থেমে গেল বাউলশিল্পী সুনীল কর্মকারের কণ্ঠস্বর

প্রখ্যাত বাউলশিল্পী সুনীল কর্মকার পরলোকগমন করেছেন। বেশ কিছুদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার প্রয়াণে লোকগানের ভুবনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আজ শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
ছোটবেলা থেকেই গানের সঙ্গে নিবিড় সখ্য ছিল গুণী শিল্পী সুনীল কর্মকারের। ভরাট ও আবেগময় কণ্ঠের জাদুতে তিনি খুব সহজেই আসর মাতিয়ে তুলতে পারতেন। একই সঙ্গে বেহালা, দোতারা, তবলা, হারমোনিয়ামসহ একাধিক বাদ্যযন্ত্রে তার ছিল বিশেষ পারদর্শিতা।
নেত্রকোনায় জন্মগ্রহণকারী এই শিল্পী বিখ্যাত বাউল সাধক ওস্তাদ জালাল উদ্দিন খাঁর গান শুনেই সংগীত জগতে নিজেকে সমর্পণ করেন। লোকসংগীতে অবদানের জন্য ২০২২ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রদত্ত শিল্পকলা পদক লাভ করেন দৃষ্টিহীন এই শিল্পী।
জীবনের শুরুর দিকেই তিনি দৃষ্টিশক্তি হারান। তবে অন্ধত্ব কখনোই তার সাধনার পথে বাধা হতে পারেনি। কঠোর পরিশ্রম ও সাধনার মাধ্যমে তিনি দৃষ্টিহীনতাকে জয় করে শ্রোতামহলে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।
ওস্তাদ জালাল উদ্দিন খাঁর অসংখ্য গানে তিনি সুরারোপ করেছেন এবং কণ্ঠ দিয়েছেন। নিজের মৌলিক গানের ভান্ডারও বেশ সমৃদ্ধ। দেড়শ থেকে দুইশ গান তিনি রচনা করেছেন।
সহকর্মী বাউলশিল্পী মুক্তা সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গভীর শোক প্রকাশ করে জানিয়েছেন, পালাগানের মঞ্চে তাদের অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। গুণী এই শিল্পীর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছেন ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীরা।

