হঠাৎ আলোচনায় ‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’, কী আছে এই সিনেমায়

রাজধানীর একটি মাল্টিপ্লেক্সে হলিউড সিনেমা ‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’ দেখলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাতে মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে সিনেমা দেখতে যান প্রধানমন্ত্রী। এর পরই মূল দেশে আলোচনা শুরু হয়, কী আছে এই সিনেমায়? বিশ্বজুড়ে বক্সঅফিসে ঝড় তোলা এই সিনেমা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকেও টেনে নিয়েছে প্রেক্ষাগৃহে? সেই কৌতূহল থেকেই অনেকেই এখন খোঁজ নিচ্ছেন ছবিটি দেখার।
২০২৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত বহুল আলোচিত মার্কিন সায়েন্স ফিকশন চলচ্চিত্র ‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’ বিশ্বজুড়ে দর্শক ও সমালোচকদের দৃষ্টি কাড়তে সক্ষম হয়েছে। অ্যান্ডি উইয়ারের উপন্যাস থেকে গল্পটি তৈরি হয়েছে। ফিল লর্ড ও ক্রিস্টোফার মিলার পরিচালিত এই সিনেমার চিত্রনাট্য লিখেছেন ড্রু গডার্ড।
চলচ্চিত্রটির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন রায়ান গসলিং। এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন সান্দ্রা হুলার, জেমস অর্টিজ ও লিওনেল বয়েস প্রমুখ।
গত ৯ মার্চ লন্ডনে চলচ্চিত্রটির আন্তর্জাতিক প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়। এরপর অ্যামাজন এমজিএম স্টুডিওসের মাধ্যমে গেল ২০ মার্চ এটি যুক্তরাষ্ট্র থেকে মুক্তি পায়। মুক্তির পরই এ বছরের সবচেয়ে বড় ওপেনিংয়ের রেকর্ড গড়েছে ‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’।
ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেতে থাকা এই চলচ্চিত্রটি বিশ্বব্যাপী প্রায় ৩৩৯.৭ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে, যা ২০২৬ সালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয়কারী চলচ্চিত্রে পরিণত হয়েছে।
সিনেমার কাহিনি
চলচ্চিত্রটির গল্প আবর্তিত হয়েছে রাইল্যান্ড গ্রেস নামের এক ব্যক্তিকে ঘিরে। মহাকাশযানে ঘুম ভাঙার পর নিজেকে সম্পূর্ণ স্মৃতিহীন অবস্থায় আবিষ্কার করেন। ধীরে ধীরে তিনি বুঝতে পারেন, তিনি তিন সদস্যের অভিযানের একমাত্র জীবিত সদস্য এবং পৃথিবী থেকে বহু আলোকবর্ষ দূরে অবস্থান করছেন।
স্মৃতি ফিরে আসার পর তার মনে পড়ে যে, তিনি একজন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিজ্ঞানের শিক্ষক। অতীতে বিজ্ঞানীরা লক্ষ করেন, সূর্যের উজ্জ্বলতা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। এর কারণ হিসেবে ‘অ্যাস্ট্রোফেজ’ নামের এক অণুজীব চিহ্নিত হয়, যা সূর্যের শক্তি শোষণ করে দ্রুত বংশবিস্তার করছে।
এই অণুজীবের প্রভাবে আগামী ৩০ বছরের মধ্যে পৃথিবীতে ভয়াবহ শৈত্যপ্রবাহ নেমে আসার আশঙ্কা দেখা দেয়। এই সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গঠন করা হয় ‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’ নামের এক বিশেষ মিশন।
গবেষণায় দেখা যায়, অ্যাস্ট্রোফেজ অণুজীবগুলো কোনোভাবেই আক্রান্ত হয় না। তারা শুক্র গ্রহের বায়ুমণ্ডলে বংশবিস্তার করে এবং সূর্যের শক্তি থেকে খাদ্য গ্রহণ করে। এমনকি তারা আশপাশের অন্যান্য নক্ষত্রেও ছড়িয়ে পড়েছে।
একই সঙ্গে বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেন, এই অণুজীব ব্যবহার করে অত্যন্ত শক্তিশালী রকেট ইঞ্জিন তৈরি করা সম্ভব, যদিও তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
এই প্রেক্ষাপটে একটি আত্মঘাতী মহাকাশ মিশনের পরিকল্পনা করা হয়, যার লক্ষ্য—নিকটবর্তী একমাত্র অন্ধকারহীন নক্ষত্র টাউ সেটিতে গিয়ে রহস্য উদঘাটন করা। মহাকাশযানটি কেবল একমুখী যাত্রার জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি বহন করে। এতে এমন প্রোব থাকে, যা দিয়ে পৃথিবীতে তথ্য পাঠানো যায়।
মিশনের এক পর্যায়ে গ্রেস একটি ভিনগ্রহী মহাকাশযানের মুখোমুখি হন। সেখানে তিনি পরিচিত হন পাঁচ পা বিশিষ্ট এক প্রাণীর সঙ্গে, যার নাম দেন ‘রকি’। এই প্রাণীটি ভিন্ন নক্ষত্রমণ্ডল থেকে এসেছে। কাকতালীয়ভাবে ওই মিশনেও একমাত্র জীবিত সদস্য ‘রকি’।
দেখতে অদ্ভুত, ভাষা সম্পূর্ণ অজানা, তবু লক্ষ্য একটাই—নিজেদের সভ্যতাকে বাঁচানো। ধীরে ধীরে গ্রেস ও রকির মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। সব বাধা পেরিয়ে প্রযুক্তির মাধ্যমে তারা একে অপরের ভাষা বুঝতে সক্ষম হন। একসঙ্গে কাজ শুরু করেন। তারা আবিষ্কার করেন এমন এক অণুজীব, যা অ্যাস্ট্রোফেজকে ধ্বংস করতে পারে।
তারা গবেষণার মাধ্যমে এই নতুন অণুজীবকে ব্যবহারযোগ্য করে তোলেন। তবে ফিরে আসার পথে নতুন সমস্যা দেখা দেয়। এই অণুজীব মহাকাশযানের জ্বালানিও খেয়ে ফেলতে শুরু করে।
এই অবস্থায় গ্রেসের সামনে দুটি পথ খোলা থাকে—নিজে পৃথিবীতে ফিরে যাওয়া অথবা রকিকে ও তার জাতিকে বাঁচানো। শেষ পর্যন্ত তিনি বন্ধুত্ব ও মানবতার পক্ষে সিদ্ধান্ত নেন। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রকিকে বাঁচান। তিনি নিজের গবেষণার ফল প্রোবের মাধ্যমে পৃথিবীতে পাঠিয়ে দেন, যা মানবজাতিকে রক্ষা করতে সহায়তা করে।
পরবর্তীতে রকির জাতি গ্রেসের জন্য একটি বাসযোগ্য পরিবেশ তৈরি করে। সেখানে তিনি নতুন জীবন শুরু করেন এবং ভিনগ্রহী শিশুদের বিজ্ঞান শিক্ষা দিতে থাকেন।
সমালোচকদের কাছ থেকে চলচ্চিত্রটি ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে। প্রেক্ষাপট বিজ্ঞান হলেও এই সিনোমার আসল গল্প মূলত মানবিকতার।