সিঁড়িতে ৩টি লাশ, রক্তের ওপর দিয়ে পা টিপে টিপে নেমেছিলাম

ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে রাজপথের পরিচিত মুখ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান। আন্দোলনমুখর সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সদস্য সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। সাংগঠনিক দক্ষতা ও ক্লিন ইমেজের কারণে ছাত্রদলের কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে আমানের। ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব নিয়ে যে তোড়জোড়ের খবর শোনা যাচ্ছে, তাতে শীর্ষ পদে আলোচনায় অন্যদের চেয়ে এগিয়ে আছেন আমান। এশিয়া পোস্টের নিয়মিত আয়োজন ‘আলাপন’-এ আমান এসেছিলেন অতিথি হয়ে, কথা বলেছেন রাজনীতি, ব্যক্তিগত জীবনসহ নানা বিষয়ে। সঞ্চালনা করেছেন রাহাত রূপান্তর
এশিয়া পোস্ট: বরগুনার সাধারণ একটি পরিবার থেকে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে উঠে এলেন কীভাবে?
আমান উল্লাহ আমান: ছোটবেলা থেকেই রাজনীতির প্রতি আমার প্রচণ্ড আগ্রহ ছিল। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় আমাদের এলাকার এক বড় ভাইয়ের মাথায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের একটি আইকনিক ছবির মতো ক্যাপ দেখে সেটি আমি পরি। তখন একজন আমাকে বলেছিল যে, আমাকে দেখতে জিয়াউর রহমানের মতো লাগছে। এরপর থেকেই মূলত তাঁর দেশপ্রেম এবং কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আমার জানার কৌতূহল জাগে। উনার রাজনীতির দর্শন আমাকে প্রচণ্ডভাবে মুগ্ধ করে। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির মাত্র ২২ দিনের মাথায় সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে ছাত্রলীগের হামলার শিকার হই এবং তখন থেকেই নিরবচ্ছিন্নভাবে রাজপথের কর্মসূচিতে অংশ নিতে শুরু করি।
এশিয়া পোস্ট: এই পথচলায় পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে কতটা সমর্থন পেয়েছেন?
আমান উল্লাহ আমান: আমার এই পথচলার মূল নায়ক আমার আপন বড় ভাই মো. শহীদুল্লাহ মুসুল্লি। তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। আমরা দুই ভাই একসঙ্গে ঢাকার রাজপথে মিছিল করেছি এবং একসঙ্গে জেলও খেটেছি। আমাকে না পেয়ে অনেক সময় আমার বড় ভাইকে পুলিশ নিয়ে যেত। আমি এবং আমার বড় ভাই ডিবি ও সিটিটিসি রিমান্ডেও একসঙ্গে থেকেছি। উনিই আমার রাজনীতির প্রধান অনুপ্রেরণা। আমার বাবা একজন ধর্মপ্রাণ মানুষ ছিলেন এবং তিনি সবসময় দোয়া করতেন যাতে আমি একজন ভালো মানুষ হই। বাবার কাছ থেকেই আমি নৈতিকতা ও সৎভাবে চলার শিক্ষা পেয়েছি।
এশিয়া পোস্ট: ছাত্ররাজনীতিতে সবচেয়ে কঠিন কোনো মুহূর্তের মুখোমুখি হয়েছিলেন কবে?
আমান উল্লাহ আমান: সবচেয়ে কঠিন সময় ছিল সম্ভবত ২০২১ সালের ২৯ আগস্ট—সেদিন ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের হামলায় আমার ডান হাত ভেঙে যায়। আমার বাবা সন্তানদের প্রতি অত্যন্ত আবেগপ্রবণ ছিলেন; তিনি সবসময় আমাদের গুম হয়ে যাওয়ার আতঙ্কে থাকতেন। হাত ভাঙার কিছুদিন পর বাবা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা যান। আমি বাবার মৃত্যু সংবাদ পাই, যখন আমি লঞ্চে করে বরিশালের পথে ছিলাম। হাত ভাঙার পর বাবার সাথে আর দেখা হয়নি, শুধু ফোনে কথা হতো। তিনি সবসময় জিজ্ঞেস করতেন, ‘আল্লাহ কেমন রাখছেন?’ এটাই অনেক বড় কষ্ট যে, বাবা দেখে যেতে পারেননি সুখে আছি।
এশিয়া পোস্ট: রাজনীতির কারণে নিশ্চয়ই অন্যদের মতো বাবা-মাকে খুব বেশি সময় দেওয়ার সুযোগ পাননি। এ নিয়ে আক্ষেপ আছে?
আমান উল্লাহ আমান: আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সদস্য সচিব হওয়ার দুই বছর চার মাস পর প্রথম বাড়ি গিয়েছিলাম। বরগুনাকে তখন অনেকটা ‘দ্বিতীয় গোপালগঞ্জ’-এর মতো বলা হতো। বাজারে নামার সঙ্গে সঙ্গেই ডিবি পুলিশ আমার হাত ধরে বলেছিল তারা আমাকে গ্রেপ্তার করবে। আমি শুধু আব্বা-আম্মার সঙ্গে দেখা করে ফিরে আসার সুযোগ চেয়েছিলাম। আসলে আমাদের নিশ্চিন্তে থাকার মতো একটি দিনও ছিল না। বাবার জন্য আমি কিছুই করতে পারিনি, শুধু টেনশন দিয়েছি। আমাদের পরিবারটি ছিল খুবই মায়া-মমতায় ঘেরা। আমার বাবা যখন মধ্যপ্রাচ্যে থাকা লোকদের দেখতেন যে, তারা বছরে অন্তত একবার বাড়ি আসে, তখন তিনি আমাকে বলতেন, আমি কেন একবারও আসতে পারি না। এই আক্ষেপ সবসময় রয়ে যাবে। শুধু একজন আমান নয়, এরকম হাজারো আমানের গল্প আছে।
এশিয়া পোস্ট: বিগত সরকারের সময়ে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের নিত্যদিনের নিয়তি ছিল হামলা এবং মামলা। আপনি এসব কীভাবে সামাল দিয়েছেন?
আমান উল্লাহ আমান: আমি স্পেনের মুসলিম সাম্রাজ্য বিজয়ের সেই গল্পের কথা ভাবতাম, যেখানে ফেরার সব পথ বন্ধ করে দিয়ে যুদ্ধ করে জেতার শপথ নেওয়া হয়েছিল। আমরা এমনভাবে জড়িয়ে গিয়েছিলাম যে পিছনে ফেরার কোনো সুযোগ ছিল না। হাসিনা টিকে থাকলে হয়তো আমাদের ফাঁসি হয়ে যেত বা গুম হয়ে যেতে হতো। আমাদের নামে এমন সব মামলা দেওয়া হয়েছিল যেন আমরা রাষ্ট্রবিরোধী সন্ত্রাসী। অথচ আমরা শুধু বাকস্বাধীনতা ও ভোটাধিকারের জন্য লড়াই করেছি।
এশিয়া পোস্ট: কখনো কী এমনটা মনে হয়েছে যে আপনার রাজনীতির কারণে আপনার পরিবার ভুক্তভোগী হচ্ছে?
আমান উল্লাহ আমান: আমার ভেতর অপরাধবোধ কাজ করত। আসলে যারা রাজনীতির সামনে থাকে, কষ্টটা তাদের জীবনের ওপর পড়ে। আমাদের আত্মীয়স্বজন যেমন আমাদের জন্য কষ্ট ভোগ করেছেন, তারা আমাদের পরিচয়ে গর্বিতও হন। যারা রাজনীতি বোঝে না, তাদেরও নিপীড়নের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। প্রত্যেক পরিবারের জন্যই এমন অভিজ্ঞতা হয়েছে।
এশিয়া পোস্ট: ছাত্রদল নেতাদের মধ্যে আপনি পরিচিত মুখ হওয়ায় হামলা, মামলা ও নির্যাতনের ধকল তো আপনাকে একটু বেশিই পোহাতে হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে দুঃসহ স্মৃতি কোনটি?
আমান উল্লাহ আমান: ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশের পর আমাকে পুলিশ হত্যা মামলায় এক নম্বর আসামি করা হয়। এটি ছিল রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের একটি উদাহরণ। তখন আওয়ামী ফ্যাসিজমের ডিবি ও সিটিটিসি কোনো পরিচিত মুখ খুঁজছিল যাকে টর্চার করলে অন্যরা ভয় পাবে। আমাকে তিন দিন গুম রাখা হয়েছিল এবং তিন ধাপে ১৯ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল, যা ছিল এক নজিরবিহীন নির্যাতন। এই সময় প্রত্যেক মুহূর্ত যে কত দীর্ঘ মনে হয়, কতটা উদ্বেগের থাকে, তা কোনোভাবে বর্ণনা করা কঠিন। বিএনপির হাইকমান্ড ও মহাসচিবও এই নির্যাতনের কথা বিভিন্ন সময়ে উল্লেখ করেছেন। আমি আর এই ঘটনা বিস্তারিত বলতে চাই না। আমি তো বেঁচে আছি, কিন্তু আমাদের অসংখ্য সহযোদ্ধা জীবন দিয়েছেন। আমার একটাই চাওয়া থাকবে, এমন উদাহরণ যেন বাংলাদেশে আর সৃষ্টি না হয়।
এশিয়া পোস্ট: জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আপনিও সক্রিয় ছিলেন। তখনকার এমন কোনো ঘটনা কি এখনো আপনাকে তাড়িয়ে বেড়ায়?
আমান উল্লাহ আমান: জুলাই আন্দোলনের সবচেয়ে ভয়াবহ সময় ছিল ৪ আগস্ট। সেদিন যাত্রাবাড়ী থানার বিপরীতে একটি বিল্ডিংয়ে আমি আটকা পড়েছিলাম। চারদিকে তখন নির্বিচারে গুলি চলছিল। প্রতিটি মুহূর্ত ছিল মৃত্যুর কাছাকছি। ভোররাতে যখন বিল্ডিং থেকে নামছিলাম, তখন সিঁড়িতে তিনটি লাশ পড়ে থাকতে দেখেছি। আমি জুতা খুলে সেই রক্তের ওপর দিয়ে পা টিপে টিপে নেমেছিলাম যাতে পিছলে না যাই। পুলিশ যদি বিল্ডিংটি সার্চ করত, তবে আমার আর ফেরার সুযোগ ছিল না। সেদিন ফোনের সব ডাটা ডিলিট করে সিম ফেলে দিয়েছিলাম এবং এক বন্ধুকে ফোন করে বলেছিলাম যে, হয়তো আর দেখা হবে না। জুলাই আন্দোলনের সেই ভয়াবহতা ক্যামেরা বা ছবিতে যা দেখা যায়, বাস্তব ছিল তার চেয়েও কয়েকগুণ বেশি।
এশিয়া পোস্ট: রাজনৈতিক জীবনে এখন পর্যন্ত আপনার সবচেয়ে ভালো লাগার মুহূর্ত কোনটি?
আমান উল্লাহ আমান: সত্যি বলতে, আমার কাছে সবচেয়ে খুশির দিন হচ্ছে ২৫ ডিসেম্বর, যেদিন তারেক রহমান বাংলাদেশে ফিরেছেন। আমরা প্রথম বর্ষ থেকেই স্লোগান দিতাম, ‘তারেক রহমান বীরের বেশে আসবে ফিরে বাংলাদেশে’। অনেক চড়াই-উতরাই ও আওয়ামী লীগ আমলের একের পর এক নির্বাচনের পর যখন অনেকে আশা হারিয়ে ফেলেছিল, তখনও তারেক রহমান আমাদের অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। উনার ফিরে আসার প্রতিটি মুহূর্ত আমরা টেলিভিশনে অনুসরণ করছিলাম। উনি যখন বিমানবন্দরে ল্যান্ড করলেন, আমি আবেগ ধরে রাখতে না পেরে কাঁদছিলাম। আমার রাজনৈতিক জীবনে ছাত্রদলের পদ পাওয়া বা অন্য যে কোনো অর্জনের চেয়ে এ দিনটিই সবচেয়ে আনন্দের।
এশিয়া পোস্ট: রাজনীতিতে না এলে কী করতেন?
আমান উল্লাহ আমান: নিয়তি কখন কাকে কোথায় নিয়ে যায় তা কেউ জানে না। আমরা মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান, তাই নির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা নিয়ে বড় হইনি। তবে আমি বিশ্বাস করি, প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে রাজনৈতিকভাবে সচেতন হতে হবে। কারণ আপনার সবকিছুই রাজনীতি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। আপনি যদি ভালো মানুষ হিসেবে রাজনীতি থেকে দূরে থাকেন, তবে আবর্জনা সরবে না।
এশিয়া পোস্ট: ৫ আগস্টের আগে আন্দোলনে সব ছাত্র সংগঠনের ঐক্যবদ্ধ অংশগ্রহণ আমরা দেখেছি। কিন্তু আন্দোলন সফল হওয়ার পর ছাত্র নেতৃত্বের মধ্যে কেন বিভেদ তৈরি হলো?
আমান উল্লাহ আমান: এই বিভেদটি একটি পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তৈরি করেছে। যারা অন্যের সমালোচনা সহ্য করতে পারে না, তারাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘বট আইডি’ ব্যবহার করে চরিত্র হনন ও গালিগালাজ শুরু করেছে। আমাদের বোনরাও সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন। আমরা ক্ষমতায় আসায় সুযোগ থাকা সত্ত্বেও কাউকে বকাঝকা করিনি। যারা ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তি, তাদের সঙ্গে আমরা সবসময় ঐক্যবদ্ধ থাকতে চাই। তবে ‘মবক্রেসি’ বা ক্যাম্পাসে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করার প্রচেষ্টাকে আমরা শক্ত হাতে রুখব।
এশিয়া পোস্ট: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশিরভাগ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রদলের প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছেন। এ নিয়ে আপনার মূল্যায়ন এবং এ পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে আগামীতে ছাত্রদলের কী করণীয় তা জানতে চাই।
আমান উল্লাহ আমান: কিছু ছাত্র সংসদে আমরা হেরেছি কারণ সেখানে প্রতিপক্ষ প্রচুর অর্থ খরচ করেছে এবং নানা অপকৌশল অবলম্বন করেছে। আমরা আমাদের ঘাটতিগুলো বিশ্লেষণ করছি। আমরা ৩১টি কলেজে গিয়ে সরাসরি শিক্ষার্থীদের কাছে জানতে চেয়েছি তারা কেমন রাজনীতি চায়। ক্যাম্পাসে ট্যাগিং বা সাইবার বুলিংয়ের মতো বিষয়গুলো নিয়ে আমরা কাজ করছি। ইনশাআল্লাহ, সামনে ছাত্রদলের গণজোয়ার তৈরি হবে এবং আমরা শিক্ষার্থীদের আস্থা অর্জন করব।
এশিয়া পোস্ট: ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্বের বয়স এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন সময় অনেক প্রশ্ন উঠেছে। এ নিয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ কী?
আমান উল্লাহ আমান: এই প্রশ্ন তোলা খুবই দুঃখজনক। ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি মাস্টার্স শেষ করেছেন অনেক বছর আগে, কিন্তু কেউ তাকে প্রশ্ন করে না। আমি নিজে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমফিলের ছাত্র। ছাত্রদল একটি বিশাল সংগঠন, যেখানে একজন নিয়মিত শিক্ষার্থীর পক্ষে কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্ব পালন করা সবসময় বাস্তবসম্মত হয় না। ছাত্রলীগের কমিটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত হয় না। ছাত্রশিবিরের কমিটিতে কে সভাপতি-সেক্রেটারি হবে, আগে থেকেই বোঝা যায়। আর ছাত্রদলের নেতৃত্ব সবসময় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বা প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়। যারা ঢালাওভাবে আমাদের নিয়ে সমালোচনা করেন, তারা আসলে আমাদের ওপর হওয়া ১৭ বছরের জুলুমের সঙ্গে তামাশা করেন।
এশিয়া পোস্ট: আগামী দশ বছরে ছাত্রদলকে আপনি কোথায় দেখতে চান?
আমান উল্লাহ আমান: ছাত্রদল হবে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর। বাইক নিয়ে মহড়া দেওয়া বা প্রভাব বিস্তারের রাজনীতি বাংলাদেশে আর থাকবে না। ছাত্রদলের নেতাকর্মী এবং সাধারণ শিক্ষার্থীর মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকবে না। আমরা ইতিবাচক কাজের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব দিব এবং দেশ গড়ায় অংশ নেব।
এশিয়া পোস্ট: আগামী দিনের রাজনীতিতে তারুণ্যের সম্ভাবনা কেমন দেখছেন?
আমান উল্লাহ আমান: ৫ আগস্টের আগে বলা হতো, তরুণরা ফেসবুক নির্ভর, এদের কোনো দেশপ্রেম নেই ইত্যাদি। অথচ সেই প্রজন্মই দেশের প্রেক্ষাপট পরিবর্তনে নেতৃত্ব দিয়েছে। এই প্রজন্ম ইতিহাসের অন্যতম সচেতন প্রজন্ম। তারা জানে কার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হয়। তারা একটি বীরের প্রজন্ম। এই প্রজন্মের ভোটেই বিএনপি সরকার গঠন করেছে। তারা বিএনপি ও ছাত্রদলের আচরণে সন্তুষ্ট।
এশিয়া পোস্ট: এখন থেকে দশ বছর পর নিজেকে কোন অবস্থানে দেখতে চান?
আমান উল্লাহ আমান: আমি সময় ও নিয়তিতে বিশ্বাসী। আমার চাওয়া বড় কোনো পদ বা মন্ত্রিত্ব নয়। আমি ছাত্রদল থেকে বিদায় নেওয়ার পর যেন ছাত্ররা আমাকে স্মরণ করে, আমার গুণাবলি মনে করে। নয়তো আমার মানবজনম তো বৃথা। দীর্ঘ ১৭ বছর পর গণতন্ত্রের যে পথ চলা শুরু হয়েছে, সেখানে ফ্যাসিবাদ যাতে আর পুনর্বাসিত না হয়, সে বিষয়ে আমাদের সজাগ থাকতে হবে।
এশিয়া পোস্ট: সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
আমান উল্লাহ আমান: এশিয়া পোস্টকেও ধন্যবাদ।