‘রইদ’-এর ‘সাদুর বউ’ হয়ে ওঠার গল্প জানালেন তুষি

মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত ‘রইদ’ সিনেমায় ‘সাদুর বউ’ চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছেন নাজিফা তুষি। এবার সিনেমাটিতে কাজের সময়কার কিছু অদেখা মুহূর্তের ছবি প্রকাশ করে সেই চরিত্র হয়ে ওঠার অভিজ্ঞতা ও স্মৃতির কথা জানিয়েছেন অভিনেত্রী।
মঙ্গলবার রাতে নিজের ফেসবুক পেজে একগুচ্ছ ছবি প্রকাশ করেন তুষি। ছবিগুলোতে পাহাড়ি অঞ্চলের শুটিংয়ে ‘সাদুর বউ’ চরিত্রের সাজে দেখা গেছে তাকে। ছবির সঙ্গে দীর্ঘ এক পোস্টে ‘রইদ’-এর অভিজ্ঞতা, শুটিংয়ের স্মৃতি এবং চরিত্রটি নিয়ে নিজের উপলব্ধির কথা তুলে ধরেন তিনি।
তুষির ভাষায়, ‘রইদ’-এর মতো একটি সিনেমায় কাজের অভিজ্ঞতা জীবনে কতজনের হয়, তা তিনি জানেন না। তবে এমন একটি কাজের অংশ হতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেন তিনি। তার মতে, ‘সাদুর বউ’কে দর্শক যেভাবে দেখেছেন ও ভালোবেসেছেন, তার পেছনে রয়েছে অনেক গল্প, যার কিছুটা এরই মধ্যে দর্শকদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন তারা।
‘সাদুর বউ’ হয়ে ওঠার পেছনে নির্মাতা, পুরো টিম এবং শুটিং এলাকার গ্রামবাসীদের বড় অবদান রয়েছে বলেও জানান তুষি। শুটিংয়ের সময় গ্রামবাসীদের সঙ্গে মিশতে মিশতে তাদেরই একজন হয়ে উঠেছিলেন তিনি।
গ্রামবাসীদের ভালোবাসার একটি বিশেষ স্মৃতিও তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী। কোনো দৃশ্যে ‘পাগলী’ চরিত্রটিকে মারার প্রয়োজন হলে গ্রামবাসীরা নাকি পরিচালকের সঙ্গে তর্ক করতেন, কিন্তু তাকে মারতে দিতেন না। ‘সাদু’কে মারলেও ‘পাগলী’কে তারা কখনো মারতে চাইতেন না—সেই স্মৃতি এখনো তুষির মনে গেঁথে আছে।
দর্শকের ভালোবাসাকে যে কোনো পুরস্কারের চেয়েও বড় অর্জন মনে করেন তুষি। পোস্টে তিনি লিখেছেন, জীবনে খুব বেশি পুরস্কার না পেলেও মানুষের কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসা তার কাছে ‘অস্কার কিংবা কোনো অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার অনুভূতিকেও হার মানায়’।
‘রইদ’ মুক্তির পর নিজের প্রতি দর্শকের আচরণেও পরিবর্তন লক্ষ্য করছেন বলে জানান তুষি। আগে মানুষ তাকে চিনলেও এখন অনেকে কাছে এসে তার অভিনীত চরিত্র নিয়ে কথা বলেন, হাত ধরতে চান, ভালোবাসা প্রকাশ করেন। এই অনুভূতিই তার কাছে যেকোনো পুরস্কারের চেয়ে বেশি মূল্যবান।
‘সাদুর বউ’ চরিত্রটি তৈরি করতে গিয়ে শুরুতে অনেক মানুষকে পর্যবেক্ষণ করেছেন তুষি। নানা ভয় ও চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাকে। কিন্তু শুটিং শেষ হওয়ার পর তার উপলব্ধি-চরিত্রটির ‘পাগলী’ আসলে তার নিজের ভেতরেই ছিল।
তুষি লিখেছেন, ‘আরেহ পাগলিটা তো আমার ভেতরেই ছিল, আমি কেন খুঁজে দেখলাম না?’ এমনকি নিজের মায়ের মধ্যেও তিনি সেই ‘পাগলী’কে খুঁজে পেয়েছেন বলে জানান। আশপাশের আরও অনেক মানুষের মধ্যেও চরিত্রটির ছায়া দেখতে পেয়েছেন তিনি।
সব মিলিয়ে ‘রইদ’-এর ‘পাগলী’ কিংবা ‘সাদুর বউ’ হয়ে ওঠার অভিজ্ঞতাকে জীবনের গভীর এক অনুভূতি হিসেবে দেখছেন তুষি। দর্শকের ভালোবাসার সেই চরিত্রটির শুটিংকালীন কিছু মুহূর্তই এবার ছবির মাধ্যমে তাদের সঙ্গে ভাগ করে নিলেন তিনি।
পোস্টের শেষদিকে তুষি লিখেছেন, অনেক কথা বলতে চাইলেও নিজের অনুভূতিগুলো সুন্দর করে লিখে বা বলে প্রকাশ করতে পারেন না তিনি। তবে ‘সাদুর বউ’-কে ঘিরে তার অনুভূতি অনেক গভীর- দর্শকের ভালোবাসার মতোই। সেই ভালোবাসা অব্যাহত থাকুক, এটাই তার প্রত্যাশা।
.png)

