logo

সাক্ষাৎকার/আমার পরবর্তী লক্ষ্য বাংলাদেশে ‘ইংরেজির মন্ত্রী’ হওয়া: সাইফুর রহমান খান

এশিয়া পোস্ট সাক্ষাৎকার
আমার পরবর্তী লক্ষ্য বাংলাদেশে ‘ইংরেজির মন্ত্রী’ হওয়া: সাইফুর রহমান খান
ছবি: এশিয়া পোস্ট গ্রাফিক্স

বাংলাদেশের ইংরেজি ভাষা শিক্ষা ও স্কিল ডেভেলপমেন্ট খাতের অন্যতম প্রধান কারিগর সাইফুর রহমান খান। তার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ‘সাইফুরস’ (S@ifur's) দেশের অন্যতম শীর্ষ এডুকেশন ব্র্যান্ডে পরিণত হওয়ার পাশাপাশি প্রচলিত ব্যাকরণনির্ভরতার বদলে সহজ ও ব্যবহারিক উপায়ে লাখ লাখ শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীর ইংরেজির ভীতি দূর করেছে। বর্তমানে বিশেষায়িত বই, সমৃদ্ধ প্রকাশনা এবং দেশব্যাপী প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি সাধারণ শিক্ষার্থী ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বিদেশগামী প্রবাসীদের ভাষা দক্ষতা উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। বুয়েট থেকে ফার্স্ট ক্লাস ডিগ্রিসহ গ্র্যাজুয়েশন, জাপানের আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় (আইইউজে) থেকে সম্মানজনক মনবুশো স্কলারশিপ নিয়ে এমবিএ অর্জন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ-তে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা অর্জনকারী সাইফুর রহমান খান শিক্ষা উদ্যোক্তা হিসেবে উদ্ভাবনী মেথডোলজি ও কৌশলগত চিন্তার জন্য সুপরিচিত।

সম্প্রতি এশিয়া পোস্টের বিশেষ আয়োজন ‘বিয়ন্ড বিজনেস’-এ তিনি কথা বলেছেন তার শৈশব, বুয়েট ও আইবিএর দিনগুলো, ‘সাইফুরস’-এর রূপান্তর, শিক্ষা ব্যবস্থার মূল চ্যালেঞ্জ এবং বাংলাদেশের ভাষা শিক্ষার ভবিষ্যৎ নিয়ে। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেছেন রিয়াজুল করিম। প্রযোজনা করেছেন জায়েদ আল মাহবুব।

এশিয়া পোস্ট: আপনার শৈশব কোথায় কেটেছে? শৈশবের দিনগুলোর কোনো বিশেষ স্মৃতি যদি আমাদের সাথে শেয়ার করতেন।

সাইফুর রহমান খান: আমার বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন, প্রফেসর ছিলেন। ফলে আমার ছোটবেলা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুলার রোড এলাকায় কেটেছে। ভিসির বাড়ির পাশে ফুলার রোডের স্টাফ কোয়ার্টার্সে আমাদের জীবনের প্রায় ৩৫ বছর কেটেছে। ওই এলাকায় যে উদয়ন স্কুল—এখন তো সেখানে সাত-আট তলা বিল্ডিং হয়ে গেছে, তখন উদয়ন স্কুলটি ছিল একটি টিনের ঘর। ওখানেই আমাদের লেখাপড়া শুরু। আম্মার কাছে শুনেছিলাম, ১৯৬৮ সাল বা শুরুর দিকে যখন স্কুলটি প্রথম শুরু হয়, তখন নতুন শুরু হওয়ায় ছাত্র তেমন ছিল না। আমরা নীলক্ষেত কোয়ার্টারে থাকতাম। সেখান থেকেই আমার নার্সারি শুরু, তারপর পুরো স্কুলিংটা ওখানে করা।

এশিয়া পোস্ট: আপনার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা এবং তখনকার পরিবেশ ইংরেজি শেখার ক্ষেত্রে আপনাকে কীভাবে প্রভাবিত করেছিল?

সাইফুর রহমান খান: আমি ১৯৮১ সালে ম্যাট্রিক পাস করি। স্কুল নিয়ে একটু বলি, যা ইংরেজি শেখার লাইনে আমার খুব কাজে লেগেছে। স্কুলটার নাম প্রথমে ছিল ইংলিশ প্রিপারেটরি স্কুল। ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৩ বা ৭৪ সালের দিকে সেটার নাম হয় উদয়ন বিদ্যালয়। সেখানে ছোটবেলা থেকেই ইংরেজির ওপর জোর দেওয়া হতো। ওটাই আমার একটি শক্ত ফাউন্ডেশন বা ভিত্তি তৈরি করে দিয়েছিল।

আমাদের ফুলার রোড কলোনির সাথে গায়ে লাগানো ছিল ব্রিটিশ লাইব্রেরি। আমার স্কুলের সব সহপাঠী কিন্তু ইংরেজিতে দক্ষ হতে পারেনি। আমার যেটা কাজে লেগেছে, ছোটবেলা থেকেই আমার প্রচুর পড়ার অভ্যাস ছিল—বিশেষ করে বাংলা পড়ার অভ্যাস। ইংরেজির পাশাপাশি বাংলা পড়ার অভ্যাস থাকা কেন জরুরি, তা বলি। এখনকার দিনে দেখা যায়, অনেক ইংলিশ মিডিয়ামের ছাত্র বাংলা পড়তে পারে না। এটা একদম ভুল ধারণা।

এশিয়া পোস্ট: অনেকে মনে করেন ইংলিশ মিডিয়ামে পড়লে বাংলা জানলে বুঝি মান-সম্মান বা জাত থাকে না!

সাইফুর রহমান খান: হ্যাঁ, ওরকম একটা কনসেপ্ট কাজ করে। কিন্তু আমি স্টুডেন্টদেরও বলি, যখন আমি স্কুল-কলেজে যাই বা সন্তানদের ছোটবেলা থেকেই বাংলার রিডিংয়ে ফ্লুয়েন্ট হতে হবে এবং সেটা গল্পের বই পড়েই হওয়া সম্ভব। ওটা আমার খুব কাজে লেগেছে। আর ইংরেজির ক্ষেত্রে, ব্রিটিশ কাউন্সিলের মেম্বার হয়ে ফাইভ, সিক্স, সেভেন, এইটে দেয়াল টপকে ভেতরে ঢুকতাম। এখন তো ঢোকার অনেক নিয়মকানুন, তখন ঢুকে মেম্বার হয়ে তিন-চার বছরে হাজারখানেক ইংরেজি গল্পের বই পড়ে ফেলেছিলাম। তখন একা একা কষ্ট করে ডিকশনারি ঘাটতাম যে এটার বাংলা অর্থ কী। ডিকশনারি ঘাটা খুব বোরিং কাজ হওয়ায় আমার একটি মাইন্ডসেট তৈরি হয়েছিল—একটি শব্দ আমি জীবনে একবারই দেখব, যাতে বারবার ডিকশনারি ঘাটাতে না হয়। এই ফাউন্ডেশনটা পরবর্তীতে সাইফুরস গড়ার সময় খুব কাজে লেগেছে।

এশিয়া পোস্ট: ছোটবেলার এই ইংরেজি দক্ষতার পার্থক্যটা আপনি প্রথম কখন অনুভব করেছিলেন?

সাইফুর রহমান খান: বয়সের কথা বলতে গিয়ে একটি অভিজ্ঞতার কথা বলি। আমাদের গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জে। মে-জুন মাসে হাফ ইয়ারলি বা ফাইনাল পরীক্ষার পর যখন ১৫-২০ দিনের ছুটি হতো, মানিকগঞ্জে যেতাম। একবারের ঘটনা মনে আছে, আমি তখন ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষার পর দেড় মাসের মতো মানিকগঞ্জ শহরের বাড়িতে ছিলাম, তখন আমাদের প্রতিবেশী এক স্থানীয় প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক আমাকে কিছু ইংরেজি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করতে দিয়েছিলেন। আমি খাতা দেখতে গিয়ে খটকা খেলাম যে, মানিকগঞ্জ টাউনের মডেল স্কুলের ক্লাস ফাইভের ছাত্ররা যে ইংরেজি পারছে না, তা আমি ঢাকায় ওয়ান-টুতে থাকতে পারতাম! তখনই আমি বুঝেছিলাম যে মানিকগঞ্জের মতো ঢাকা শহরের কাছের একটি শহরের টাউনেই এই অবস্থা, ক্লাস ফাইভের ছাত্ররা ওয়ানের পড়া পারছে না!

এশিয়া পোস্ট: তার মানে এই ভিত্তি বা ফাউন্ডেশনটাই শিক্ষার মূল বিষয়?

সাইফুর রহমান খান: হ্যাঁ, এই ফাউন্ডেশনটাই আসল। বাংলাদেশে ইংরেজিতে দুর্বলতার মূল কারণই হলো দুর্বল ফাউন্ডেশন। আমার প্রথম ১০ বছরে ব্যক্তিগত পড়ার অভ্যাসের কারণে এটা খুব মজবুতভাবে গড়ে উঠেছিল।

এশিয়া পোস্ট: আপনার কলেজ এবং বুয়েটে পড়ার দিনগুলোর অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

সাইফুর রহমান খান: ১৯৮১ সালে ম্যাট্রিক পাসের পর ১৯৮৩ সালে ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করি। তারপর বুয়েটে ভর্তি হলাম। আমরা বন্ধুবান্ধবরা পরীক্ষা দিলাম, চান্স হয়ে গেল। তবে আমার এমন জেদ ছিল না যে আমাকে ইঞ্জিনিয়ার হতেই হবে। আমার ইচ্ছা ছিল বাবা যেহেতু এমবিএ করেছিলেন, আমিও এমবিএ করব। আমি বুয়েটে পড়েছি, ফার্স্ট ক্লাস মার্কস নিয়ে পাসও করেছি। কিন্তু বুয়েটে ঢোকার পরই টের পেলাম যে আমার ভুল হয়ে গেছে। এখনকার দিনে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি হুজুগ থাকে যে ছেলে বা মেয়ে গণিতে ভালো বা মেধাবী হলে সায়েন্স পড়ে ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার বানাতে হবে, যার ফলে পরে অনেকেই হতাশায় ভোগে। বুয়েটে থাকা অবস্থাতেও আমি ইংরেজি শেখা ছাড়িনি। যেহেতু আমার টার্গেট ছিল বিদেশে স্কলারশিপ পেয়ে এমবিএ করব, তাই জিআরই (GRE), জিম্যাট (GMAT), স্যাট (SAT), টোফেল (TOEFL)—এসবের প্রস্তুতি বুয়েটে পড়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবে প্রচুর সময় দিয়ে চালিয়ে গেছি।

এশিয়া পোস্ট: তখনকার দিনে তো এখনকার মতো জিআরই বা জিম্যাটের প্রস্তুতি নেওয়ার সুনির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠান ছিল না। তখন নিজ উদ্যোগে কীভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন?

সাইফুর রহমান খান: তখন নীলক্ষেতে জিআরই, জিম্যাট, স্যাটের অল্প কিছু বই পাওয়া যেত। সেগুলো কিনে একা একা ডিকশনারি নিয়ে প্র্যাকটিস করতাম। তখন কোনো সহজ বাংলা অর্থসহ বই ছিল না। পুরোটাই ছিল নিজের ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও উদ্যম। স্পুন-ফিডিং দিয়ে আসলে হয় না- ‘এই পড়ো না কেন, এই করো না কেন’ দিয়ে আসলে হয় না।

এশিয়া পোস্ট: জাপানের বিখ্যাত মনবুশো স্কলারশিপ পাওয়ার পেছনের গল্পটি যদি আমাদের জানাতেন।

সাইফুর রহমান খান: অনেকেরই বিদেশে যাওয়ার আগ্রহ থাকে। আমাদের বুয়েটেও সবাই জিআরই, টোফেল দিত। জিআরই হলো ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাস্টার্স বা পিএইচডি ও টিএ/আরএ স্কলারশিপের জন্য। কিন্তু আমার আগ্রহ ছিল এমবিএ করায়, যার জন্য জিম্যাট লাগে, যা পৃথিবীর অন্যতম কঠিন ইংরেজি পরীক্ষা। এখন আইএলটিএস দিতে গিয়েই তো বাঙালির খবর হয়ে যায়, কিন্তু আইএলটিএসের প্যাসেজগুলোর চেয়েও জিম্যাটের প্যাসেজগুলো অনেক কঠিন। আমি নিজে প্রচুর পড়াশোনা করি। ১৯৯১ সালে বুয়েট থেকে পাস করার পর ঘটনাচক্রে জিআরই, জিম্যাট ও টোফেল শেখানোর সাথে জড়িয়ে পড়ি। ছাত্র পড়াতে পড়াতে আমার নিজেরও ইংরেজিতে অনেক ডেভেলপমেন্ট হয়। আমার লক্ষ্য ছিল স্কলারশিপ পাওয়া, কারণ আমি টাকা খরচ করে পড়ব না। জিম্যাটে আমার স্কোর ছিল ৯৯ পার্সেন্টাইলের বেশি (>99%)—অর্থাৎ বিশ্বে যত পরীক্ষার্থী ছিল, তাদের ৯৯ শতাংশের চেয়ে আমার স্কোর বেশি ছিল। জিম্যাট পরীক্ষা ৮০০ নম্বরের মধ্যে হয় এবং আমেরিকানদের গড় স্কোর ছিল ৫৩০। আমার ছিল ৭৪০- যা আমেরিকানদের চেয়েও ২১০ নম্বর বেশি! আমি ক্লাসে রসিকতা করে বলি, আমেরিকানদের চেয়েও বেশি নম্বর পেয়ে প্রমাণিত হয় যে ইংরেজিতে দক্ষ হওয়া কেবল সাদা চামড়ার ওপর নির্ভর করে না।

এশিয়া পোস্ট: সেই সময়ে তো বাংলাদেশে জিম্যাট শেখানোর মতো কোনো শিক্ষকও ছিলেন না!

সাইফুর রহমান খান: কোনো শিক্ষক ছিলেন না। ১৯৯১ সালের ১২ অক্টোবর ধানমন্ডি আবাহনী মাঠের উল্টো পাশে একটি কোচিং সেন্টার চালু হয়, সেখানে আমি পড়ানো শুরু করি। সেখানে টোফেল, জিম্যাট পড়াতে গিয়ে আমার অনেক কিছু শেখা হয়। যেহেতু টিচার, আমাকে তো আরও ডেভেলপ করতে হবে! এরপর ৭৪০ স্কোর এবং টোফেলে সেরা স্কোরের ওপর ভিত্তি করে আমি ‘আইইউজে’ (International University of Japan)-তে আবেদন করি। আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আবেদনের ফি লাগত ৩০ থেকে ১০০ ডলার, যা তখনকার দিনে অনেক টাকা। তাই আমি ফি ছাড়া কোথায় আবেদন করা যায় খুঁজছিলাম। আইইউজে-তে কোনো ফি লাগত না। তারা আমার জিম্যাট ও টোফেলের স্কোর দেখে আমাকে মানবুশো স্কলারশিপ অফার করে। এটাই আমার জীবনের একটা বড় অর্জন ছিল।

এশিয়া পোস্ট: বিদেশে উচ্চশিক্ষা শেষ করে অধিকাংশ মানুষই যেখানে বিদেশে স্থায়ী হয়ে যান, সেখানে আপনি কেন বাংলাদেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিলেন?

সাইফুর রহমান খান: হ্যাঁ, এটি একটি সুন্দর প্রশ্ন। আমার ইচ্ছা ছিল দেশেই ফিরব। দেশে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বা অন্য কাজ করব। আমাদের সাথে যারা পড়েছিল, তাদের অনেকেই জাপান বা সিঙ্গাপুরে চাকরি নিয়ে রয়ে গেল। কিন্তু আমি ভেবেছিলাম আমার মেধা আমি দেশে খাটাতে চাই। তাই দেশে চলে আসি। দেশে এসে প্রথমে বিআইবিএমে মিরপুর ২-এ ব্যাংক কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষক হিসেবে যোগ দিই, তারপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ-তে শিক্ষক হিসেবে যোগ দিই। এরপর ২০০২ সালে চাকরি ছেড়ে দিয়ে সাইফুরস শুরু করি।

এশিয়া পোস্ট: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ-র শিক্ষকের পদ ছেড়ে দিয়ে ‘সাইফুরস’ শুরু করার পেছনের মূল ভাবনা ও অনুপ্রেরণা কী ছিল?

সাইফুর রহমান খান: মার্ক জাকারবার্গের একটি সাক্ষাৎকার শুনেছিলাম, যেখানে তিনি বলেছিলেন যে মানুষ মনে করে প্রথম চেষ্টাতেই সে সফল হয়ে গেছে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তার আগে অনেক চেষ্টা করতে হয়। আমার ক্ষেত্রেও ১৯৯১ সালে বুয়েট থেকে বের হওয়ার পর ঘটনাচক্রে ইংরেজির সাথে জড়িয়ে পড়ি। ১৯৯৪ সালে যখন এমবিএ করতে জাপান যাই, তার আগের আড়াই-তিন বছর পড়াতে গিয়ে আমি শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলায় অর্থসহ কয়েকশ পৃষ্ঠার প্রচুর নোট তৈরি করেছিলাম। ১৯৯৪ সালের সেপ্টেম্বরে জাপানে যাওয়ার আগে সানরাইজ কোচিংয়ের প্রধান মির্জা ভাইয়ের কাছে (যিনি আত্মীয় ছিলেন) নোটগুলো জমা দিয়ে একটি বই লিখে দিই। তখন আইবিএ-তে মাত্র বিবিএ শুরু হয়েছিল। ১৯৯৬ সালে এমবিএ শেষ করে দেশে ফিরে সেই বইটি ‘সানরাইজ এমবিএ গাইড’ নামে বাজারে ছাড়ি। অনেকে বলেছিল যে সব ইংরেজি শব্দের বাংলা অর্থ ও উচ্চারণ দেওয়া বই চলবে না, কারণ আইবিএ-র প্রার্থীরা ইংরেজিতে দক্ষ। কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ, বাজারে আসার পর অন্য সব বইয়ের বিক্রি কমে গেল এবং এটি ব্যাপক জনপ্রিয় হলো! কারণ পরীক্ষার্থীরা ডিকশনারি ছাড়া ইংরেজি থেকে ইংরেজিতে না বুঝে বাংলায় সহজে শিখতে পারছিল। ১৯৯৯ সালে আইবিএ-র শিক্ষক থাকাকালীন বাসায় ছোট পরিসরে নামহীনভাবেই পড়ানো শুরু করি। ২০০০-২০০১ সালের দিকে খেয়াল করলাম, ব্যবস্থাপনা বা পরিসংখ্যান বা অপারেশনস রিসার্চ পড়ানোর চেয়ে ইংরেজি পড়াতেই আমার বেশি আনন্দ লাগছে। তখন আমার মনে মানসিক দ্বন্দ্ব শুরু হলো- দিনরাত ঘুম হতো না। ভেবে দেখলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতার মর্যাদা ধুয়ে তো মনে শান্তি আসবে না, যেহেতু নিজের পছন্দের কাজ খুঁজে পেয়েছি। তাই ২০০২ সালের ১ এপ্রিলে আইবিএ-র চাকরি ছেড়ে দিয়ে পুরোদমে সাইফুরস শুরু করি। তখন আমার বাবা ও আত্মীয়স্বজন সবাই এর বিরোধিতা করে বলেছিলেন যে আইবিএ-র শিক্ষকের চাকরি ছেড়ে কোচিং দেবে!

এশিয়া পোস্ট: যেখানে বাংলাদেশে আইবিএ-র শিক্ষক হওয়া এক বিশাল সম্মান, সেখানে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া আপনার জন্য কতটা চ্যালেঞ্জিং ছিল?

সাইফুর রহমান খান: হ্যাঁ, যেখানে পাবলিক ভার্সিটির স্টুডেন্টরা ভয়ে আইবিএ-র ভর্তি পরীক্ষা দিতে চায় না এমবিএ-তে মাত্র ২০০০ পরীক্ষা দেয় ইংরেজি কঠিন দেখে, সেখানে আমি আইবিএ-র শিক্ষকের চাকরি ছেড়ে কোচিং দেব শুনে সবাই অবাক হয়েছিল। অনেকে পরামর্শ দিয়েছিল প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াতে এবং পাশাপাশি কোচিং চালাতে, কিন্তু আমি দুই নৌকায় পা দিতে চাইনি। আলহামদুলিল্লাহ, চাকরি ছেড়ে পূর্ণাঙ্গভাবে নামাটা একটি বড় সিদ্ধান্ত ছিল।

এশিয়া পোস্ট: প্রতিষ্ঠান শুরু করার সময় বিনিয়োগের বিষয়টি কীভাবে সামলেছিলেন? নতুন উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে আপনার পরামর্শ কী?

সাইফুর রহমান খান: অনেকে আমাকে ফোন করে উদ্যোক্তা হতে চায়। আমি বলি- ধীরুভাই আম্বানি ১০ম পাস, পারটেক্স গ্রুপের হাসেম সাহেব ৪র্থ পাস, আকিজ গ্রুপের মরহুম আকিজ সাহেব ০ পাস। তুমি যদি কোটিপতি হতে চাও, পড়াশোনা বাদ দিয়ে আগে চাকরির অভিজ্ঞতা নাও। যে লাইনে যেতে চাও, ৬ মাস বা ১-২ বছর চাকরি করে কাজ শেখো। আমি যেহেতু আগে থেকেই নামহীনভাবে পড়াচ্ছিলাম, তাই আমাকে হঠাৎ করে নতুন কিছু শুরু করতে হয়নি। একটি ছোট বাসা ভাড়া নিয়ে ধীরে ধীরে শুরু করেছিলাম, তাই শুরুতে বড় বিনিয়োগের চাপ ছিল না।

এশিয়া পোস্ট: একদম শুরুর দিকে ‘সাইফুরস’-এর প্রচার ও পরিচিতি তৈরিতে কোন পদ্ধতি কার্যকর ভূমিকা রেখেছিল?

সাইফুর রহমান খান: তখন তো অনলাইন ছিল না। আমাদের প্রধান মাধ্যম ছিল সংবাদপত্র। ২০০১ সালের সেপ্টেম্বরে টুইন টাওয়ারে হামলার পর মার্কিন সরকার স্টুডেন্ট ভিসা কঠোর করায় শিক্ষার্থীরা ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ামুখী হয়, যেখানে আইএলটিএস লাগত। তখন আইএলটিএসের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যায়। সাইফুরসেও ২০০২ সাল থেকে আইএলটিএস ও স্পোকেন ক্লাসে প্রচুর শিক্ষার্থী আসতে শুরু করে। আমার শেখানোর পদ্ধতি ছিল ভিন্ন। ১৯৯১ সাল থেকে আজ পর্যন্ত ৩৫ বছর আমি কখনো শিক্ষার্থীদের সাবজেক্ট, এডজেক্টিভ, ভি-ওয়ান এসব ব্যাকরণগত পরিভাষা শেখাইনি। আমি শুধু বাংলা অর্থ বুঝিয়ে পড়াই। যেমন কোনো বিদেশিকে (যেমন ট্রাম্প সাহেবকে) বাংলা শেখাতে গিয়ে যদি বলা হয় ‘দিস ইজ অপাদানে সপ্তমী’, তবে সে হাসবে! তেমনি ইংরেজিতে খালি এডজেক্টিভ বা প্রেজেন্ট ইনডিফিনিট শেখানো ভুল পদ্ধতি। আমি অর্থ বুঝিয়ে পড়াতাম, যা শিক্ষার্থীদের উপকৃত করত এবং ‘ওয়ার্ড অব মাউথ’ বা মুখের প্রচারের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা পায়।

এশিয়া পোস্ট: জাতীয় দৈনিকে বড় পরিসরে বিজ্ঞাপন দেওয়ার ভাবনা ও অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

সাইফুর রহমান খান: জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞাপন দিলে একটি বড় শিক্ষিত শ্রেণির নজরে পড়া যেত, যারা ছিল আমাদের মূল টার্গেট। আমাদের বিজ্ঞাপনের হেডিংগুলো খুব আকর্ষণীয় ও ভিন্নধর্মী হতো।

এশিয়া পোস্ট: যেমন ‘এক পা সাইফুরসে তো আরেক পা অস্ট্রেলিয়ায়!’ এ ধরনের কালজয়ী বিজ্ঞাপনের আইডিয়া কীভাবে তৈরি হতো?

সাইফুর রহমান খান: আমি প্রচুর বিদেশি বিজ্ঞাপনের বই পড়তাম। মালয়েশিয়ার কিনোকুনিয়া বা সিঙ্গাপুর থেকে বই কিনে এনে শিখেছি যে হেডিং আকর্ষণীয় হতে হবে। বিজ্ঞাপনগুলোর পেছনে বাস্তব গল্প থাকত। যেমন এক বাবার মেয়ে এসএসসির পর সাইফুরসে ইংরেজি শিখে দক্ষ হওয়ায় অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী পাত্রের সাথে বিয়ে হয়- সেটা নিয়ে আমরা বিজ্ঞাপন দিয়েছিলাম। আরেকটি বিজ্ঞাপনে কবরস্থানের ছবি দিয়ে লেখা ছিল ‘এখানে ইংরেজিতে ভয়ের দাফন হয়ে গেছে’।

এশিয়া পোস্ট: এত বিস্তৃত ও ভিন্নধর্মী বিজ্ঞাপন দিতে গিয়ে কোনো বাধা বা জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল?

সাইফুর রহমান খান: প্রতিদ্বন্দ্বীরা কখনো কখনো পুলিশ বা প্রশাসনকে ভুল বুঝিয়েছে। যেমন ২০০৫ সালে সারাদেশে সিরিজ বোমা হামলার সময় আমাদের অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের আসার কথা ছিল, যা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। পরবর্তীতে এনএসআই বিষয়টা বুঝতে পারে। আবার ২০১৬ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা হ্যাকিংয়ের ঘটনায় হ্যাকাররা বানান ভুল করায় (শালিখা ‘ফাউন্ডেশনের’ জায়গায় ‘ফ্যান্ডেশন’ লেখায়) শ্রীলঙ্কা থেকে টাকা আটকে যায় এবং সরকার ৭০০ কোটি টাকা ফেরত পায়। আমি তখন পেপারে বিজ্ঞাপন দিয়েছিলাম-‘ইংরেজিতে দুর্বল হওয়ায় হ্যাকারদের হ্যাকিংকৃত টাকাও হাতছাড়া!’ অর্থাৎ ভালো ডাক্তার, প্রকৌশলী বা অর্থনীতিবিদ হতে গেলেও ভালো ইংরেজি জানা জরুরি। তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সাহেব এটি নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে আমাদের পেছনে এনএসআই ও দুদক লাগিয়েছিলেন, কিন্তু কর্মকর্তারা এসে বলেছিলেন- ‘স্যার, ১৫ বছর আগে আপনার বই পড়েই তো চাকরি পেয়েছিলাম!’

এশিয়া পোস্ট: আপনাদের প্রকাশিত বই এবং কোর্স থেকে এ পর্যন্ত আনুমানিক কত বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উপকৃত হয়েছে?

সাইফুর রহমান খান: সেটা সঠিকভাবে গণনা করা সম্ভব নয়, তবে সংখ্যাটা লাখ লাখ হবে! সংসদ সদস্য থেকে শুরু করে বিদেশে থাকা অগণিত প্রবাসী সাইফুরসের বই পড়ে বা পড়ে উপকৃত হয়েছেন। ২০০৬-২০০৭ সালের দিকে সিডনির লাকাম্বা এলাকায় গেলে শুধুই সাইফুরসের সাবেক শিক্ষার্থীদের সালাম ও অভিবাদন পাওয়া যেত।

এশিয়া পোস্ট: সম্প্রতি মাদ্রাসা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ইংরেজি শিক্ষায় যুক্ত করার ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছেন। এর পেছনের মূল উদ্দেশ্য ও দর্শন কী?

সাইফুর রহমান খান: ২০২১ সালের করোনাকালীন লকডাউনের সময় আমি একটি গবেষণা করি- ইংরেজিকে কীভাবে এত সহজ করা যায় যাতে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ার একজন দরিদ্র কৃষকের সন্তানও ঘরে বসে কেবল বাংলা পড়তে পারলেই একা একা ইংরেজিতে দক্ষ হতে পারে। ২০২২ সাল থেকে আমরা মাদ্রাসায়, বিশেষ করে নূরানী মাদ্রাসায় নজর দিই। নূরানী মাদ্রাসাগুলো মূলত এক ধরনের প্রাইভেট কিন্ডারগার্টেন, যেখানে বাংলা, ইংরেজি ও গণিতের পাশাপাশি ইসলামিয়াত ও দ্বীন শেখানো হয়। সাধারণ প্রাইমারি স্কুলের চেয়ে নূরানী মাদ্রাসায় সন্তানদের পাঠাতে অভিভাবকরা বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন। আমরা এই নূরানী মাদ্রাসাগুলোতে সহজ পদ্ধতিতে ইংরেজি শেখাচ্ছি, যেখানে ছোট বাচ্চারা প্রথম দিন থেকেই ‘আই গো’, ‘ইউ গো’ বলতে শুরু করে। এতে অভিভাবকদের আস্থা বাড়ছে এবং প্রতিষ্ঠানের সুনাম হচ্ছে। এছাড়া ইউরোপ-আমেরিকায় ইসলাম ছড়িয়ে পড়ায় সেখানে দক্ষ ও ইংরেজি জানা আলেমদের প্রচুর চাহিদা তৈরি হচ্ছে, যা তাদের জন্য বিদেশে মাসে ২-৪ লাখ টাকা আয়ের নতুন সুযোগ এনে দিচ্ছে।

এশিয়া পোস্ট: উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের পরও যেখানে অনেকে ইংরেজিতে কথা বলতে ভয় পান, সেখানে ছোট বাচ্চাদের এত দ্রুত ইংরেজি শেখানোর আপনার জাদুকরী পদ্ধতিটি কী?

সাইফুর রহমান খান: আমাদের মেথড খুবই সহজ। যেমন প্রথম ক্লাসেই যদি বলা হয়: আমি- আই, যাওয়া- গো, আমি যাই- আই গো, আমি খাই- আই ইট। এভাবে কোরাস করে শুরু করা হয়। বাংলা উচ্চারণের ওপর ভিত্তি করে পড়ালে প্রথম দিন ৪০-৫০ মিনিটের ক্লাসেই একটি শিশু ‘আই গো’, ‘আই ডু’, ‘আই প্লে’, ‘আই রান’ শিখতে পারে। বাসায় গিয়ে যখন সে এগুলো বলে, অভিভাবকরা অবাক হয়ে যান! এর জন্য কোনো অনার্স-মাস্টার্স পাস শিক্ষকেরও প্রয়োজন হয় না; একজন সাধারণ হাফেজ সাহেবও কেবল বই দেখে পড়াতে পারেন।

এশিয়া পোস্ট: বিবিএ বা এমবিএ শেষ করার পরও দেশের তরুণরা ইংরেজিতে দুর্বল থেকে যাওয়ার প্রধান কারণ কী? এনসিটিবির পাঠ্যক্রমের ঘাটতি কোথায়?

সাইফুর রহমান খান: কারণটা হলো সিস্টেমে গণ্ডগোল ও দুর্বল ফাউন্ডেশন। কিছুদিন আগে রাজশাহীর ডিসি অফিসে ১৮ জন পিয়ন পদে ১৭ জনই নেওয়া হয়েছে প্রকৌশলী ও এমবিএ ধারীদের থেকে! কারণ তাদের ইংরেজিতে দুর্বলতা থাকায় অন্য ভালো চাকরি হচ্ছে না। ক্লাস ওয়ান থেকে ফাইভের বোর্ডের বইয়ে কোনো বাংলা অর্থ দেওয়া নেই, আর সিক্স থেকে শুরু হয় ভি-ওয়ান, ভি-টু, সাবজেক্ট, অবজেক্ট, পার্টস অব স্পিচের মুখস্থ বিদ্যা, যা কোনো কাজে আসে না। এনসিটিবি-র যেসব বিশেষজ্ঞ যুক্তরাজ্য বা কানাডা থেকে ডিগ্রি নিয়ে আসেন, তারা বিদেশি তাত্ত্বিক নিয়মকানুন বাংলাদেশের বাস্তবতায় প্রয়োগ করার চেষ্টা করেন। তারা থিওরি দেন যে মাতৃভাষার মতো ইংরেজিও ডাইরেক্ট ইংরেজিতে শিখতে হবে, বাংলা ব্যবহার করা যাবে না। এটি একটি ভুল ধারণা। ইংরেজি আমাদের মাতৃভাষা নয়। ‘English for Today’ বইতে যদি সব চাইনিজ লেখা থাকত, তবে কি আমরা চাইনিজ শিখতে পারতাম? বাংলা অর্থ ছাড়া সরাসরি ইংরেজি শেখানোর ভুল পদ্ধতির কারণেই শিক্ষার্থীরা পারদর্শী হতে পারছে না।

এশিয়া পোস্ট: আপনাকে যদি শিক্ষা নীতি নির্ধারণে দায়িত্ব দেওয়া হয়, তবে আপনি শিক্ষা ব্যবস্থায় কী কী যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবেন?

সাইফুর রহমান খান: এক নম্বর হলো- প্রশ্ন পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন আনব। বিসিএস বা ব্যাংকের পরীক্ষায় কোনো শব্দ ‘ট্রানজিটিভ’ না ‘ইনট্রানজিটিভ’—এসব নিরর্থক প্রশ্ন বাদ দিয়ে সরাসরি আনকমন প্যাসেজ দেওয়া উচিত, যাতে প্রার্থীর মূল অনুধাবন ও প্রয়োগক্ষমতা যাচাই করা যায়। বাংলা ব্যাকরণের অহেতুক বিষয়গুলোও বাদ দেব। দ্বিতীয়ত, ক্লাস ওয়ান থেকে ফাইভের ‘English for Today’ বইগুলো আমূল বদলে দেব। প্রচলিত গ্রামারনির্ভর পদ্ধতি বাদ দিয়ে সহজ বাংলা অর্থসহ অনুধাবনভিত্তিক পড়ার ওপর জোর দেব।

এশিয়া পোস্ট: দেশের বিপুল সংখ্যক শিক্ষিত বেকার তরুণ ও প্রবাসীদের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে ইংরেজি কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে?

সাইফুর রহমান খান: আমি বলি ‘Reading is the mother of all skills’. ইংরেজি ব্যাকরণ মুখস্থ না করে বিভিন্ন বই পড়া ও বোঝার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। রিডিং ভালো হলে স্পিকিং, রাইটিং ও লিসেনিং একা একাই সহজ হয়ে যাবে। মধ্যপ্রাচ্যে বা বিদেশে কাজ করতে যাওয়া বাংলাদেশীরা কেবল ইংরেজি দক্ষতার অভাবে কম বেতনের কাজ পান, যেখানে ভারতীয় বা ফিলিপাইনিরা ফ্লুয়েন্ট হওয়ায় ভালো অবস্থানে থাকেন। দেশের নীতিগত পর্যায়ে ইংরেজি শিক্ষার এই সহজ পরিবর্তনটি আনলে বেকারত্ব কমবে এবং দেশের জিডিপি বৃদ্ধি পাবে।

এশিয়া পোস্ট: শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর (পিটিআই, নায়েম) দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আপনার ভবিষ্যৎ স্বপ্নের বিষয়টি যদি ব্যক্ত করতেন।

সাইফুর রহমান খান: পিটিআই বা নায়েমে ১০ মাসের প্রশিক্ষণে শিক্ষকদের শুধুই তাত্ত্বিক কথাবার্তা শেখানো হয়, ফলে শিক্ষকরা নিজেরাও ইংরেজি পারেন না। আমি এক ঘণ্টার ক্লাসে শিক্ষকদের কোরাস মেথড দেখালে তারা নিজেরাও শেখেন এবং কীভাবে বাচ্চাদের পড়াতে হবে তা বুঝতে পারেন। তাই আমার পরবর্তী লক্ষ্য হলো- আল্লাহ যদি কবুল করেন—বাংলাদেশের ‘ইংরেজির মন্ত্রী’ হওয়া! শিক্ষামন্ত্রী নয়, কেবল ‘ইংরেজির মন্ত্রী’, যাতে পুরো সিস্টেম ও প্রশ্ন পদ্ধতি বদলে দিয়ে দেশের তরুণদের ইংরেজি ভীতিকর অবস্থা থেকে রক্ষা করা যায়।

এশিয়া পোস্ট:আপনার এই দূরদর্শী ভাবনা সফল হোক এবং আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসুক।

এশিয়া পোস্ট: আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ স্যার, আপনার মূল্যবান সময় দেওয়ার জন্য।

সাইফুর রহমান খান: আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।