জন্মদিনে কনকচাঁপা: ‘জন্মদিন শুধুই একটা সংখ্যা’

বাংলা চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠের জাদুতে কয়েক দশক ধরে শ্রোতাদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন সংগীতশিল্পী রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা। বিশেষ করে নব্বই দশকের চলচ্চিত্রের গানে তার মিষ্টি ও আবেগঘন কণ্ঠ রুপালি পর্দার অনুভূতিকে দিয়েছিল ভিন্ন মাত্রা। আজ ১১ সেপ্টেম্বর, এই জনপ্রিয় শিল্পীর জন্মদিন। ৫৬ বছর পেরিয়ে ৫৭ বছরে পা দিয়েছেন তিনি।
১৯৬৯ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ঢাকার শান্তিবাগে জন্মগ্রহণ করেন কনকচাঁপা। তার পৈতৃক নিবাস সিরাজগঞ্জের কাজীপুরে।
জন্মদিনের প্রথম প্রহরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কেক কাটেন এই শিল্পী। এ সময় একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে নিজের জন্মদিনের অনুভূতি ভাগ করে নেন তিনি।
ভিডিও বার্তায় বয়স ও জন্মদিন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন কনকচাঁপা। তিনি বলেন, ‘মানুষ না আসলে লজ্জা পেয়ে বলে যে জন্মদিন আসলে শুধুই একটি সংখ্যা বা আমি জন্মদিন পছন্দ করি না। কিন্তু আমি খুব সরল-সোজাভাবে বলি যে, আমার এই ১১ই সেপ্টেম্বর- এই তারিখটি খুব পছন্দ, ১১ নম্বরটি আমার পছন্দ, সেপ্টেম্বর মাস পছন্দ, কারণ আমি এই সেপ্টেম্বরের ১১ তারিখে জন্মেছিলাম আজ থেকে ৫৬ বছর আগে। এবার আমি ৫৭ বছরে পা দিলাম।’
সদ্য বিদেশ থেকে ফেরার ক্লান্তি এবং চোখে অঞ্জনির সমস্যার কথা উল্লেখ করেও পরিবারের সারপ্রাইজ আয়োজনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তিনি। দূরে থাকা পরিবারের সদস্যদের মিস করার কথাও জানান কনকচাঁপা। কাছে থাকা সন্তান ও নাতনিকে ঘিরে নিজের আনন্দের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘এতটুকু আছে, কতদিন কাছে থাকবে আল্লাহই জানে। আমার এই ফুলের বাসর, সেটা যতদিন আল্লাহ আমাকে দেন, সেটা তো অনেক বড় একটা নেয়ামত।’
ভক্তদের ভালোবাসার প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান এই শিল্পী। সবার পরিবার ও পরিবারের সদস্যদের সুস্থতা ও নিরাপত্তার জন্য দোয়া করে তিনি বলেন, ‘আপনারা অনেক ভালোবাসেন, যতটুকু ভালোবাসার যোগ্য আমি তার চেয়ে অনেক বেশি ভালোবাসেন। সেই ভালোবাসার জন্য আমি খুব কৃতজ্ঞ এবং আমি বিস্মিত।’
দীর্ঘ সংগীতজীবনে কনকচাঁপা চলচ্চিত্র, আধুনিক গান, নজরুলসংগীত ও লোকগীতিসহ বিভিন্ন ধারার গান গেয়েছেন। তবে বাংলা চলচ্চিত্রের গানেই তার সবচেয়ে উজ্জ্বল উপস্থিতি। তিন দশকের বেশি সময়ের সংগীতজীবনে তিনি সিনেমার তিন হাজারেরও বেশি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। প্রকাশিত হয়েছে তার ৩৫টি একক অ্যালবাম।
চিত্রনায়িকা শাবনূনের পর্দার গানে কনকচাঁপার কণ্ঠ একসময় প্রায় অবিচ্ছেদ্য হয়ে উঠেছিল। সংগীতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ বাচসাস ও বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।
কনকচাঁপার গাওয়া জনপ্রিয় গানের তালিকাও দীর্ঘ। ‘যে প্রেম স্বর্গ থেকে এসে’, ‘তুমি আমার এমনই একজন’, ‘অনেক সাধনার পরে আমি’, ‘অনন্ত প্রেম তুমি দাও আমাকে’, ‘তুমি মোর জীবনের ভাবনা’, ‘ছোট্ট একটা জীবন’, ‘তোমাকে চাই শুধু তোমাকে চাই’, ‘ভাল আছি ভাল থেক’, ‘আমার নাকেরই ফুল বলে’, ‘তোমায় দেখলে মনে হয়’, ‘আকাশ ছুঁয়েছে মাটিকে’ ও ‘নীলাঞ্জনা নামে ডেক না’সহ বহু গান শ্রোতাদের কাছে আজও জনপ্রিয়।
এবারের জন্মদিনের আগে ইতালি, সুইডেন ও লন্ডনে টানা কয়েকদিন স্টেজ শো শেষে বৃহস্পতিবার দেশে ফেরেন কনকচাঁপা। দেশের মাটিতেই জন্মদিন কাটানোর ইচ্ছা ছিল তার। বড় কোনো আয়োজনের পরিকল্পনা না থাকলেও পরিবারের সদস্যদের ভালোবাসা এবং ভক্তদের শুভেচ্ছায় জন্মদিনটি বিশেষ হয়ে উঠেছে।
জন্মদিনের পরিকল্পনা নিয়ে কনকচাঁপা বলেন, ‘জন্মদিন নিয়ে বিশেষ কোনো পরিকল্পনা নেই। আমার মেয়েই জন্মদিন নিয়ে সব পরিকল্পনা করত। কিন্তু সে তো এখন দেশের বাইরে থাকে। আর ছেলে একটু লাজুক প্রকৃতির। তবে আমার বউমা রান্নাবান্না করে। আমার আসলে চুপেচাপেই জন্মদিন পার করে দিতে ইচ্ছে করে। কিন্তু সেটাও আর হয়ে ওঠে না।’
কারণ হিসেবে ভক্তদের ভালোবাসার কথাই উল্লেখ করেন তিনি। কনকচাঁপার ভাষায়, ‘আমার কিছু ভক্ত আছে, তারা আমার অজান্তেই আমাকে সারপ্রাইজ দিতে ভীষণ ভালোবাসে। হয়তো এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটবে না।’
বয়সকে জীবনের ভার হিসেবে দেখেন না এই শিল্পী। বরং জন্মদিনকে জীবনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি উপলক্ষ হিসেবেই দেখেন তিনি। কনকচাঁপা বলেন, ‘সবচেয়ে বড় সত্যি কথা হলো জন্মদিন শুধুই একটা সংখ্যা মাত্র।’
নিজের জন্মদিন ও ১১ সেপ্টেম্বর তারিখটির প্রতি বিশেষ ভালোবাসার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার জন্মদিনটা আমার কাছে সবসময়ই খুব স্পেশাল এবং ১১ সেপ্টেম্বর তারিখটাও আমি খুব ভালোবাসি। এই সুন্দর পৃথিবী ছেড়ে কেউই যেতে চায় না, আমিও চাই না। তার পরও আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ যে তিনি আমাকে পৃথিবীর বুকে রেখেছেন। আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন, আমিও সবার জন্য দোয়া করি।’
বড় কোনো আয়োজন নয়, বরং পরিবার ও ভক্তদের ভালোবাসার মধ্য দিয়েই ৫৭ বছরে পা দিলেন কনকচাঁপা। দীর্ঘ সংগীতযাত্রায় অসংখ্য কালজয়ী গান উপহার দেওয়া এই শিল্পীর জন্মদিনে তার প্রার্থনা একটাই- ভক্তদের ভালোবাসা ও দোয়া যেন আগামীতেও তার সঙ্গে থাকে।

