আলোর মুখ না দেখা আলোচিত ৫ সিনেমা

ভারতীয় সিনেমায় সব সময় বড় তারকারা প্রাধান্য পেয়ে থাকেন। তাদের শুটিং করা মানেই, সেই সিনেমা দ্রুত পর্দায় হাজির। তবে কিছু সিনেমা আছে, যেগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, সব সিনেমাই মুক্তি পায় না। এমনকি প্রতিবন্ধকতা পেরোতে বড় তারকাদের প্রভাবও কোনো কাজে আসেনি। এরকমই কিছু সিনেমা রয়েছে যেগুলো কখনোই প্রেক্ষাগৃহে পৌঁছায়নি। কাজ সম্পূর্ণ হওয়া, এমনকি প্রচারণার পরও বিভিন্ন সমস্যার কারণে মুক্তি আটকে গিয়েছিল। ব্যর্থতার ভয়, বাজেট সমস্যা কিংবা অন্য কারণে সিনেমাগুলো বাজারে আনার সাহস পাননি সংশ্লিষ্টরা। এগুলো বলিউড ইতিহাসে অজানা আকর্ষণীয় গল্প হিসেবেই থেকে যায়।
১. টাইম মেশিন
আমির খান অভিনীত ‘টাইম মেশিন’ ছিল বলিউডের প্রথম দিকের একটি বিজ্ঞান কল্পকাহিনিমূলক সিনেমা। সায়েন্স ফিকশনে চমকে দেওয়ার জন্য প্রকল্পটি মহাসমারোহে শুরু হয়। এর গল্প ছিল সময়, ভ্রমণ এবং অতীতের ভুল সংশোধনের ওপর। নতুন ধরনের দৃশ্যায়ন এবং সিনেমায় একটি ভিন্ন ধারা সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি ছিল। কিন্তু আর্থিক সমস্যার কারণে নির্মাতারা প্রকল্পটি মাঝপথে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন।
২. শু-বাইট

সিনেপর্দার দাপুটে অভিনেতা অমিতাভ বচ্চনের সিনেমা মানেই হিট। কিন্তু ‘বিগ বি’ অভিনীত 'শু-বাইট' পুরোটা শেষ করার পরও দেখেনি আলোর মুখ। এম. নাইট শ্যামালানের একটি গল্পের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত সিনেমাটি ছিল একজন বৃদ্ধকে নিয়ে, যিনি তার সাধারণ জীবন ছেড়ে নিজেকে খুঁজে বের করার জন্য একটি যাত্রায় বেরিয়ে পড়েন। চলচ্চিত্রটি ছিল আবেগঘন এবং অভিনয়-নির্ভর। তবে, প্রযোজকদের মধ্যে একটি আইনি লড়াইয়ে এটি আটকে যায় এবং কখনও মুক্তি পায়নি।
৩. মুন্না ভাই ৩

সঞ্জয় দত্ত ও আরশাদ ওয়ারশি অভিনীত জনপ্রিয় এই সিরিজের তৃতীয় পর্ব হিসেবে ‘মুন্না ভাই ৩’ তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। গল্পটি চরিত্রদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। ভক্তরা খুব উত্তেজিত ছিলেন এবং একটি টিজারও প্রকাশ করা হয়েছিল। কিন্তু চিত্রনাট্যের সমস্যার কারণে ছবিটি কখনও নির্মাণ পর্যায়ে যায়নি। একই সঙ্গে বাজেট ঘাটতিও সমস্যা হিসেবে দেখা দেয়।
৪. মরুধনায়গম

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে নির্মিত কমল হাসানের 'মরুধনায়গম'-এর কাজ অনেক দূর এগিয়েও শেষ করা যায়নি। এটি ঔপনিবেশিক সময়ের একজন যোদ্ধার গল্প নিয়ে সাজানো। সিনেমাটির জন্য অনেক টাকা খরচ করে বানানো হয় বিশাল সেট। কমল হাসানের সিনেমাটির জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থনও ছিল। এমনকি রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ এটি উদ্বোধন করেছিলেন। কিন্তু উচ্চ বাজেটের সমস্যার কারণে চলচ্চিত্রটির কাজ মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায় এবং এটি অসমাপ্তই থেকে যায়।
৫. পানি

ভবিষ্যতের পৃথিবীতে প্রাণিজগতের বেঁচে থাকার সবচেয়ে বড় সম্পদ পানি। এই বেঁচে থাকার অবলম্বন নিয়ে ভবিষ্যৎকেন্দ্রিক সিনেমা ‘পানি’র কাজ এগিয়ে গিয়েছিল বেশ খানিকটা। সুশান্ত সিং রাজপুত এই প্রকল্পের অংশ ছিলেন, যা এর আলোচনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। তবে সৃজনশীল মতপার্থক্য এবং কাস্টিং সংক্রান্ত সমস্যার কারণে ছবিটি পরে বাদ দেওয়া হয়।