logo
Advertisement

ভেনিসে ইতিহাস গড়ল রুবাইয়াত হোসাইনের ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’

এশিয়া পোস্ট বিনোদন
এশিয়া পোস্ট বিনোদন
ভেনিসে ইতিহাস গড়ল রুবাইয়াত হোসাইনের ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’
‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’-এর টিম। ছবি: ফেসবুক থেকে

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্ত হলো নতুন এক মাইলফলক। নির্মাতা রুবাইয়াত হোসাইনের সিনেমা ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ বিশ্ব প্রিমিয়ার করেছে ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে। উৎসবের ৮৩তম আসরের প্রতিযোগিতা বিভাগ অরিজন্তিতে নির্বাচিত হয়ে সিনেমাটি জায়গা করে নিয়েছে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসবের আসরে।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় ভেনিসের পালাজ্জো দেল সিনেমার মূল ভেন্যু সালা ক্যাসিনোতে হয় সিনেমাটির প্রথম প্রদর্শনী। এটিই ছিল এর বিশ্ব প্রিমিয়ার। পরদিন রোববার স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে সালা দারসেনা প্রেক্ষাগৃহে দ্বিতীয় দিনের প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।

সিনেমাটির আরও দুটি প্রদর্শনী নির্ধারিত রয়েছে সোমবার। ওই দিন বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে অ্যাস্ট্রা ২ এবং বিকেল ৫টায় অ্যাস্ট্রা ১ প্রেক্ষাগৃহে দর্শকরা ছবিটি দেখার সুযোগ পাবেন। ২ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া এবারের ভেনিস উৎসব চলবে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’-এর পেছনে রয়েছে রুবাইয়াত হোসাইনের দীর্ঘদিনের ভাবনা। প্রায় দুই দশক ধরে সিনেমাটির ভাবনা লালন করেছেন তিনি। ছোটবেলায় একটি বিউটি পার্লারে শোনা গল্প এবং নিজের শৈশবের কিছু স্মৃতি ধীরে ধীরে রূপ নেয় এই চলচ্চিত্রের গল্পে।

ঢাকার একটি বিউটি পার্লার, একটি বিয়ে এবং শৈশবের এক অদ্ভুত ভয়—এই তিন উপাদানকে কেন্দ্র করেই এগিয়েছে সিনেমার আখ্যান। সৌন্দর্যের প্রচলিত ধারণাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করানোর পাশাপাশি নারীর ওপর সামাজিক প্রত্যাশা ও চাপের বিষয়টিও তুলে ধরেছেন নির্মাতা।

শৈশবের আরেকটি স্মৃতিও সিনেমাটির গল্পে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ছোটবেলায় বিয়ের অনুষ্ঠানে কাঁদতে থাকা কনেদের দেখে ভয় পেতেন রুবাইয়াত। সেই অনুভূতিও তিনি পর্দার গল্পে যুক্ত করেছেন।

সিনেমাটির আরেকটি বিশেষত্ব এর নারীপ্রধান নির্মাণ-দল। আবহসংগীতের সুরকার ছাড়া প্রায় সব বিভাগের নেতৃত্বেই রয়েছেন নারী সদস্যরা। চিত্রগ্রহণের দায়িত্বে ছিলেন পর্তুগালের নির্মাতা লিওনর তেলেস, যিনি বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে গোল্ডেন বেয়ার জয় করেছেন। প্রধান আলোকপ্রযুক্তিবিদ হিসেবে কাজ করেছেন ফ্রেদেরিকা আর গোমেস। সম্পাদনায় ছিলেন ফ্রান্সের রাফায়েল মার্টিন-হলগার এবং শিল্প নির্দেশনায় ভারতের জোনাকি ভট্টাচার্য।

‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’-এর প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন জাইনিন চৌধুরী করিম। অভিনয়ে অভিষেক হলেও সিনেমাটির সঙ্গে তার সম্পর্ক শুরু হয়েছিল সহকারী পরিচালক হিসেবে। প্রায় দেড় বছর সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করার পর অডিশনের মাধ্যমে তিনি নির্বাচিত হন কেন্দ্রীয় চরিত্রের জন্য।

এ ছাড়া সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন রিকিতা নন্দিনী শিমু ও সুনেরাহ বিনতে কামাল। সুনেরাহর চরিত্রে কোনো সংলাপ নেই। তবু অভিনয় ও শুটিংয়ের সময় তার পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেছেন নির্মাতা। রিকিতা নন্দিনী শিমুর জন্যও ভেনিসে যাওয়া নতুন নয়। এর আগে ‘ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন কলকাতা’ সিনেমা নিয়ে এই উৎসবে অংশ নিয়েছিলেন তিনি।

সিনেমাটিতে অতিথি চরিত্রে দেখা যাবে আজমেরী হক বাঁধন ও দামীর খানকে। উৎসবে সিনেমাটির প্রদর্শনী ঘিরে এর অধিকাংশ অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলী ইতিমধ্যে ভেনিসে অবস্থান করছেন।

বাংলাদেশের খোনা টকিজের পাশাপাশি ফ্রান্স, পর্তুগাল, নরওয়ে ও জার্মানির প্রযোজকদের অংশগ্রহণে নির্মিত হয়েছে ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’। আন্তর্জাতিক সহপ্রযোজনায় তৈরি এই সিনেমার সামনে রয়েছে আরও বড় পরিসরে যাত্রার সম্ভাবনা।