ঈদুল আজহায় কন্সট্যান্টের ভিন্নধর্মী চমক ‘যাযাবর’

প্রতিটি উৎসবই যেন নতুন অনুভূতির দরজা খুলে দেয়। আর সেই অনুভূতির সুর ধরেই ঈদুল ফিতরের ধারাবাহিকতায়, এবার ঈদুল আজহায় নতুন গান নিয়ে হাজির হচ্ছে দেশের রক ঘরানার জনপ্রিয় ব্যান্ড কন্সট্যান্ট। ‘যাযাবর’ শিরোনামের নতুন এই গানটি প্রকাশ পেতে যাচ্ছে দেশের শীর্ষ অডিও-ভিডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জি সিরিজের ব্যানারে।
দীর্ঘদিন ধরেই মৌলিক গান নিয়ে কাজ করে আসা ব্যান্ডটি তাদের প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে এবার শ্রোতাদের জন্য নিয়ে আসছে ভিন্ন ধারার গান। ব্যান্ডটির পরিচিত রক ধারার বাইরে গিয়ে ‘যাযাবর’ গানটিতে রাখা হয়েছে পাঙ্ক ব্লুজ ফ্লেভারের আবহ, যা শ্রোতাদের জন্য তৈরি করবে নতুন এক সংগীত অভিজ্ঞতা।
গানটির কথা ও সুর করেছেন ব্যান্ডের ড্রামার ও ভোকালিস্ট দেওয়ান হাসিবুর রহমান রাব্বি। শুধু তাই নয়, রাব্বির কণ্ঠেই গানটি মুক্তি পেতে যাচ্ছে।
ব্যান্ড সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘যাযাবর’ মূলত জীবনের অজানা পথচলা, বন্ধন ভেঙে মুক্ত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা এবং নিজের ভেতরের স্বাধীন সত্তাকে খুঁজে পাওয়ার গল্প। গানের কথাগুলোতেও ফুটে উঠেছে এক মুক্তচেতা মানুষের অনুভব—
‘আমি হেঁটে যাই পথে অজানা কোন গন্তব্যে
হেঁটে হেঁটে যাই পথে অজানা কোন দেশে...’
ব্যান্ডটির বেসিস্ট ও কোঅর্ডিনেটর আহম্মদ মোস্তফা আকিক বলেন, আমরা সবসময় চেষ্টা করি প্রতিটি নতুন গানে আলাদা কিছু করার। ‘যাযাবর’ গানটিতে আমাদের সচরাচর স্টাইল থেকে বের হয়ে পাঙ্ক ব্লুজ ফ্লেভার নিয়ে কাজ করেছি, যেন শ্রোতারা গানটি শুনে ভিন্ন এক স্বাদ অনুভব করতে পারেন। মূলত এটি মুক্ত জীবনের অনুভূতি আর নিজের ভেতরের অস্থিরতাকে প্রকাশ করার একটি প্রচেষ্টা।
তিনি আরও জানান, ঈদুল আজহায় মতো বিশেষ সময়ে এমন একটি গান প্রকাশ করতে পেরে ব্যান্ড সদস্যরা বেশ উচ্ছ্বসিত। তাদের বিশ্বাস, নতুন এই এক্সপেরিমেন্টাল সাউন্ড শ্রোতাদের কাছে ভালো লাগবে।
২০০৫ সালে যাত্রা শুরু করা কন্সট্যান্ট বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীত অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত একটি নাম। ২০১৪ সালে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলকে উৎসর্গ করে প্রকাশিত ‘স্বপ্নমিছিল’ গানটি ব্যান্ডটিকে নতুন পরিচিতি এনে দেয়। এ ছাড়া ‘মেঘবালিকা’, ‘ক্ষমা’, ‘স্বাধীনতা’, ‘সাদাকালো’ এবং সম্প্রতি প্রকাশিত ‘ইচ্ছের আকাশ’ গানগুলোও শ্রোতামহলে প্রশংসিত হয়েছে।
বর্তমানে কন্সট্যান্ট ব্যান্ডের লাইনআপে রয়েছেন, জীবন (লিড গিটার), রাব্বি (ড্রামস ও ভোকাল), ইমন (লিড ভয়েস) এবং আকিক (বেজ)।
ব্যান্ডটির সদস্যরা জানান, ভবিষ্যতেও তারা নিয়মিত ভিন্নধর্মী মৌলিক গান নিয়ে কাজ করে যেতে চান। ঈদুল আজহায় এই বিশেষ সময়ে ‘যাযাবর’ হয়তো হয়ে উঠবে সেইসব মানুষের গান, যারা এখনও জীবনের ভিড়ে নিজের জন্য একটু মুক্ত আকাশ খুঁজে ফেরেন।