Advertisement

সাক্ষাৎকার/৭-৮ দিনের মধ্যে গ্যাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে: জ্বালানিমন্ত্রী

এশিয়া পোস্ট সাক্ষাৎকার
৭-৮ দিনের মধ্যে গ্যাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে: জ্বালানিমন্ত্রী

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সিরাজগঞ্জ-২ আসন থেকে চারবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে বিএনপি সরকারে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব রয়েছেন তিনি।

স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও দেশে কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি সক্ষমতা গড়ে ওঠেনি, খাতটি এখনও অনেকটাই আমদানিনির্ভর। দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানির সক্ষমতা বৃদ্ধি, স্থানীয় উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহসহ সামগ্রিক জ্বালানি খাতসসহ নানা বিষয়ে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এশিয়া পোস্টের সঙ্গে কথা বলেন ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সিনিয়র রিপোর্টার আতিক হাসান

এশিয়া পোস্ট: গ্যাসের চলমান সংকট উত্তরণে এবং উৎপাদন বৃদ্ধি নিয়ে আপনাদের মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা কী?

ইকবাল হাসান মাহমুদ: নিশ্চয়ই বিগত ১৭ বছর যারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে ছিল, তাদের এ প্রশ্নটা করেন নাই? তবে আমরা অলরেডি গ্যাস এক্সপ্লোরেশন (অনুসন্ধান) শুরু করতেছি। আমরা রিগ কিনছি, নতুন কূপ খনন করছি। অলরেডি দুটো রিগের অর্ডার দেওয়া হয়েছে; আরও দুটো রিগের অর্ডার প্রক্রিয়াধীন আছে। তবে প্রত্যাশা করছি, আগামী ৭ থেকে ৮ দিনের মধ্যে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে গ্যাস সংকটের সার্বিক পরিস্থিতি।

এশিয়া পোস্ট: নতুন যে ভাসমান টার্মিনাল বিষয়ে চুক্তি হয়েছে, এটার সুফল কবে নাগাদ আসতে পারে?

ইকবাল হাসান মাহমুদ: এতে দুটি শীতকাল লাগবে—একটি শীতকাল সামনে আসছে এবং এর পরের শীতকাল। তার মানে বলতে গেলে ১৮ মাস অপেক্ষা করতে হবে। অথচ ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা সরকার এত উন্নয়ন করেছে বলে প্রচার চালানো হয়েছিল যে আমরা সেই উন্নয়নে ভেসে গেছি; কিন্তু এখন বাস্তবে যার কিছুই দেখা যাচ্ছে না।

এশিয়া পোস্ট: সরকার কি এই মুহূর্তে নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র অনুমোদন দেবে? সে ক্ষেত্রে সরকারি পাশাপাশি বেসরকারি খাতে কোনো উদ্যোগের সম্ভাবনা আছে?

ইকবাল হাসান মাহমুদ: সরকারি ও বেসরকারি উভয় সেক্টরেই নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে ভাবনা-চিন্তা আছে। যদিও আমাদের বিদ্যুৎ কেন্দ্র অনেক; এমনিতেই বসে বসে ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হচ্ছে।

এশিয়া পোস্ট: বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে বিগত সরকারের আমলের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কোনো তদন্ত করা হবে কি?

ইকবাল হাসান মাহমুদ: তদন্ত করে লাভ কী? সমস্যা হচ্ছে তারা এমন সব অ্যাগ্রিমেন্ট (চুক্তি) করে গেছে যেগুলোতে কোর্টে গেলে আমরা হেরে যাব। তাই এখন আমাদের কাজ হলো নেগোশিয়েট (আলোচনা) করে যতটুকু আদায় করা সম্ভব তা করা।

এশিয়া পোস্ট: গ্যাস ও বিদ্যুৎ নিয়ে দেশজুড়ে মানুষের ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রতি আপনার বার্তা কী?

ইকবাল হাসান মাহমুদ: বার্তা একটাই—সেটা হলো এটি একটি ‘এক্সিডেন্ট’। ‘ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট’ (এফএসআরইউ) নষ্ট হয়ে যাওয়ার ফলে গ্যাসচালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো চালানো যাচ্ছে না। আমরা বাধ্য হয়ে তেল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করছি এবং যতটুকু পারছি সরবরাহ করার চেষ্টা করছি। সাধ্যমতো মানুষকে স্বস্তি দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। আশা করি এফএসআরইউ সচল হয়ে গেলে এ সংকটের মাত্রা অনেক কমে যাবে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।

এশিয়া পোস্ট: উৎপাদন সক্ষমতা বাড়লে মন্ত্রণালয় কি আমদানি নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে?

ইকবাল হাসান মাহমুদ: বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে আমাদের আমদানিনির্ভর সম্পর্ক আছে, বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে। বাস্তবতা হলো, দেশীয় সক্ষমতা বাড়লে আস্তে আস্তে আমদানি নির্ভরতা কমাব। যদিও এটি একেবারে বন্ধ করা বা শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব নয়।

এশিয়া পোস্ট: বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ দেখা যায়; এগুলো মনিটরিংয়ের কোনো পরিকল্পনা আছে?

ইকবাল হাসান মাহমুদ: অবৈধ সংযোগ রোধে আমরা চেষ্টা করছি। কিন্তু যে পদ্ধতি আমরা নিচ্ছি—যেমন প্রি-পেইড মিটার বসানো—সেটা আবার মানুষ নিতে চাচ্ছে না। পদক্ষেপ নিলেও দোষ, না নিলেও দোষ! এখন আমরা কোন দিকে যাব?

এশিয়া পোস্ট: কারিগরি বিশেষজ্ঞদের দাবি, প্রকৌশলী ও বিশেষজ্ঞদের সঠিকভাবে সম্পৃক্ত না করার কারণেই এই সংকট তৈরি হয়েছে। বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?

ইকবাল হাসান মাহমুদ: কিছু তো আমলা-নির্ভরতা ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা আছেই। তারপরও লক্ষ করবেন, বাংলাদেশের যেসব বুদ্ধিজীবী ও বিশেষজ্ঞ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিয়ে কাজ করেন, তাদের বিভিন্ন জায়গায় নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আমরা তাদের মেধা কাজে লাগানোর চেষ্টা করছি।

এশিয়া পোস্ট: বিদ্যুতের এত সংকটের মধ্যে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চার্জিংয়ে যে বিদ্যুৎ অপচয় হচ্ছে, সে ব্যাপারে নির্দিষ্ট কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে? এবং একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে সরকার ও আপনার মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপ কী?

ইকবাল হাসান মাহমুদ: বিগত সরকার এমন একটা ভঙ্গুর অবস্থা রেখে গেছে, যা থেকে পরিত্রাণ পেতে সময় লাগছে। এতে সাধারণ মানুষকে কষ্ট ভোগ করতে হচ্ছে, এটি সত্য। এমনকি দেশের চলমান বিউরোক্রেসি (আমলাতন্ত্র) ঠিক করতেই তো তিন মাস লেগেছে! তবে আমরা প্রতিনয়ত কাজ করে যাচ্ছি। ঢাকায় অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বৈঠক করা হচ্ছে। গ্যাস ও তেলের ক্রাইসিস মেটাতে জ্বালানি মন্ত্রণালয় সুনির্দিষ্ট কিছু পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

এশিয়া পোস্ট: বর্তমান সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি কতটুকু?

ইকবাল হাসান মাহমুদ: আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে যতটুকু সম্ভব আমরা করছি। যথাসময়ে ১৮০ দিনের পুরো প্রতিবেদন আলাদাভাবে সরকার ও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হবে।

এশিয়া পোস্ট: সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

ইকবাল হাসান মাহমুদ: এশিয়া পোস্ট ও আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।