দয়া করে এখানে আর শোডাউন করার চেষ্টা করবেন না: ওমর সানী

ঢাকাই চলচ্চিত্রের একসময়ের দর্শকপ্রিয় নায়ক ওমর সানী। অভিনয়ে আগের মতো নিয়মিত নন। সর্বশেষ তাকে ‘ডেডবডি’ সিনেমায় দেখা গেছে। বর্তমানে নিজের নানারকম ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
কাজের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ সরব ওমর সানী। বিভিন্ন সময়ই নানা ইস্যু নিয়ে কথা বলেন তিনি। সেই ধারাবাহিকতায় এবার জাতীয় চলচ্চিত্র দিবসে প্রাণের টানে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (এফডিসি) গিয়ে বিব্রতকর অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুলেছেন তিনি।
সামাজিক মাধ্যমে এক ভিডিও বার্তায় এফডিসির পরিবেশ, বহিরাগতদের দৌরাত্ম্য এবং সিনিয়র শিল্পীদের অনুপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
ওমর সানী জানান, দীর্ঘদিন পর চলচ্চিত্র দিবস উপলক্ষে সকালে এফডিসিতে যান তিনি। সেখানে নিজের অভিনীত কালজয়ী ছবি ‘চাঁদের আলো’র ব্যানার দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তবে সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।
তার অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কক্ষে আলাপকালে হঠাৎ প্রযোজক ও নায়ক হেলাল খানের নেতৃত্বে প্রায় ৪০-৫০ জন লোক একসঙ্গে সেখানে প্রবেশ করেন। কেপিআইভুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে গণজমায়েত ও শোডাউনকে ‘বিদঘুটে’ ও ‘বিব্রতকর’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে বিব্রত ও অপমানিত বোধ করে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন এই অভিনেতা।
বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, এখন দেশের শীর্ষ নেতৃত্বও অনেক ক্ষেত্রে সাধারণভাবে চলাফেরা করছেন। সে তুলনায় চলচ্চিত্রাঙ্গনে এ ধরনের শোডাউন অপ্রাসঙ্গিক ও দৃষ্টিকটু বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদাহরণ টেনে ওমর সানী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এখন কোনো শোডাউন ছাড়াই সাধারণ মানুষের মতো চলছেন, যা পুরো দেশকে চমকে দিচ্ছে। অথচ চলচ্চিত্রের জায়গায় এখনও কেন দলীয় আবহে শোডাউন দেখা যাবে? এটা অত্যন্ত দৃষ্টিকটু।
এফডিসির সামনের সারিতে প্রকৃত শিল্পীদের বদলে বহিরাগতদের উপস্থিতি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করে ওমর সানী বলেন, অনুরোধ সত্ত্বেও বহিরাগতরা সামনের সারি দখল করে রাখেন এবং ছবি তোলা ও নিজেদের প্রচারে ব্যস্ত থাকেন। এতে প্রকৃত শিল্পীদের যথাযথ সম্মান দেওয়া হচ্ছে না বলেও মনে করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, অনুষ্ঠানে অনেক সিনিয়র শিল্পীর উপস্থিতি আশা করলেও কাউকেই না পেয়ে হতাশ হন। পুরো পরিস্থিতি তাকে মানসিকভাবে ব্যথিত করেছে বলেও উল্লেখ করেন।
এই নায়ক বলেন, বাইরে থেকে এসে আমাদের খাবলিয়ে বা চিমটি কাটা ঠিক না। আমরা চলচ্চিত্রের মানুষ, দিনশেষে আমরা চলচ্চিত্রকেই ভালোবাসি। দয়া করে এখানে আর শোডাউন করার চেষ্টা করবেন না।
ভিডিও বার্তার শেষে আবেগঘন কণ্ঠে ওমর সানী অনুরোধ করেন, চলচ্চিত্রের মানুষদের যেন তাদের নিজস্ব পরিবেশে থাকতে দেওয়া হয়। শোডাউনের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে সুস্থ ও পেশাদার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান তিনি।