২৫ বছরের ক্যারিয়ারে এবার নতুন পথে প্রিয়াঙ্কা

‘হঠাৎ বৃষ্টি’ দিয়ে বাংলা সিনেমায় পরিচিতি। এরপর ‘সাথী’ সিনেমায় জিৎ-এর বিপরীতে অভিনয় করে আসে জনপ্রিয়তা। বাংলা সিনেমার গণ্ডি পেরিয়ে পরে কাজ করেছেন হিন্দি, তামিল, তেলেগু ও কন্নড় ভাষার ছবিতেও। দীর্ঘ ২৫ বছরের অভিনয়জীবনে পেরিয়েছেন ৫০টি সিনেমার মাইলফলক। তিনি প্রিয়াঙ্কা ত্রিবেদী, যিনি বিয়ের পর পরিচিতি পেয়েছেন প্রিয়াঙ্কা উপেন্দ্র নামে।
১৯৯৮ সালে বাসু চ্যাটার্জির ‘হঠাৎ বৃষ্টি’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় প্রিয়াঙ্কার। বাংলাদেশের অভিনেতা ফেরদৌসের সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করা সেই সিনেমা তাকে দুই বাংলার দর্শকের কাছে পরিচিত করে তোলে। এরপর জিৎ-এর সঙ্গে ‘সাথী’ ও ‘সঙ্গী’র মতো সিনেমায় অভিনয় করে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেন। পরবর্তী সময়ে দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমাতেও নিয়মিত কাজ করেছেন তিনি।
সম্প্রতি নিজের দীর্ঘ ক্যারিয়ার নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনা এবং ভবিষ্যতে পরিচালনায় আসার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন প্রিয়াঙ্কা। তার কাছে কাজের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়া এবং ভালো গল্পের সঙ্গে যুক্ত থাকা।
প্রিয়াঙ্কার ভাষ্য, বিয়ে ও সন্তান হওয়ার পরও তিনি কাজ থেকে সরে যাওয়াকে ক্যারিয়ারের সমাপ্তি হিসেবে দেখেননি। বরং পরিবারকে সময় দেওয়ার জন্য সচেতনভাবেই বিরতি নিয়েছিলেন। পরে যখন আবার অভিনয়ের প্রস্তাব আসতে শুরু করে, তখন আগের মতো শুধু কাজের সংখ্যা নয়, গল্প ও চরিত্রের মানকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।
অভিনেত্রী মনে করেন, এই পথচলায় পরিবার, বন্ধু ও কাছের মানুষদের সমর্থন তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে সাফল্য পাওয়াকেও তিনি নিজের সৌভাগ্য হিসেবে দেখেন।
বিয়ের পর অভিনয়ে ফেরার সময়টা অবশ্য খুব সহজ ছিল না। প্রিয়াঙ্কার মতে, দুই দশকেরও বেশি সময় আগে যখন তিনি বিয়ে করেন, তখন নায়কদের স্ত্রীদের নিয়মিত সিনেমায় অভিনয় করার বিষয়টি সমাজে খুব একটা স্বাভাবিক ছিল না। বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতীয় সমাজে নায়কের স্ত্রীকে দর্শকের একটি নির্দিষ্ট পরিচয়ের মধ্যে ভিন্নভাবে দেখার প্রবণতা ছিল।
তাই বিয়ের পর পর্দায় ফেরার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় কোন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করছেন এবং কার সঙ্গে কাজ করছেন- এসব বিষয় নিয়ে তাকে বাড়তি সচেতন হতে হয়েছিল। তবে কলকাতায় তার আগের কাজের জনপ্রিয়তা থাকায় সেখান থেকে পাওয়া প্রস্তাবগুলো তাকে নতুন করে নিজের ইচ্ছেমতো কাজ বেছে নেওয়ার সুযোগ দেয়।
প্রিয়াঙ্কার কথায়, একপর্যায়ে তার একক নায়িকা হিসেবে অভিনীত কয়েকটি সিনেমা ভালো ব্যবসা করলে কাজের পরিধিও বাড়তে থাকে। একই সঙ্গে তিনি নিজেও চেয়েছেন, অভিনয়ের মাধ্যমে শুধু বিনোদন নয়, আরও অর্থবহ গল্পের অংশ হতে।
ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া সিনেমার প্রসঙ্গে প্রিয়াঙ্কা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন বাংলা সিনেমা ‘সাথী’র কথা। ২০০২ সালে মুক্তি পাওয়া হরণাথ চক্রবর্তী পরিচালিত সিনেমাটিতে জিৎ-এর বিপরীতে অভিনয় করেন তিনি। সিনেমাটি দর্শকের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং প্রিয়াঙ্কার ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা তৈরি করে।
তবে শুধু ‘সাথী’ নয়, তেলেগু সিনেমা ‘রা’-কেও নিজের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখেন প্রিয়াঙ্কা। সিনেমাটিতে উপেন্দ্রর সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন তিনি। তার মতে, চরিত্রটি অভিনয়ের দিক থেকে যেমন কঠিন ছিল, তেমনি ব্যক্তিগত জীবনেও এর আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। কারণ এই সিনেমার কাজ করতে গিয়েই উপেন্দ্রর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরবর্তীতে সেই সম্পর্কই বিয়েতে গড়ায়।
২৫ বছরের ক্যারিয়ারে ৫০টি সিনেমায় অভিনয়ের মাইলফলকও ছুঁয়েছেন প্রিয়াঙ্কা। ২০২২ সালে ‘ডিটেকটিভ তীক্ষ্ণা’কে নিজের ৫০তম সিনেমা হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন তিনি। সিনেমাটিতে তাকে একজন নারী গোয়েন্দার চরিত্রে দেখা যায়।
এখন অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনাতেও যুক্ত আছেন প্রিয়াঙ্কা। ভবিষ্যতে পরিচালনার কাজেও নিজেকে দেখতে চান তিনি। তবে তার সাম্প্রতিক কাজের ধরন দেখলে বোঝা যায়, এখন শুধু বড় বাজেট বা তারকাখচিত সিনেমার দিকে তার আগ্রহ নেই; বরং চরিত্র ও গল্পের গুরুত্বকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। ২০২৫ সালে ‘দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও তিনি জানিয়েছিলেন, সময়ের সঙ্গে তার কাছে অর্থবহ গল্পের গুরুত্ব বেড়েছে।
এদিকে প্রিয়াঙ্কার সর্বশেষ আলোচিত কাজ ‘সেপ্টেম্বর ২১’। কারেন ক্ষিতি সুবর্ণ পরিচালিত হিন্দি-কন্নড় ভাষার এই সিনেমায় আলঝেইমারে আক্রান্ত এক ব্যক্তির সেবিকার চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। সিনেমাটি ২২ মে ২০২৬ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে।
অভিনয়ের পাশাপাশি সংসার ও সন্তানদের সময় দিচ্ছেন প্রিয়াঙ্কা। দীর্ঘ পথ পেরিয়েও নতুন ধরনের গল্প ও চরিত্রের প্রতি আগ্রহ ধরে রেখেছেন এই অভিনেত্রী। আর সেই পথেই এবার অভিনয়ের বাইরে পরিচালনার নতুন অধ্যায় শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।