আইয়ুব বাচ্চুর স্মৃতি সংরক্ষণে মিউজিয়ামসহ নানা উদ্যোগ

প্রয়াত কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর (এবি) সংগীত ও স্মৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে নেওয়া হয়েছে বড় পরিসরের একটি বিশেষ উদ্যোগ। তার সংগীতের উত্তরাধিকার সংরক্ষণ ও উদ্যাপনের এই আয়োজনে থাকছে এবি/এলআরবি-এর ২৪টি গান নতুন করে প্রকাশ, লিমিটেড এডিশন ডাবল সিডি ও ভিনাইল অ্যালবাম, কনসার্ট, মিউজিক ভিডিও এবং একটি মিউজিয়াম ও ক্যাফে।
আইয়ুব বাচ্চুর জন্মদিন ১৬ আগস্ট থেকে শুরু হবে এই কার্যক্রম। ওই দিন বিকেল ৩টায় ঢাকার দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। একই দিনে প্রকাশ পাবে লিমিটেড এডিশন ডাবল ফিজিক্যাল সিডি অ্যালবাম।
ডাবল সিডির পাশাপাশি বিশেষ বক্স সেটে থাকবে ক্যাপ, গিটার পিক, টি-শার্ট, ব্যান্ডানা, মগসহ আইয়ুব বাচ্চুর বিভিন্ন স্মারক সামগ্রী। ভ্যাটসহ প্রতিটি বক্স সেটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ হাজার টাকা। অনলাইন ও ফিজিক্যাল আউটলেট দুই মাধ্যমেই এটি পাওয়া যাবে।
আগামী ৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের কিং অব চিটাগং হিলটপ ভেন্যুতে আয়োজন করা হবে বিশেষ লাইভ কনসার্ট। এতে প্রকল্পে অংশ নেওয়া শিল্পীরা আইয়ুব বাচ্চু ও এলআরবির গান পরিবেশনের পাশাপাশি নিজেদের গানও গাইবেন।
প্রকল্পের অংশ হিসেবে আগস্টের শেষ ও সেপ্টেম্বরের শুরুতে তৈরি করা হবে বিহাইন্ড দ্য সিনস কনটেন্ট, স্টুডিও সেশন এবং শিল্পীদের সাক্ষাৎকার।
এ ছাড়া কাভার গানগুলো নিয়ে নির্মাণ করা হবে মোট ২০টি মিউজিক ভিডিও। এর মধ্যে থাকবে ৮টি পূর্ণাঙ্গ মিউজিক ভিডিও, ৮টি স্টুডিও ভিডিও এবং ৪টি লিরিক ভিডিও।
‘আন অডিয়েন্স উইথ এবি’ নামে আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য একটি বিশেষ প্রাইভেট কনসার্ট আয়োজনেরও পরিকল্পনা রয়েছে। অনুষ্ঠানটি অডিও-ভিডিও ধারণ করে পরবর্তী সময়ে টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হবে।
আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুবার্ষিকী ১৮ অক্টোবর উপলক্ষে প্রকাশ করা হবে ২০টির বেশি এবি/এলআরবির গান নিয়ে একটি লিমিটেড এডিশন ডাবল ভিনাইল অ্যালবাম।
এই উদ্যোগের সবচেয়ে বড় অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে ‘এবিস কিচেন’ নামে একটি মিউজিয়াম ও ক্যাফে। আইয়ুব বাচ্চুর বিখ্যাত রেকর্ডিং স্টুডিওর নাম অনুসারে প্রতিষ্ঠানটির নামকরণ করা হবে।
মিউজিয়ামে প্রদর্শন করা হবে আইয়ুব বাচ্চুর ব্যবহৃত গিটার, বিভিন্ন স্মারক ও ব্যক্তিগত সংগ্রহ। পাশাপাশি থাকবে লাইভ পারফরম্যান্সের জন্য স্টেজ, স্টুডিও এবং প্র্যাকটিস প্যাড। উদীয়মান শিল্পীরাও সেখানে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য জায়গা বুক করে নিজেদের প্রতিভা প্রদর্শনের সুযোগ পাবেন।
স্পনসরশিপ, পার্টনারশিপ, মার্চেন্ডাইজ বিক্রি ও কনটেন্ট মনিটাইজেশনসহ বিভিন্ন উৎস থেকে প্রকল্পটির জন্য অর্থ সংগ্রহ করা হবে। মিউজিয়াম ও ক্যাফে চালুর পর সদস্যপদ, টিকিট, ভেন্যু বুকিং, খাবার-পানীয় এবং মার্চেন্ডাইজ বিক্রির আয় থেকে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্পটির সব মেধাস্বত্ব, ট্রেডমার্ক ও বাণিজ্যিক অধিকার থাকবে আইয়ুব বাচ্চুর পরিবার/উত্তরাধিকারী এবং সংশ্লিষ্ট গীতিকারদের কাছে। পুরো প্রকল্পটি এবির পরিবার পেশাদার ব্যবস্থাপনা ও কর্মীদের সহযোগিতায় পরিচালনা করবে।
আয়োজকদের ভাষ্য, আইয়ুব বাচ্চুর সংগীতের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা থেকেই শিল্পীরা এই উদ্যোগে যুক্ত হয়েছেন। অংশগ্রহণকারী শিল্পীরা পারিশ্রমিক ও গান পুনর্নির্মাণের স্বত্ব ত্যাগ করে প্রকল্পটিতে সহযোগিতা করছেন। তাদের ভাষায়, ‘আমরা সবাই তার সংগীতের উত্তরাধিকারী।’


