ফ্যাটি লিভারে ক্ষুধা পেলে কী খাবেন, জানুন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

বর্তমানে ফ্যাটি লিভার একটি খুবই সাধারণ সমস্যা হয়ে উঠেছে। অনিয়মিত জীবনযাপন, অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার, কম শারীরিক পরিশ্রম এবং ওজন বৃদ্ধি এর অন্যতম কারণ। অনেকেই মনে করেন, ফ্যাটি লিভার হলে শুধু মূল খাবারের দিকেই নজর দিলেই হবে। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, খাবারের মাঝখানে কী ধরনের স্ন্যাকস খাচ্ছেন, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস শুধু ক্ষুধা মেটায় না, বরং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে, ওজন কমাতে এবং লিভারের ওপর চাপ কমাতেও সাহায্য করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্যাটি লিভারে ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের জন্য নিচের ৭টি স্ন্যাকস ভালো বিকল্প হতে পারে।
বাদাম ও বিভিন্ন ধরনের বীজ
কাঠবাদাম, আখরোট, সূর্যমুখীর বীজ, চিয়া সিড ও ফ্ল্যাক্স সিড স্বাস্থ্যকর চর্বি, প্রোটিন ও আঁশের ভালো উৎস।
এসব খাবার দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে এবং শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টিও সরবরাহ করে। তবে ভাজা বা অতিরিক্ত লবণযুক্ত বাদামের পরিবর্তে কাঁচা বা ড্রাই-রোস্টেড বাদাম খাওয়াই ভালো।
পনির বা মোজারেলা চিজ
কম চর্বিযুক্ত পনির বা মোজারেলা চিজে থাকে প্রচুর প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম।
হালকা ক্ষুধা লাগলে কয়েক টুকরো পনির বা মোজারেলা চিজ সহজেই খেতে পারেন। এটি দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে।
অ্যাভোকাডো
অ্যাভোকাডোতে রয়েছে স্বাস্থ্যকর মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট, যা রক্তের ক্ষতিকর চর্বি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
এ ছাড়া এতে রয়েছে ভিটামিন ইসহ বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং প্রচুর আঁশ, যা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমাতে সহায়ক হতে পারে। স্বাদ বাড়াতে সামান্য লবণ ও গোলমরিচ ছিটিয়ে খেতে পারেন।
প্লেইন টক দই
চিনি ছাড়া টক দই প্রোটিনের ভালো উৎস। এতে থাকা প্রোবায়োটিক অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে, যা লিভারের স্বাস্থ্যের সঙ্গেও সম্পর্কিত।
এর সঙ্গে ব্লুবেরি, স্ট্রবেরি বা সামান্য বাদাম মিশিয়ে খেলে পুষ্টিগুণ আরও বেড়ে যায়।
সবজির স্টিকস ও হুমাস
শসা, গাজর বা সেলারি ছোট ছোট টুকরো করে হুমাসের সঙ্গে খেতে পারেন।
এই খাবারে রয়েছে প্রচুর আঁশ ও উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, যা দীর্ঘক্ষণ ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
সিদ্ধ ডিম
সিদ্ধ ডিম সহজলভ্য এবং উচ্চমানের প্রোটিনের উৎস।
একটি সিদ্ধ ডিমের সঙ্গে সামান্য লবণ ও গোলমরিচ ছিটিয়ে খেলে এটি স্বাস্থ্যকর ও পেট ভরানো একটি স্ন্যাকস হতে পারে।
স্টিম করা এডামামে
এডামামে বা কাঁচা সয়াবিনে রয়েছে উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, আঁশ এবং বিভিন্ন উপকারী পুষ্টি উপাদান।
এতে স্যাচুরেটেড ফ্যাট খুব কম থাকে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, সয়াবিনের কিছু প্রাকৃতিক উপাদান লিভারে চর্বি জমা কমাতে এবং প্রদাহ হ্রাসে ভূমিকা রাখতে পারে।
ফ্যাটি লিভারে স্ন্যাকস বেছে নেওয়ার সময় যেসব বিষয় মনে রাখবেন
- চিনি ও অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন।
- চিপস, কুকিজ, কেক, সফট ড্রিংকস ও অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবার কম খান।
- প্রোটিন, আঁশ ও স্বাস্থ্যকর চর্বি রয়েছে এমন খাবার বেছে নিন।
- পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
- নিয়মিত ব্যায়াম ও ওজন নিয়ন্ত্রণের দিকেও গুরুত্ব দিন।
ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে শুধু ওষুধ নয়, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। খাবারের মাঝখানে ক্ষুধা পেলে জাঙ্ক ফুডের বদলে পুষ্টিকর স্ন্যাকস বেছে নিলে লিভারের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা মিলতে পারে। তবে কারও যদি ফ্যাটি লিভারের সঙ্গে ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ বা অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা থাকে, তাহলে খাদ্যতালিকায় পরিবর্তন আনার আগে অবশ্যই চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সূত্র: এনডিটিভি







