হার্ট অ্যাটাকের ২ সপ্তাহ আগেই শরীর যে ৯ সংকেত দেয়

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
হার্ট অ্যাটাকের ২ সপ্তাহ আগেই  শরীর যে ৯ সংকেত দেয়
ছবি : সংগৃহীত

অনেকের ধারণা, হার্ট অ্যাটাক কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই হঠাৎ ঘটে। বাস্তবে সব সময় এমনটি নয়। অনেক মানুষের ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাক হওয়ার কয়েক ঘণ্টা, কয়েক দিন বা এমনকি ১ থেকে ২ সপ্তাহ আগেও শরীর বিভিন্ন সতর্ক সংকেত দিতে শুরু করে।

Advertisement

সমস্যা হলো, এসব উপসর্গ অনেক সময় সাধারণ ক্লান্তি, গ্যাসের সমস্যা বা মানসিক চাপ ভেবে এড়িয়ে যাওয়া হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রাথমিক লক্ষণগুলো সময়মতো চিনতে পারলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব হয়, যা হার্টের ক্ষতি কমাতে এবং জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে মনে রাখতে হবে, সবার ক্ষেত্রে একই ধরনের উপসর্গ দেখা যায় না। কারও ক্ষেত্রে একটি, আবার কারও ক্ষেত্রে একাধিক লক্ষণ একসঙ্গে দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে নারী, বয়স্ক ব্যক্তি এবং ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের উপসর্গ অনেক সময় ভিন্ন হতে পারে।

অস্বাভাবিক ক্লান্তি

কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ করে অতিরিক্ত ক্লান্ত লাগা হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। আগে যে কাজগুলো সহজেই করতে পারতেন, সেগুলো করতে গেলেই যদি অস্বাভাবিক অবসাদ অনুভব করেন, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ক্লান্তি হার্ট অ্যাটাকের এক সপ্তাহ বা দুই সপ্তাহ আগেও শুরু হতে পারে। বিশেষ করে নারীদের মধ্যে এই লক্ষণ বেশি দেখা যায়।

বুকে চাপ বা অস্বস্তি

হার্ট অ্যাটাকের সবচেয়ে পরিচিত লক্ষণ হলো বুকে ব্যথা। তবে শুরুতে অনেকের তীব্র ব্যথা নাও হতে পারে। বুকের মাঝখানে চাপ, ভারী লাগা, টান ধরা, জ্বালাপোড়া বা অস্বস্তি অনুভূত হতে পারে।

এই অনুভূতি কয়েক মিনিট স্থায়ী হয়ে আবার চলে যেতে পারে। পরে আবার ফিরে আসতে পারে। এমন লক্ষণকে অবহেলা করা উচিত নয়।

শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া

সিঁড়ি ভাঙা, অল্প হাঁটা বা সাধারণ কাজ করার সময় যদি হঠাৎ শ্বাসকষ্ট শুরু হয়, তাহলে তা হার্টের সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।

অনেক সময় বুকে ব্যথা ছাড়াও শুধু শ্বাসকষ্টই হার্ট অ্যাটাকের আগাম লক্ষণ হিসেবে দেখা দেয়।

বমি বমি ভাব বা হজমের সমস্যা

কিছু মানুষের ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের আগে বমি বমি ভাব, বদহজম, বুকজ্বালা বা পেটে অস্বস্তি হতে পারে।

অনেকেই এসব উপসর্গকে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা ভেবে অবহেলা করেন। কিন্তু যদি এর সঙ্গে বুকে অস্বস্তি, ঘাম বা শ্বাসকষ্টও থাকে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

অতিরিক্ত ঘাম হওয়া

ঠান্ডা পরিবেশেও হঠাৎ অস্বাভাবিক ঘাম হওয়া বা ঠান্ডা ঘাম বের হওয়া হার্ট অ্যাটাকের একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেত হতে পারে।

বিশেষ করে যদি এর সঙ্গে বুকে চাপ বা শ্বাসকষ্ট থাকে, তাহলে দেরি না করে হাসপাতালে যেতে হবে।

ব্যথা ছড়িয়ে পড়া

হার্টের সমস্যা থেকে হওয়া ব্যথা শুধু বুকেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি বাম হাত, দুই হাত, কাঁধ, ঘাড়, চোয়াল, পিঠ বা কখনো কখনো উপরের পেটেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

এই ধরনের ব্যথা অনেক সময় হালকা হয় এবং বারবার আসা-যাওয়া করে। তাই এটিকে সাধারণ পেশির ব্যথা ভেবে অবহেলা করা ঠিক নয়।

মাথা ঘোরা বা দুর্বল লাগা

হঠাৎ মাথা ঘোরা, ভারসাম্য হারিয়ে ফেলার মতো অনুভূতি বা অস্বাভাবিক দুর্বলতা দেখা দিলে সেটিও হার্ট অ্যাটাকের আগাম লক্ষণ হতে পারে।

যদি এর সঙ্গে বুকে অস্বস্তি বা শ্বাসকষ্ট থাকে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিক লাগা

হৃদস্পন্দন খুব দ্রুত, খুব ধীরে বা অনিয়মিত মনে হলে সেটিও হার্টের সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।

যদিও সব অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের কারণ হার্ট অ্যাটাক নয়, তবে অন্য উপসর্গের সঙ্গে এটি দেখা দিলে অবহেলা করা উচিত নয়।

ঘুমের সমস্যা ও অস্থিরতা

হার্ট অ্যাটাকের কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহ আগে অনেকের ঘুমে সমস্যা, অকারণ অস্থিরতা বা অজানা দুশ্চিন্তা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে নারীদের মধ্যে এই ধরনের উপসর্গ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।

কখন দ্রুত হাসপাতালে যাবেন?

নিচের যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে অপেক্ষা না করে জরুরি চিকিৎসা নিন।

  • বুকে চাপ, ব্যথা বা ভারী লাগা কয়েক মিনিটের বেশি স্থায়ী হলে
  • বুকের ব্যথা হাত, ঘাড়, চোয়াল বা পিঠে ছড়িয়ে পড়লে
  • শ্বাস নিতে কষ্ট হলে
  • ঠান্ডা ঘাম, মাথা ঘোরা বা বমি বমি ভাব থাকলে
  • হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে গেলে

হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যত দ্রুত রক্ত চলাচল স্বাভাবিক করা যায়, তত বেশি হার্টের পেশি রক্ষা করা সম্ভব।

হার্ট অ্যাটাক সব সময় হঠাৎ করে হয় না। অনেক সময় শরীর কয়েক দিন বা দুই সপ্তাহ আগেই বিভিন্ন সতর্ক সংকেত দিতে শুরু করে। অস্বাভাবিক ক্লান্তি, বুকে চাপ, শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা ঘাম বা চোয়াল ও হাতে ব্যথার মতো উপসর্গকে অবহেলা করা উচিত নয়।

বিশেষ করে যাদের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল, ধূমপানের অভ্যাস, স্থূলতা বা পরিবারে হৃদরোগের ইতিহাস রয়েছে, তাদের আরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে ও প্রাণ বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সূত্র: ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক, এ্যাপোলো হাসপাতাল