১২ দিনেই বিশ্বজুড়ে ৫০০ কোটি রুপি আয় অজয়ের ‘দৃশ্যম থ্রি’র

বলিউড অভিনেতা অজয় দেবগন অভিনীত ‘দৃশ্যম থ্রি: দ্য কনক্লুশন’ বক্স অফিসে দারুণ সাফল্য পাচ্ছে। মুক্তির ১২ দিনেই বিশ্বব্যাপী সিনেমাটির আয় ৫০০ কোটি রুপি ছাড়িয়েছে। শুধু বাণিজ্যিক সাফল্যই নয়, ছবিটি প্রশংসা পেয়েছে মালয়ালম সিনেমার সুপারস্টার মোহনলালের কাছ থেকেও। ‘দৃশ্যম’ ফ্র্যাঞ্চাইজির মূল মালয়ালম সংস্করণে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করা এই তারকা হিন্দি সংস্করণের সমাপ্তি দেখে মুগ্ধতার কথা জানিয়েছেন।
সম্প্রতি সিনেমাটি দেখার পর নিজের প্রতিক্রিয়া জানান মোহনলাল। তার মতে, দীর্ঘদিনের জনপ্রিয় এই গল্পকে নির্মাতারা যেভাবে শেষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। একই সঙ্গে পরিচালক অভিষেক পাঠক, প্রযোজক কুমার মঙ্গত পাঠক, অভিনেতা অজয় দেবগনসহ পুরো নির্মাণসংশ্লিষ্ট দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি।
মোহনলাল বলেন, ‘আমি দৃশ্যম থ্রি: দ্য কনক্লুশন দেখেছি। দীর্ঘদিনের এই প্রিয় যাত্রাকে তারা যেভাবে যথাযথ সমাপ্তির দিকে নিয়ে গেছেন, তাতে আমি সত্যিই মুগ্ধ।’
স্যাকনিল্কের প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, মুক্তির ১২ দিনে ভারতে সিনেমাটির নিট আয় দাঁড়িয়েছে ৩২৩ কোটি ৫০ লাখ রুপি। ভারতীয় বাজারে এর মোট আয় ৩৮৭ কোটি ৮০ লাখ রুপি। অন্যদিকে ভারতের বাইরের বাজার থেকে এসেছে ১১৪ কোটি রুপি। সব মিলিয়ে বিশ্বব্যাপী সিনেমাটির মোট আয় ৫০১ কোটি ৮০ লাখ রুপি।
গত ২ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ‘দৃশ্যম থ্রি: দ্য কনক্লুশন’। প্রথম দিনেই ভারতে ৬২ কোটি রুপি নিট আয় করে ছবিটি। দ্বিতীয় দিনে আয় হয় ৫৩ কোটি ৫০ লাখ রুপি এবং তৃতীয় দিনে ৬১ কোটি রুপি। প্রথম সপ্তাহ শেষে ভারতে সিনেমাটির নিট আয় দাঁড়ায় ২৪৫ কোটি ৫০ লাখ রুপি।
দ্বিতীয় সপ্তাহেও দর্শকদের আগ্রহ ধরে রেখেছে ছবিটি। মুক্তির নবম দিনে আয় হয় ২৬ কোটি ৫০ লাখ রুপি। দশম দিনে ২২ কোটি ৫০ লাখ রুপি আয়ের পর একাদশ দিনে সংগ্রহ কিছুটা কমে ৬ কোটি রুপিতে দাঁড়ায়। তবে দ্বাদশ দিনে আবারও আয় বেড়ে হয় ৮ কোটি ৫০ লাখ রুপি।
এই সাফল্যের মধ্য দিয়ে ২০২৬ সালে মুক্তি পাওয়া হিন্দি সিনেমাগুলোর মধ্যে আয়ের দিক থেকে শীর্ষস্থানীয় ছবিগুলোর তালিকায় উঠে এসেছে ‘দৃশ্যম থ্রি’। বছরের সর্বোচ্চ আয় করা হিন্দি সিনেমাগুলোর তালিকায় এটি দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বলে বিভিন্ন বক্স অফিস প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
‘দৃশ্যম’ ফ্র্যাঞ্চাইজির জনপ্রিয়তার বড় কারণ এর রহস্যনির্ভর গল্প এবং প্রতিটি ঘটনার পেছনে লুকিয়ে থাকা নতুন নতুন প্রশ্ন। তৃতীয় কিস্তিতেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন নির্মাতারা।
আগের সিনেমাগুলোর মতো এবারও কেন্দ্রীয় চরিত্রে রয়েছেন বিজয় সালগাঁওকার। পরিবারকে আইনি বিপদ থেকে রক্ষা করতে অতীতে যে কৌশল ও পরিকল্পনার আশ্রয় নিয়েছিলেন তিনি, নতুন কিস্তিতে সেগুলো আবারও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। পুরোনো ঘটনার সূত্র ধরে তদন্ত এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা এবং নতুন করে সত্য উদ্ঘাটনের তৎপরতা বিজয়ের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে।
এবারের সিনেমায় নতুন সংযোজন অভিনেতা জয়দীপ আহলাওয়াত। তাকে দেখা গেছে একজন পুলিশ কর্মকর্তার চরিত্রে। মামলার গভীরে গিয়ে সত্য বের করে আনার ব্যাপারে তার দৃঢ় অবস্থান গল্পে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
অভিষেক পাঠক পরিচালিত সিনেমাটিতে অজয় দেবগনের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন টাবু, শ্রিয়া সরন, জয়দীপ আহলাওয়াত, রজত কাপুর, প্রকাশ রাজ ও ইশিতা দত্তসহ আরও অনেকে।
‘দৃশ্যম’ ফ্র্যাঞ্চাইজির যাত্রা শুরু হয়েছিল মালয়ালম সিনেমার মাধ্যমে। জিতু জোসেফ পরিচালিত মূল সিনেমায় কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেন মোহনলাল। রহস্য, পারিবারিক টানাপোড়েন এবং পুলিশের তদন্তকে ঘিরে নির্মিত গল্পটি দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। পরে গল্পটির হিন্দি সংস্করণেও সাফল্য আসে, যেখানে বিজয় সালগাঁওকারের চরিত্রে অভিনয় করছেন অজয় দেবগন।
নতুন কিস্তির বক্স অফিস সাফল্যের পাশাপাশি মূল সংস্করণের অভিনেতা মোহনলালের প্রশংসা হিন্দি ছবিটির আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের জনপ্রিয় একটি গল্পের সমাপ্তি কীভাবে দর্শকদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে, সেটিই তার প্রতিক্রিয়ায় গুরুত্ব পেয়েছে।
সূত্র: স্যাকনিল্ক, মিন্ট ও টাইমস অব ইন্ডিয়া