logo
Advertisement

শাহরুখকে নিয়ে আজমির শরিফের ফকিরের ভবিষ্যদ্বাণী

এশিয়া পোস্ট বিনোদন
এশিয়া পোস্ট বিনোদন
শাহরুখকে নিয়ে আজমির শরিফের ফকিরের ভবিষ্যদ্বাণী
শাহরুখ খান। ছবি: ইন্সটাগ্রাম থেকে

তারকা হওয়ার আগের শাহরুখ খান মায়ের জন্য আজমির শরিফে গিয়ে হারিয়েছিলেন ৫ হাজার রুপি। সেই হারানো টাকার খোঁজ করতে গিয়েই এক ফকিরের কাছ থেকে শুনেছিলেন এমন একটি কথা, যা বহু বছর পরও তার মনে গেঁথে আছে- এক দিন তিনি ৫০০ কোটি রুপি আয় করবেন।

ঘটনাটি বহু বছর আগের। তখনও শাহরুখ খান বলিউডের ‘বাদশা’ হয়ে ওঠেননি। অসুস্থ মায়ের জন্য দোয়া চাইতে তার সঙ্গে আজমির শরিফে গিয়েছিলেন তিনি। সঙ্গে ছিল দরগাহে দেওয়ার জন্য একটি চাদর। নিরাপদে রাখার জন্য মা তাকে দিয়েছিলেন ৫ হাজার রুপি।

কিন্তু কিছুক্ষণ পর শাহরুখ বুঝতে পারেন, টাকাগুলো তার কাছে নেই। শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। ঠিক তখনই দরগাহে বসে থাকা এক ফকির তাকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি কিছু হারিয়েছেন কি না। এরপর ওই ব্যক্তি জানতে চান, হারানো টাকার পরিমাণ ৫ হাজার রুপি কি না।

বিষয়টি শাহরুখকে বিস্মিত করে। কারণ, তিনি কাউকে টাকার কথা বলেননি। সেই ফকিরই তখন তাকে বলেন, ‘তুমি এখানে এসেছো, খালি হাতে ফিরবে না। তুমি ৫ হাজার রুপি হারিয়েছো। কিন্তু তুমি ৫০০ কোটি রুপি আয় করবে।’

২০১৪ সালে ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’ সিনেমার প্রচারের সময় সেই স্মৃতির কথা বলেছিলেন শাহরুখ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এমন বিষয়ে সবসময় বিশ্বাসী ছিলেন না তিনি। শিক্ষিত মানুষ হিসেবে অনেক সময় এসব ঘটনাকে কাকতালীয় বলেই মনে হতো তার। কিন্তু নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া এই অভিজ্ঞতাটি তাকে ভাবিয়েছিল।

শাহরুখের কাছে ঘটনাটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক অবশ্য অর্থ নয়। অসুস্থ মায়ের জন্য দোয়া চাইতেই সেদিন আজমির শরিফে গিয়েছিলেন তিনি। তার মা লতিফ ফাতিমা খান ১৯৯১ সালে মারা যান- শাহরুখের চলচ্চিত্রজীবনের বড় সাফল্য আসার আগেই। তাই সময়ের সঙ্গে সেই আজমির সফর তার কাছে মায়ের স্মৃতির সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িয়ে গেছে।

শাহরুখ বলেছিলেন, তিনি অনেক খ্যাতি ও অর্থ পেয়েছেন। কিন্তু আজমির শরিফে যাওয়ার উদ্দেশ্য কখনোই অর্থ পাওয়া ছিল না, মায়ের জন্য প্রার্থনা করাই ছিল মূল বিষয়। তার বিশ্বাস, মায়ের আশীর্বাদ এবং আজমির শরিফের আশীর্বাদ এখনও তার সঙ্গে রয়েছে।

আজমির শরিফে রয়েছে সুফি সাধক খাজা মইনুদ্দিন চিশতির দরগাহ। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম পরিচিত এই ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থানে বিভিন্ন ধর্মের মানুষও নিয়মিত জিয়ারত ও প্রার্থনা করতে যান।

আর শাহরুখের জীবনের পরবর্তী গল্পটা যেন সেই পুরোনো কথার সঙ্গে অদ্ভুতভাবে মিলে যায়। অভিনয়, প্রযোজনা, বিজ্ঞাপন এবং ব্যবসায়িক বিনিয়োগ- সব মিলিয়ে তিনি আজ ভারতের সবচেয়ে ধনী চলচ্চিত্র তারকাদের একজন। তবে ইন্ডিয়া টুডের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৬ সালের হুরুন ইন্ডিয়া রিচ লিস্টে শাহরুখের সম্পদের পরিমাণ ১০ হাজার ৮০০ কোটি রুপি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের তালিকায় এই পরিমাণ ছিল ১২ হাজার ৪৯০ কোটি রুপি।

তবে সংখ্যার চেয়েও শাহরুখের কাছে সেই পুরোনো আজমিরের স্মৃতির মূল্য অন্যরকম। পাঁচ হাজার রুপি হারানোর সেই ঘটনা তার কাছে শেষ পর্যন্ত অর্থের গল্প হয়ে থাকেনি; হয়ে উঠেছে মাকে ঘিরে একটি আবেগময় স্মৃতি এবং জীবনের এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে