বাংলাদেশে থাকতে হলে রাজনীতি করতেই হবে: শাহরিয়ার নাজিম জয়

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি, দলীয় বিভাজন এবং নিরপেক্ষ অবস্থান নেওয়া মানুষের সংকট নিয়ে নিজের ভাবনা জানিয়েছেন জনপ্রিয় উপস্থাপক, অভিনেতা ও নির্মাতা শাহরিয়ার নাজিম জয়। এক ফেসবুক পোস্টে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, বাংলাদেশে আদৌ কোনো ‘নিরপেক্ষ মানুষ’ থাকার সুযোগ আছে কি না।
শাহরিয়ার নাজিম জয় লিখেছেন, কেউ বিএনপির রাজনীতি করলে আওয়ামী লীগ, জামায়াত ও এনসিপির সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। আবার আওয়ামী লীগের পক্ষে থাকলে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির গালি শুনতে হয়। আর কোনো দলের পক্ষ না নিলে সব দলেরই সমালোচনার মুখে পড়তে হয়।
তিনি লিখেছেন, ‘বাংলাদেশে বসবাসের পূর্ব শর্ত হচ্ছে ইনিয়ে-বিনিয়ে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার কোনো রাস্তা নেই। আপনাকে আপনার অবস্থান ক্লিয়ার করতে হবে।’ তার দাবি, রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট না করলে সমাজে একজন মানুষকে ‘বোঝা’ হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং কঠিন সময়ে তার পাশে দাঁড়ানোর লোকও থাকে না।
তবে রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করলেও বিপদ থেকে মুক্তি নেই বলে মনে করেন জয়। তার ভাষায়, নিজের খেয়ে নিজের পরে রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার করলেও কখন ভিন্নমতাবলম্বীরা তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়বে, সেই আশঙ্কা থেকেই যায়।
বাংলাদেশে নিরপেক্ষ মানুষের অস্তিত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এই অভিনেতা। তিনি জানতে চেয়েছেন, ‘বাংলাদেশে কি আসলে কোনো নিরপেক্ষ মানুষ আছে? যে বা যিনি কোনো রাজনৈতিক দলের না। যে শুধু বাংলাদেশের?’
উন্নত দেশ ও সমাজে একজন মানুষের নিজের রাজনৈতিক অবস্থান বেছে নেওয়া কিংবা নিরপেক্ষ থাকার অধিকারকে তুলনামূলক বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় বলেও মন্তব্য করেছেন জয়। তিনি মনে করেন, ধর্মীয় স্বাধীনতার ক্ষেত্রে দীর্ঘ সংঘাত ও সমঝোতার মধ্য দিয়ে পৃথিবীর অনেক সমাজ একটি অবস্থানে পৌঁছালেও রাজনীতির ক্ষেত্রে সেই সমঝোতা এখনও তৈরি হয়নি।
এ জন্য রাজনীতিবিদ ও রাজনীতির অপব্যবহারকে দায়ী করেছেন তিনি। তার মতে, কোনো একটি রাজনৈতিক পক্ষ নিলে অন্য পক্ষের আক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হয়। আবার শুধু ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে থাকার ফলও সরকার পরিবর্তনের পর ভয়াবহ হতে পারে।
জয় লিখেছেন, সরকার পরিবর্তনের পর ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা চাকরি হারাতে পারেন, ব্যবসায় ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন কিংবা সরকারের সঙ্গে গভীর সম্পৃক্ততা থাকলে মামলায় জড়িয়ে পড়তে পারেন। তার মতে, এ ধরনের ঘটনা সব সরকারের আমলেই দেখা গেছে।
পোস্টের শেষদিকে ‘দোসর’ শব্দটির রাজনৈতিক ব্যবহার নিয়েও আক্ষেপ প্রকাশ করেন জয়। তিনি লিখেছেন, একজন মানুষ সারা জীবন ডাক্তার, প্রকৌশলী, অধ্যাপক কিংবা শিল্পী হিসেবে নিজের পরিচয় তৈরি করলেও সরকার পতনের পর তার সব পরিচয় ছাপিয়ে যেতে পারে একটি শব্দ- ‘দোসর’।
তার ভাষায়, ‘সারা জীবন কষ্ট করে আপনি ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার প্রফেসার কিংবা শিল্পী যাই হোক না কেন আপনাকে এই দেশ কখনও না কখনও একটি পরিচয় বিনা পয়সায় দিয়ে দিবেন। সেই পরিচয়ের নাম দোসর।’
তবে সব ‘দোসর’ যে নির্দোষ, সেটিও তিনি মনে করেন না। একই সঙ্গে তার দাবি, অনেকে তুলনামূলক কম দায় থাকা সত্ত্বেও বেশি পরিচিতি পান ‘দোসর’ হিসেবে। আবার কেউ কেউ বড় ধরনের সম্পৃক্ততা থাকার পরও অপরিচিত বা কম পরিচিত হওয়ার কারণে সহজেই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যান।
রাজনৈতিক পরিচয়, ক্ষমতার পালাবদল এবং ব্যক্তির নিজস্ব পরিচয়ের এই টানাপোড়েনকে সামনে রেখে শেষ পর্যন্ত হতাশাই প্রকাশ করেছেন শাহরিয়ার নাজিম জয়।