ২০০ কোটি রুপির বেশি।
প্রতিবেদনটিতে একটি সূত্রের বরাতে জানানো হয়, যশের বিশ্বাস ছিল ‘টক্সিক’ প্রেক্ষাগৃহে ব্লকবাস্টার ব্যবসা করবে। আর সেই সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী সময়ে সিনেমাটির ওটিটি স্বত্ব আরও বেশি দামে বিক্রি করা সম্ভব হবে। সেই প্রত্যাশায় ১৫০ কোটি রুপির প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়নি।
কিন্তু বাস্তব চিত্র হয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্ন। সিনেমাটির বক্স অফিস পারফরম্যান্স প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারায় এখন বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের প্রস্তাব নেমে এসেছে প্রায় ৩০ কোটি রুপিতে। সব ভাষার স্ট্রিমিং স্বত্বের জন্য বর্তমানে সবচেয়ে বড় প্রস্তাবটি এসেছে জিফাইভের কাছ থেকে বলে জানিয়েছে সূত্রটি।
এর ফলে সিনেমাটির আর্থিক ক্ষতির হিসাবও বড় হচ্ছে। বলিউড হাঙ্গামার সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ‘টক্সিক’-এর নির্মাতারা প্রায় ৩০০ কোটি রুপি পর্যন্ত ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে এটি অন্যতম বড় লোকসান হিসেবে বিবেচিত হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শুধু ডিজিটাল স্বত্ব নয়, সিনেমাটির স্যাটেলাইট স্বত্ব থেকেও উল্লেখযোগ্য অর্থ ফেরত আসার সম্ভাবনা কম বলে মনে করা হচ্ছে। এর অন্যতম কারণ সিনেমাটির প্রাপ্তবয়স্কদের উপযোগী গল্প বলার ধরন। ফলে ক্ষতির পরিমাণ কমাতে এখন ওটিটি সংস্করণের জন্য সিনেমাটি নতুন করে সম্পাদনার কথাও ভাবছেন নির্মাতারা।
বলিউড হাঙ্গামাকে সূত্রটি জানিয়েছে, ক্ষতির পরিমাণ কীভাবে কমানো যায়, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে একটি সম্ভাব্য উপায় হলো ওটিটির জন্য সিনেমাটির সম্পূর্ণ নতুন সংস্করণ তৈরি করা। নির্মাতাদের আশা, নতুনভাবে সম্পাদিত সংস্করণ তৈরি করা গেলে ডিজিটাল স্বত্বের জন্য বর্তমানে পাওয়া প্রস্তাবের চেয়ে বেশি অর্থ পাওয়া যেতে পারে।
এদিকে বক্স অফিসেও ‘টক্সিক’-এর ব্যবসা দ্রুত কমেছে। ২৬ আগস্ট মুক্তির দিন ভারতে সিনেমাটি প্রায় ১২০ কোটি রুপি আয় দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল। কিন্তু দ্বিতীয় দিনেই আয়ে প্রায় ৭০ শতাংশ পতন ঘটে।
সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, ১২ দিনে ভারতে সিনেমাটির নিট আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৪৫.৭৫ কোটি রুপি। বিশ্বব্যাপী মোট আয় প্রায় ৩৩৭.৮০ কোটি রুপি।
৫০০ কোটি রুপি বাজেটের এই সিনেমায় প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন যশ। ‘রায়া’ চরিত্রে তার বিপরীতে রয়েছেন কিয়ারা আদভানি, নয়নতারা অভিনয় করেছেন ‘গঙ্গা’ চরিত্রে। এ ছাড়া রুক্মিণী বসন্ত, হুমা কুরেশি ও তারা সুতারিয়াকেও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা গেছে।
এখন ‘টক্সিক’-এর সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—প্রেক্ষাগৃহের হতাশাজনক ব্যবসার পর ওটিটি স্বত্ব কতটা অর্থে বিক্রি করতে পারবেন নির্মাতারা। ২০০ কোটি রুপির প্রত্যাশা থেকে মাত্র ৩০ কোটি রুপির প্রস্তাবে নেমে আসা সেই অনিশ্চয়তাকেই আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
সূত্র: বলিউড হাঙ্গামা

