logo
Advertisement

জন্মদিনে সাবিনা ইয়াসমিনকে কনকচাঁপার আবেগঘন শুভেচ্ছা

এশিয়া পোস্ট বিনোদন
এশিয়া পোস্ট বিনোদন
জন্মদিনে সাবিনা ইয়াসমিনকে কনকচাঁপার আবেগঘন শুভেচ্ছা
ছবি: কনকচাঁপার ফেসবুক পোস্ট থেকে

বাংলা গানের জীবন্ত কিংবদন্তি সাবিনা ইয়াসমিনের জন্মদিন আজ। ১৯৫৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া এই শিল্পী শুক্রবার ৭২ বছর পূর্ণ করে ৭৩ বছরে পা রেখেছেন। বিশেষ এই দিনে দেশের সংগীতাঙ্গনের শিল্পী, সহকর্মী ও ভক্ত-অনুরাগীরা ভালোবাসা ও শুভেচ্ছায় স্মরণ করছেন তাকে।

Advertisement

জ্যেষ্ঠ এই শিল্পীর জন্মদিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা। সাবিনা ইয়াসমিনকে বাংলাদেশের সংগীতের ‘বাতিঘর’ ও একটি ‘ইনস্টিটিউট’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।

নিজের ফেসবুক পেজে সাবিনা ইয়াসমিনের সঙ্গে একটি ছবি প্রকাশ করে কনকচাঁপা লেখেন, “সাবিনা ইয়াসমিন। একটি নাম, একটি ইনস্টিটিউট।” এরপর সাবিনার কণ্ঠের মাধুর্য ও দীর্ঘ সংগীতজীবনের অনন্যতা তুলে ধরেন তিনি।

কনকচাঁপা তার লেখায় লেখক ও শিক্ষাবিদ আবদুল্লাহ আবু সাঈদের একটি পুরোনো স্মৃতিচারণের কথাও উল্লেখ করেন। এক ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানে আবদুল্লাহ আবু সাঈদ বলেছিলেন, কোকিল বসন্তে গান গায়; কিন্তু সারা বছর গানে মাতিয়ে রাখে যে পাখি, সেটি আমাদের সাবিনা ইয়াসমিন।

সেই প্রসঙ্গ টেনে কনকচাঁপা লিখেছেন, সাবিনা ইয়াসমিন শুধু সারা বছর নয়, “বাংলাদেশের মানুষকে সারাজীবন গানে ডুবিয়ে, ভাসিয়ে, উজ্জীবিত করে রাখলেন।”

সাবিনার কণ্ঠের স্বাতন্ত্র্য নিয়েও মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন কনকচাঁপা। তার ভাষায়, পরিণত বয়সেও কীভাবে সাবিনা ইয়াসমিন একই রকম কণ্ঠের মাধুর্য ও স্বাতন্ত্র্য ধরে রেখেছেন, সেটি গবেষণার বিষয়।

বাংলাদেশের সংগীতের প্রায় সব শাখায় সাবিনা ইয়াসমিনের বিচরণের কথাও স্মরণ করেছেন কনকচাঁপা। বিশেষ করে ‘জন্ম আমার ধন্য হলো মাগো’, ‘সব কটা জানালা খুলে দাও না’ এবং ‘একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতার’-এর মতো গানকে তিনি শিল্পীর অনন্য কণ্ঠসত্তার উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে সংগীতাঙ্গনে সক্রিয় সাবিনা ইয়াসমিনের ক্যারিয়ারের শুরু চলচ্চিত্রের প্লেব্যাক দিয়ে। ১৯৬৭ সালে জহির রায়হান পরিচালিত ‘আগুন নিয়ে খেলা’ চলচ্চিত্রে আলতাফ মাহমুদের সংগীত পরিচালনায় গান গাওয়ার মধ্য দিয়ে প্লেব্যাকে তার যাত্রা শুরু হয়।

এরপর চলচ্চিত্র, আধুনিক গান, দেশাত্মবোধক গানসহ বাংলা সংগীতের নানা ধারায় অসংখ্য গান উপহার দিয়েছেন তিনি। ‘জন্ম আমার ধন্য হলো’, ‘একটি বাংলাদেশ’, ‘সব কটা জানালা খুলে দাও না’, ‘ও আমার বাংলা তোর’, ‘এ কী সোনার আলোয়’সহ তার গাওয়া বহু গান পেয়েছে কালজয়ী মর্যাদা।

বিশেষ করে দেশাত্মবোধক গানে সাবিনা ইয়াসমিনের কণ্ঠ বাংলাদেশের মানুষের আবেগ ও দেশপ্রেমের সঙ্গে গভীরভাবে মিশে আছে। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি ১০ হাজারের বেশি গান রেকর্ড করেছেন বলে বিভিন্ন পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়।

সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কারসহ পেয়েছেন বহু সম্মাননা। চলচ্চিত্রের গানে অবদানের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারেও রেকর্ডসংখ্যকবার সেরা নারী কণ্ঠশিল্পীর স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি।

জন্মদিনের শুভেচ্ছাবার্তার শেষাংশে প্রিয় শিল্পীর সুস্থতা, আনন্দ ও দীর্ঘায়ু কামনা করে কনকচাঁপা লেখেন, “আল্লাহ যেন ওনাকে সুস্থ, আনন্দিত, সুরক্ষিত, সুখী ও সমৃদ্ধ রাখেন—এই দোয়া করি। শুভজীবন বাংলা গানের পাখি সাবিনা ইয়াসমিন।”

বাংলা গানের ইতিহাসে তাই সাবিনা ইয়াসমিন কেবল একজন শিল্পীর নাম নন; অসংখ্য কালজয়ী গানের মধ্য দিয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন দেশের সংগীত ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অধ্যায়।