‘ধরেই নিতাম বাসায় ফিরতে পারি, না হয় জেল বা গুলি’

দেশের চরম ক্রান্তিকালে হারানো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি রিয়াদ রহমান। একইসঙ্গে তিনি জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। নিজের দিনকাল, সমসাময়িক ছাত্র রাজনীতি, শিক্ষাঙ্গণের পরিস্থিতি, ছাত্রদলের বর্তমান কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে এশিয়া পোস্টের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন জাকারিয়া নূরী
এশিয়া পোস্ট: ছাত্র রাজনীতিতে আসার পেছনে আপনার মূল অনুপ্রেরণা কী ছিল? কোনো বিশেষ ঘটনা কি আপনাকে
উদ্বুদ্ধ করেছিল?
রিয়াদ রহমান: আমি ছোটোবেলা থেকেই খুব দুরন্ত ছিলাম। জাতীয়তাবাদী দলের রাজনীতির সঙ্গে আমরা পারিবারিকভাবে অনেক আগে থেকেই সম্পৃক্ত। আমার ফ্যামিলির অনেকেই এখনও সরাসরি এই দলের পদ নিয়ে রাজনীতি করছে। সেক্ষেত্রে অনুপ্রেরণার জায়গাটা স্বাভাবিকভাবেই পরিবারের যারা রাজনীতি করেছে তারা। আমার নানা প্রতিষ্ঠাকালীন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ছিলেন। আমার কাজিন ছাত্রদলের জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে জাতীয়তাবাদী যুবদলের মাগুরা জেলার সভাপতি আমার কাজিন। সবকিছু মিলিয়ে পারিবারিকভাবেই জাতীয়তাবাদের চেতনায় বিশ্বাসী হয়ে মূলত রাজনীতিতে আসা।
এশিয়া পোস্ট: ছাত্রদলের রাজনীতি আপনাকে কেন আকৃষ্ট করল, অন্য কোনো সংগঠন কেন নয়?
রিয়াদ রহমান: অন্য সংগঠন নিয়ে চিন্তা করানোর মতো কোনো মানুষ ছিল না। পুরো পরিবারের ভেতরেই এই চর্চাটা (বিএনপি চর্চা) হয়ে আসছে। পরবর্তীতে যখন আমি বুঝছি, যখন মানুষের কিছু করার বা বোঝার বোধশক্তি তৈরি হয়, তখন আমি ছাত্রদলকেই বেছে নিয়েছি। কলেজ লাইফ থেকেই আমার ছাত্র রাজনীতিতে আসা, ছাত্র রাজনীতির পথে চলা। ওয়ান-ইলেভেনে যখন মঈন উদ্দিন ও ফখরুদ্দীন অবৈধভাবে বেগম খালেদা জিয়াকে কারাবন্দি করেছিল, তখন তার মুক্তির জন্য আমার নেতৃত্বে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজে মিছিল হয়েছিল।
এশিয়া পোস্ট: বিশ্ববিদ্যালয়ে আপনার রাজনীতির পথচলা কীভাবে শুরু হয়?
রিয়াদ রহমান: উচ্চমাধ্যমিক পড়াশোনা শেষ করার পরপরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেলাম। ইচ্ছা ছিল, বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে রাজনীতিটাই করব। বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন ভর্তি হয়েছি তখন আমার কাছে মনে হয়েছে— রাজনীতির ভেতর দিয়েই মানুষের পাশে যাওয়ার সব থেকে সহজ মাধ্যম। পথটা কঠিন কিন্তু বিস্তার অনেক। মানে এখানে আমি অনেক বেশি কাজ করতে পারব। সে জায়গা থেকে মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতিকেই বেছে নেওয়া।
এছাড়া আমি ব্যক্তিগতভাবে খেলাধুলার প্রতি খুবই আকৃষ্ট ছিলাম। ক্রীড়া সংগঠক বলতে পারেন আপনি আমাকে। জীবনের প্রথম সময়ে ক্রীড়া নিয়ে কাজ করা, খেলাধুলার ভেতরে থাকা এবং এলাকার বন্ধু-বান্ধব, ছোট ভাইদের নিয়ে একসঙ্গে সংঘবদ্ধ খেলাধুলার ভেতরেই থাকতাম।
এশিয়া পোস্ট: বর্তমানে ক্যাম্পাসের রাজনীতিতে ছাত্রদলের প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো কী বলে মনে করেন?
রিয়াদ রহমান: আমরা আসলে কোনো ধরনের চ্যালেঞ্জ ফিল করি না। মনে করছি না কোনো ধরনের চ্যালেঞ্জ আছে। তবে কিছু অপতথ্য, অপপ্রচার আছে। যেটাকে মোকাবিলা করে শিক্ষার্থীদের আমরা সৃজনশীল এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পরে দেশ বা রাষ্ট্র গঠনে যে রাজনীতির কথা বলছি, সেই রাজনীতিতে তাদের আস্থা ফিরিয়ে এনে তাদের সেই রাজনীতিতে উদ্বুদ্ধ করা।
এশিয়া পোস্ট: ভবিষ্যতে ছাত্রদলকে গতানুগতিক ধারা থেকে আরও আধুনিকায়ন করার জন্য কী কী পরিকল্পনা রয়েছে?
রিয়াদ রহমান: ছাত্রদলকে একটি সুশৃঙ্খল প্ল্যাটফর্মের ভেতরে আনা প্রয়োজন। সুশৃঙ্খল প্ল্যাটফর্মের পাশাপাশি জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী সারা দেশের শিক্ষার্থীদের মাঝে সৃজনশীল কর্মকাণ্ড এবং মেধাভিত্তিক রাজনীতির একটি মেলবন্ধন তৈরি করা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে বাংলাদেশের কথা বলছেন, সেই বাংলাদেশ গঠনে ছাত্রদলকে কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থার ভেতর দিয়ে প্রশিক্ষিত করে সামনে আনাটাই হচ্ছে আমাদের কাজ।
এশিয়া পোস্ট: বর্তমানে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী? তারা কি যথাযথভাবে তাদের অধিকারগুলো পাচ্ছে?
রিয়াদ রহমান: দীর্ঘ ১৭ বছরে বাংলাদেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের স্বাধীনতাকে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। স্বাধীন শিক্ষা ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। আমরা দেখেছি, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আবাসিক ব্যবস্থাসহ প্রাথমিক অধিকারগুলাকে দলীয়করণ করা হয়েছে। এমনকি শিক্ষা ব্যবস্থা শেষ করে তাদের কর্মজীবনে যাওয়ার ক্ষেত্রেও দলীয়করণ করা হয়েছে।
আবাসিক হলে থাকার জন্য একটি নির্দিষ্ট দলের সঙ্গে থেকে সাপোর্ট নিয়ে থাকতে হয়েছে। কিন্তু ৫ আগস্ট-পরবর্তী যে পরিবর্তনের রাজনীতির কথা আমরা বলছি সেখানে এই সুযোগটা কিন্তু আর নেই। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদি ছাত্রদলও এ ধরনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না, বিগত দিনেও করেনি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে সৃজনশীল রাজনীতির কথা বলেছেন এবং যে সাম্য-মানবিক বাংলাদেশ গড়ার কথা বলছেন সেখানে কোনোভাবেই এসবের সুযোগ নেই।
অনার্স লেভেলের শিক্ষায় নারীদের অগ্রসর করার জন্য আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। বাংলাদেশে এবার ৫২ শতাংশ ভোট নারীরা দিয়েছেন। এই সর্বোচ্চসংখ্যক জনগোষ্ঠীর শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নয়নের চিন্তা আমাদের মাথায় আছে। তাদের জন্য আমরা যে সর্বোচ্চ নীতি নিয়েছি সে অনুপাতে আমরা কাজ করার চেষ্টা করছি।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য যে ধরনের সহযোগিতা প্রয়োজন, আমার মনে হয় প্রশাসন সেগুলো দেওয়ার চেষ্টা করছে। যেহেতু এখন ছাত্রলীগ নেই, তাই আগের সেই নেতিবাচক কালচারটাও নেই। শিক্ষার্থীরা স্বাধীনভাবে চলাফেরার অধিকার পেয়েছে। কিছু অসংগতি আছে, যা নিয়ে আমরা কাজ করব। ছাত্র সংগঠন হিসেবে আমাদের নেতাকর্মীরা প্রশাসনের কাছে দাবি জানাবে।
এশিয়া পোস্ট: চব্বিশের ৫ আগস্টের দিন কোথায় ছিলেন বা তার আগের কিছু দিনের কোনো স্মৃতি মনে পড়ছে?
রিয়াদ রহমান: জুলাইয়ের এত স্মৃতি যে বলতে গেলে আরও অনেক সময় নিয়ে বলতে হবে। কিছু জায়গা থেকে বলতে পারি। শুরুর দিকটাতে আমরা সবাই আন্দোলনের আশপাশে ছিলাম। আমাদের যারা বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আছে তাদের ইনস্ট্রাকশন দেওয়া ছিল—সবাই আন্দোলনে থাকবে এবং মিছিল-মিটিংয়ে থাকতে হবে। একটা পর্যায়ে যখন আন্দোলন আরও জোরদার হলো আমার বাসা পুরান ঢাকা হওয়ায় প্রথম দুই দিন আমি যাত্রাবাড়ী অঞ্চলে ছিলাম। ৩ আগস্ট সর্বপ্রথম আমার কর্মীদের নিয়ে আন্দোলনে গিয়েছি এবং স্লোগান দিয়ে আন্দোলনকে ত্বরান্বিত করার চেষ্টা করেছি।
রাতে তো ঘুম হতো না, আসলে ঘুমাতে পারতাম না। সারারাতই জেগে ৫ আগস্ট খুব ভোরবেলা বের হয়েছি। বের হওয়ার পর আমরা দুই বন্ধু মোটরসাইকেলে চানখাঁরপুলে গিয়ে দেখি রাস্তা ফাঁকা। মানুষজন সেভাবে এখনো আসেনি। পরে দেখি গলিতে গলিতে মানুষজন দু-একজন করে জড়ো হচ্ছে। আমরা না বুঝেই তাদের বলছি আসো বা ইশারা করছি আসেন আসেন সবাই চলে আসেন। এর আগে যে ওখানে একটা পিকেটিং হয়ে গেছে এবং তাদের ওপরে যে পুলিশ গুলি করছে, এটা কিন্তু আর আমরা জানি না। স্বাভাবিকভাবেই ছোটাছুটির পরে আমরা সেখানে চলে গেছি। পরে শহীদ মিনারে গিয়ে দাঁড়িয়েছি অবস্থা বোঝার জন্য যে, কীভাবে শাহবাগে যাওয়া যায়। সঙ্গে সঙ্গেই সেখানে প্রশাসনের যারা ছিল তারা আমাদের ওপরে আক্রমণ শুরু করল। সেখানে টিয়ার শেল, সাউন্ড গ্রেনেডসহ সরাসরি গুলি করা হলো। ওখানে আমরা আর দাঁড়াতে পারলাম না। পরে আমরা ক্যাম্পাসের ভেতরে চলে গেছি।
তখন কী করব বা কী করা যায় বুঝতে পারছিলাম না। চারপাশেই এক যুদ্ধ পরিস্থিতি। শাহবাগের দিকেও যাওয়া যাচ্ছে না। এদিকে পুরা ক্যাম্পাসে সাঁজোয়া যান দিয়ে ভরে রেখেছে। মোটামুটি কিছুক্ষণ পরে দেখি আমাদের সব নেতাকর্মীরাই ক্যাম্পাসের আশপাশে আছে। যখন ঘোষণা এলো যে তিনি পালিয়েছেন, তখন আমরা সবাই একসঙ্গে জড়ো হয়ে শাহবাগের দিকে যাই। সেখানে যাওয়ার পর মানসিক যে শক্তি পেয়েছি, আগের পুরো এক-দুই মাসের যে ক্লান্তি সব মুছে যায়।
এশিয়া পোস্ট: জুলাই আন্দোলন-পরবর্তী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। এ প্রেক্ষিতে বাংলাদেশে ছাত্রদলের নতুন ভূমিকা কী হওয়া উচিত?
রিয়াদ রহমান: শিক্ষার্থীদের জন্য যেহেতু আমরা রাজনীতি করব, শিক্ষার্থীদের স্বার্থ নিয়েই আমাদের কাজ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে কথা বলতে হবে। পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা পরবর্তী কর্মজীবনে কীভাবে নিজেদের তৈরি করবে, কী ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন তা নিয়ে ছাত্রদল কাজ করবে। অতীতের ছাত্র সংগঠন যে ভাষায় কথা বলেছে, যেভাবে ছাত্রদের অত্যাচার এবং নিপীড়ন করেছে, আমাদের সে জায়গা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। ছাত্রদের কল্যাণেই আমরা রাজনীতি করতে চাই।
এশিয়া পোস্ট: নতুন প্রজন্মের ভোটার বা তরুণ সমাজ, যারা কোনো দলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয়, তাদের রাজনৈতিক চিন্তা নিয়ে আপনার মতামত কী?
রিয়াদ রহমান: দীর্ঘদিন ছাত্র রাজনীতিকে কলুষিত করা হয়েছে। ১৭ বছরে বর্তমান প্রজন্মকে যে রাজনীতি দেখানো হয়েছে সেটা ছাত্র রাজনীতির নামে ছাত্রদের নির্যাতন করা হয়েছে। পরবর্তীতে আমরা দেখেছি, কিছু লোক বলার চেষ্টা করেছে বা ন্যারেটিভ দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছে যে, দুই সংগঠনের চরিত্রই একই রকম বা মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। এই অপতথ্য বা অপপ্রচারকে ভেঙে দিতে হবে, মোকাবিলা করতে হবে। প্রকৃতভাবেই ছাত্র রাজনীতির ইতিহাস ছাত্রদের সামনে তুলে ধরতে হবে এবং প্রকৃত দেশপ্রেমিক ছাত্রদের ছাত্রদলে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। সে জায়গা থেকে অবশ্যই ছাত্রদলের যে গঠনমূলক রাজনীতি সেই বার্তা তাদের কাছে নিয়ে যেতে হবে।
এশিয়া পোস্ট: বিগত বছরগুলোতে রাজনৈতিক প্রতিকূলতার সময় আপনি ব্যক্তিগতভাবে সবচেয়ে বড় কোন শিক্ষাটি পেয়েছেন?
রিয়াদ রহমান: বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতির প্রথম দিন থেকেই বাধার সম্মুখীন হয়েছি। সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠনের বাইরে অন্য কোনো সংগঠনের কথা বলার কোনো সুযোগই এ ১৭ বছরে ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পরই আমি যখন ফার্স্ট ইয়ারে তখনই রাজনীতির সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করি। তারপর থেকে আমি আর হলে থাকতে পারিনি। আমি এক সপ্তাহের মতো হলে ছিলাম। আমার হল ছিল স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম হল, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল। হলে ওঠার এক সপ্তাহ পরে আমি আর সেখানে থাকতে পারিনি। আমাকে থাকতে দেওয়া হয়নি। আমার অপরাধ আমি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলে, বাইরে থাকাটা অনেক কষ্টের। যেখানে আমার অধিকার—আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক ব্যবস্থার ভেতরে থাকব। আমাকে সে ব্যবস্থার ভেতরে রাখা হয়নি, আমাকে হল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।
আর একেকটি প্রোগ্রামে আমরা যখন যেতাম, তখন প্রোগ্রাম শেষ করে যে বাসায় ফিরতে পারব সে চিন্তা আমাদের কখনোই থাকত না। আমরা ধরেই নিতাম যে, হয় বাসায় ফিরতে পারি, তা না হলে জেলে যেতে পারি, না হলে গুলি খেতে পারি অথবা মারা যেতে পারি। এই চিন্তা নিয়েই আমরা রাজনীতি করেছি গত ১৭ বছর। আমরা স্বাভাবিক চিন্তা কখনোই করতে পারিনি যে, আমাদের একটা স্বাভাবিক জীবন আছে। কখনোই ভাবতে পারিনি যে, এর বাইরেও আমাদের একটা জীবন আছে। অনেক ফ্রেন্ডদের দেখতাম— তারা স্টাডি ট্যুর দিত বা মনে চাইলে বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে বাইরে ঘুরতে যেত। ছাত্রজীবনের সুন্দর সুন্দর উপভোগময় যে স্মৃতিগুলা থাকে সেগুলোর কোনো কিছুতেই আমরা নিজেদের যুক্ত করতে পারিনি। পুরো টাইমটাতেই আমরা আন্দোলন এবং সংগ্রামের ভেতরেই ছিলাম।
যেহেতু আমি নিজে এর ভুক্তভোগী। আমি আশা করব, বাংলাদেশে যেন আর এ ধরনের রাজনীতি ফিরে না আসে। রাজনীতিবিদের কাজই হচ্ছে জনকল্যাণ ও জনগণের সেবা করা। সেখানে জনগণের সেবক হয়ে জনগণের ওপর এই ধরনের অত্যাচার-নিপীড়ন করা উচিত নয়। মানুষের গণতান্ত্রিক ও কথা বলার অধিকার যেন বাংলাদেশে নিশ্চিত হয়।
এশিয়া পোস্ট: ক্যাম্পাসে ‘লেজুড়বৃত্তি রাজনীতি’ বন্ধের দাবি ওঠে প্রায়ই। এ বিষয়ে আপনার বা ছাত্রদলের অবস্থান কী?
রিয়াদ রহমান: ক্যাম্পাসে যারা এই ‘লেজুড়বৃত্তি’ শব্দটা ব্যবহার করছে, তারাই সব থেকে বড় লেজুড়বৃত্তি রাজনীতি করছে—নামে বা বেনামে। কিন্তু বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল জাতীয়তাবাদী চেতনায় বিশ্বাসী এবং একটি সংগঠনের অঙ্গ-সংগঠন হিসেবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কাজ করে। আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সেন্টিমেন্টের বাইরে গিয়ে দলের পারপাস সার্ভ করার চিন্তা করি না। আমাদের ফার্স্ট প্রায়োরিটি হচ্ছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায়।
এশিয়া পোস্ট: ছাত্র সংসদ নির্বাচনগুলো নিয়মিত হওয়া কেন জরুরি বলে আপনি মনে করেন?
রিয়াদ রহমান: যোগ্য নেতৃত্ব গঠনের একটি সুন্দর জায়গা হচ্ছে ছাত্র সংসদ নির্বাচন। তার ভেতর থেকে সৎ এবং যোগ্য নেতৃত্ব উঠে আসুক। রাষ্ট্রের জন্যই প্রতিনিয়তই সারা বাংলাদেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মমাফিক ছাত্র সংসদ নির্বাচন হওয়া অতি প্রয়োজন।
যেহেতু আমি রাজনীতি করি এবং আমি রাষ্ট্রের সুশৃঙ্খল নেতৃত্ব চাই সেহেতু দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মমাফিক ছাত্র সংসদ নির্বাচন হোক এটা আমি চাই। বাংলাদেশের ইতিহাসে যত ভালো কিছু হয়েছে, যত অধিকার বাস্তবায়ন হয়েছে, তার পেছনে কিন্তু ছাত্রদেরই অবদান সব থেকে বেশি ছিল।
এশিয়া পোস্ট: ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার আলোচনা চলছে। নতুন কমিটিতে আপনার প্রত্যাশাটা কী?
রিয়াদ রহমান: আমিসহ আমার সহকর্মীরা সবাই নির্যাতিত-নিপীড়িত এবং দীর্ঘদিন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। আমি বিশ্বাস করি, যারা দীর্ঘ পথ এবং দীর্ঘদিনের এ রাজনীতির অভিজ্ঞতা পেরিয়ে নেতৃত্বে আসবে, অবশ্যই তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষার্থে রাজনীতি করবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে বাংলাদেশের কথা বলছেন এবং যে ধরনের বাংলাদেশ আমরা মানুষকে উপহার দিতে চাই, দেশের রাষ্ট্রের জনগণকে উপহার দিতে চাই—সে ধরনের বাংলাদেশ বিনির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।
আর নেতৃত্ব দেওয়ার মালিক আল্লাহ। মহান সৃষ্টিকর্তার ওপর ভরসা রেখেই আমাদের প্রধানমন্ত্রী তার কর্মপ্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছেন। শেষ পর্যন্ত ডিসিশন নেবেন আমাদের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমান। আমরা বিশ্বাস করি, আমরা যারা ছাত্রদলের রাজনীতি করি, তার (তারেক রহমান) সিদ্ধান্তই আমরা চূড়ান্ত হিসেবে মেনে তার হাতকে শক্তিশালী করব। বাংলাদেশের রাজনীতি এবং উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখব।
এশিয়া পোস্ট: একজন নেতার কী কী গুণাবলি থাকা উচিত বলে আপনি মনে করেন?
রিয়াদ রহমান: অবশ্যই সততা, জনকল্যাণ ও জনবান্ধব হতে হবে।
এশিয়া পোস্ট: প্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব কে?
রিয়াদ রহমান: অবশ্যই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়া।
এশিয়া পোস্ট: অবসর সময়ে আপনি কী পড়তে বা দেখতে পছন্দ করেন?
রিয়াদ রহমান: অবসরে দুই-তিনটা কাজ করতে ভালো লাগে। তার ভেতর—মুভি দেখা, গান শোনা, বই পড়া।
এশিয়া পোস্ট: ছাত্রদলের নতুন কমিটির নেতৃত্বে যারা আসবেন তাদের উদ্দেশ্যে আপনার উপদেশ কী?
রিয়াদ রহমান: সততা, মেধা, প্রজ্ঞা দিয়ে জনগণের পাশে থাকা। সারা দেশের ছাত্রসমাজের যে সমস্যাগুলো আছে সেগুলোকে আইডেন্টিফাই করে সেগুলো নিয়ে কাজ করা। যার যার জায়গা থেকে নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে দেশের জনগণের স্বার্থে কাজ করা, ছাত্রদের স্বার্থে কাজ করা। আপনি যখনই নিজের কাজটা সর্বোচ্চ দিতে পারবেন, রাষ্ট্র এবং দেশ তত দ্রুত সামনে এগিয়ে যাবে।
এশিয়া পোস্ট: ছাত্রদলের কর্মীদের উদ্দেশ্যে এক কথায় আপনার বার্তা কী?
রিয়াদ রহমান: ব্যক্তির থেকে দল বড়, দলের থেকে দেশ। সবার আগে বাংলাদেশ।