সাক্ষাৎকারে রাসেল বিন আহাদ/‘ব্যবসার জন্য কোটি টাকা লাগে না, দরকার সমস্যার সমাধান’

চীন থেকে পণ্য আমদানি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ব্যবসার পথ সহজ করায় বাংলাদেশের অন্যতম পরিচিত নাম রাসেল বিন আহাদ। ব্যাংকার হওয়ার স্বপ্ন ও ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে দিয়ে নিজের মেধা ও কঠোর পরিশ্রমে গড়ে তুলেছেন পণ্য আমদানির একটি আধুনিক ও সহজ মাধ্যম। বর্তমানে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন বিটুবি সোর্সিং প্ল্যাটফর্ম ‘স্কাইবাই’ (Skybuy)-এর ফাউন্ডার অ্যান্ড চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) হিসেবে।
ঢাকার ব্যাচেলর মেসে খাটের নিচে পণ্য রেখে ছোট পরিসরে ব্যবসা শুরু করে আজ তিনি হাজারো ব্যবসায়ীর ভরসার প্রতীক। তার গড়ে তোলা প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বর্তমানে ৩ লাখ ২০ হাজারের বেশি নিবন্ধিত ব্যবসায়ী চীন থেকে সরাসরি পণ্য আনছেন এবং প্রতি মাসে গড়ে ১০০ টনেরও বেশি পণ্য দেশে আসছে। কেবল ব্যবসায়িক সাফল্যই নয়, বিমানবন্দরে ভয়াবহ আগুনে কোটি টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ার পরও এক দিনে ৪৬৯ জন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাকে ৫৬ লাখ টাকা ফেরত দিয়ে তিনি সততা ও দায়বদ্ধতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
সম্প্রতি এশিয়া পোস্টের ব্যবসাবিষয়ক অনুষ্ঠান ‘বিয়ন্ড বিজনেস’-এ অতিথি হয়ে পণ্য আমদানি, প্রতিকূলতা মোকাবিলা, সততা, তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়া এবং নিজের জীবনসংগ্রামের নানা অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেছেন রিয়াজুল করিম। প্রযোজনা করেছেন জায়েদ আল মাহবুব।
এশিয়া পোস্ট: স্কাইবাই প্ল্যাটফর্মটি নিয়ে যদি বলেন- এক কথায় আপনারা আসলে কী করছেন?
রাসেল বিন আহাদ: স্কাইবাই মূলত একটি বিটুবি প্ল্যাটফর্ম। এর কাজ হচ্ছে বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী, যারা চায়না থেকে প্রোডাক্ট ইম্পোর্ট করতে চাচ্ছেন, তাদের জন্য চায়না থেকে প্রোডাক্ট পারচেজ থেকে শুরু করে চায়না ওয়ারহাউসে প্রোডাক্ট নিয়ে আসা, পিআই (Proforma Invoice) করা, কমার্শিয়াল ইনভয়েস ও ডিটেইলড প্যাকিং লিস্ট তৈরি করা, এলসি ওপেন করে আমাদের ‘ফিট ফর অর্ডার’-এর মাধ্যমে পণ্যগুলো বাংলাদেশে নিয়ে আসা। এরপর আমাদের নিজস্ব লাইসেন্সে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স করে কাস্টমারের এন্ডে পৌঁছে দেওয়ার পুরো ইকোসিস্টেমটাই স্কাইবাই-এর রয়েছে।
এশিয়া পোস্ট: এ পর্যন্ত আপনারা কতজন ক্লায়েন্টকে সার্ভিস দিয়েছেন?
রাসেল বিন আহাদ: আমাদের আলহামদুলিল্লাহ প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজারের ওপরে রেজিস্টার্ড ক্লায়েন্ট আছে। সবাই বিজনেসম্যান।
এশিয়া পোস্ট: আপনাদের মান্থলি কেমন শিপমেন্ট হচ্ছে এখন?
রাসেল বিন আহাদ: আমাদের প্রতি সপ্তাহে তিনটি করে গঞ্জ শিপমেন্ট হয়। সেখানে পার শিপমেন্টে গড়ে ৬ টনের মতো পণ্য থাকে, অর্থাৎ সপ্তাহে মোট ১৮ টনের মতো। আর প্রতি ফ্রাইডেতে আমরা চায়না থেকে একটি ৪০ ফিট কনটেইনার লোড দিই, যেখানে অন এভারেজ ১৫ থেকে ২০ টনের মতো পণ্য থাকে। অন এভারেজ মান্থলি ১০০ টন প্লাস পণ্য বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি লেভেলের উদ্যোক্তাদের জন্য আমাদের মাধ্যমে বাংলাদেশে আসে।
এশিয়া পোস্ট: আপনি তো বেড়ে উঠেছেন কুমিল্লার দেবীদ্বারে। সেখান থেকে ঢাকায় পড়তে আসা। এই জার্নিতে ঠিক কোন সময়টাতে আপনার মনে হলো যে ব্যবসা করা উচিত?
রাসেল বিন আহাদ: সত্যি কথা বলতে, আমি কখনো ভাবিনি যে আমি ব্যবসায়ী হব। আমি নর্থ সাউথ থেকে বের হই ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে। তখনও আমার চিন্তাভাবনা ছিল ভালো একজন ব্যাংকার হওয়ার, কারণ আমার বাবা ব্যাংকার ছিলেন। আমার প্রিপারেশন ছিল সব ব্যাংক-নির্ভর। পাস করার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের এডি, অফিসার এবং বিভিন্ন গভর্নমেন্ট ও প্রাইভেট ব্যাংকের এমটিও পদের জন্য পরীক্ষা দিচ্ছিলাম ও অ্যাপ্লাই করছিলাম। সত্যি বলতে, আমি এক্সিডেন্টালি বিজনেসম্যান হয়েছি।
এশিয়া পোস্ট: জার্নিটা কীভাবে স্টার্ট হলো?
রাসেল বিন আহাদ: বিজনেসের স্টার্টিংটা শুরু হয় শখ থেকে। ২০১৩ সালের দিকে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে ‘কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট’ ছিল। সেখানে আমার বন্ধু নিপুন দেব চাকরি করত। ওর সূত্রে সেখানে আমার যাতায়াত ছিল এবং চাইনিজদের সাথে ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়। ওরা বসুন্ধরাতেই থাকত, ওদের সাথে আড্ডা হতো। ২০১৩ সালের কথা—ওদের বাসায় স্মার্টওয়াচ, বিভিন্ন গ্যাজেট ও ব্যাগ দেখতাম যা খুবই ইউনিক ছিল।
নিজের ভালো লাগা থেকে ওদের বলতাম যে এগুলো আমার লাগবে, ওরা এনে দিত। পরবর্তীতে পার্সোনাল কালেকশনের আনা জিনিসগুলো যখন নিজে ব্যবহার করতাম, তখন বন্ধুবান্ধবরা দেখে বলত, ‘এটা কোথা থেকে এনেছ? আমারও লাগবে’।
চাইনিজদের কাছ থেকে তো বারবার চাওয়া যায় না। তখন এক চাইনিজকে বললাম, ‘এই প্রোডাক্টগুলো আমার জন্য বাণিজ্যিকভাবে অল্প অল্প করে এনে দাও, আমি একটা পেজ খুলে ক্যাম্পাসে বিক্রি করি’। নিপুনও সঙ্গে ছিল। ২০১৩-র দিকে ওখান থেকেই বিজনেসের জার্নিটা শুরু।
ডিসেম্বরে গ্র্যাজুয়েশন শেষ হওয়ার পর আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইভেনিং এমবিএতে ভর্তি হই। তখন সন্ধ্যায় ক্লাস করতাম আর চাকরির প্রিপারেশন নিচ্ছিলাম। নিপুন তখন বেইজিং ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ ইউনিভার্সিটিতে মাস্টার্স করতে চলে যায়। ও চায়না থেকে প্রোডাক্ট সেন্ড করত, আর আমি এখানে বিক্রি করতাম। আমার বাসার খাটের নিচে, পড়ার টেবিলের নিচে ব্যাগ ও জুতা থাকত। পেজে পোস্ট করলে ৩০-৪০টার মতো অর্ডার আসত। যেহেতু এটা শখ থেকে করা, কোনো বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য ছিল না, তাই সামান্য প্রফিটে বিক্রি করতাম; ১০০ টাকা কস্ট হলে রিটেইলে ১২০-১৩০ টাকায় বিক্রি করতাম।
এশিয়া পোস্ট: তখন তো ‘আজকের ডিল’ খুব পপুলার ছিল বাংলাদেশে।
রাসেল বিন আহাদ: হ্যাঁ, আজকের ডিল মার্কেটপ্লেস খুবই পপুলার ছিল। সেখানকার কিছু ভেন্ডর আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে বলছিল, ‘ভাই, এই ব্যাগগুলো আপনারা এত কম দামে কীভাবে বিক্রি করছেন? আমরা তো এত টাকা দিয়ে আনতেও পারছি না’। কয়েকজন শান্তিনগরে আমার বাসায় এসে বলল, ‘আপনার রিটেইল সেলের দরকার নেই, আপনি প্রোডাক্টগুলো আমাদের কাছে হোলসেলে দিয়ে দিন, অনলাইন প্রেজেন্সেরও দরকার নেই’।
এশিয়া পোস্ট: তার মানে আপনি বিটুসি কাস্টমার টার্গেট করেছিলেন, কিন্তু ব্যবসায়ীরাই আপনার কাছ থেকে বিটুবিতে নেওয়া শুরু করল।
রাসেল বিন আহাদ: তখন আমি এতে খুব মজা পেয়ে গেলাম যে এখানে কোনো প্রেশার নেই। বিটুসিতে অনেক প্রেশার ছিল- অর্ডার লেখা, কুরিয়ারে পাঠানো ইত্যাদি। তখন এত অটোমেশন বা কুরিয়ার ছিল না, অনেক সময় নিজেকেই গিয়ে ডেলিভারি দিয়ে আসতে হতো। পরে ভাবলাম এটা অনেক ইজি প্রসেস। এট এ টাইম ৫০০০ ব্যাগ আনলাম, ১০ টাকা করে প্রফিট করলেও ৫০ হাজার টাকা হয়ে যাচ্ছে। তখন বিজনেসের প্রতি একটা ইন্টারেস্ট ফিল হলো, যদিও তখনও ভাবিনি যে ফুলটাইম ব্যবসা করব। আর গ্র্যাজুয়েশনের পর ফ্যামিলি থেকে টাকা আনতেও খারাপ লাগত, কারণ নর্থ সাউথে পড়তে ফ্যামিলির প্রচুর টাকা খরচ হয়েছিল। এভাবেই ব্যবসাটা শুরু হয়।
এশিয়া পোস্ট: নর্থ সাউথে যে টাকা খরচ করলেন, তা কি পরবর্তীতে বিজনেসে কোনো কাজে এসেছে?
রাসেল বিন আহাদ: বিশ্ববিদ্যালয় কখনো আপনাকে ধরে ধরে বিজনেস শেখাবে না, তবে বিশ্ববিদ্যালয় আপনাকে একটা এনভায়রনমেন্ট ও নেটওয়ার্ক দেবে। নর্থ সাউথে পড়ার কারণেই কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে চাইনিজদের সঙ্গে সম্পর্ক হয়েছে। আমাদের ৭ জনের একটি ফ্রেন্ড সার্কেল ছিল, সবাই খুব ভালো এবং আর্থিক স্বচ্ছল ছিল।
পরবর্তীতে আমি যখন ভালোভাবে বিজনেস শুরু করলাম, ফ্যামিলি থেকে তো সাপোর্ট পাইনি, কিন্তু কাস্টমসে মাল আটকে গেলে বন্ধুরাই টাকা দিয়ে হেল্প করত—‘বন্ধু, ৫ লাখ টাকা লাগবে? নে।’ আমি আবার দুই-তিন দিন পর ফেরত দিয়ে দিতাম। নর্থ সাউথে পড়ার কারণেই এই সার্কেলটা পেয়েছি।
আমার ফ্যামিলির সবাই সরকারি চাকরি করে। আমার ছোট কাকা রাগ করে বলেছিলেন, ‘তুই যদি বিজনেসম্যানই হবি, তবে এত টাকা খরচ করে পড়ার দরকার ছিল না, কোম্পানিগঞ্জে পড়তি’। আমি বলেছিলাম, ‘কোম্পানিগঞ্জে পড়লে হয়তো কোম্পানিগঞ্জ থেকে হোলসেলে কিনে দেবীদ্বারে রিটেইলে বিক্রি করতাম। কিন্তু নর্থ সাউথে পড়েছি বলেই চায়না থেকে প্রোডাক্ট কিনে বাংলাদেশে এনে বিজনেস করা ও সাপ্লাই চেইন তৈরি করার সাহস পেয়েছি’। বিশ্ববিদ্যালয় সুন্দর পরিবেশ ও নেটওয়ার্ক দেয়, এখন আপনি ভালো সার্কেল বেছে নেবেন না খারাপ সার্কেল, তা আপনার ওপর।
এশিয়া পোস্ট: ২০১৪ সালের দিকে তো ইন্টারনেট এতটা এভেলেবল ছিল না এবং অনলাইনে কেনাকাটার মাইন্ডসেটও তৈরি হয়নি। ওই সময়ে বসে আপনি ফিউচারটা কেমন দেখছিলেন?
রাসেল বিন আহাদ: ওই সময়ে সত্যি কথা আমার চিন্তাভাবনা ছিল চাকরি করব। এটা জাস্ট শুরু করা নিজের কস্টিংটা মিনিমাইজ করার জন্য—ঢাকায় থাকা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইভেনিং এমবিএর টিউশন ফি নিজে চালানোর জন্য। এমবিএতে ভর্তি হওয়ার পর হাতে প্রচুর সময় ছিল, টাকাও ভালো আসছিল, চাকরির প্রিপারেশনও নিচ্ছিলাম। প্রিলি-রিটেনে টেকার পর একটি বেসরকারি ব্যাংকে আমার চাকরি হয়ে যায়। চাকরি হওয়ায় কোনো কিছু না ভেবে জয়েন করে ফেলি, যা আমার জীবনের একটা টার্নিং মোমেন্ট ছিল।
আমার জয়েনিং ছিল এলিফ্যান্ট রোড ব্রাঞ্চে। চায়না থেকে সোর্সিংয়ের অভিজ্ঞতা থাকায় ব্রাঞ্চে আসা বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলতাম। কাটাবন, এলিফ্যান্ট রোড, মোতালিব প্লাজা, সায়েন্স ল্যাব ও মাল্টিপ্ল্যান সেন্টারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে খুব ভালো পরিচিতি হয়। সন্ধ্যা ৬টার পর ওদের দোকানে গিয়ে গল্প করতাম আর চায়না থেকে কীভাবে প্রোডাক্ট আনি তা শেয়ার করতাম।
এশিয়া পোস্ট: তখন আড্ডা দিতেন কেন?
রাসেল বিন আহাদ: আড্ডা দিতাম কারণ আমার কেন জানি ভালো লাগত, ফিল হতো যে ওরা কীভাবে প্রোডাক্ট আনত। বাটা সিগন্যালের জুতার দোকানগুলোতে গিয়ে দেখতাম সবাই একই ধরনের প্রোডাক্ট বিক্রি করছে, কোনো ভ্যারিয়েশন নেই। তখন ব্যবসায়ীদের বোঝালাম, ‘আপনাদের সবার কাছে একই জিনিস, নিজস্ব কোনো আইডেন্টিটি নেই। অথচ ভেতরে একটি দোকান আছে যারা ৪৫, ৪৬, ৪৭ সাইজের জুতা বিক্রি করে। আপনাদের কাছে এসে কেউ বড় সাইজ চাইলে আপনারা ওই দোকানটি দেখিয়ে দেন, অর্থাৎ ওনাদের ব্র্যান্ডিং আপনারা নিজেই করছেন’।
তখন ওনাদের বোঝালাম ইউনিক কিছু আনার জন্য। ওনারা বললেন, ‘ইম্পোর্ট তো অনেক লেংদি প্রসেস, আমাদের তো এত বড় প্রসেস নেই। আমরা ১০ জন মিলে কনটেইনার করি, ১০০০ পেয়ার বা ২০ পিস করে দেয়’। চায়নার যেসব অ্যাপ এখন বাংলাদেশে পপুলার, সেগুলো আমার কাছে আগেই ছিল। ছবি তুলে সার্চ দিলেই সব চলে আসত। ওদের ১ ডজন বা ১০টা করে প্রোডাক্ট এনে দিতাম।
আমার ব্যাংকেই অনেক শিপিং কোম্পানি এলসি করত। এলিফ্যান্ট রোডের ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে ছোট ছোট ৫০০-৬০০ টাকার অর্ডার নিতাম, ওনারা ফুল অ্যাডভান্স করতেন। সেই টাকা দিয়ে শিপিং কোম্পানির মাধ্যমে প্রোডাক্ট আনতাম। ব্যাংক কর্মকর্তা হওয়ায় ক্লায়েন্টরাও আমাকে বিশ্বাস করতেন। একদিকে ক্লায়েন্ট অ্যাডভান্স দিচ্ছে, অন্যদিকে শিপিং কোম্পানিগুলোও আমাকে প্রাধান্য দিচ্ছিল। দেখা গেল ব্যাংক স্যালারির কয়েক গুণ টাকা এই পার্টটাইম কাজ থেকে আসছিল।
এশিয়া পোস্ট: তারপর চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত কীভাবে নিলেন?
রাসেল বিন আহাদ: যেহেতু ইচ্ছা ছিল বড় চাকরি করার, তাই বাংলাদেশ ব্যাংকের এডির স্বপ্ন মাথায় আসে। ভাবলাম, চাকরির বয়স এখনও ৪-৫ বছর আছে, চাকরি ছেড়ে দিয়ে ভালোভাবে পড়াশোনা করি, কারণ আমার একটা ভালো প্যাসিভ ইনকাম ছিল যা অপারেশন্স ম্যানেজারের স্যালারির চেয়েও বেশি ছিল। চাকরি ছেড়ে দেব কথাটা শুধু স্ত্রীকে বললাম। ফ্যামিলিতে ফাইন্যান্সিয়াল ডিপেন্ডেন্সি ছিল না, মা জব করতেন, বাবা ২০১৫-তে মারা গিয়েছিলেন, কাকা-বোনরা স্বাবলম্বী ছিলেন।
কারও কাছে না জানিয়ে ধানমন্ডিতে দুই রুমের একটা অফিস নিলাম। ব্যাংক শেষে রাত ১১-১২টা পর্যন্ত বিজনেসের কাজ করতাম। স্ত্রীকে বলায় সে সমর্থন দিল। চাকরি ছেড়ে ‘একলেকটিক এডুকেশন’ নামে কোচিং সেন্টারে বাংলাদেশ ব্যাংক এডির প্রিপারেশন ও মক টেস্ট দেওয়া শুরু করলাম। প্রিপারেশন খুব ভালো ছিল। কিন্তু এই সময় একটি বড় ঝামেলায় পড়ি।
যেহেতু থার্ড পার্টির কনটেইনারে পণ্য আনতাম, চায়নাতে এক চাইনিজের ওয়ারহাউসে মাল দিয়েছিলাম। কাস্টমস জটিলতায় পড়ায় ওই কনটেইনারের মাল আর পাইনি। সততা ও ইমেজের কারণে প্রচণ্ড মানসিক চাপে পড়ে গেলাম। কাস্টমারদের ৪৫ দিনের সময় দেওয়া ছিল। সময় পার হয়ে যাওয়ায় কাস্টমারদের সত্য ঘটনা খুলে বললাম, ‘একটা ঝামেলায় পড়েছি, ১০ দিনের মধ্যে মাল না বের হলে টাকা ফেরত দিয়ে দেব’- কাস্টমাররা রাজি হলেন।
আমার আর ওয়াইফের শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকে ডিপিএস ছিল, যা ২০১৮ সালে ম্যাচিউর হলে ঢাকায় ফ্ল্যাট কেনার পরিকল্পনা ছিল। কারওয়ান বাজার ব্রাঞ্চে গিয়ে ডিপিএস ভেঙে ৩৫ লাখ টাকা পেলাম। ক্লায়েন্টদের অর্ধেক টাকার পণ্য আবার কিনে দিলাম এবং বাকি টাকা মাইনাস করে অ্যাডজাস্ট করলাম। ক্লায়েন্টরা বিশ্বাস করেছিলেন।
ওই ঝামেলা থেকে মুক্ত হওয়ার পর প্রতিজ্ঞা করলাম- যতদিন বিজনেস করব, কখনো অন্যের লাইসেন্সে পণ্য আনব না এবং অন্যের সাপ্লাই চেইন ব্যবহার করব না, পুরো সাপ্লাই চেইন নিজের হতে হবে। চট্টগ্রাম যাওয়া-আসার দৌড়াদৌড়িতে এক মাস সময় চলে যায় এবং চাকরির পড়াশোনা নষ্ট হয়ে যায়। তখন স্থির করলাম চাকরির চেষ্টা আর করব না, বিজনেসের শেষ দেখেই ছাড়ব।
এশিয়া পোস্ট: বিজনেসের শুরুতেই এই ধাক্কাটা আপনার জন্য শাপে বর হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে তো বিভিন্ন প্রোডাক্টের জন্য বিভিন্ন ডকুমেন্টের প্রয়োজন হয়, অন্যের লাইসেন্স ছাড়া কীভাবে সম্ভব করলেন?
রাসেল বিন আহাদ: আমি তখন ফুল প্রিপারেশন নিয়ে প্রথম আইআরসি, বিন ও সব লিগ্যাল ডকুমেন্ট তৈরি করলাম। আমার চাইনিজ বন্ধু শিতান যে ওয়ুহান ইউনিভার্সিটি থেকে সাপ্লাই চেইনে বিবিএ-এমবিএ করা এবং সাংহাইয়ে ১০ হাজার আরএমবি স্যালারিতে চাকরি করত- তাকে আমার প্ল্যান জানালাম। বললাম, ‘আমি চাকরি ছেড়েছি, তুমিও সাংহাইয়ের চাকরি ছেড়ে গুয়াংজুতে চলে আসো। সেখানে তুমি কোম্পানি করো এক্সপোর্টার হিসেবে, আর আমি বাংলাদেশে ইম্পোর্টার হব’। ও প্রথমে রাজি হচ্ছিল না। ওকে গ্যারান্টি দিলাম, ‘কোনো মাসে ১০ হাজার আরএমবির কম ইনকাম হলে বাকি টাকা আমি দেব’।
ও কনফিডেন্স পেয়ে গুয়াংজুতে এসে হংকং ও গুয়াংজুতে সব লিগ্যাল ডকুমেন্ট সম্পন্ন করল। এটি করোনা পরবর্তী সময়ে ২০২১ সালের কথা। ও তিনজন চাইনিজ কর্মচারী নিয়ে ওয়ারহাউস সেটআপ করল। আর আমরা আলিবাবা থেকে এপিআই নিয়ে ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট করে ফেললাম। সেখানে ব্যবসায়ীরা ইমেজ বা কিওয়ার্ড সার্চ দিয়ে সহজেই স্কাইবাই-এ অর্ডার প্লেস করতে পারেন।
এশিয়া পোস্ট: অর্ডার প্লেস করার পরের প্রসেসটা কী?
রাসেল বিন আহাদ: অর্ডারটা সরাসরি আমাদের চাইনিজ টিমের কাছে চলে যায়। আমাদের নিজস্ব সাপ্লায়ার এনলিস্টেড আছে, চায়না টিম সেই কারেন্সিতে প্রোডাক্ট কিনে গুয়াংজু ওয়ারহাউসে নিয়ে আসে। আমাদের ওয়ারহাউস ফুললি অটোমেটেড। কনভেয়ার বেল্টের মাধ্যমে অটোমেশনে সব প্রোডাক্ট এইচএস কোড অনুসারে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। ৪০-৫০টি আইটেমের এইচএস কোড অনুযায়ী সুন্দর করে পিআই রেডি করা হয়।
এশিয়া পোস্ট: তারপর এলসি কীভাবে করেন?
রাসেল বিন আহাদ: পিআই নিয়ে ব্যাংকে এলসি করি। ব্যাংক আমাকে ভালো সাপোর্ট দেয়। একটি কনটেইনারে ৭০, ৮০, এমনকি ৯০টি পর্যন্ত এইচএস কোডের মিক্স পণ্য হলেও এলসি সুবিধা পাই। ব্যাংক থেকে এলসি ওপেন করার পর চাইনিজ টিম এলসি নম্বরের এগেইনস্টে চায়না কাস্টমসে হ্যান্ডওভার করে শিপমেন্ট পাঠায়।
এশিয়া পোস্ট: একটি সিঙ্গেল এলসিতে এতগুলো এইচএস কোডের প্রোডাক্ট কীভাবে ইম্পোর্ট করেন?
রাসেল বিন আহাদ: হ্যাঁ, ৭০-৮০টি এইচএস কোড পর্যন্ত আনা যায়। আমাদের কমার্শিয়াল আইআরসি আছে। তবে আমরা একটি টেকনিক অবলম্বন করি—যেসব প্রোডাক্টে বিএসটিআই, ল্যাব টেস্ট বা বিশেষ সরকারি সংস্থার পারমিশন লাগে, সেগুলো আমরা এভোয়েড করি। কারণ এইচএস কোড ভুল হলে বা মিসডিক্লেয়ারেশন হলে ২০০ শতাংশ জরিমানা হয়। কমার্শিয়াল পার্টটা সম্পূর্ণ আমি ও আমার চাইনিজ এক্সপোর্টার পার্টনার দেখি। আমাদের কনভেয়ার বেল্টেই স্ক্যান হয়ে অটোমেটিক পিআই, কমার্শিয়াল ইনভয়েস ও ডিটেইলড প্যাকিং লিস্ট তৈরি হয়ে যায়। বিএসটিআই বা বিশেষ পারমিশনের পণ্য মিক্স কনটেইনারে আনি না, কারণ ১০০ শতাংশ প্রপার ডিক্লেয়ারেশন দিয়ে কাস্টমস এক্সামিন করাতে হয়।
এশিয়া পোস্ট: বাংলাদেশে সিএনএফ এজেন্টদের ক্ষেত্রে অনেক হ্যাসেল পোহাতে হয়। আপনাদের ক্ষেত্রে কেমন অভিজ্ঞতা?
রাসেল বিন আহাদ: আমার সিএনএফ এজেন্ট খুব সৎ, ও নর্থ সাউথে আমার ক্লাসমেট ও প্রথম বন্ধু ছিল। ও এতটাই সৎ যে, ইসলামবিরোধী বা বাদ্যযন্ত্র (যেমন গিটার) কনটেইনারে থাকলে সে কাজ করবে না। এমন সৎ সিএনএফ পাওয়ার কারণে আমার ব্যবসা এতদূর এসেছে। সিএনএফ খারাপ হলে বিজনেস শেষ।
এশিয়া পোস্ট: ট্যাক্স ও ভ্যাট পরিবর্তনের ক্ষেত্রে হিসাব কীভাবে অ্যাডজাস্ট করেন?
রাসেল বিন আহাদ: ট্যাক্স হঠাৎ বেড়ে গেলে আমাদের লস বহন করতে হয়। যেমন ৫-৬ মাস আগে আমরা হাইড্রোলিক হর্ন ইম্পোর্ট করেছিলাম। জাহাজ সমুদ্রে থাকা অবস্থায় পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে সার্কুলার জারি হয় যে এই হর্ন ইম্পোর্ট করা যাবে না। কাস্টমসে অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার প্রোডাক্ট আটকে দেন এবং তা ড্যামেজ করার নির্দেশ দেন। আমরা ট্যাক্স ও পণ্যের দাম পুরোটাই দিয়েছিলাম, কিন্তু প্রোডাক্ট ড্যামেজ করা হয়। ক্লায়েন্টকে আমরা পুরো টাকা পরিশোধ করে দিয়েছি। হঠাৎ ট্যাক্স বেড়ে গেলেও লস আমাদেরই বহন করতে হয়।
এশিয়া পোস্ট: চায়না পোর্ট থেকে যে এক্সপোর্ট ইনসেন্টিভ দেওয়া হয়, সেটা কি কাস্টমারদের সঙ্গে শেয়ার করা হয়?
রাসেল বিন আহাদ: চায়নার এক্সপোর্ট ইনসেন্টিভ এক্সপোর্টারের পার্ট। আমার চাইনিজ পার্টনার যখন ট্যাক্স রিপোর্ট ফাইল করে, তখন সেই রিবেট অ্যাডজাস্ট হয়। এটা বাংলাদেশের পার্ট নয়।
এশিয়া পোস্ট: চাইনিজ পার্টনারের সঙ্গে আপনাদের বিজনেস মডেল কী?
রাসেল বিন আহাদ: আমরা প্রফিট শেয়ারিং করি।
এশিয়া পোস্ট: পোর্টে কনটেইনার আটকে থাকা ছাড়া কীভাবে দ্রুত খালাস করেন?
রাসেল বিন আহাদ: সরকার তো ইচ্ছে করে পণ্য আটকে রাখবে না। আমাদের ডিক্লেয়ারেশন শতভাগ সঠিক থাকে বলে কাস্টমসে কোনো ঝামেলা হয় না। প্রতি মাসে চারটি করে সি-কনটেইনার আসলেও এক সপ্তাহের বেশি পোর্টে থাকে না।
এশিয়া পোস্ট: সম্প্রতি এয়ারপোর্টের কার্গো ওয়ারহাউসে যে অগ্নিকাণ্ড হলো, সেখানে কি আপনারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন?
রাসেল বিন আহাদ: আমি চরম বাস্তবতার সাক্ষী। ২০২৫ সালের ১৮ অক্টোবর যে আগুনটা লাগে, সেখানে আমার ৬ হাজার ২০০ কেজির মতো পণ্য ছিল। চায়নাতে অক্টোবরের ১-৭ তারিখ ন্যাশনাল হলিডে থাকায় শিডিউল জটিলতায় আমার তিনটি শিপমেন্টের পণ্য ১৬ অক্টোবর এয়ারপোর্টে নামে। ১৭ অক্টোবর সিএনএফ সব ট্যাক্স পে করে ফেলেছিল, কিন্তু বৃহস্পতিবার গেট তাড়াতাড়ি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পণ্য বের করা সম্ভব হয়নি।
১৮ অক্টোবর আগুনে সব পুড়ে ছাই হয়ে যায়। আমি সেখানে গিয়ে দেখি ধোঁয়া উড়ছে। তবে আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া জানিয়েছিলাম যে, পরের আরও ১২ টন পণ্য এয়ারলাইন্সের শিডিউল ভুলের কারণে শুক্রবারে নামেনি। তা না হলে ১৮ টন পণ্যই পুড়ে যেত এবং আমি আর ঘুরে দাঁড়াতে পারতাম না।
এশিয়া পোস্ট: কাস্টমারদের ক্ষতির কী করলেন?
রাসেল বিন আহাদ: সেখানে ৪৬৯ জন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা কাস্টমারের ৫৬ লাখ টাকা অ্যাডভান্স ছিল। আমি আইটি ও মার্কেটিং টিমকে বলে গ্রুপে নোটিশ দিলাম যে সবাইকে টাকা ফেরত দেওয়া হবে। রোববারেই এক দিনে ৪৬৯ জন কাস্টমারকে ৫৬ লাখ টাকা রিফান্ড ডিসবার্স করেছি। কাস্টমাররা অত্যন্ত খুশি হন এবং অনেকে আমাকে আরও টাকা দিয়ে হেল্প করতে চেয়েছিলেন। পরবর্তীতে শিপিং সার্ভিস নেওয়া ক্লায়েন্টদের ২৫ লাখ টাকাও যাচাই করে ফেরত দিয়েছি।
এশিয়া পোস্ট: সরকার কি কোনো ক্ষতিপূরণ বা উদ্যোগ নিয়েছিল?
রাসেল বিন আহাদ: সরকার বা অথরিটি কোনো উদ্যোগ নেয়নি, এমনকি পরিশোধ করা ট্যাক্সের টাকাও ফেরত দেয়নি। আগুন লাগার পর নতুন পণ্যের জন্য এয়ারপোর্টে কোনো শেড ছিল না। এক বছর পার হয়ে গেলেও রানওয়েতে ত্রিপল ও কাঠের মাচা দিয়ে পণ্য ঢেকে রাখতে হচ্ছে, যার জন্য আমরা নিজেদের ১.৫ লাখ টাকা খরচ করেছি। প্রতিদিন ৫০-৬০ হাজার টাকা স্টোরেজ চার্জ দিচ্ছি, অথচ খোলা আকাশের নিচে মাল নষ্ট হচ্ছে। কাস্টমস, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ও এনবিআরের আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় কোনো সমাধান হচ্ছে না।
এশিয়া পোস্ট: ছোট পরিসরে বা অল্প ইনভেস্টমেন্টে যারা নতুন ব্যবসা শুরু করতে চায়, তারাও কি স্কাইবাইয়ের মাধ্যমে প্রোডাক্ট আনতে পারবে?
রাসেল বিন আহাদ: হ্যাঁ, অবশ্যই। ৩,০০০-৪,০০০ টাকা দিয়ে ব্যবসা শুরু করে সফল হওয়া অনেক ক্লায়েন্ট আছে আমাদের। ১০ হাজার টাকার কসমেটিকস এনে ব্যবসা শুরু করা আমার এক ক্লায়েন্টের এখন ঢাকায় ৮টি আউটলেট রয়েছে। অনেক ব্যাংক কর্মকর্তা, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো ও জাপান টোব্যাকোর কর্মকর্তা চাকরি ছেড়ে আমাদের মাধ্যমে ইম্পোর্ট করে সফল উদ্যোক্তা হয়েছেন। ক্লায়েন্টের সঙ্গে কমিটমেন্ট ধরে রাখাই আমাদের মূল শক্তি।
এশিয়া পোস্ট: বাংলাদেশে লাখো বেকার যুবক রয়েছে। তাদের উদ্দেশে আপনার পরামর্শ কী?
রাসেল বিন আহাদ: আমাদের দেশের সমস্যা হলো অ্যাকাডেমিক সিলেবাসে উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখায় না। ৪-৫ বছর চাকরির পেছনে না ঘুরে একজন তরুণ যদি এক মাস নিজের SWOT Analysis (Strength, Weakness, Opportunities, Threats) করে প্রবলেম আইডেন্টিফাই করে, তবে সে ভালো উদ্যোক্তা হতে পারবে।
উদ্যোক্তা তাদেরই হওয়া উচিত যাদের কোনো আর্থিক পিছুটান নেই। যাদের তীব্র আর্থিক সমস্যা আছে, তাদের আগে নিজেকে সামলানো উচিত। তবে সায়েন্স বা বিজনেসের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি ক্যাম্পাস থেকেই ছোট প্রবলেম সলভ করে বিজনেস শুরু করতে পারে। বিজনেসের জন্য কোটি টাকা লাগে না, প্রবলেমের সলিউশন বের করাই আসল বিজনেস।
আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ফিলিপ কটলার বা বিদেশি রাইটারদের বই মুখস্থ না করিয়ে বাস্তবসম্মত প্রবলেম সলভিং ও কেস স্টাডি শেখানো উচিত। বিসিএস বা ব্যাংক জবের পেছনে অন্ধভাবে না ছুটে বাস্তবমুখী চিন্তা ও কেস স্টাডি যুক্ত করা প্রয়োজন।

