সংবাদ সম্মেলনে উজ্জ্বল–লিপু পরিষদের ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতির ২০২৬–২০২৮ মেয়াদের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত আইনি জটিলতা, গঠনতন্ত্রের প্রয়োগ এবং উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের নীতিগত ও আইনগত অবস্থান তুলে ধরেছে ‘উজ্জ্বল–লিপু পরিষদ’।
রবিবার (০৯ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী কামাল মোহাম্মদ কিবরিয়া লিপু এবং সভাপতি পদপ্রার্থী আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল লিখিত বক্তব্য ও আইনি ব্যাখ্যা প্রদান করেন। তারা জানান, ট্রেড অর্গানাইজেশন আইন ও সমিতির গঠনতন্ত্র মেনে একটি স্বচ্ছ, আইনি ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতেই তারা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৬–২৮ মেয়াদের নির্বাচনে দুইজন প্রার্থীর প্রার্থিতার বৈধতা নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও আপিল কমিশনের মধ্যে ভিন্নমুখী সিদ্ধান্ত দেখা দেয়। নির্বাচন কমিশন প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষণা করলেও পরবর্তীতে আপিল বোর্ড কোনো সুস্পষ্ট লিখিত ব্যাখ্যা ছাড়াই তা বৈধ ঘোষণা করে।
এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এফবিসিসিআই ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা হলে ট্রাইব্যুনাল চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না দিয়ে বিষয়টি মুলতবি রাখেন। পরবর্তীতে ন্যায়বিচারের স্বার্থে উজ্জ্বল–লিপু পরিষদের পক্ষে সভাপতি পদপ্রার্থী আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন (আবেদন নং-১০৮৫৬) দায়ের করেন। শুনানি শেষে উচ্চ আদালত পূর্ববর্তী মামলাগুলোর নিষ্পত্তির লক্ষ্যে দুই মাসের জন্য নির্বাচন স্থগিতের অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ প্রদান করেন।
সংবাদ সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী কামাল মোহাম্মদ কিবরিয়া লিপু আইনি বিষয়গুলো বিস্তারিত তুলে ধরেন।
যেখানে ধারাবাহিক মেয়াদের বাধ্যবাধকতা: সমিতির গঠনতন্ত্র এবং ট্রেড অর্গানাইজেশন আইন ২০২৫-এর ১৮(ক) ধারা অনুযায়ী, পরপর দুই বা তিন মেয়াদে কার্যনির্বাহী কমিটিতে থাকার পর নির্দিষ্ট মেয়াদে বিরতি দেওয়া বাধ্যতামূলক।
বিগত নির্বাচন ও রিট পিটিশনের ইতিহাস: খোরশেদ আলম খসরু ও শামসুল আলম ২০০৫–০৭, ২০০৮–১০ এবং ২০১১–১৩ মেয়াদে টানা নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০১৪–১৬ মেয়াদে তাদের প্রার্থিতা নির্বাচন ও আপিল কমিশন বাতিল করলেও আইনি প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হয়।
উচ্চ আদালতের পূর্ববর্তী নির্দেশনা: রিট পিটিশন (নং ৫৯৯৬/২০১৬)-এর রায়ে উচ্চ আদালত উল্লেখ করেন, কোনো ব্যক্তি কার্যনির্বাহী কমিটিতে একনাগাড়ে ৬ বছর (৩ মেয়াদ) নির্বাচিত থাকলে, পরবর্তী ২ বছর নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।
কমিটি বাতিল ও বর্তমান প্রার্থীর যোগ্যতা প্রশ্ন: ২০১৯–২১ মেয়াদে তারা নির্বাচনে বিজয়ী হলেও ট্রেড অর্গানাইজেশনের তদন্তে পুরো কমিটি বাতিল করা হয়। ২০২২–২৪ মেয়াদেও তাদের প্রার্থিতা বাতিল ও উচ্চ আদালতে মামলা গড়ায়। ২০২৬–২৮ মেয়াদের নির্বাচনেও একই আইনি ধারা অমান্য করে তাদের প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ সময় উজ্জ্বল–লিপু পরিষদের নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ‘তাদের এই পদক্ষেপ কোনো ব্যক্তি বা প্রার্থীর বিরুদ্ধে নয়; বরং এটি সংগঠনের আইন ও গঠনতন্ত্র রক্ষার লড়াই।’
পরিষদের আশা—বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, এফবিসিসিআই ট্রাইব্যুনাল এবং উচ্চ আদালতের মাধ্যমে বিচারাধীন বিষয়গুলোর চূড়ান্ত নিষ্পত্তির পর একটি অংশগ্রহণমূলক, সুসংগঠিত ও স্বচ্ছ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।