logo

জীবন তো ভুলেরই পাঠশালা: ফারুকী

জীবন তো ভুলেরই পাঠশালা: ফারুকী

দেশের জনপ্রিয় নির্মাতা মোস্তফা সরোয়ার ফারুকী নিজের জন্মদিন উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দিয়েছেন একটি দীর্ঘ ও আত্মসমালোচনামূলক স্ট্যাটাস।

‘আধা-বিপ্লবী, আধা-আপসী এক জীবন’ শিরোনামে দেওয়া এই স্ট্যাটাসে ফারুকী তার জীবনের বিভিন্ন সময়, সিদ্ধান্ত, বিতর্ক এবং ব্যক্তিগত উপলব্ধির কথা তুলে ধরেন। জন্মদিনকে আত্মবিশ্লেষণের সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন, জীবনের বড় একটি অংশ পার হয়ে পেছনে তাকালে অনেক ঘটনাই সিনেমার মতো ভেসে ওঠে।

ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ফারুকী জানান, নিজের ভাষায় সংলাপ ব্যবহারের মতো উদ্যোগের কারণে তাকে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল। তৎকালীন সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরোধিতা সত্ত্বেও তিনি নিজের বিশ্বাসে অটল ছিলেন। অভিনয়শৈলী ও অভিনেতা নির্বাচনে ভিন্নধর্মী চিন্তা প্রয়োগ করতেও নানা আক্রমণের শিকার হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। সেই কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন প্রয়াত নির্মাতা তারেক মাসুদ।

স্ট্যাটাসে নিজের সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও খোলামেলা কথা বলেন ফারুকী। তিনি জানান, পোশাকের স্বাধীনতা থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনে তিনি বরাবরই সরব ছিলেন। একইসঙ্গে বিভিন্ন সংবেদনশীল ঘটনায় নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করার কথাও উল্লেখ করেন। তবে সবসময় সব কথা বলা সম্ভব হয়নি এবং জীবনের সব সিদ্ধান্তই সঠিক ছিল না—এমন স্বীকারোক্তিও করেন তিনি। যা নিয়ে তিনি লেখেন, ‘বোরকার অধিকারের পক্ষে বলছি, আবার জিন্স-টি-শার্টের অধিকারের পক্ষেও বলছি। বৈশাখী শোভাযাত্রার পক্ষেও বলছি, ঈদ মিছিলের পক্ষেও থাকছি। শাহবাগের কালে যখন বলা হলো ‘কিন্তু এবং যদি বলা যাবে না’, তখন লিখছিলাম ‘কিন্তু এবং যদির খোঁজে’। নো ভ্যাট, নিরাপদ সড়ক, আঠারোর কোটা আন্দোলন সবসময়ই সরব থাকার চেষ্টা করছি এই আশায় যে মুক্তি হয়তো নিকটেই। অভিজিতের হত‍্যাকাণ্ডে ক্ষুব্ধ হয়ে লিখেছি, আবার শাপলা হত‍্যাকাণ্ডেও একইভাবে ক্ষুব্ধ হয়ে লিখেছি। তবে সবসময় যা যা বলার দরকার ছিল, তা তা যে বলতে পারছি সেটা না। বা জীবনের সব সিদ্ধান্তই যে ঠিক নিছি তা-ও তো না। জীবন তো ভুলেরই পাঠশালা।’

স্ট্যাটাসের একটি বড় অংশজুড়ে রয়েছে ‘জুলাই’ প্রসঙ্গ, যেটিকে তিনি তার প্রজন্মের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন। এই ইস্যুতে অবস্থান নেওয়ার কারণে ব্যক্তিগতভাবে বন্ধু হারানোর অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তিনি, যদিও নতুন বন্ধুও পেয়েছেন বলে জানান।

এ ছাড়া এক বন্ধুর সঙ্গে কথোপকথনের প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, আগের মতো তার জন্মদিনে মিডিয়ায় তেমন আলোচনা দেখা যায় না। এমনকি চলচ্চিত্রবিষয়ক এক লেখায় জহির রায়হান থেকে সানি সানোয়ার পর্যন্ত নির্মাতাদের নাম থাকলেও সেখানে তাকে রাখা হয়নি বলেও উল্লেখ করেন। বিষয়টি তিনি হাস্যরসের সঙ্গেই নিয়েছেন।

স্ট্যাটাসের শেষাংশে ফারুকী তার ব্যক্তিগত জীবনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। দীর্ঘ পথচলার সঙ্গী অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা, সন্তান, পরিবার, বন্ধু এবং দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। তার ভাষায়, তার নির্মিত চলচ্চিত্রগুলো আসলে দর্শকদের সঙ্গে এক ধরনের কথোপকথন, যা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।