চমক দেখাচ্ছে তথ্যচিত্র ‘মেলানিয়া’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পের জীবনী ভিত্তিক তথ্যচিত্র ‘মেলানিয়া’ মুক্তি পেয়েছে। ৩০ জানুয়ারি বিশ্বব্যাপী চমক নিয়ে হাজির হয় যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডিকে নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্রটি। তবে মুক্তির পরপরই সমালোচক মহলে কিছুটা নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হয়েছে। বোদ্ধারা এই চলচ্চিত্রকে ডোনাল্ড ট্রাম্প-পন্থি একটি প্রচারণামূলক চলচ্চিত্র বলেই মনে করছেন।
তথ্যচিত্র ‘মেলানিয়া’য় উঠে এসেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে অভিষেকের কয়েক দিন আগের ঘটনাবলি, মেলানিয়ার ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবন। সিনেমাটির পরিবেশক অ্যামাজন এমজিএম স্টুডিওজ।
প্রাথমিকভাবে ‘মেলানিয়া’ ১ হাজার ৭৭৮টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়। তখন ৫ মিলিয়ন ডলার আয় করতে পারে বলে ধারণা করেছিল সবাই। মুক্তির আগে টিকিট বিক্রির ধীরগতি আর দর্শকের উন্মাদনার অভাবে প্রাথমিক সেই লক্ষ্য পূরণ হওয়া নিয়ে সংশয় দেখা দেয়। তবে পর্দায় আসার পরপরই বদলে যায় পরিস্থিতি। প্রথম দিনই ৮ মিলিয়ন ডলারের বেশি তুলে নেয় তথ্যচিত্রভিত্তিক সিনেমাটি। সিনেমাটি নিয়ে দর্শকের আগ্রহও তুঙ্গে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই সমর্থকদের সিনেমাটি দেখতে আহ্বান জানাচ্ছেন। পাশাপাশি রক্ষণশীল গোষ্ঠীগুলোর তৃণমূল পর্যায়ের প্রচারণার ফলে ক্যালিফোর্নিয়ার অরেঞ্জ কাউন্টির মতো লাল-ঘেঁষা অঙ্গরাজ্য ও বাজারগুলোতে দর্শকচাহিদা লক্ষ করা যাচ্ছে।
তথ্যচিত্রটির বৈশ্বিক বিপণন ও প্রচারণার জন্য অ্যামাজন ব্যয় করেছে ৩৫ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে প্রায় ১৫ মিলিয়ন যুক্তরাষ্ট্রে ও ১০ মিলিয়ন ডলার বিদেশে ব্যয় করা হয়েছে। একটি তথ্যচিত্রের জন্য এই বাজেট বিশাল। সাধারণত ৫-৭ মিলিয়ন ডলারের মধ্যেই থাকে ঘরোয়া প্রচারণার বাজেট। অ্যামাজন এমজিএম স্টুডিওস স্বত্বের জন্য ‘মেলানিয়া’র পেছনে ৪০ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছে, যা এটিকে ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল তথ্যচিত্র বানিয়েছে।
মজার ব্যাপার হলো, মুক্তির আগেই অনেকে ছবিটি চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হবে ধারণা করেছিলেন। হল মালিকরাও তেমনটা ধরে রেখেছিলেন। তবে ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতিতে প্রিমিয়ারের পরই পাল্টে যায় পরিস্থিতি। বক্স অফিসের পারদ হু-হু করে বাড়তে থাকে।
মুক্তির প্রথম দিনই বক্স অফিসে সাড়া ফেললেও সমালোচকদের কাছ থেকে ছবিটি খুব বেশি একটা রিভিউ পায়নি। তাদের প্রাথমিক রিভিউগুলো ছিল বেশ কঠোর ও নেতিবাচক। তবে বক্স অফিস বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প–সমর্থকেরা এসব নেতিবাচক সমালোচনাকে বামঘেঁষা মিডিয়ার পক্ষপাতদুষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবেই দেখবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে ছবিটির মুক্তি ছিল ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত। প্রাইম ভিডিওর উপস্থিতি শক্তিশালী রয়েছে এমন ২০টির বেশি আন্তর্জাতিক বাজারে ছবিটি মুক্তি পেয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত ভাবমূর্তির কারণে কয়েক জায়গায় সমস্যা দেখা দিয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় তো সেটি সরাসরি বন্ধ করে দিয়েছে। ইউরোপেও খুব একটা সুবিধা করতে পারছে না। সূত্র হলিউড রিপোর্টার।