বিয়েতে রাজি না হওয়ায় গায়িকাকে খুন করল প্রেমিক

পাঞ্জাবি সংগীত ভুবনের জনপ্রিয় মুখ ইন্দর কৌরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার ছয় দিন পর লুধিয়ানার একটি খাল থেকে এই জনপ্রিয় গায়িকার মরদেহের সন্ধান মিলেছে। এর আগে তাকে অপহরণ করা হয়েছিল বলে জানা যায়। ইন্দরের মৃত্যুর ঘটনায় এরই মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে পাঞ্জাবজুড়ে।
গায়িকার পারিবারের দাবি, আঞ্চলিক সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয় ছিলেন। তিন বছর আগে ইনস্টাগ্রামে সুখবিন্দরের সঙ্গে পরিচয় হয় ইন্দরের। ধীরে ধীরে সে পরিচয় বন্ধুত্ব ও প্রেমে গড়ায়। কিছুদিন পর গায়িকা জানতে পারেন, সুখবিন্দর বিবাহিত এবং তার একটি সন্তান রয়েছে। এরপরই গায়িকা সম্পর্ক থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন। এ কারণেই তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে পরিবারের দাবি।
ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে ইন্দর কৌরের মৃত্যুর খবর প্রকাশ করা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, যশিন্দর কৌর নামেও পরিচিত ছিলেন গায়িকা। গত ১৩ মে বাজার করার জন্য রাতে গাড়ি নিয়ে বের হন। তার পর থেকে আর বাড়ি ফেরেননি। পরিবার প্রথম থেকেই অপহরণের আশঙ্কা করেছিল।
ইন্দরের ভাই জোতিন্দরের এফআরআই থেকে জানা যায়, সুখবিন্দর সিং ওরফে সুখা দীর্ঘদিন ধরে ইন্দরকে বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছিল। সুখার প্রতারণার কথা জেনে ইন্দর বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। এর পরই ইন্দরকে বন্দুক দেখিয়ে অপহরণ করার পর নির্মমভাবে খুন করে লাশ খালে ফেলে দিয়েছে সুখা ও তার বন্ধুরা।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, হত্যাকাণ্ড ঘটানোর উদ্দেশ্য নিয়েই কানাডা থেকে সরাসরি ভারতে না এসে প্রথমে নেপাল আসেন সুখবিন্দর। এরপর দেশটির সীমান্ত পার হয়ে পাঞ্জাবে এসে নৃশংসভাবে খুন করেন ইন্দরকে। এরপর আবার ফিরে যান কানাডায়।
এ ঘটনায় অপহরণ, খুন, ষড়যন্ত্রসহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। দোষীকে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত চলমান রেখেছে পাঞ্জাব পুলিশ।
ইন্দর শুধু গায়িকা নন, তিনি একজন নামি মেকআপ আর্টিস্টও ছিলেন। তার অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুতে সামাজিকমাধ্যমে ন্যায়বিচারের দাবিতে সরব হয়েছেন অনেকে।