Advertisement

শিল্পকলায় দর্শনীর বিনিময়ে সিনেমা প্রদর্শনী, নতুন সম্ভাবনা স্বাধীন নির্মাতাদের

শিল্পকলায় দর্শনীর বিনিময়ে সিনেমা প্রদর্শনী, নতুন সম্ভাবনা স্বাধীন নির্মাতাদের
‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’, ‘মাস্তুল’ ও ‘রইদ’ এর পোস্টার

সময়ের সঙ্গে দেশের প্রেক্ষাগৃহ বা হলসংকট আরও তীব্র হচ্ছে। ফলে সিনেমা নির্মাণের পর দর্শকের কাছে পৌঁছানো এবং প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির সুযোগ পাওয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিপাকে পড়ছেন স্বাধীন ও তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাতারা। এই সংকটের বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে নিয়মিত চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর দাবি জানিয়ে আসছিলেন নির্মাতারা। অবশেষে সেই দাবির প্রেক্ষিতে দর্শনীর বিনিময়ে সিনেমা প্রদর্শনীর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি।

Advertisement

আগামী শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে প্রথমবারের মতো দর্শনীর বিনিময়ে তিনটি স্বাধীন সিনেমার বিশেষ প্রদর্শনী হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন একাডেমির নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের পরিচালক দীপক কুমার গোস্বামী।

দীপক কুমার জানান, শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় প্রদর্শিত হবে আকাশ হকের সিনেমা ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’। সন্ধ্যা ৬টায় দেখানো হবে মোহাম্মদ নূরুজ্জামানের ‘মাস্তুল’ এবং রাত ৮টায় প্রদর্শিত হবে মেজবাউর রহমান সুমনের ‘রইদ’। প্রতিটি সিনেমার টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০ টাকা।

তিনি বলেন, স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতারা দীর্ঘদিন ধরেই শিল্পকলায় নিয়মিত সিনেমা প্রদর্শনীর দাবি জানিয়ে আসছেন। সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে একটি পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী সপ্তাহে অন্তত এক দিন শিল্পকলায় সিনেমা প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। পরবর্তী সময়ে ঢাকার বাইরেও পর্যায়ক্রমে জেলা শিল্পকলা একাডেমিগুলোতে এই কার্যক্রম চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এর আগে, গত ৯ থেকে ১১ আগস্ট বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় তিন দিনব্যাপী চলচ্চিত্র উৎসব ‘একাল-সেকাল’। উন্মুক্ত এই উৎসবে ছয়টি সিনেমা প্রদর্শিত হয়। উৎসবজুড়ে দর্শকের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে ‘রইদ’, ‘মাস্তুল’ ও ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’ দেখতে চলচ্চিত্রপ্রেমীদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। আসন না পেয়ে অনেক দর্শক মিলনায়তনের মেঝে ও সিঁড়িতে বসে সিনেমা দেখেন। স্থান সংকুলান না হওয়ায় অনেকে সিনেমা না দেখেই ফিরে যান। দর্শকদের এমন আগ্রহ ও সাড়া থেকেই শিল্পকলায় দর্শনীর বিনিময়ে নিয়মিত সিনেমা প্রদর্শনীর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান দীপক কুমার।

তিনি বলেন, দেশে স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাণের সংখ্যা বাড়ছে। প্রতিবছর দেশের অনেক সিনেমা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রশংসিত ও পুরস্কৃত হচ্ছে। কিন্তু প্রেক্ষাগৃহের স্বল্পতার কারণে সেসব সিনেমা দেশের দর্শকদের দেখানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে না। শিল্পকলায় নিয়মিত সিনেমা প্রদর্শনী চালু হলে স্বাধীন নির্মাতাদের জন্য নতুন একটি প্রদর্শনী ও অর্থনৈতিক পরিসর তৈরি হবে।

শিল্পকলা একাডেমি সূত্রে জানা গেছে, আগামী শনিবারের বিশেষ প্রদর্শনী থেকে টিকিট বিক্রি করে যে অর্থ পাওয়া যাবে, তার পুরোটা সংশ্লিষ্ট প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হবে। তবে পরবর্তী সময়ে এ কার্যক্রমের জন্য স্থায়ী নীতিমালা চূড়ান্ত হলে টিকিট বিক্রির অর্থের ৭০ শতাংশ পাবেন প্রযোজকেরা এবং বাকি ৩০ শতাংশ যাবে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির কাছে।

দীপক কুমার আরও জানান, সিনেমা প্রদর্শনীর পাশাপাশি ভবিষ্যতে চলচ্চিত্রবিষয়ক বিভিন্ন কর্মশালা আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঢাকায় কার্যক্রম শুরু হলেও সফল হলে দেশের অন্যান্য জেলা শিল্পকলা একাডেমিতেও নিয়মিত সিনেমা প্রদর্শনীর সুযোগ তৈরি করা হবে।

শিল্পকলার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন চলচ্চিত্র নির্মাতা খন্দকার সুমন। তিনি বলেন, ‘অভিনন্দন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। বাংলাদেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম সরকারি ভাবে দর্শনীর বিনিময়ে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী হচ্ছে। শিল্পকলার এই পরিবর্তনকে স্বাগত জানাই।’

নির্মাতাদের দাবি, প্রেক্ষাগৃহের স্বল্পতা যখন স্বাধীন সিনেমার দর্শকপ্রাপ্তির অন্যতম বড় বাধা, তখন সরকারি ব্যবস্থাপনায় শিল্পকলায় নিয়মিত দর্শনীর বিনিময়ে চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর এই উদ্যোগ দেশের স্বাধীন চলচ্চিত্রের জন্য বিকল্প প্রদর্শনী পরিসর তৈরির সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

শিল্পকলায় দর্শনীর বিনিময়ে সিনেমা প্রদর্শনী, নতুন সম্ভাবনা স্বাধীন নির্মাতাদের