আকিদা বিসর্জন দিয়ে জামায়াতের সঙ্গে কিছু করতে চাই না

মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনের সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা। ফরায়েজি আন্দোলনের মুখপাত্র হাজি শরীয়তুল্লাহর এই বংশধর স্থানীয়ভাবে পীরজাদা হানজালা নামে পরিচিত। তার সামগ্রিক রাজনীতি ভাবনা, ইসলামপন্থি রাজনীতির হালচাল এবং শিবচর নিয়ে পরিকল্পনাসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন এশিয়া পোস্টের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রায়হান রাশেদ
এশিয়া পোস্ট: ফরায়েজি আন্দোলনের মুখপাত্র হাজি শরীয়তুল্লাহর সপ্তম পুরুষ আপনি। তিনি মানুষকে ধর্মীয় জ্ঞান শেখানোর পাশাপাশি ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে কৃষকদের ঐক্যবদ্ধ করে ফরায়েজি আন্দোলন গড়ে তোলেন। তিনি এই ভূখণ্ডের একজন প্রাণপুরুষ ছিলেন। তার বংশধর হিসেবে আপনার অনুভূতি কেমন?
পীরজাদা হানজালা: এর জন্য আমি সারাজীবন আল্লাহর কুদরতের পায়ে সেজদা করলেও তাঁর শুকরিয়া আদায় শেষ হবে না। আমি সাহসের সঙ্গে বুক ভরে পৃথিবীকে বলতে পারি, আমার রক্তে হাজি শরীয়তুল্লাহর রক্ত বইছে। যে রক্ত কখনো আপস করেনি। যে রক্ত কখনো মানুষের সঙ্গে অন্যায় করেনি। যে রক্ত দেশ, মানুষ এবং ইসলামের জন্যে জীবন বিলিয়ে দিয়েছে। যার আওয়াজে ভারতবর্ষ কেঁপে উঠেছিল, ব্রিটিশরা ভয় পেয়েছিল। আমি অহংকার করি না। আমি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করি। রবের কাছে আমি কৃতজ্ঞ, তিনি আমাকে এই বংশে জন্মগ্রহণ করিয়েছেন।
এশিয়া পোস্ট: ফরায়েজি আন্দোলনের যে মূল স্পিরিট ছিল, সেটি কি বর্তমান সময়ে প্রযোজ্য? এ ধরনের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলন নিয়ে আপনাদের কোনো চিন্তাভাবনা আছে?
পীরজাদা হানজালা: অবশ্যই। হাজি শরীয়তুল্লাহ এই দেশের জন্য আইডল। তিনি সত্যের পথে আন্দোলনের স্পিরিট। তার কাজ সবসময় আমাদের জন্য শিক্ষণীয় হয়ে থাকবে। বাংলাদেশ যত দিন থাকবে তত দিন এই শিক্ষণীয় জিনিসটা থেকেই যাবে। তার রেখে যাওয়া কিছু বিষয় বর্তমান সময়েও প্রযোজ্য। কিছু বিষয় তখনকার সময়ে প্রাসঙ্গিক ছিল। হাজি শরীয়তুল্লাহ আমাদেরকে শিখিয়ে গিয়েছেন, তোমরা অন্যায়ের সঙ্গে কোনো দিন আপস করবে না। তিনি শিখিয়েছেন ব্রিটিশের বিরুদ্ধে কীভাবে মুসলমানদেরকে দাঁড়াতে হবে। নিজের অধিকার কীভাবে ফিরিয়ে আনতে হবে। এই জিনিসগুলো আজও আমাদের কাছে লিপিবদ্ধ এবং এগুলো ধারণ করেই আমরা আগামীতে রাজনীতি করব। দেশের তরুণদের ওপর এপ্লাই করব।
ফরায়েজি আন্দোলনের ডাক ছিল ফরজের ওপরে। তাই এর নাম হয়েছিল ফরায়েজি আন্দোলন। পরে সমাজের সবকিছুর ভেতরে এটি জড়িয়ে গিয়েছিল। সর্বস্তরের মানুষ একে গ্রহণ করেছিল। আজও আমরা সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামীর বাংলাদেশে এপ্লাই করি।
বিগত ১৭ বছরে তার ইতিহাস ভুলিয়ে দিতে চেয়েছিল। আমরা ইতিহাস বিকৃত হতে দেব না। আগামীর পাঠ্যপুস্তক থেকে শুরু করে তরুণদের বুঝাব, তিনি কেমন ছিলেন? তিনি কি চেয়েছিলেন? তার প্ল্যান শুধু ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন ছিল না। তিনি বাংলাদেশকে বিনির্মাণ করতে চেয়েছেন। বাংলাদেশকে গড়তে চেয়েছিলেন।
এশিয়া পোস্ট: অভিযোগ আছে, বাংলাদেশের আলেমরা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন। হাজি শরীয়তুল্লাহ কৃষক ও সাধারণ মানুষকে নিয়ে আন্দোলন করেছিলেন। আপনার সঙ্গে সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ত করার বিষয়ে ভাবনা কী?
পীরজাদা হানজালা: হাজি শরীয়তুল্লাহকে ধারণ করলে এককেন্দ্রীক রাজনীতি করা যাবে না। সবাইকে নিয়ে রাজনীতিটা করতে হবে। আমি একক গোষ্ঠীর মধ্যে আবদ্ধ থেকে বা শুধু আলেমদের নিয়ে রাজনীতি করতে চাই না। আমি গোটা দেশের সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে মিশব।
হাজি শরীয়তুল্লাহ সবাইকে নিয়ে কাজ করেছেন। তার আন্দোলনে দিনমজুর ও কৃষক থেকে শুরু করে সব সেক্টরের মানুষের সম্পৃক্ততা ছিল। তিনি সব ধরনের মানুষের মাঝে গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছিলেন। তার আন্দোলনে আওয়াজ উঠেছিল কৃষক থেকে। আওয়াজ উঠেছিল গরিব মানুষ থেকে। তিনি প্রথমে নির্যাতিতের পক্ষে কথা বলে তাদের জড়ো করেছিলেন। তিনি গ্রাম থেকে শুরু করে একদম ব্রিটিশের আদালত পর্যন্ত হাত দিয়েছিলেন এবং সব সেক্টরের মানুষ তখন তাকে গ্রহণ করেছিলেন। আমি তার আদর্শ বুকে ধারণ করে সব শ্রেণির মানুষকে নিয়ে কাজ করতে চাই।
এশিয়া পোস্ট: প্রথমবার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। প্রচারণায় সময় পেয়েছেন বিশ দিনেরও কম। এর আগে রাজনীতিও করেননি। এত অল্প সময়ের প্রচারে বিজয়ী হওয়ার মূল নিয়ামক কী ছিল বলে মনে করেন?
পীরজাদা হানজালা: এটা আল্লাহর রহমত ও করুণায় হয়েছে। এটা সম্পূর্ণ আল্লাহর ফায়সালা। তাঁর নির্দেশনা ছাড়া তো কিছুই হয় না। নির্বাচনের দিনগুলোর কথা মনে পড়লে আমার শরীরের লোম দাঁড়িয়ে যায়। শরীরটা কেঁপে ওঠে। সারা দিন হেঁটে প্রচারণা শেষে রাতেরবেলায় আল্লাহর কুদরতি পায়ে সেজদা দিতাম। আল্লাহকে বলতাম, নির্বাচনে পাস করি বা না করি, আমি দেশ, জাতি ও ইসলামের খেদমত করতে চাই। তুমিই সম্মান দেওয়ার মালিক। আমার সম্মান যেন মাটিতে না মেশে আল্লাহ।
নির্বাচনের যাত্রাটা খুবই ব্যতিক্রম ছিল। আমার সঙ্গে অনেক হেভিওয়েট প্রার্থী ছিল। এদিকে আমার রাজনৈতিক কোনো ব্যাকগ্রাউন্ড নেই। বলতে পারেন, আমি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। কিন্তু আমি রাজনীতি পরিবার থেকে আমি বিলং করি। আড়াইশ বছরের ঐতিহাসিক রাজনৈতিক ফ্যামিলি থেকে বিলং করি। কিন্তু সরাসরি কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আমি ছিলাম না। ফরায়েজি আন্দোলনের চেতনার সঙ্গে আছি, সবসময় থাকব। এটা আমাদের নিজস্ব। কিন্তু সরাসরি কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ছিলাম না।
বাবা বলতেন, হানজালা এক দিন তোমাকে এমপি হতে হবে। তোমার দাদারা ছিল, তোমার পূর্বপুরুষরা ছিল। আমরা কিন্তু এখান থেকে অনেক পিছিয়ে গিয়েছি। আমার দাদা পীর মহসিন আহমেদ দুদু মিয়া তৎকালীন পাকিস্তানে জমিয়তের সাদার (সভাপতি) ছিলেন। তিনি জাতীয় ব্যক্তি ছিলেন। এমপি ছিলেন। স্বাধীনতার পর আমাদের পরিবার থেকে আর কেউ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়নি। আল্লাহ আমাকে এখানে নিয়ে এসেছেন।
এলাকার মানুষই আমাকে রাজনীতিতে নিয়ে এসেছেন। তারা বললেন, আপনার রাজনীতিতে নামতেই হবে। আপনি কেন করবেন না? আপনার শরীরে রাজনীতির রক্ত আছে। ২৫০ বছরের ঐতিহ্য আছে। আপনি কেন রাজনীতিতে পা দেবেন না? নোংরা রাজনীতির দোহাই দিয়ে দূরে সরে থাকতাম। বাবাকে নির্বাচনের প্রসঙ্গটা বললাম। বাবা আমাকে ছোটবেলার কথা মনে করিয়ে দিয়ে বললাম, এখন সময় এসেছে। আম্মার অনুমতি নিলাম। আল্লাহর ওপর ভরসা করে নেমে পড়লাম। প্রথমে তেমনি সাড়া পায়নি। মানুষ বলত, হানজালা তিন-চার নম্বর হবে। আমি মানুষকে আমার ভেতরের আশা-আকাঙ্ক্ষার কথা বুঝাতে থাকলাম। মা-বোনদের বোঝালাম। প্রবাসী ভাইদের বোঝালাম। যুবকদের সঙ্গে কথা বললাম। তারা আর আমার বয়সের দিকে তাকাইনি। ২৪ বছর বয়সে এমপি নির্বাচিত হই। ওই বয়সে তো মানুষ নিজের লাইফ শুরু করে।
সেসময় তারা আমার বয়সের দিকে তাকায়নি। তাকিয়েছে আমার বংশের দিকে। বিশ্বাস ছিল এ বংশের মানুষ কখনও কষ্ট দেবে না। অন্যায় করবে না। আমি কিন্তু মানুষের দরজায় যেতে পারেনি। সবার কাছে ভোট চাইতে পারেনি। আমার হাতে তো সময় ছিল না। আমি যুবকদের হানজালা হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ছিলাম। তারা হানজালা হয়েছিল। তারা মানুষের দরজায় গিয়েছিল। সদ্য কথা বলতে শেখা বাচ্চারাও হানজালা হানজালা স্লোগান দিত। বাচ্চাগুলো তার মাকে বলেছে ‘মা হানাজালা ভাইকে ভোট দেবা।’ এখন রাস্তা দিয়ে হেঁটে গেলে মায়েরা ডাক দিয়ে বলেন, আমার সন্তান আপনাকে ভোট দিতে বলেছিল। তাই দিয়েছি।
এশিয়া পোস্ট: আপনি হাজি শরীয়তুল্লাহর বংশধর। আপনার বিজয়ের পেছনে এই পরিচয়ের ভূমিকা কতটা ছিল?
পীরজাদা হানজালা: হাজি শরীয়তুল্লাহ নামটা আমার পেছনে থাকার কারণে বিজয়ী হয়েছি। তাকে বিশ্বাস করে মানুষ যেমন সর্বোচ্চ জায়গায় পৌঁছে দিয়েছিল, আমার এলাকার মানুষ বিশ্বাস করেছে, হানাজালা অন্যায় করবে না। সেই শিবচর থেকে আমাকে জাতীয় সংসদ পর্যন্ত তারা পাঠিয়েছে হাজি শরীয়তুল্লাহর ওপর আস্থা এবং তাকে ভালোবাসার কারণে।
এশিয়া পোস্ট: আপনার দাদা দুদু মিয়া তৎকালীন পাকিস্তানের জমিয়তের সভাপতি ছিলেন। আপনি জমিয়তের ব্যানারে নির্বাচন না করে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে বেছে নিলেন কেন?
পীরজাদা হানজালা: একদম শেষ সময়ে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিই। আমার দরকার ছিল নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল। নির্বাচনে দল বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বাবার সঙ্গে পরামর্শ করলাম। তিনি মামুনুল হকের দল থেকে করতে বললেন। তিনি বললেন, তার ও তোমার স্পিরিট এক। দুজন একসঙ্গে ভালো কিছু করতে পারবে। ছোটবেলা থেকেই তার প্রতি আমার আলাদা টান ছিল। তার আদর্শ এবং কণ্ঠস্বরও আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। তার বাবা শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হকের সঙ্গে আমাদের পরিবারের সম্পর্ক ছিল।
এশিয়া পোস্ট: এর আগে তো আপনি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না?
পীরজাদা হানজালা: শুধু বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস নয়, আমি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গেই জড়িত ছিলাম না।
এশিয়া পোস্ট: শিবচরের কয়েকটি প্রোগ্রামে আপনার দেওয়া বক্তব্য নিয়ে নানাবিধ মন্তব্য করেছেন কেউ কেউ। শোনা যায়, আপনি সালিশে কাউকে কাউকে হুমকিও দিয়েছেন। মূল বিষয়টি আসলে কী?
পীরজাদা হানাজালা: আমরা বিরোধী দলের রাজনীতি করি, কিন্তু সরকারি দলের খারাপ চাই না। আমরা সরকারকে সহযোগিতা করতে চাই। সরকার যেন দেশটাকে সুন্দর রাখতে পারে। কিন্তু বিরোধী দলে থাকার কারণে সরকারি দলের লোকেরা—যারা গ্রাম বা ওয়ার্ড পর্যায়ে রাজনীতি করে, তারা আমাদেরকে সংঘর্ষের ভেতর ফেলে দিতে চায়। তারা আমাদের হেয় করতে চায়।
এমপির কাজ তো বিচার করা না। তারপরও কেন করি? গ্রামের মানুষ আমাকে বিচারে-সালিশে ডাকে। আমার দেশের মানুষ যেন একটু ভালো থাকতে পারে। তাকে যেন ইনসাফভিত্তিক বিচারটা আমি দিতে পারি। ইনসাফ করে বিচার করি। ইনসাফ করতে গিয়ে কারও বিরুদ্ধে গেলে সে হয়তো রাগ করে। গ্রামের বিচারে, মাথা ঠান্ডা রেখে বিচার করতে হয়। এর মধ্যে রায় পছন্দ না হলে কেউ কেউ উঠে যায়। উচ্চবাচ্য করে। কেউ হয়তো সালিশের মধ্যেই বাজে মন্তব্য করে। তো একটা সালিশে আমি সবকিছু গুছিয়ে একটা সুন্দর ফায়সালা দেব, এর মধ্যে দুয়েকজন উচ্চবাচ্য শুরু করলেন। তাদেরকে থামতে বললেও থামেনি। পরে ধমক দিয়েছি। সেটার খণ্ড ভিডিও প্রচার করে লোকজন। সাংবাদিকদের কেউ কেউ পুরো বিষয়টি না জেনে খণ্ডিতভাবে প্রচার করেছে। সাংবাদিকদের প্রতি আমার কোনো অভিযোগ নেই। আমি দেশের জন্য কাজ করতে এসেছি, সব বাধা উপেক্ষা করে কাজ করে যাব।
এশিয়া পোস্ট: শিবচরে মধ্যরাতে এক চাঁদাবাজকে হাতেনাতে ধরে বেশ প্রশংসা পেয়েছেন আপনি। এ রকম অভিযান কি নিয়মিত চালাচ্ছেন। আপনার এলাকা থেকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও অন্যায় নির্মূলে কী কী পদক্ষেপ নিয়েছেন?
পীরজাদা হানজালা: এসবের বিরুদ্ধে আমার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ছিল। আমি জীবন বাজি রেখেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়ে যাব। কাউকে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও মাদকের কারবার করতে দেব না। আমার এলাকায় মাদক বিক্রি হচ্ছে না, এটা আমি বলব না। তবে অনেক কমে গেছে। যার করছে, তারা আতঙ্কে আছে। পেট চালানোর জন্য করছে। ওই মানুষগুলোকে যদি একটু কর্মের ব্যবস্থা করে দিতে পারতাম তাহলে সে মানুষগুলো হয়তো আর করত না। কেউ চাঁদাবাজির সাহস পাচ্ছে না। হিন্দুরাও খুশি। তাদের এখন কাউকে চাঁদা দিতে হয় না। তারা আরামে ব্যবসা করছে।
এশিয়া পোস্ট: কর্মসংস্থান করে দিতে পারলে মাদক বিক্রি বন্ধ হওয়ার আশা করছেন আপনি। কর্মসংস্থান নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?
পীরজাদা হানজালা: কর্মসংস্থান নিয়ে আমি প্ল্যান করছি। আমার এলাকাটা একদমই কর্মসংস্থান ছাড়া একটা জায়গা। বাংলাদেশের অন্যান্য জায়গায় ফ্যাক্টরি রয়েছে, গার্মেন্টস আছে। কিন্তু আমাদের এখানের প্রায় সবাই প্রবাসমুখী। এলাকায় ফ্যাক্টরি করতে চাই। অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। বিনিয়োগের আহ্বান জানাচ্ছি ব্যবসায়ীদের। তাদেরকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। আশা করছি, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারব। তখন আর কোনো সমস্যায় থাকবে না।
এশিয়া পোস্ট: এলাকায় কাজ করতে গিয়ে সরকারি দলের নেতাকর্মীদের দ্বারা কোনো ধরনের বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন?
পীরজাদা হানজালা: না। এখানে সরকার দল বা বিরোধী দল বলে কথা নেই। আমরা সবাই এক পরিবার। আমাদের পরিবারের প্রতি সবার আলাদা সম্মান আছে। আমাদের বাড়িটা সবার ভালোবাসার জায়গা। আমাদের বাড়িতে দল-মত নির্বিশেষে সবাই আসেন। আমি বিরোধী দলের এমপি হলেও সরকার দলের লোকেরাও আমার এখানে আসেন। আমরা সুন্দর পরিবেশে আছি। এখানে মারামারি নেই, গ্যাঞ্জাম নেই। হানাহানি নেই। আমি নির্বাচিত হওয়ার পরে এখন পর্যন্ত এলাকায় কোনো ধরনের বড় মারামারি হয়নি। বড় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়নি। এলাকার মানুষ এটা নিয়ে খুবই সুখী। আমি সবাইকে নিয়ে ভালো থাকতে চাই।
এশিয়া পোস্ট: নির্বাচেনর আগে অন্যায়, অবিচার ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকার করেছিলেন। ৮ মাসে আপনার অঙ্গীকারের কতটুকু বাস্তবায়ন করতে পেরেছেন?
পীরজাদা হানজালা: অঙ্গীকারের প্রায় সবাই বাস্তবায়ন করছি, কোনোটা বাস্তবায়নের পথে। বড় বাজেটভিত্তিক যেগুলো আছে, সেগুলো পূরণ করতে সময় লাগবে। এলাকায় আমরা যে প্রতিশ্রুতিগুলো মানুষকে দিয়েছিলাম, সমাজ থেকে অন্যায়-অবিচার, দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও মাদক দূর করে ন্যায়-ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠনের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আট মাসে ভালো কিছু করেছি। এক বছরের মধ্যে অনেক কিছু গুছিয়ে নিয়ে আসতে পারব।
এশিয়া পোস্ট: ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে আপনাকে সশস্ত্র দেহরক্ষীবেষ্টিত অবস্থায় দেখা গেছে। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আপনার উদ্বেগ থাকতে পারে। যাদের ভোটে আপনি নির্বাচিত হয়েছেন তাদের নিরাপত্তার জন্য কী পদক্ষেপ নিয়েছেন?
পীরজাদা হানজালা: আমার নিরাপত্তার আগে যাদের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি, তাদের নিরাপত্তা নিয়ে ভাবি। আমার আসনের মানুষকে এমন একটি সময় এনে দিতে চাই, মানুষ যেন দরজা-জানালা খুলে ঘুমাতে পারে। মানুষ যেন সর্বোচ্চ নিরাপদ মনে করে নিজেকে। এজন্য আমি রাতে অভিযানে নামি। এলাকায় ঘুরি। যেন অন্যায়কারী ভয় পায়। কেউ যেন রাতের আঁধারেও মাদক বিক্রি করতে না পারে। অন্যায়কারীর ভেতরে এমন কম্পন সৃষ্টি করতে চাই, তারা যেন অন্যায় করার আগে হাজারবার চিন্তা করে।
আমি বেঁচে থাকলেই তো আমার দেশের মানুষের নিরাপত্তা আমি দিতে পারব। এটাই তো দুনিয়ার নিয়ম। কত দিন বেঁচে থাকব জানি না। আমাদের মতো মানুষের আইসিইউতে যেন মৃত্যু না হয়। বাসার বেডে যেন মৃত্যু না হয়। সংগ্রামী মানুষের মৃত্যু সবসময় রাজপথেই হয়। যতদিন বেঁচে আছি ততদিন দেশের জন্য কিছু একটু করে যেতে চাই।
এত দেহরক্ষী নিয়ে আমি চলতে চাই না। আমাকে জোর করে দেওয়া হয়। ফোর্স করে দেওয়া হয়। কোথাও একা যেতে নিষেধ করা হয়। আমার পরিবার বা আমার বন্ধুবান্ধব আমাকে নিয়ে বেশি চিন্তিত। আমি বলি আমার কাউকে লাগবে না। মাঝেমধ্যে আমি একাই চলে যাই। কিন্তু তারা নিষেধ করেন। তারা বলেন, দেশের জন্য আপনার বাঁচতে হবে। মানুষগুলোর জন্য বাঁচতে হবে। ইসলামকে নিয়ে আরও ভূমিকা রাখতে হবে। মানুষ আপনাকে হৃদয়ে ধারণ করেছে। সবাই তো আর ভালোবাসে না। কিছু মানুষ চাইবে, যেন এই প্রদীপটা নিভিয়ে দেওয়া যায়। কিছু মানুষ চাইবেই যেন এই জিনিসটাকে চিরবিদায় দেওয়া যায়। তো সেই জায়গা থেকে আপনি তাদেরকে কেন সুযোগটা দেবেন? সে জায়গা থেকে তারা আমাকে নিরাপত্তা বলয়ে থাকতে ফোর্স করে।
এশিয়া পোস্ট: আপনার বন্ধু বা প্রিয়জনরা আপনার নিরাপত্তা নিয়ে বেশ শঙ্কায় আছেন। নিরাপত্তা নিয়ে আপনার কোনো শঙ্কা আছে?
পীরজাদা হানজালা: না। আমি আসলে মানুষের সঙ্গে মিশতে পছন্দ করি। হুটহাট করে একেক জায়গায় চলে যাওয়া মানুষ আমি। আমি মানুষের কাছাকাছি থাকতে চাই, তাদের পাশে বসতে চাই। তারা যেন মনে করে, আমি প্রত্যেকের কাছের লোক। আমি এখনও নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেনি। আমাকে ভালোবাসেন, এমন মানুষের সংখ্যাই বেশি। তারপরও যদি কিছু মানুষের এরকম নেগেটিভ চিন্তা থাকে, আমরা তো বলি, আল্লাহই হেফাজতকারী। আল্লাহ আমাকে রক্ষা করবেন।
এশিয়া পোস্ট: আপনি সংসদে কাদিয়ানিদের কাফের ঘোষণা করে আইন করার দাবি করেছেন। মহানবী (সা.)-এর অবমাননকারীদের বিষয়ে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রাখতে বলেছেন। এগুলো বাস্তবায়নে সরকারের কোনো উদ্যোগ দেখছেন?
পীরজাদা হানজালা: আল্লাহ আমাকে সুযোগ দিয়েছেন, আমি এই সুযোগটাকে সর্বোচ্চ কাজে লাগিয়েছি। জাতীয় সংসদে আমি প্রথমে আল্লাহর রাসুলের পক্ষে কথা বলেছিলাম। আমি আমার জায়গা থেকে শুধু চেষ্টা করেছি। বিষয়টা এরকম না। আগামীতেও চেষ্টা করব। আমি একবার এই আওয়াজ উঠিয়েছি। পুরা বাংলাদেশ কেঁপে উঠেছে। সর্ব জায়গা থেকে সমর্থন এসেছে। সরকার দেখেছে। রাষ্ট্র দেখেছে। রাষ্ট্রের দায়িত্ববান লোকেরা দেখেছে। যদি এটা বাস্তবায়ন হয় আমরা আগামীতে আবার উঠাব। অন্তত কেয়ামতের মাঠে দাঁড়িয়ে আল্লাহকে যেন বলতে পারি, আল্লাহ সেদিন আমাকে তুমি সুযোগ দিয়েছিলে দেশের সর্বোচ্চ জায়গায় কথা বলতে আমি সেদিন দাঁড়িয়ে নবীর পক্ষে কথা বলেছি। আমি যেন অন্তত আল্লাহর নবীর সামনে দাঁড়িয়ে বলতে পারি, আমি আপনার পক্ষে কথা বলেছি। এটা শুধু বক্তব্যের ভিতরে সীমাবদ্ধ থাকবে না, পরের বক্তব্যগুলো আরও শক্তিশালী হবে।
এশিয়া পোস্ট: স্পিকারের সহধর্মণীর জানাজায় অংশ নিতে সংসদে প্রবেশের সময় একজন আপনাকে দেখে ‘ওই যে জঙ্গি এমপি যাচ্ছে’ বলে মন্তব্য করেছে। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?
পীরজাদা হানজালা: আলেমদের নিয়ে এক ধরনের মানুষের নেতিবাচক ধারণা আছে। তারা মনে করেন, আলেমরা কেন পাগড়ি পরে সংসদে যাবে? আমি একমাত্র ব্যক্তি মনে হয়, গোটা সংসদে যিনি পাগড়ি পরে প্রবেশ করি এবং পাগড়ি পরে বের হই। আমার এই ছবিটা প্রথম জাতির সামনে আসলে বামপন্থিরা বলল, দেখো সংসদে আফগানি ঢুকে গেছে, মোল্লা ঢুকে গেছে, জঙ্গি ঢুকে গেছে। এটা তো খারাপ পোশাক নয়। এটা জঙ্গির পোশাক নয়। এটা নবীর সুন্নত। জানাজা শেষে আমি যখন আমার সহধর্মিণীকে নিয়ে সংসদের দিকে হেঁটে যাচ্ছিলাম, পরে আমি ভিডিওতে দেখেছি, কেউ বলছেন, জঙ্গি এমপি হেঁটে যাচ্ছে। এটা তারা জ্বালা থেকে বলেছে। তারা জ্বলতে থাকবে। তাদের জ্বলার কারণে আমাদের কাজ তো আর বন্ধ হবে না।
তার এ কথা ভিডিওর মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে যারা আমাকে ভালোবাসে, তারা এটাকে নেতিবাচকভাবে নেয়। তখন আমি সংসদে বলেছিলাম, স্পিকার ওরা আমাকে জঙ্গি বলেছে, এজন্য আমি দাঁড়াইনি। জাতীয় সংসদের মতো একটি জায়গায় আপনার সহধর্মিণীর জানাজায় উপস্থিত হতে এসেছি, একজন রানিং এমপিকে তারা জঙ্গি বলেছে। ভিডিওটা যদি সামাজিকমাধ্যমে না আসত, আমি বলতাম না। জাতীয় সংসদকে নিয়ে মানুষ উল্টাপাল্টা বলছে, এজন্য আমি বলছি। জাতীয় সংসদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে। আমি বিচার চেয়েছি।
এশিয়া পোস্ট: বিগত নির্বাচনের আগে ইসলামপন্থি দলগুলো জোট হওয়ার প্রক্রিয়ায় ছিল। পরে জামায়াতের সঙ্গে আদর্শের দ্বন্দ্বের কথা বলে ইসলামী আন্দোলন নির্বাচনের আগে সরে দাঁড়ায়। জমিয়তও জামায়াতের আকিদা নিয়ে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছে। হেফাজতের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীও জামায়াতকে ভোট দেওয়া হারাম বলে মন্তব্য করেছেন। কিন্তু আপনার দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস তাদের সঙ্গে রয়েছে। তাদের আকিদা নিয়ে আপনার অবস্থান কী?
পীরজাদা হানজালা: আমার দল ১১ দলীয় জোটে আছে। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আছে। আমি তো জামায়াতের কেউ না। রাজনীতিটা রাজনীতির মতোই করতে হয়। আকিদা এবং রাজনীতি এক নয়। মামুনুল হক সাহেব উচিত মনে করেছেন বিধায় এই জোটে আছেন, যারা বেরিয়ে গেছেন এটা একান্ত তাদের বিষয়। যারা বিএনপির সঙ্গে জোট করেছেন, এটা তাদের ব্যাপার। আমি মানুষের জন্য কাজ করতে চায়। মানুষের সেবা করতে চায়।
এশিয়া পোস্ট: জামায়াতের আকিদা নিয়ে তো কওমি পাড়ায় নানা ধরনের আলাপ আছে। কিন্তু কওমির আলেম হিসেবে আপনার অবস্থান কী?
পীরজাদা হানজালা: আমি কওমির সন্তান। কওমি ধারায় আমি পড়াশোনা করেছি। এ ধারা নিয়ে থাকছি। যদি আকিদা নিয়ে কোনো সমস্যা থাকে সেখানে তো আমাদের সমঝোতা থাকবে না। আকিদার প্রশ্নে আমরা আপসহীন। অবশ্য রাজনৈতিক আকিদা এক বিষয় আর রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম আরেক বিষয়। ইসলামিক প্রোগ্রামে আমাদের আলোচনা থাকবে একরকম, রাজনৈতিক মঞ্চে আলোচনা করব আরেক রকম। আকিদা নিয়ে আমি বেশি কথা বলতে চাই না। তাদের আকিদা নিয়ে সমস্যা থাকলে দেশের আলেমরা সোচ্চার আছেন, তারা কথা বলবেন। আকিদা বিসর্জন দিয়ে আমরা কিছু করতে চাই না। আকিদার ইস্যু যদি আসে, তাদের যদি ভুল থাকে, সেটা আমি সমর্থন করতে পারি না।
জামায়াতের সঙ্গে আমাদের রাজনৈতিক অ্যালায়েন্স হয়েছে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড একদিকে থাকবে, আকিদার বিষয়টা আমাদের আরেক দিকে।
এশিয়া পোস্ট: ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেককে কওমি আলেমদের জামায়াতের জোটে যুক্ত হওয়ার বিষয়টিকে ‘গোমরাহি’ বা পথভ্রষ্টতা হিসেবে বর্ণনা করতে শোনা যায়। আপনি কি তার বক্তব্য সমর্থন করেন?
পীরজাদা হানজালা: তিনি দেশের সর্বোচ্চ আলেম। জাতীয় মসজিদের খতিব। আমি মনে করি, তার মতো একনিষ্ঠ ও আল্লাহওয়ালা বুজুর্গ মানুষ দেশে খুব কমই আছে। আমার পড়াশোনা ছিল সাউথ আফ্রিকাতে। সেখানের অনেকে তাকে চেনে। তারা অনেকে বাংলাদেশে এসে তার ক্লাসে বসতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তার কাছে যেটা যথোপযুক্ত মনে হয়েছে, তিনি সেটা বলেছেন। আমি তার মন্তব্যের বিষয়ে কথা বলার যোগ্যতা রাখি না। এটা নিয়ে আমি কথা বলতে চাই না। তিনি এটা ভালো করলে অব্যশই ভালো। এটা তার সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয়।
এশিয়া পোস্ট: আপনার এলাকার নারীর চাকরি ও কর্মসংস্থান নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?
পীরজাদা হানজালা: নারীদের কর্মসংস্থান নিয়ে ব্যাপক পরিকল্পনা আছে আমার। পর্দার সঙ্গে কীভাবে নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা যায়, কীভাবে তাদের এগিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমরা আসলে একটা ভঙ্গুর অবস্থায় দেশের দায়িত্বটা পেয়েছে। তার মধ্যে বিরোধী দলের এমপি। সবকিছু মিলিয়ে একটু চাপ যাচ্ছে। কুলিয়ে উঠতে অনেক কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তারপরও আশাবাদী, এই বছরটা হয়তো এভাবে কাটবে। আরও চার বছর সময় আছে। আশা করি, খুব দ্রুত নারী ও যুবকদের জন্য ভালো কিছু করতে পারব।
এশিয়া পোস্ট: বর্তমান এবং আগামী পাঁচ বছর পরের শিবচরে মানুষ কেমন পার্থক্য দেখতে পাবে?
পীরজাদা হানজালা: পাঁচ বছরের মধ্যে শিবচর এবং এর মানুষের চিন্তাভাবনা, যুবকদের চিন্তাভাবনা ব্যাপকভাবে পরিবর্তন করব আমরা। শিবচরের চেহারা বদলে দেব। রাস্তা, ব্রিজ যথাযথভাবে হবে। আমরা শুরুতে মানুষের মধ্যে পরিবর্তন আনতে চাই। মূল ফোকাসটা দিয়েছি মানুষকে পরিবর্তন করতে। সরকারি তহবিলগুলোর ক্ষেত্রে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করি, সবাই যেন প্রাপ্যটা পায়। বারবার হুমকি পাচ্ছি, বারবার এখানে এসে আমার ঝামেলা হয়ে যাচ্ছে। বারবার নাম পরিবর্তন করতে হচ্ছে। সরকারি মাল বিতরণে ওয়ার্ড পর্যায়ে সমস্যা হচ্ছে। আমি কিছু ভালো মানুষ তৈরি করতে চাই শিবচরে, যারা এই শিবচরটাকে পরিবর্তন করে। শিবচরের মানুষের মেন্টালিটি পরিবর্তন হয়ে যাবে। তখনই এই শিবচরটাকে আমরা আগামী পাঁচ বছর পরে এর থেকে ভালো কোথাও দেখব।
শিবচর বাংলাদেশের একটি রোল মডেল হবে। দেশের মানুষ এ উপজেলার নাম নেবে। মানুষ বলবে যে আমাদের আসনটা কেন শিবচরের মতো চলছে না? আমাদের আসন কেন শিবচরের মতো হচ্ছে না? আমাদের আসনের মানুষগুলো কেন শিবচরের মতো পারছে না? গোটা দেশের সামনে শিবচরকে আনতে চাই। শিবচরের নামটা যেন বাংলাদেশের প্রতিটা জায়গায় থাকে।
এশিয়া পোস্ট: সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
পীরজাদা হানাজালা: আপনাকে ও এশিয়া পোস্টকে ধন্যবাদ।



