সিনেমা বানাতে নিজের বাড়ি বন্ধক রেখেছিলেন দিয়া মির্জা

বলিউড অভিনেত্রী থেকে প্রযোজক হওয়ার পথটা মোটেও সহজ ছিল না দিয়া মির্জার। নিজের পছন্দের গল্প পর্দায় তুলে ধরতে গিয়ে একসময় নিজের প্রথম কেনা বাড়িই বন্ধক রাখতে হয়েছিল তাকে। নিতে হয়েছিল ব্যাংকঋণও। তবে শেষ পর্যন্ত সেই আর্থিক চাপ সামলে ঋণ পরিশোধ করে বন্ধক রাখা বাড়িটি ছাড়িয়ে নিতে সক্ষম হন এই অভিনেত্রী।
২০০১ সালে ‘রেহনা হ্যায় তেরে দিল মে’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয় দিয়া মির্জার। অভিনয়ের পাশাপাশি প্রায় এক দশক পর প্রযোজনায়ও নাম লেখান তিনি। ২০১৪ সালে নারীপ্রধান গল্পের ‘ববি জাসুস’ সিনেমাটি প্রযোজনার সিদ্ধান্ত নেন দিয়া। এতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন বিদ্যা বালান।
সিনেমাটির চিত্রনাট্য প্রস্তুত হওয়ার পর বিদ্যা বালানের মতো জনপ্রিয় অভিনেত্রীও এতে অভিনয়ে সম্মতি দেন। গড়ে ওঠে পুরো টিম। কিন্তু শুটিং শুরুর আগ মুহূর্তে একে একে সরে যান সিনেমাটির স্টুডিও ও অর্থদাতারা। ফলে অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে পুরো প্রকল্প।
সেই পরিস্থিতিতে পিছিয়ে না গিয়ে নিজের প্রথম কেনা বাড়ি বন্ধক রাখার সিদ্ধান্ত নেন দিয়া। পাশাপাশি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে সিনেমাটির কাজ শুরু করেন।
সম্প্রতি সেই অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে দিয়া জানান, তিনি যে গল্পটি বলতে চেয়েছিলেন, সেটির চিত্রনাট্য তখন তৈরি হয়ে গিয়েছিল। বিদ্যা বালানের মতো একজন অভিনেত্রীও ছবিতে অভিনয়ের জন্য প্রস্তুত ছিলেন। তাই অর্থের সংকটে পড়ে সিনেমাটি বন্ধ করে দিতে চাননি তিনি।
প্রযোজক হিসেবে কাজ করতে গিয়ে আরেক ধরনের সমস্যার মুখেও পড়েছিলেন দিয়া। তার দাবি, সিনেমা প্রযোজনায় আসার পর অভিনয়ের কাজও কিছু সময়ের জন্য কমে গিয়েছিল। তাকে বলা হয়েছিল, প্রযোজক হলে হয়তো আর অভিনেত্রী হিসেবে নিয়মিত কাজের সুযোগ পাবেন না।
দিয়া আরও জানান, ‘ববি জাসুস’-এর আর্থিক সংকটের মধ্যেও বিদ্যা বালানের পারিশ্রমিক কমাতে বলেননি তিনি। বরং অভিনেত্রীকে পুরো পারিশ্রমিকই দেওয়া হয়েছিল। তার ভাষ্য, ছবিটির মূল চরিত্রে ছিলেন বিদ্যা এবং পুরো গল্পই তাকে ঘিরে। তাই একজন পুরুষ অভিনেতা হলে যে সম্মানি দেওয়া হতো, নারী অভিনেত্রীর ক্ষেত্রেও একই সম্মান থাকা উচিত।
মুক্তির পর অবশ্য বক্স অফিসে প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি ‘ববি জাসুস’। তবে সিনেমাটি নিজের ভাবনা অনুযায়ী নির্মাণ করতে পেরেই সন্তুষ্ট ছিলেন দিয়া। পরে সিনেমাটির স্যাটেলাইট ও স্টুডিও চুক্তি থেকে পাওয়া অর্থের মাধ্যমে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করেন তিনি। একই সঙ্গে বন্ধক রাখা নিজের প্রথম বাড়িটিও ফেরত পান।
দিয়ার ভাষায়, সিনেমাটি বানানোর সিদ্ধান্তটি ছিল ঝুঁকিপূর্ণ, কিন্তু গল্পটির প্রতি বিশ্বাস থেকেই তিনি সেই ঝুঁকি নিয়েছিলেন। আর্থিক ক্ষতির মধ্যেও নিজের মতো করে সিনেমাটি নির্মাণ করতে পারাকে তিনি তার প্রযোজক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখেন।
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, টাইমস অব ইন্ডিয়া