logo

ডেটিংয়ের নতুন নতুন শব্দে বিভ্রান্ত ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী

এশিয়া পোস্ট বিনোদন
এশিয়া পোস্ট বিনোদন
ডেটিংয়ের নতুন নতুন শব্দে বিভ্রান্ত ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী
ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী। ছবি: অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে

ডেটিং অ্যাপে মানুষের সংখ্যা বেড়েছে, বেড়েছে সম্পর্কের ধরন ও সংজ্ঞাও। তবে এত বিকল্পের ভিড়ে ভালোবাসার মানুষ খুঁজে পাওয়া বরং কঠিন হয়ে উঠেছে বলে মনে করেন দক্ষিণ ভারতীয় অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী। তার মতে, এখন এত বেশি সুযোগ ও বিকল্প সামনে যে, সঠিক মানুষটিকে বেছে নেওয়াই বিভ্রান্তিকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সম্প্রতি ‘ইন্ডিয়া টুডে’র সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে প্রেম, ডেটিং অ্যাপ ও আধুনিক সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন ঐশ্বরিয়া। আধুনিক সময়ের ডেটিংকে ঘিরে নির্মিত নেটফ্লিক্সের সিরিজ ‘হ্যাশট্যাগ লাভ’-এ অর্জুন দাসের সঙ্গে অভিনয় করেছেন তিনি।

ডেটিং অ্যাপে এত বেশি বিকল্প থাকার কারণে প্রেম খোঁজা কঠিন হয়ে গেছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে ঐশ্বরিয়া বলেন, তিনি বিষয়টি সত্যিই এমন মনে করেন। তার ভাষায়, এত বিকল্পের কারণে মানুষ অনেক সময় কোন পথে এগোবে, সেটাই বুঝে উঠতে পারে না। শেষ পর্যন্ত খোঁজটা একজন নির্দিষ্ট মানুষের জন্যই থাকে, যাকে নিজের মানুষ মনে হবে। কিন্তু সেই মানুষটিকে খুঁজে পাওয়ার প্রক্রিয়াটি আগের তুলনায় এখন অনেক বেশি বিভ্রান্তিকর।

আধুনিক সম্পর্কের সঙ্গে যুক্ত নতুন নতুন শব্দ নিয়েও মজা করেছেন এই অভিনেত্রী। ‘সিচুয়েশনশিপ’, ‘ন্যানোশিপ’ কিংবা ‘বিঞ্জিং’-এর মতো শব্দ নিয়ে নিজের বিভ্রান্তির কথা জানান তিনি। ঐশ্বরিয়া বলেন, ‘বিঞ্জিং’ শব্দটি তিনি আগে শুধু নেটফ্লিক্সে একের পর এক কিছু দেখার ক্ষেত্রেই শুনেছেন। কিন্তু এখন জানতে পারছেন, সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নাকি এর ব্যবহার রয়েছে।

তবে এত পরিবর্তনের পরও মানুষের চাওয়া যে বদলায়নি, সেটিও মনে করেন ঐশ্বরিয়া। তার মতে, মানুষ এখনও সেই একজনকেই খুঁজছে, যার সঙ্গে নিজের জীবন ভাগ করে নেওয়া যায়। কিন্তু বর্তমান সময়ে সেই মানুষকে খুঁজে পাওয়ার পথটাই যেন আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

সময়ের সঙ্গে ভালোবাসা সম্পর্কে নিজের ধারণাও বদলেছে বলে জানান ঐশ্বরিয়া। তার কাছে এখন ভালোবাসার অর্থ হলো স্বস্তি, নিরাপত্তা এবং অন্য একজন মানুষের সামনে কোনো সংকোচ ছাড়াই নিজের মতো করে থাকতে পারা।

জীবনসঙ্গীর মধ্যে মানসিক সামঞ্জস্যকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন এই অভিনেত্রী। প্রথম কথোপকথন থেকেই এমন একটি স্বস্তি চান, যেখানে নিজের কথা বলার স্বাধীনতা থাকবে এবং নিজের মতো করে গ্রহণযোগ্য হওয়ার নিশ্চয়তা থাকবে।

পাঁচ বছর আগের তুলনায় এখন জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে কী বেশি গুরুত্বপূর্ণ- এমন প্রশ্নেও মানসিক নিরাপত্তার কথাই বলেন ঐশ্বরিয়া। তার মতে, এমন একজন মানুষ দরকার, যার কাছে নিজেকে নিরাপদ মনে হবে। যার সামনে কোনো দ্বিধা বা বিচারের ভয় ছাড়াই সবকিছু বলা যাবে। দুজনের নিজস্ব স্বাধীনতা থাকবে, আবার সেই স্বাধীনতার মধ্যেই একসঙ্গে পথ চলা যাবে।

রোমান্টিক সম্পর্কের মধ্যে বন্ধুত্বের গুরুত্বও সময়ের সঙ্গে আরও ভালোভাবে উপলব্ধি করেছেন বলে জানান তিনি। ‘পেয়ার দোস্তি হ্যায়’- এই পরিচিত সংলাপের কথা উল্লেখ করে ঐশ্বরিয়া বলেন, বিষয়টি বাস্তবে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা তিনি সম্প্রতি আরও গভীরভাবে বুঝেছেন। তার বিবাহিত বন্ধুদের মধ্যেও তিনি দেখেছেন, সফল দাম্পত্যের আগে তারা একে অপরের ভালো বন্ধু ছিলেন।

পর্দায় ঐশ্বরিয়াকে আবেগঘন ও তীব্র প্রেমের গল্পে দেখা গেলেও বাস্তব জীবনে তার পছন্দ অনেকটাই সহজ-সরল। নিজের দ্বিতীয় সিনেমা ‘মায়ানদী’র কথা স্মরণ করে তিনি জানান, একজন অভিনেতা হিসেবে তার দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে উঠতে সিনেমাটির বড় ভূমিকা রয়েছে। কী ধরনের সিনেমা বেছে নেওয়া উচিত এবং একজন শিল্পীর কেমন হওয়া উচিত- সেই ভাবনাতেও সিনেমাটি তাকে প্রভাবিত করেছে।

ভালোবাসার গল্পে বাস্তব আবেগই তাকে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করে। চরিত্র যতই দুর্দান্ত হোক, তার অনুভূতিগুলো যদি সত্যিকারের মনে হয়, তবেই সেই চরিত্রে কাজ করতে আগ্রহী হন বলে জানান ঐশ্বরিয়া।

তবে ব্যক্তিগত পছন্দের জায়গায় তিনি আর তীব্র বা কষ্টদায়ক প্রেমের গল্পে আগ্রহী নন। বরং সুখী ও সহজ-সরল ভালোবাসার গল্পই তার বেশি পছন্দ। তার মতে, বিষাদময় প্রেমের গল্প দর্শকের মনে অনেক সময় বেশি দাগ কাটে। কিন্তু নিজের জীবনে তিনি চান ভালোবাসার গল্পের পরিণতি হোক সুখের।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে