‘কেন এক শতাংশও সুযোগ পাওয়া গেল না তাকে বাঁচানোর’

শুটিং করতে গিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়। তার হৃদয়বিদারক মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ ও হতবাক সিনেমা অঙ্গন।
ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ওড়িশা রাজ্যের তালসারিতে শুটিং করতে গিয়েছিলেন রাহুল। সেখানেই ঘটে দুর্ঘটনা। সমুদ্রে তলিয়ে গেলে টেকনিশিয়ানরা তাকে উদ্ধার করেন। যদিও শেষ পর্যন্ত আর অভিনেতাকে বাঁচানো যায়নি।
ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, শুটিং করতে গিয়ে পানিতে পড়ে গিয়েছিলেন রাহুল আর তার সহ-অভিনেত্রী শ্বেতা মিশ্র। শ্বেতাকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও রাহুল তলিয়ে যান। দ্রুত টেকনিশিয়ানরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে বাঁচানো যায়নি ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ সিনেমার নায়ককে।
শুটিংয়ে দুর্ঘটনায় মৃত্যুর কারণ নিয়ে সামাজিকমাধ্যমে তোলপাড়। মাত্র ৪২ বছরে প্রতিভাবান এই অভিনেতার মৃত্যু অনেককেই বাকরুদ্ধ করেছে। মৃত্যুর কারণ ঘিরে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা৷ অনেকে শুটিংয়ে সুরক্ষার অভাবকে দায়ী করছেন।
এদিকে ঠিক তখনই নীরবতা ভেঙে সরব হলেন রাহুলের সহ-অভিনেতা অরিত্র দত্ত বণিক।
ভারতের এক গণমাধ্যমে রাহুলের মৃত্যু নিয়ে সাক্ষাৎকার দেন অরিত্র বণিক। তিনি বলেন, আমি এই ঘটনায় চমকে গেছি। ভাবতেই পারছি না এটা কীভাবে ঘটল! রাহুলদা আমার শিক্ষাগুরু। পরিণত বয়সে অভিনয়ের শিক্ষা পেয়েছি। তার সঙ্গে আমার দাদা, ভাইয়ের সম্পর্ক। যখন এই ঘটনা শুনলাম, আমার আগে যিনি কেঁদেছেন তিনি আমার মা।
তিনি আরও বলেন, একটা এত বড় শুটিং ইউনিট। বহু মানুষ। তার মধ্যে এভাবে একটা ঘটনা ঘটে গেল। কেউ কিছু করতে পারলেন না কেন! কেন এক শতাংশও সুযোগ পাওয়া গেল না তাকে বাঁচানোর। গাফিলতি কেন ছিল? পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না কেন?
অরিত্রের কথায়, এই মৃত্যুতে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না সেটা ময়নাতদন্ত, পুলিশি তদন্তে স্পষ্ট হবে। আমি এখনই বলছি না, তেমন কিছু ছিল। কিন্তু তাকে কেন বাঁচানো গেল না, কেউ কেন কিছু করতে পারলেন না—এটা ভাবাচ্ছে। ইন্ডাস্ট্রিতে শিল্পীদের নিরাপত্তা আছে কি না, এটাও দেখা প্রয়োজন।
শেষ খবরে জানা যায়, রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃতদেহ দিঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতালে আনা হয়েছে। পুলিশ এই মৃত্যুকে অস্বাভাবিক উল্লেখ করে মামলা রুজু করেছে। আর মরদেহ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
১৯৮৩ সালের ১৬ অক্টোবর জন্ম রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের। অভিনয় যাত্রা শুরু করেন বাবার সঙ্গে রাজ দর্শন নামের একটি নাটকে বিজয়গড় থিয়েটার দলের মাধ্যমে। এরপর থেকে তিনি প্রায় ৪৫০টিরও বেশি নাটকে অভিনয় করেছেন।