Advertisement

‘আমেরিকার পাশে এখন কাউকেই পাওয়া যাচ্ছে না’

এশিয়া পোস্ট সাক্ষাৎকার
‘আমেরিকার পাশে এখন কাউকেই পাওয়া যাচ্ছে না’
ছবি : এশিয়া পোস্ট গ্রাফিকস

শিক্ষাবিদ ও গবেষক ড. আবু মুসা মোহাম্মদ আরিফ বিল্লাহ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ও উর্দু বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান এবং চীনের ঝেংঝু নরমাল ইউনিভার্সিটির ভিজিটিং প্রফেসর ছিলেন। লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজ থেকে পিএইচডি করেন। তেহরান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক নানা প্রাঙ্গণে ইরান ও পারস্য পাঠের একজন গবেষক হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি এশিয়া পোস্টের ধারাবাহিক আয়োজন আলাপন অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে এসেছিলেন। ইরানের ঐতিহাসিক বিভিন্ন বিষয় এবং সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে কথা বলেছেন। সঞ্চালনা করেছেন রাহাত রূপান্তর

এশিয়া পোস্ট: ইরানিরা বীরের জাতি বলে আমরা জানি। এই জাতিসত্তার চেতনার মূল উৎস কী?

ড. আবু মুসা মোহাম্মদ আরিফ বিল্লাহ: ইরান প্রায় ১ লাখ বছরের একটি সভ্যতা। ইরানের রেকর্ড করা ইতিহাস ৫ হাজার বছরের। ইরান হচ্ছে একটি অত্যন্ত সুসভ্য দেশ। এই সভ্যতা প্রাচীনকাল থেকেই অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং উন্নত ছিল। ধরুন, আমাদের এই যে মধ্যপ্রাচ্যের আরব উপদ্বীপের দেশগুলোতে তেল পাওয়ার আগে তেমন কিছুই ছিল না। কিন্তু ইরানের একটি বিশাল পারস্য সাম্রাজ্য ছিল, যা একসময় আমাদের এই ভারতীয় উপমহাদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। সম্রাট ডেরিয়েস (দারিয়ুস) খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০ অব্দের দিকে ভারতের প্রায় অর্ধেক অংশ দখল করেছিলেন। পরবর্তীতে সাসানীয় সম্রাট বাহরাম গুরের সময়েও ভারতের অনেক এলাকা তার অধীনে ছিল। ইরানিদের উর্বর ভূমির অভাব ছিল না। তারা শিক্ষা-দীক্ষা এবং প্রযুক্তিতে অনেক উন্নত ছিল। তাদের প্রাচীন রাজপ্রাসাদগুলো, যেমন পার্সিপোলিস বা শিরাজের তাকতে জামশেদ—এসব নিদর্শন তাদের অত্যন্ত উন্নত স্থাপত্যশৈলীর পরিচয় দেয়।

প্রাকৃতিক দিক থেকে ইরানকে ভূস্বর্গ বলা যায়। এখানে যেমন সাহারা মরুভূমির পর পৃথিবীর অন্যতম বড় মরুভূমি ‘দাশতে কাবির’ আছে, তেমনি মাজান্দারানের মতো সবুজ অঞ্চলও আছে। সেখানে পাহাড়গুলো এমনভাবে সবুজ গাছপালায় ঢাকা যে আপনি পাথর দেখতে পাবেন না। কাস্পিয়ান সাগরের পাশে একটি গুহা শহর আছে, যেখানে ১০০ হাজার বছর আগে মানব সভ্যতা গড়ে ওঠার প্রমাণ পাওয়া গেছে। বলা হয়, ওখানেই পৃথিবীর আদিমতম মানব সভ্যতা গড়ে উঠেছিল। অতীত থেকে বর্তমান পর্যন্ত ইরানের যে বিশাল সম্পদ—গ্যাস, তেল, স্বর্ণ, ইউরেনিয়াম, তামা, লোহা, স্টিল সবই তাদের মাটির নিচে আছে। পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্যাস মজুত ইরানে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তাদের উন্নত সাহিত্য ও সংস্কৃতি। যেমন ধরুন, আমাদের জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম এই শতকের মানুষ, আর ইরানের জাতীয় কবি ফেরদৌসী ছিলেন আজ থেকে ১ হাজার বছর আগে। যে জাতির জাতীয় কবি ১ হাজার বছর আগে সাহিত্য রচনা করেছেন এবং ১ হাজার বছর পরেও তার বর্ণনাশৈলী, রূপক ও অলংকার শ্রেষ্ঠ হয়ে আছে, তাদের সাংস্কৃতিক গভীরতা সহজেই অনুমেয়। ইরান মূলত কবিদের দেশ।

এশিয়া পোস্ট: ইরান সবকিছুতেই অনেকটা স্বয়ংসম্পূর্ণ। এ রকম একটি জায়গায় ইসরায়েল এবং আমেরিকা যে আক্রমণ বা চাপ তৈরি করছে, আপনার দৃষ্টিতে এর কারণ কী হতে পারে?

ড. আবু মুসা মোহাম্মদ আরিফ বিল্লাহ: এর প্রধান কারণ দুটি। এক হলো—এদের বিপুল রিসোর্স বা সম্পদ, আর দুই হলো—এদের ঈমান বা বিশ্বাস। আমি আগেই বলেছি, ইরানিরা বীরের জাতি। এই বীরত্বের চেতনা তারা পায় ফেরদৌসীর ‘শাহনামা’, হাফিজ, খৈয়াম, সাদী, রুমি বা খাকানীর মতো কবিদের সাহিত্য থেকে। এই সাহিত্যের যে স্ফূরণ, এটার চেতনা তাদের হৃদয়ে ছোটবেলা থেকেই গেঁথে যায়। তারা স্কুল-কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে এই সাহিত্যগুলো পড়ে। যেমন—আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে বা চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে নজরুলের কবিতা আমাদের রণসংগীত হিসেবে কাজ করে, নজরুলের ‘চল চল চল’ যেমন আমাদের রক্তে দোলা দেয়, ইরানে সেরকম প্রায় ৫০ জন নজরুলের মতো প্রভাবশালী কবি আছেন। ফেরদৌসীর শাহনামাকে বলা হয় বীরত্ব ও যুদ্ধের মহাকাব্য। সেখানে দামাবান্দ পর্বত থেকে মানব সভ্যতার শুরু এবং বীর রোস্তমের কাহিনি আছে। ফেরদৌসী তার শাহনামায় রোস্তমকে ৩০০ বছর ধরে ইরানি বাহিনীর সেনাপতি হিসেবে দেখিয়েছেন, যিনি একটি যুদ্ধেও হারেননি। এই বীরত্বগাথা যখন ইরানি তরুণরা পড়ে, তখন সেই স্পিরিট বা চেতনা তাদের ভিতরে ঢোকে।

এশিয়া পোস্ট: এ সবের সঙ্গে ইসরায়েল-আমেরিকার আক্রমণের সম্পর্কটা ঠিক কোথায়?

ড. আবু মুসা মোহাম্মদ আরিফ বিল্লাহ: এর সম্পর্ক হলো ইরানের এই চারিত্রিক স্পিরিট। একদিকে তাদের আছে সূক্ষ্ম সাংস্কৃতিক বোধ—নদীর কলতান, বাগিচায় ফুলের সমারোহ, আর অন্যদিকে আছে তলোয়ারের ঝনঝনানি ও যুদ্ধের ময়দানে অশ্বের হ্রেষা রব। রোস্তম যেমন কোনো যুদ্ধে হারেননি, সেই বিজয়ীর চেতনা তাদের মধ্যে কাজ করে। আরেকটি বড় বিষয় হলো তাদের ধর্মীয় চেতনা। তারা আকিদাগতভাবে শিয়া এবং তাদের ১১ জন ইমামই শহীদ হয়েছেন। তারা নিয়মিত এই ইমামদের শাহাদাত ও জন্মবার্ষিকী পালন করে, যা তাদের জীবনের রেগুলার লাইফ সাইকেলের মতো। সবচেয়ে বড় চেতনার জায়গা হলো কারবালার যুদ্ধ। ইমাম হোসেন মাত্র ৭২ জন সঙ্গী নিয়ে এজিদের ৩ লাখ বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়েছিলেন। তিনি জানতেন তিনি জিততে পারবেন না, তবুও তিনি আত্মসমর্পণ করেননি। কারণ তিনি জানতেন, তিনি মাথা নত করলে নবী করিম (সা.)-এর প্রকৃত ইসলাম বিলুপ্ত হয়ে যেত। এই যে অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ এবং জীবন দেওয়ার চেতনা, যা আহলে বায়াতের প্রেরণা থেকে আসা—আমেরিকা ও ইসরায়েল এই চেতনাকেই ভয় পায়।

এশিয়া পোস্ট: ইসরায়েল ও আমেরিকা ইরানকে কেন শত্রু মনে করে?

ড. আবু মুসা মোহাম্মদ আরিফ বিল্লাহ: তারা এই চেতনাটা প্রথম টের পেয়েছিল ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের সময়। এর আগেও ১৯৫৩ সালে ডক্টর মোসাদ্দেকের নেতৃত্বে ইরানে তেল জাতীয়করণ করা হয়েছিল, যার ফলে আমেরিকা ও ব্রিটেনের লুটপাট বন্ধ হয়ে যায়। পরে তারা সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মোসাদ্দেককে সরিয়ে রেজা শাহের ছেলেকে বসিয়েছিল। আমেরিকা যেমন উপসাগরীয় সুন্নি দেশগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রেখেছে, তাদের প্রায় ২৭টি সামরিক ঘাঁটি সেখানে আছে। এই সুন্নি দেশগুলো ট্রিলিয়ন ডলারের অস্ত্র কিনে আমেরিকার অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখছে। এমনকি তুরস্কও ইসরায়েলের সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ইরান একমাত্র দেশ যারা ইসরায়েলের অস্তিত্ব স্বীকার করে না এবং ফিলিস্তিন ও হামাসকে সরাসরি সাহায্য করছে। আমেরিকা দেখে যেসব জায়গায় ইরানই তাদের প্রধান বাধা। রেভল্যুশনের আগে ইরান আমেরিকা থেকে সব আমদানি করত, তাদের তেল কর্মীরা উচ্চ বেতন নিয়ে যেত। এখন সেই সুবিধা বন্ধ হয়ে গেছে।

এশিয়া পোস্ট: ইসরায়েল ও আমেরিকার মতো বড় শক্তির বিরুদ্ধে ইরান একা যুদ্ধটা চালিয়ে যাচ্ছে কীভাবে?

ড. আবু মুসা মোহাম্মদ আরিফ বিল্লাহ: ইরান তাদের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েছে। ১৯৮১ সালে সাদ্দাম হোসেন যখন ইরান আক্রমণ করেন, তখন সাদ্দামকে কুয়েত, সৌদি আরব ও আমিরাত বিপুল অর্থ ও আধুনিক মিরেজ বা মিগ বিমান দিয়ে সাহায্য করেছিল। কুয়েতের আমির একাই ৫০০০ কোটি ডলার দিয়েছিলেন সাদ্দামকে। ইরানের তখন তেমন কিছুই ছিল না। সেই যুদ্ধের পর থেকে ইরান তাদের রণকৌশল পরিবর্তন করে। তারা বুঝলেন যে ফাইটার জেটে পশ্চিমের সঙ্গে পাল্লা দেওয়া কঠিন, তাই তারা ক্ষেপণাস্ত্র বা মিসাইল টেকনোলজিতে জোর দেন। আজ ইরান মিসাইল শক্তিতে বিশ্বের এক নম্বর শক্তি। তাদের পঞ্চম প্রজন্মের ফাইটার জেটও আছে এবং তারা পারমাণবিক সক্ষমতার কাছাকাছি চলে গেছে।

এশিয়া পোস্ট: এই যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব পড়ছে?

ড. আবু মুসা মোহাম্মদ আরিফ বিল্লাহ: অবশ্যই পড়ছে। এটি পুরো ন্যাটোকেই কার্যত ভেঙে দিচ্ছে। কানাডা এখন বলছে তারা আমেরিকাকে আর সামরিক বাজেট দেবে না এবং ঘাঁটি সরিয়ে নিতে বলছে। তারা এখন চীনের দিকে ঝুঁকছে। ফ্রান্স প্রথমবারের মতো মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে মিলে আমেরিকার বিপক্ষে ভোট দিচ্ছে। ইতালি ও স্পেনও ইরানের সুরে কথা বলছে। সবচেয়ে বড় আঘাত আসছে ডলারের ওপর। যদি তেল কেনাবেচায় পেট্রো-ডলার ব্যবহার বন্ধ হয়ে যায়, তবে এক বছরের মধ্যে ডলারের মান ২৫-৩০ শতাংশ কমে যাবে। আমেরিকা তখন অর্থনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে যাবে। আমেরিকা এই যুদ্ধে জয়ী হলে যে লাভ হতো, ডলারের এই শিফটিংয়ের কারণে তার চেয়ে বড় ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে।

এশিয়া পোস্ট: এই পরিস্থিতির দীর্ঘস্থায়ী পরিণতি কী হতে পারে?

ড. আবু মুসা মোহাম্মদ আরিফ বিল্লাহ: দীর্ঘস্থায়ী পরিণতি হলো ইরান একটি সুপারপাওয়ার হিসেবে আবির্ভূত হবে। ইরান প্রমাণ করেছে যে তারা অজেয়। অর্থনৈতিক ও সামরিক অবরোধের মধ্যেও তারা যেভাবে টিকে আছে এবং কূটনীতিতে দক্ষতা দেখাচ্ছে, তা বিশ্বকে অবাক করেছে। বর্তমানে ইরানি মেয়েরাও যেভাবে অস্ত্র হাতে রণসংগীত গেয়ে ময়দানে নামছে, তা অভাবনীয়। ইরান শক্তিশালী হলে মধ্যপ্রাচ্যের রাজতন্ত্রগুলো বিপদে পড়বে। এই ভয়েই ওইসব দেশের শাসকরা ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার সঙ্গে সুর মেলায়। ইরান যখন অর্থনৈতিকভাবে স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে, তখন আরব দেশগুলোর যুবসমাজ রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করবে। রাজতন্ত্রের ভবিষ্যৎ আর বেশিদিন নেই।

এশিয়া পোস্ট: বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ইরানের বর্তমান ভূরাজনৈতিক অবস্থানকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

ড. আবু মুসা মোহাম্মদ আরিফ বিল্লাহ: ইরানের প্রধান শক্তি হলো হরমুজ প্রণালি এবং তাদের বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ। সঙ্গে আছে তাদের নিজস্ব প্রযুক্তি। মুসলিম দেশগুলোর উচিত হবে ইরানের সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তরের চুক্তি করা। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যদি ইরান বা তুরস্কের মতো দেশে গিয়ে গবেষণা করতে পারে, তবে মুসলিম বিশ্বে আবার শক্তি ফিরে আসবে। পশ্চিমা দেশগুলো কখনোই আমাদের সফিস্টিকেটেড টেকনোলজি দেবে না।

এশিয়া পোস্ট: ইরানকে ঘিরে সংঘাত বৈশ্বিক তেলবাজারে কী ধরনের প্রভাব ফেলছে?

ড. আবু মুসা মোহাম্মদ আরিফ বিল্লাহ: ডোনাল্ড ট্রাম্প কিছুটা কৌশলী হওয়ার কারণে তেলের দাম ২০০ ডলার হয়নি। যুদ্ধের শুরুর দিকেই তিনি ইরানের ওপর থেকে এক মাসের জন্য অবরোধ তুলে নিয়েছিলেন যাতে সংকট না হয়। ওই সময় সাগরে ইরানের ১৩ কোটি ব্যারেল তেল ভাসছিল, যা তারা বিক্রি করতে পারছিল না। অবরোধ শিথিল হতেই সেই তেল বাজারে চলে আসায় দাম নিয়ন্ত্রণযোগ্য থাকে। স্পেনও ইরানের জাহাজগুলো ছেড়ে দিয়েছে।

এশিয়া পোস্ট: ইরানকেন্দ্রিক উত্তেজনা বাংলাদেশের জ্বালানি সংকটে কীভাবে প্রভাব ফেলছে?

ড. আবু মুসা মোহাম্মদ আরিফ বিল্লাহ: বাংলাদেশ সরকার ইরান ইস্যুতে যে বিবৃতি দিয়েছিল, তা ইনডাইরেক্টলি আমেরিকার পক্ষেই গেছে। ইরান আশা করেছিল একটি মুসলিম দেশ হিসেবে আমরা তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করব। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা বদলাচ্ছে। তারেক রহমান সাহেবের পক্ষ থেকে এক কোটি টাকার চিকিৎসা সামগ্রী পাঠানো একটি ভালো সূচনা। বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য নিজস্ব শোধনাগার বা রিফাইনারি করা খুব জরুরি। ১৯৮৮ সালে ইরানি প্রেসিডেন্ট রাফসানজানি যখন বাংলাদেশে আসেন, আমি তার দোভাষী ছিলাম। তিনি প্রতিদিন ১ লাখ ৪০ হাজার টন তেল শোধন করতে পারে এমন একটি রিফাইনারি বাংলাদেশকে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ভারতের চাপে বা পশ্চিমা চাপে আমরা তা নিইনি। আমাদের এখন একটাই রিফাইনারি, যা মাত্র ৩৫ হাজার ব্যারেল শোধন করতে পারে। অথচ চাহিদা প্রায় ২ লাখ ব্যারেল। আমাদের উচিত চীন ও ইরানের সহযোগিতায় দ্রুত শোধনাগার স্থাপন করা।

এশিয়া পোস্ট: এক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি কীভাবে দেখেন?

ড. আবু মুসা মোহাম্মদ আরিফ বিল্লাহ: আমাদের ভারতনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ভারতের চাপে আমাদের মিলিটারিকে দিয়ে শুধু রাস্তা বা মেডিকেল কলেজ বানানো হচ্ছে, তারা কোনো মিসাইল বা ট্যাংক তৈরি করতে পারছে না। অথচ আফগানিস্তান অনেক কিছু তৈরি করছে। ভারতের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক আমাদের ছিন্ন করতে হবে এবং ভারতনির্ভর বাজার থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ভারত আমাদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে আছে। তিস্তা প্রকল্পের জন্য চীন টাকা নিয়ে প্রস্তুত আছে, কিন্তু সরকার ভারতের ভয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছে না। আমাদের উচিত চীন, রাশিয়া, ইরান, তুরস্ক, পাকিস্তান ও মালয়েশিয়ার সঙ্গে শক্তিশালী বৈদেশিক নীতি গড়ে তোলা। আমেরিকা আগামী ১০ বছরের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে।

এশিয়া পোস্ট: বাংলাদেশের জন্য এখন সবচেয়ে জরুরি তিনটি নীতিগত পদক্ষেপ কী হওয়া উচিত?

ড. আবু মুসা মোহাম্মদ আরিফ বিল্লাহ: প্রথমত, আমাদের ডিফেন্স পলিসি ভারত থেকে সম্পূর্ণ আলাদা ও মুক্ত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, বাজার ও খাদ্যদ্রব্যের জন্য ভারতের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে হবে। কারণ, তাদের সিন্ডিকেট আমাদের বাজার নিয়ন্ত্রণ করে। তৃতীয়ত, শিক্ষা ব্যবস্থাকে আমূল বদলে ঢেলে সাজাতে হবে। ইরানের সঙ্গে প্রযুক্তি বিনিময়ের মাধ্যমে আমাদের মেধাবী প্রজন্ম গড়ে তুলতে হবে। এই মেধাহীন আমলাতন্ত্র বা রাজনীতি দিয়ে দেশের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। মেধার স্ফূরণ ঘটাতে হবে।

এশিয়া পোস্ট: শুভেচ্ছা নিরন্তর।