logo
Advertisement

চরকিতে আসছে ‘দ্যা ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’

চরকিতে আসছে ‘দ্যা ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’
দ্যা ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল। ছবি: সংগৃহীত

স্বাধীন ধারার চলচ্চিত্র হিসেবে দর্শক-সমালোচকের প্রশংসা পাওয়া ‘দ্যা ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’ এবার মুক্তি পেতে যাচ্ছে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকিতে। আগামী ২৬ আগস্ট রাত ১২টার পর, অর্থাৎ ২৭ আগস্ট থেকে দেশ-বিদেশের দর্শকরা সিনেমাটি দেখতে পারবেন।

Advertisement

নির্মাতা আকাশ হক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাজীবন শুরুর সময় গণরুমের অভিজ্ঞতা এবং নিজের চারপাশের বাস্তবতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতি, ক্ষমতার পালাবদল, পদ-পদবি নিয়ে প্রতিযোগিতা, গ্রুপিং, অর্থের লেনদেন এবং সিনিয়র-জুনিয়র সম্পর্কের নানা দিক হাস্যরসের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে সিনেমাটিতে।

তবে নির্মাতার কাছে এটি শুধুই বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতির গল্প নয়। আকাশ হকের ভাষায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বাংলাদেশের বৃহত্তর ক্ষমতার কাঠামোরই একটি ‘মাইক্রোকসম’। ক্ষমতার খেলা, পদ পাওয়ার প্রতিযোগিতা, গ্রুপিং কিংবা সিনিয়র-জুনিয়র সম্পর্ক- এসবের মধ্য দিয়ে তিনি সমাজ ও রাষ্ট্রেরও একটি প্রতিচ্ছবি তুলে ধরতে চেয়েছেন।

রাজনীতির মতো সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে কাজ করার সময় সম্ভাব্য সেন্সর বা জটিলতার আশঙ্কা ছিল কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে নির্মাতা বলেন, কিছুটা ভয় ছিল। তবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা দলকে লক্ষ্য না করে একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি, ব্যবস্থা ও মানসিকতাকে ব্যঙ্গ করাই ছিল তার সচেতন সিদ্ধান্ত।

আকাশ হক বলেন, ‘আমি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা দলকে টার্গেট করতে চাইনি। আমি একটা কালচার, একটা সিস্টেম এবং একটা মেন্টালিটি নিয়ে কথা বলতে চেয়েছি। এই সিনেমাটাকে সকল সময়ের জন্য রাজনৈতিক স্যাটায়ার হিসেবে সফল রাখার উদ্দেশ্যে, কোনো মহল বা ব্যক্তিকে আক্রমণ না করে সিস্টেম-কে সেনসিটিভ করা আমার একটা কৌশক ছিল।’

সিনেমাটি নির্মাণের সময় সেন্সর বা অন্য কোনো বিষয়কে মাথায় রেখে কাজ শুরু করেননি বলেও জানান তিনি। তার ভাষায়, বাস্তবতার সঙ্গে যতটা সম্ভব দায়িত্বশীল থাকাই ছিল মূল লক্ষ্য। পরবর্তীতে সেন্সর বোর্ডের প্রতিক্রিয়াতেও হতাশ হতে হয়নি তাকে।

প্রেক্ষাগৃহ ও বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শনের পর সিনেমাটির সবচেয়ে বেশি প্রশংসা পেয়েছে এর হাস্যরস। নির্মাতার মতে, দর্শক পরিচিত বাস্তবতাকে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখতে পেরেছেন বলেই সিনেমাটির সঙ্গে সহজে যুক্ত হয়েছেন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সিনেমার চরিত্রগুলোর সঙ্গে নিজেদের ক্যাম্পাসের পরিচিত মানুষদের মিল খুঁজে পেয়েছেন বলেও জানান তিনি।

সিনেমাটির গানেও রাখা হয়েছে আলাদা বৈশিষ্ট্য। ‘সহমত ভাই’সহ গানগুলো র‍্যাপধর্মী। এ প্রসঙ্গে আকাশ হক বলেন, তার কাছে র‍্যাপ শুধু একটি সংগীতধারা নয়, বরং একটি ভাষা। জটিল বিষয়কে সরাসরি, কথোপকথনের মতো করে তুলে ধরার সুযোগ থাকায় সিনেমার রাজনৈতিক ব্যঙ্গের সঙ্গে র‍্যাপের ভাষা ও ছন্দকে স্বাভাবিক মনে হয়েছে তার।

স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাণের চ্যালেঞ্জ নিয়েও কথা বলেছেন আকাশ হক। তার মতে, স্বল্প জনবল ও সীমিত সম্পদের ওপর নির্ভর করে কম বাজেটে পুরো প্রযোজনা সম্পন্ন করতে হয় বলে স্বাধীন ধারার সিনেমা নির্মাণ অন্য অনেক ধারার চেয়ে বেশি কঠিন। শুধু নির্মাণ নয়, পরবর্তী সময়ে সিনেমাটি দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়াও বড় চ্যালেঞ্জ।

তার ভাষায়, অধিকাংশ সিনেমা হল বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় স্বাধীন সিনেমা অনেক সময় ভালো শো-টাইম বা পর্যাপ্ত পর্দা পায় না। আবার বাজেটের বড় অংশ নির্মাণে ব্যয় হয়ে যাওয়ায় প্রচারের জন্য পর্যাপ্ত অর্থও থাকে না।

এই পরিস্থিতিতে স্বাধীন চলচ্চিত্রের বিকাশে সরকারের সহায়ক ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন নির্মাতা। স্বচ্ছ নীতি, সহজ অর্থায়ন, উন্নত পরিবেশনা ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক সংযোগ- এই চারটি ক্ষেত্র শক্তিশালী করার পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে যথাযথ প্রযুক্তিসম্পন্ন শিল্পকলা একাডেমির মাধ্যমে স্বাধীন চলচ্চিত্র প্রদর্শনের সুযোগ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

তবে সব বাধার মধ্যেও আকাশ হকের কাছে সিনেমা নির্মাণের সবচেয়ে বড় উদ্দেশ্য শুধু ‘সাহসী’ কাজ করার স্বীকৃতি পাওয়া নয়। তিনি বলেন, ‘আমি চাই না মানুষ আমার সিনেমা দেখে শুধু বলুক, আরে, অনেক সাহসের একটা কাজ হয়েছে। বরং তারা বলুক, হ্যাঁ, এই কথাটা বলা দরকার ছিল। সাহস যদি শুধু সাহস দেখানোর জন্য হয়, আমার কাছে তার কোনো মূল্য নেই।’

প্রেক্ষাগৃহ ও উৎসবের পর এবার ওটিটিতে মুক্তি নিয়ে সন্তুষ্ট নির্মাতা। তার মতে, সিনেমা নির্মাণের পর একজন নির্মাতার সবচেয়ে বড় চাওয়া থাকে কাজটি যেন আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছায়। যারা হলে গিয়ে সিনেমাটি দেখতে পারেননি, চরকির মাধ্যমে তারাও এবার দেখার সুযোগ পাবেন- এটাই তার কাছে সবচেয়ে আনন্দের।

‘দ্যা ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’-এ অভিনয় করেছেন দেবদ্যুতি আইচ, রকি খান, ববি বিশ্বাস, আখতারুজ্জামান আজাদ, আবু সায়ীদ, ইফাদ হাসান, চয়ন মন্ডল, এস এ জীবন ও মেহেদী হাসান সোহানসহ অনেকে। পরিচালনার পাশাপাশি সিনেমাটির প্রযোজনা, চিত্রনাট্য, সম্পাদনা ও চিত্রগ্রহণও করেছেন আকাশ হক।

আগামী ২৭ আগস্ট থেকে চরকিতে দেশ-বিদেশের দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত হবে ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’। স্বাধীন ধারার এই রাজনৈতিক স্যাটায়ার এবার ওটিটি প্ল্যাটফর্মে কতটা সাড়া ফেলে, সেটিই দেখার অপেক্ষা।

চরকিতে আসছে ‘দ্যা ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’