সত্যজিৎ রায়ের গল্পে ফিরছেন সব্যসাচী চক্রবর্তী

সত্যজিৎ রায়ের ‘ফেলুদা’ চরিত্রে অভিনয় করে বাঙালি দর্শকের কাছে বিশেষ পরিচিতি পেয়েছিলেন সব্যসাচী চক্রবর্তী। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের পর দীর্ঘদিন এই জনপ্রিয় গোয়েন্দা চরিত্রে দেখা গেছে তাকে। বয়স ও শারীরিক নানা সমস্যার কারণে একপর্যায়ে ফেলুদা থেকে সরে দাঁড়ান এই অভিনেতা। তবে এবার আবারও সত্যজিৎ রায়ের গল্পের হাত ধরে পর্দায় ফিরছেন তিনি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সত্যজিৎ রায়ের নির্বাচিত কিছু ছোটগল্প নিয়ে নতুন একটি প্রজেক্ট তৈরি করতে যাচ্ছেন তার ছেলে ও নির্মাতা সন্দীপ রায়। আর এই কাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে থাকছেন সব্যসাচী চক্রবর্তী।
এর আগে সত্যজিৎ রায়ের ছোটগল্প অবলম্বনে সন্দীপ রায়ের পরিচালনায় ‘সত্যজিতের প্রিয় গল্প’ ও ‘সত্যজিতের গপ্পো’র মতো বেশ কয়েকটি টেলিভিশন সিরিজ নির্মিত হয়েছিল। দর্শকদের কাছেও সেগুলো বেশ সাড়া ফেলেছিল। এবার একইভাবে সত্যজিৎ রায়ের কিছু ছোটগল্পকে নতুন করে পর্দায় তুলে ধরার পরিকল্পনা করেছেন সন্দীপ।
তবে নতুন এই প্রজেক্টটি টেলিভিশনের জন্যই নির্মিত হবে কি না, সেটি এখনও নিশ্চিত নয়। একইভাবে সব্যসাচী ঠিক কোন গল্পে অভিনয় করবেন, সে বিষয়েও বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। তবে প্রজেক্টটির সঙ্গে তার যুক্ত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে চলতি বছরের শেষ দিকে শুটিং শুরু হতে পারে।
সব্যসাচী চক্রবর্তীকে সর্বশেষ দেখা গেছে ‘অচিন্ত্য আইচ’ ফ্র্যাঞ্চাইজির তৃতীয় কিস্তিতে। সেখানে তিনি একজন আইনজীবীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এ বছরই মুক্তি পেয়েছে কাজটি।
১৯৫৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর কলকাতায় জন্ম নেওয়া সব্যসাচী চক্রবর্তী ১৯৯২ সালে অভিনয় জগতে পা রাখেন। ‘তেরো পার্বন’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে টেলিভিশন দর্শকদের কাছে পরিচিতি পান তিনি। পরে ‘রুদ্রসেনের ডায়েরি’তে গোয়েন্দা চরিত্রে অভিনয় করেন। এরপর একাধিক গোয়েন্দা চরিত্রে তার অভিনয় দর্শকদের প্রশংসা পায়।
সত্যজিৎ রায়ের ‘ফেলুদা’ চরিত্র ছাড়াও সন্দীপ রায়ের ‘বাক্স রহস্য’ তার ক্যারিয়ারের উল্লেখযোগ্য কাজগুলোর একটি। বড় পর্দায় তার অভিনীত প্রথম সিনেমা ‘অন্তর্ধান’। এরপর ‘কাকাবাবু হেরে গেলেন’, ‘তিনকাহন’, ‘হেমলক সোসাইটি’, ‘থানা থেকে আসছি’, ‘রয়েল বেঙ্গল রহস্য’, ‘ল্যাবরেটরি’, ‘গোরস্থানে সাবধান’ ও ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’-এর মতো সিনেমায় দেখা গেছে তাকে।
অভিনয়ের পাশাপাশি বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতির প্রতি গভীর আগ্রহ রয়েছে সব্যসাচীর। তিনি ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফি নিয়েও কাজ করেন।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস