logo

লোকসানে বন্ধ হচ্ছে গাজীপুরের উল্কা সিনেমা হল

লোকসানে বন্ধ হচ্ছে গাজীপুরের উল্কা সিনেমা হল
গাজীপুরের 'উল্কা' সিনেমা হল। ছবি: ফেসবুক থেকে

দর্শকসংকট ও টানা লোকসানের কারণে বন্ধ হতে যাচ্ছে গাজীপুরের পরিচিত সিনেমা হল উল্কা। আগামী নভেম্বর থেকে প্রেক্ষাগৃহটির কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। হলটি চালু রাখতে গিয়ে আয় দিয়ে পরিচালন ব্যয়, এমনকি বিদ্যুৎ বিলও মেটানো যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রফিক উদ্দিন।

রফিক উদ্দিনের ভাষ্য, ভালো গল্পের সিনেমা এবং জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পীদের ছবি মুক্তি পেলে দর্শক হলে আসেন। সম্প্রতি শাকিব খানের একটি সিনেমা এবং আরিফিন শুভ ও বিদ্যা সিনহা মিম অভিনীত ‘মালিক’ প্রদর্শন করে ভালো ব্যবসা হয়েছিল। তবে এরপর থেকে ব্যবসায়িক পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।

তার মতে, শুধু দুই ঈদকে কেন্দ্র করে সিনেমা প্রদর্শন করে একটি প্রেক্ষাগৃহের ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব নয়। নিয়মিত লোকসানের পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিলের চাপও বাড়ছে। সব মিলিয়ে হলটি চালু রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে আগামী নভেম্বর থেকে কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

হল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে উল্কায় দর্শক উপস্থিতি এতটাই কম যে অনেক প্রদর্শনীতে হাতেগোনা কয়েকজন দর্শক নিয়ে শো চালাতে হচ্ছে। এতে কর্মীদের বেতন, দৈনন্দিন পরিচালন ব্যয় ও মাসিক বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করাও কঠিন হয়ে উঠেছে। মুক্তি পাওয়া অধিকাংশ সিনেমা প্রত্যাশিত দর্শক টানতে না পারায় লোকসানের পরিমাণ বাড়ছে।

বর্তমানে উল্কা সিনেমা হলে চলছে কামরুজ্জামান পরিচালিত ‘স্নেহের বন্ধন’। জয় চৌধুরী ও মৌ খান অভিনীত ছবিটি গত শুক্রবার দেশের ১৪টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে। মুক্তির আগে ছাদখোলা বাসে রাজধানীজুড়ে প্রচারণা চালানো হলেও সেই উদ্যোগ দর্শক টানতে কতটা কার্যকর হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

শুধু একক পর্দার প্রেক্ষাগৃহ নয়, মাল্টিপ্লেক্সেও সিনেমাটির প্রদর্শনীতে দর্শক উপস্থিতি আশানুরূপ নয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। উল্কা সিনেমা হলও এর ব্যতিক্রম নয়।

শিল্পাঞ্চল গাজীপুরের শ্রমজীবী মানুষের বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম ছিল সিনেমা হল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জেলার একাধিক প্রেক্ষাগৃহ বন্ধ হয়ে গেছে। দেড় বছর আগেও জেলায় প্রায় চারটি সিনেমা হল চালু ছিল। সেগুলোর মধ্যে উল্কা ছিল পরিচিত একটি নাম।

এর আগে কাপাসিয়ার একমাত্র সিনেমা হল মনোরম বন্ধ হয়ে সেখানে রেস্তোরাঁ গড়ে ওঠে। এবার উল্কা বন্ধ হয়ে গেলে গাজীপুরে চালু থাকবে বর্ষা ও ঝুমুর সিনেমা হল।

প্রেক্ষাগৃহের সংখ্যা কমে যাওয়ায় জেলার সাধারণ দর্শকদের স্বল্প খরচে বড় পর্দায় সিনেমা দেখার সুযোগ আরও সংকুচিত হবে। একদিকে দর্শকের অভ্যাসে পরিবর্তন, অন্যদিকে মানসম্মত ও বাণিজ্যিকভাবে সফল সিনেমার অভাব- সব মিলিয়ে দেশের একক পর্দার হলগুলোর টিকে থাকা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।