বিশ্বসুন্দরী থেকে বলিউডের মহাতারকা, ঐশ্বরিয়ার জীবনের জানা-অজানা অধ্যায়

একসময় বিশ্বসুন্দরী বলতেই ভারতীয় উপমহাদেশের মানুষের চোখে ভেসে উঠত একটি মুখ। নীল চোখ, মায়াবী হাসি আর অনন্য সৌন্দর্যে যিনি খুব অল্প সময়েই জায়গা করে নিয়েছিলেন কোটি মানুষের হৃদয়ে। তবে সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চে পাওয়া পরিচয়েই থেমে থাকেননি তিনি। অভিনয়, ব্যক্তিত্ব ও আন্তর্জাতিক উপস্থিতিতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বিশ্বমঞ্চে। বলছি বলিউড অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের কথা।
আজ ১ নভেম্বর, এই অভিনেত্রীর ৫৩তম জন্মদিন। ১৯৭৩ সালের এই দিনে ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের ম্যাঙ্গালুরুতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। বাবার চাকরির সুবাদে পরে পরিবারের সঙ্গে মুম্বাইয়ে চলে আসেন। ছোটবেলা থেকেই ধ্রুপদি নাচের প্রতি আগ্রহ ছিল তার। ভরতনাট্যমেও প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি মডেলিংয়ে যুক্ত হন নব্বইয়ের দশকের শুরুতে।
১৯৯৪ সালে মিস ওয়ার্ল্ড খেতাব জয়ের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক পরিচিতি পান ঐশ্বরিয়া। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। মডেলিং থেকে চলচ্চিত্র, বলিউড থেকে হলিউড- বিভিন্ন অঙ্গনে নিজের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন তিনি। তিন দশকের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা। ভারত সরকারের পদ্মশ্রীও রয়েছে তার অর্জনের তালিকায়।
তবে ঐশ্বরিয়ার জীবন কেবল সৌন্দর্য আর সাফল্যের গল্প নয়। তার ক্যারিয়ারে রয়েছে বেশ কিছু ব্যতিক্রমী ঘটনা, অভিনয়ের নানা রূপ এবং এমন কিছু অর্জন, যা অনেকেরই অজানা।
শাহরুখ খানের বোনও হয়েছেন, প্রেমিকাও
বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা শাহরুখ খানের সঙ্গে একাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন ঐশ্বরিয়া। তবে তাদের পর্দার সম্পর্কের একটি দিক বেশ ব্যতিক্রমী। একই অভিনেতার বোন ও প্রেমিকা- দুই ভূমিকাতেই দেখা গেছে তাকে।
২০০০ সালে মুক্তি পাওয়া ‘জোশ’ সিনেমায় শাহরুখের বোন শার্লি ডায়াসের চরিত্রে অভিনয় করেন ঐশ্বরিয়া। একই বছর ‘মোহাব্বতে’ সিনেমায় শাহরুখের বিপরীতে মেঘা চরিত্রে হাজির হন তিনি। এরপর ২০০২ সালে সঞ্জয় লীলা বানসালির ‘দেবদাস’ সিনেমায় আবারও শাহরুখের প্রেমিকা পার্বতী বা পারু চরিত্রে অভিনয় করেন।
তিনটি সিনেমাতেই তাদের রসায়ন দর্শকের নজর কেড়েছে। বিশেষ করে ‘দেবদাস’-এর পারু চরিত্রটি ঐশ্বরিয়ার ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় অভিনয় হিসেবে বিবেচিত হয়।
জেন অস্টিনের উপন্যাস থেকে পর্দার নায়িকা
ইংরেজ সাহিত্যিক জেন অস্টিনের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত সিনেমায় অভিনয়ের অভিজ্ঞতাও রয়েছে ঐশ্বরিয়ার। ২০০০ সালে মুক্তি পাওয়া তামিল সিনেমা ‘কান্ডুকোন্ডাইন কান্ডুকোন্ডাইন’ নির্মিত হয়েছিল অস্টিনের বিখ্যাত উপন্যাস ‘সেন্স অ্যান্ড সেন্সিবিলিটি’ অবলম্বনে। এতে মীনু চরিত্রে অভিনয় করেন ঐশ্বরিয়া। চরিত্রটি উপন্যাসের ম্যারিয়ান ড্যাশউডের আদলে তৈরি। সিনেমাটিতে তার সহশিল্পী ছিলেন টাবু।
এরপর ২০০৪ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ব্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস’ সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি। জেন অস্টিনের আরেক বিখ্যাত উপন্যাস ‘প্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস’ অবলম্বনে নির্মিত ছবিটিতে ললিতা বক্সী চরিত্রে দেখা যায় তাকে। উপন্যাসের এলিজাবেথ বেনেট চরিত্রের আধুনিক ভারতীয় রূপ হিসেবে তৈরি হয়েছিল ললিতা। দুটি সিনেমার মাধ্যমেই পশ্চিমা সাহিত্যের পরিচিত নারী চরিত্রকে ভারতীয় প্রেক্ষাপটে তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছেন এই অভিনেত্রী।
নেদারল্যান্ডসে ফুলের নাম রাখা হয় ঐশ্বরিয়া
ঐশ্বরিয়ার জনপ্রিয়তা যে শুধু চলচ্চিত্রের পর্দায় সীমাবদ্ধ ছিল না, তার একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ রয়েছে নেদারল্যান্ডসে। ২০০৫ সালে দেশটিতে তার সফরকে ঘিরে একটি উজ্জ্বল রঙের সংকর প্রজাতির টিউলিপ ফুলের নাম রাখা হয় ‘ঐশ্বরিয়া’।
অভিনেত্রীর সৌন্দর্য ও আন্তর্জাতিক জনপ্রিয়তার প্রতি সম্মান জানাতেই ফুলটির এমন নামকরণ করা হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নেদারল্যান্ডসের লিসে শহরে অবস্থিত বিখ্যাত কেউকেনহফ ফুলের বাগানে এই টিউলিপ দেখা যায়। একজন চলচ্চিত্র তারকার নামে ফুলের প্রজাতির নামকরণ নিঃসন্দেহে তার আন্তর্জাতিক পরিচিতির এক অন্যরকম স্বীকৃতি।
অপরাহ উইনফ্রের অনুষ্ঠানে দুইবার
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ঐশ্বরিয়ার পরিচিতির আরেকটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় জনপ্রিয় মার্কিন উপস্থাপক অপরাহ উইনফ্রের টক শো ‘দ্য অপরাহ উইনফ্রে শো’তে অংশগ্রহণ। ২০০৫ সালে প্রথমবার এই অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন তিনি। সেখানে ভারতীয় সংস্কৃতি, পারিবারিকভাবে ঠিক করা বিয়ে, ভালোবাসার প্রকাশ এবং গায়ের রং নিয়ে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। অনুষ্ঠানে অপরাহকে গোলাপি রঙের একটি শাড়িও উপহার দেন ঐশ্বরিয়া।
এরপর ২০০৯ সালে আবারও এই অনুষ্ঠানে হাজির হন তিনি। এবার তার সঙ্গে ছিলেন স্বামী অভিষেক বচ্চন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুইবার এই অনুষ্ঠানে অতিথি হওয়ার কৃতিত্বও রয়েছে ঐশ্বরিয়ার।
মেরিল স্ট্রিপের সঙ্গে কাজের সুযোগ, ফিরিয়েছিলেন ব্র্যাড পিটের বিপরীতে অভিনয়ের প্রস্তাব
হলিউডেও কাজের সুযোগ পেয়েছেন ঐশ্বরিয়া। তার অভিনয়জীবনের একটি আলোচিত ঘটনা কিংবদন্তি অভিনেত্রী মেরিল স্ট্রিপের সঙ্গে কাজের সম্ভাবনা। ‘কেওস’ নামের একটি সিনেমায় মেরিল স্ট্রিপের সঙ্গে অভিনয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন ঐশ্বরিয়া। তবে দুই অভিনেত্রী সম্মত হওয়ার পরও শেষ পর্যন্ত সিনেমাটি নির্মিত হয়নি।
অন্যদিকে, হলিউডের জনপ্রিয় সিনেমা ‘মিস্টার অ্যান্ড মিসেস স্মিথ’-এ ব্র্যাড পিটের বিপরীতে জেন স্মিথ চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু প্রস্তাবটি ফিরিয়ে দেন ঐশ্বরিয়া। বিভিন্ন সাক্ষাৎকার ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, সিনেমাটির ঘনিষ্ঠ দৃশ্য ও চুম্বন দৃশ্যের কারণে চরিত্রটি গ্রহণে আগ্রহী ছিলেন না তিনি।
পর্দায় পারু থেকে বিনোদিনী, অভিনয়ে নানা রূপ
ঐশ্বরিয়ার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় শক্তিগুলোর একটি তার অভিনীত চরিত্রের বৈচিত্র্য। ১৯৯৭ সালে মণি রত্নম পরিচালিত তামিল সিনেমা ‘ইরুভার’ দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তার। একই বছর ‘অউর পেয়ার হো গয়া’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে যাত্রা শুরু করেন।
১৯৯৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘হাম দিল দে চুকে সানাম’ সিনেমায় নন্দিনী চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক পরিচিতি পান তিনি। একই বছর সুভাষ ঘাইয়ের ‘তাল’ সিনেমায় মানসী চরিত্রে অভিনয় করেন। এরপর ‘জোশ’ সিনেমায় প্রাণবন্ত শার্লি, ‘দেবদাস’-এ আবেগপ্রবণ পারু এবং ‘মোহাব্বতে’তে মেঘা চরিত্রে দর্শকের সামনে হাজির হন।
২০০৩ সালে ঋতুপর্ণ ঘোষ পরিচালিত বাংলা সিনেমা ‘চোখের বালি’তে বিনোদিনী চরিত্রে অভিনয় করেন ঐশ্বরিয়া। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত সিনেমাটিতে একজন শিক্ষিত তরুণ বিধবার জীবন, আকাঙ্ক্ষা, আবেগ ও সামাজিক বিধিনিষেধের সঙ্গে তার লড়াই তুলে ধরা হয়। চরিত্রটির বুদ্ধিমত্তা, জটিল মনস্তত্ত্ব ও আত্মপরিচয়ের অনুসন্ধান পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছিলেন তিনি। ঐশ্বরিয়ার ক্যারিয়ারের ব্যতিক্রমী কাজগুলোর মধ্যে এটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
২০০৬ সালে ‘উমরাও জান’ সিনেমায় আমিরান চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। এর আগে ১৯৮১ সালের একই নামের সিনেমায় চরিত্রটি করেছিলেন রেখা। নতুন সংস্করণে নিজের অভিনয়, নাচ ও পোশাকের মাধ্যমে চরিত্রটিকে নতুনভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেন ঐশ্বরিয়া। এ ছাড়া ‘ধুম ২’, ‘গুরু’, ‘যোধা আকবর’, ‘গুজারিশ’, ‘অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল’, ‘সর্বজিৎ’ এবং ‘পন্নিয়িন সেলভান’ সিরিজের সিনেমাগুলোতেও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।
হলিউডেও রেখেছেন নিজের উপস্থিতি
বলিউডের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রেও কাজ করেছেন ঐশ্বরিয়া। ‘ব্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস’, ‘দ্য মিস্ট্রেস অব স্পাইসেস’, ‘প্রভোকড’, ‘দ্য লাস্ট লিজিয়ন’ এবং ‘দ্য পিংক প্যান্থার ২’-এর মতো ইংরেজি ভাষার সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি।
২০০২ সালে ‘দেবদাস’ সিনেমার প্রদর্শনী উপলক্ষে প্রথমবার কান চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নেন ঐশ্বরিয়া। পরের বছর উৎসবের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর থেকে কান উৎসবের লালগালিচায় তার উপস্থিতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের আলোচনার অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। পোশাক ও ফ্যাশনেও তৈরি করেছেন আলাদা পরিচিতি।
একসময় তাকে ঘিরে ছিল ১৭ হাজার ওয়েবসাইট
ইন্টারনেটের শুরুর দিকের জনপ্রিয়তার যুগেও ঐশ্বরিয়ার অবস্থান ছিল ব্যতিক্রমী। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৪ সালে তাকে নিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৭ হাজার ভক্তদের তৈরি ওয়েবসাইট ছিল। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অনুরাগীরা এসব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তার কাজ ও ব্যক্তিজীবনের খবর তুলে ধরতেন। এতগুলো ওয়েবসাইটের মধ্যে মাত্র একটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দিয়েছিলেন অভিনেত্রী বলে একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পেনসিলের বিজ্ঞাপনেও দেখা গিয়েছিল ঐশ্বরিয়াকে। তখন তিনি নবম শ্রেণির ছাত্রী। পরবর্তী সময়ে মাহিমা চৌধুরীর সঙ্গে পেপসির বিজ্ঞাপনে অংশ নিয়ে আরও বেশি আলোচনায় আসেন। মডেলিংয়ের সেই শুরু থেকেই বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছিল।
পুরস্কার, সম্মাননা ও বিপুল সম্পদের মালিক
দীর্ঘ অভিনয়জীবনে অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন ঐশ্বরিয়া। ‘হাম দিল দে চুকে সানাম’ ও ‘দেবদাস’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য ফিল্মফেয়ার সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার অর্জন করেন। এ ছাড়া আইফা ও স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ডসহ বিভিন্ন আয়োজনে স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি। ২০০৯ সালে ভারত সরকার তাকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করে। ২০১২ সালে ফ্রান্স সরকারের কাছ থেকেও ‘অর্ডার অব আর্টস অ্যান্ড লেটার্স’ সম্মাননা পান।
অভিনয়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দূত হিসেবে কাজ করেছেন ঐশ্বরিয়া। বিজ্ঞাপন, ব্র্যান্ডের সঙ্গে চুক্তি ও বিনিয়োগের মাধ্যমে গড়ে তুলেছেন বিপুল সম্পদ। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও সম্পদবিষয়ক ওয়েবসাইটের হিসাব অনুযায়ী, তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি মার্কিন ডলার বলে ধারণা করা হয়। তবে এসব হিসাবের আনুষ্ঠানিক আর্থিক বিবরণ প্রকাশিত হয়নি।
অভিষেকের সঙ্গে সংসার, মেয়ে আরাধ্যা
ব্যক্তিজীবন নিয়েও বরাবরই আলোচনায় ছিলেন ঐশ্বরিয়া। সালমান খান ও বিবেক ওবেরয়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে একসময় বলিউডে নানা আলোচনা ছিল। পরে সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ২০০৭ সালের ২০ এপ্রিল অভিনেতা অভিষেক বচ্চনকে বিয়ে করেন তিনি।
২০১১ সালের ১৬ নভেম্বর তাদের ঘরে জন্ম নেয় মেয়ে আরাধ্যা বচ্চন। অভিনয়জীবনের পাশাপাশি মেয়েকে নিয়ে সময় কাটানো এবং পরিবারের সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেখা যায় এই অভিনেত্রীকে।
২০২২ সালে মুক্তি পাওয়া ‘পন্নিয়িন সেলভান’ এবং ২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া এর দ্বিতীয় পর্বে নন্দিনী চরিত্রে অভিনয় করে আবারও আলোচনায় আসেন ঐশ্বরিয়া। এরপর বড় পর্দায় তার নতুন কোনো সিনেমা মুক্তির খবর পাওয়া যায়নি।
সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চ থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের লালগালিচা- ঐশ্বরিয়ার পথচলা তিন দশকেরও বেশি সময়ের। এই দীর্ঘ সময়ে বদলেছে চলচ্চিত্রের ধারা, বদলেছে দর্শকের রুচি। কিন্তু জনপ্রিয়তার জায়গায় তার অবস্থান এখনো আলাদা। শুধু বিশ্বসুন্দরীর খেতাব নয়, অভিনয় ও আন্তর্জাতিক পরিচিতির মধ্য দিয়ে নিজের যে স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন, সেটিই তাকে বলিউডের অন্যতম আলোচিত তারকায় পরিণত করেছে।
সূত্র: দ্য ফ্রি প্রেস জার্নাল, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও প্রকাশিত সাক্ষাৎকার।