মারা গেছেন তরুণ নাট্যকার ও নির্মাতা মারুফ হোসেন সজীব

নাট্যাঙ্গনের তরুণ নাট্যকার ও নির্মাতা মারুফ হোসেন সজীব আর নেই। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টার দিকে তার মৃত্যু হয়েছে। তার মৃত্যুর খবর সহকর্মী নির্মাতা আশিকুর রহমানসহ অভিনয়শিল্পীরা নিশ্চিত করেছেন।
সজীবের আকস্মিক মৃত্যুতে ছোটপর্দার অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তবে তার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও জানা যায়নি। নির্মাতা আশিকুর রহমান জানিয়েছেন, কিছুদিন আগেও হৃদ্রোগজনিত সমস্যায় চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ফিরেছিলেন সজীব।
মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে আশিকুর রহমান সজীবের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি জানান, মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগেও অনলাইনে সক্রিয় ছিলেন এই নির্মাতা। তরুণ বয়সে সজীবের এভাবে চলে যাওয়া মেনে নিতে পারছেন না বলেও আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি।
সজীবের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেন জনপ্রিয় অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব। সজীবের একটি ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন, ‘আমাদের সকলের প্রিয় নির্মাতা মারুফ হোসেন সজীব আর নেই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মহান আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।’
নাট্যাঙ্গনে নিজের গল্প বলার ধরন ও নির্মাণশৈলীর জন্য পরিচিতি পেয়েছিলেন মারুফ হোসেন সজীব। নাটকের গল্প লেখার পাশাপাশি সেগুলো নিজেই পরিচালনা করতেন তিনি। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বিভিন্ন সময় পেয়েছেন বেশ কিছু সম্মাননা।
সজীবের উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে রয়েছে ‘বিলোপ’, ‘বাবুই পাখির বাসা’, ‘রঙিন কাগজ’, ‘আধার’, ‘সিকিউরিটি গার্ল’, ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য’, ‘হাসি’, ‘বিকেল বেলার ছাদ’, ‘দুষ্ট মিষ্টি প্রেম’, ‘আদরের চাঁদ’, ‘জোড়া শালিকের ঘর’, ‘জলকৌড়ি’, ‘দু’জন দুজনার’, ‘বাবলার জাদুর বাক্স’, ‘খুশি’, ‘আজ আকাশে চাঁদ নেই’, ‘কথা বন্ধু’, ‘কাজল চোখের মেয়ে’, ‘আপনারা আমাকে শুনুন’, ‘আজকাল তুমি আমি’, ‘১০০ বিঘা ফুল বাগান’, ‘মুমতা’, ‘মেঘলা’ ও ‘নুসাইবা’।
তরুণ এই নির্মাতার মৃত্যুতে সহকর্মী, অভিনয়শিল্পী ও নাট্যাঙ্গনের মানুষের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক।

