logo

ক্রিমিনালকে ছেড়ে আপনারা ভিকটিমকে বুলি করছেন: প্রভা

ক্রিমিনালকে ছেড়ে আপনারা ভিকটিমকে বুলি করছেন: প্রভা
সাদিয়া জাহান প্রভা। ছবি: সংগৃহীত

বিনোদন অঙ্গনের অন্যতম জনপ্রিয় ও আলোচিত অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভা। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্রমাগত ট্রল এবং সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়ে আসছেন তিনি। এতদিন বিষয়টি নিয়ে নীরব থাকলেও, এবার আর চুপ থাকেননি। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভিডিও বার্তায় নিজের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও মানসিক যন্ত্রণার কথা প্রকাশ করেছেন এই অভিনেত্রী। একই সঙ্গে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন সমাজের ‘ভিকটিম ব্লেমিং’ সংস্কৃতির বিরুদ্ধে।

মডেলিং দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন প্রভা
মডেলিং দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন প্রভা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সরব ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভা। প্রায় সময় বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে কথা বলেন তিনি। এবার নিজের ব্যক্তিজীবন নিয়ে দর্শকের উদ্দেশে ওই ভিডিও বার্তায় তিনি নিজের ক্ষোভ, অভিজ্ঞতা প্রকাশ করলেন। শুরুতেই প্রভা বলেন, শুরুতে প্রভা বলেন, ‘আমি এখন কিছু জ্বালাময়ী সত্যি কথা বলব। আমি অনেকদিন সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া ব্যাপার নিয়ে কথা বলি না। ভেবেছিলাম কথা বলেও তো আসলে কোনো লাভ নাই। কিন্তু নিজের দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে মনে হয় যে কিছু জিনিস চোখ বন্ধ করে থাকা যায় না।’

মডেলিং দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করা প্রভা নাট্যজগতে নিজের অভিনয় দক্ষতা দিয়ে দ্রুতই দর্শকপ্রিয়তা পান। তবে ক্যারিয়ারের একটি দীর্ঘ সময় জুড়ে তাকে সহ্য করতে হয়েছে তীব্র সাইবার হেনস্তা। ভিডিও বার্তায় প্রভা ট্রলকারীদের মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, ‘আপনারা নিজেদের যোগ্যতা, সৌন্দর্য ও অবস্থান নিয়ে ইনসিকিউরড দেখেই মানুষকে মক করেন। যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভার্বালি অ্যাবিউজ করে, তারা আসলে নিজেদের জীবন নিয়ে অসন্তুষ্ট ও দুঃখী।’

ট্রল করা নেটিজেনদের প্রতি ক্ষোভ জানিয়ে প্রভা আরও বলেন, ‘আপনারা আমাকে বুলি করে মজা পান, এতে আপনাদের একটা পৈশাচিক আনন্দ হয়, তা আমি টোটালি আন্ডারস্ট্যান্ড করি। কিন্তু ঠিক যতটুকু আমাকে বুলি করছেন, তার যদি ৫০ শতাংশ একজন ক্রিমিনালকে খুঁজে বের করে মক করতেন, ওকে নিয়ে লেখালেখি করতেন, ওর চেহারাটা বারবার মানুষের সামনে আনতেন যে ও একজন ক্রিমিনাল, তাহলে পরিস্থিতি এমন হতো না।

ভিডিও বার্তায় নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করলেন
ভিডিও বার্তায় নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করলেন

ভিডিওতে প্রভা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত দেড় দশক ধরে তাকে যে পরিমাণ হেনস্তা করা হয়েছে, তার অর্ধেকও যদি অপরাধীর ক্ষেত্রে করা হতো, তবে পরিস্থিতি ভিন্ন হতো। অপরাধীর সম্মতি ছাড়া কারও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ফাঁস করা যে একটি গুরুতর অপরাধ, সেটি সমাজ ভুলে যায়।

বর্তমানে অ্যাসিড নিক্ষেপকারী বা ধর্ষকদের যেভাবে শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে, তেমনি প্রাইভেসি নষ্ট করা অপরাধীদেরও সামাজিকভাবে বয়কট ও শাস্তি দেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি। প্রভার এই সাহসী ও যৌক্তিক অবস্থান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ ইতিবাচক সাড়া ফেলছে। অনেকেই তার এই দীর্ঘ লড়াইকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন।