জামায়াত প্রতি আসনে ৫০-৬০ কোটি টাকা খরচ করেছে

তারুণ্যনির্ভর নতুন বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামের সুপরিচিত মুখ মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন। ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের আলোচিত সংগঠক। বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ-৪ আসন থেকে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এর আগে গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন রাশেদ খাঁন। ২০১৮ সালে যে কোটা সংস্কার আন্দোলন শুরু হয়েছিল, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তা রাষ্ট্রসংস্কার আন্দোলনে পরিণতি পায়। তিনি কথা বলেছেন সদ্য অনুষ্ঠিত নির্বাচন, গণভোট, রাজনীতি ও নিজের পথচলা নিয়ে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আবিদ আজম।
এশিয়া পোস্ট: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনি ঝিনাইদহ-৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী ছিলেন। ফলাফল আশানুরূপ হলো না কেন?
মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন: আমি ঝিনাইদহ-৪ আসন থেকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ছিলাম। প্রকৃতপক্ষে আমার প্রস্তুতি ছিল ঝিনাইদহ-২ আসনের জন্য। পরবর্তীতে দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমি ঝিনাইদহ-৪-এ নির্বাচন করি। সেখানে আমি সময় খুব কম পেয়েছি। মূলত মাঠপর্যায়ে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি মাত্র ৭ থেকে ১০ দিন।
ঝিনাইদহ বিএনপির তিনটি গ্রুপ ছিল। একটি গ্রুপের নেতা বিদ্রোহী প্রার্থী হন। আরেকটি গ্রুপের নেতাকে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ডেকে বলেছিলেন, ‘রাশেদ খানকে কীভাবে পাস করিয়ে আনা যায়, কাজ করেন।’ এলাকার একজন সাবেক এমপির স্ত্রী তারেক রহমানকে কথা দিয়েছিলেন যে, আমার সঙ্গে কাজ করবেন। কিন্তু এলাকায় ফিরে গিয়ে আমাকে হারানোর জন্য তিনি বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন। অর্থাৎ তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বেইমানি করেছেন। তৃতীয় গ্রুপের নেতা আমার সঙ্গে কাজ করেছেন। তবে সব মিলিয়ে নির্বাচনের পরিবেশ আমার অনুকূলে ছিল না।
বিদ্রোহী প্রার্থী ও জামায়াতের প্রার্থী ভোট কেনা শুরু করেছিল। জামায়াতের প্রার্থী যেদিকে তাকাবেন সেদিকে কেবল তার ফেস্টুন। তিনি হলফনামায় ২৫ লাখ টাকা খরচ দেখিয়েছেন, কিন্তু আমার কাছে মনে হয়েছে শুধু ব্যানার-ফেস্টুনের জন্যই তিনি ৫ থেকে ৬ কোটি টাকা খরচ করেছেন।
জামায়াতে ইসলামের নারী নেত্রীরা গ্রামের মহিলাদের নিয়ে তালিম করেছেন। খিচুড়ি রান্না করে খাইয়েছেন এবং বিএনপি সম্পর্কে নেতিবাচক তথ্য দিয়েছেন। ইসলামকে ব্যবহার করে বলেছেন—বিএনপি চুরি করে, ধর্ষণ করে, অপরাধ করে, এমন দলের সঙ্গে থাকলে জাহান্নামে যাবে। আমাদের সঙ্গে থাকলে জান্নাতে যাবে। কোরআন-হাদিসের আয়াত সামনে এনে মানুষের মাথা ধুয়ে দিয়েছে। এভাবে আমার এলাকার নারী ভোটাররা বিভ্রান্ত হয়েছেন।
আমার মনে হয়, জামায়াত গড়ে প্রতি আসনে ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। কালোটাকা ছড়ানোর ব্যাপারে দল হিসেবে মার্কিং করা হলে জামায়াত এক নম্বরে থাকবে।
আমি তবুও ৫৬ হাজার ২২৪ ভোট পেয়েছি। মাত্র ৭ থেকে ১০ দিনের প্রস্তুতিতে এবং এত অসহযোগিতার মধ্যে এর বেশি কী করা যায়? প্রচারণার শেষ ৭ দিন আমি প্রতিদিন ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা হেঁটেছি। হাঁটতে হাঁটতে পা ফেটে গেছে, স্যান্ডেলে আঘাত লেগে কেটেও গেছে। তবু হাঁটা থামাইনি। মাঝেমধ্যে এমন হয়েছে, কোথাও বসলে সেখানে ঘুমিয়ে পড়েছি। আমার কাছে মনে হয়, আমি হারিনি, আমাকে হারানো হয়েছে।
এশিয়া পোস্ট: আপনার আসনে এবং জাতীয়ভাবে নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু হয়েছে বলে মনে করেন?
মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন: অতীতে যত নির্বাচন হয়েছে, তার চেয়ে এবারের নির্বাচন মোটামুটি ভালো হয়েছে। তবে দুঃখজনক ঘটনা হলো, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিদায় নিয়েছেন এবং তারেক রহমান ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফিরেছেন। এই অবস্থায় প্রায় ৮০টি আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী ছিল। এটা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। ১৭ বছর বিএনপি ক্ষমতায় নেই, এবার এমপি না হলে আর কখনও হতে পারব না— এই মনোভাব থেকে এত আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড়িয়েছেন।
আমার আসনের বিদ্রোহী প্রার্থীকে দুবার ডেকেছেন তারেক রহমান। কিন্তু তিনি আসেননি, তারেক রহমানকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। আমার জীবনের বড় পাওয়া হলো, তিনি তারেক রহমানকে চ্যালেঞ্জ করেও জিততে পারেননি।
এশিয়া পোস্ট: গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পদ ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেওয়া এবং নির্বাচনে পরাজিত হওয়ায় আপনার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার কি চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠল না?
মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন: ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের মাধ্যমে মানুষ আমাকে চেনে। এর আগে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাধারণ শিক্ষার্থী ছিলাম। আমার স্বপ্ন ছিল বিসিএস ক্যাডার হব। কিন্তু দেখলাম আমার দুজন রুমমেট কোটার কারণে চাকরি পাচ্ছে না, তখন মনে হলো আন্দোলনে যেতে হবে।
কোটা সংস্কার আন্দোলন আমি একা শুরু করিনি, সে সময়ের কিছু সহযোদ্ধারা শুরু করেছিলেন। আমি গিয়ে দেখলাম কেউ স্লোগান দিতে বা বক্তব্য দিতে চায় না। সে কারণে আমি স্লোগান দিতে শুরু করলাম। ২০১৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে সেই স্লোগান এখনও থামেনি, এখনও রাজপথেই আছি।
কোটা আন্দোলনের সময় নেতৃত্ব দিতে গিয়ে আমার হাতে দুটি অপশন ছিল—এক. আন্দোলনের নেতৃত্ব ছেড়ে এমবিএ ফাইনাল সেমিস্টার পরীক্ষায় অংশ নেওয়া। দুই. পরীক্ষা বাদ দিয়ে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া। আমি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বেইমানি করতে চাইনি। তাই ফাইনাল সেমিস্টার পরীক্ষা দিইনি।
২০১৮ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলনের শুরুতে মূল নেতৃত্বের জায়গায় আমি ছিলাম। আমি যখন গ্রেপ্তার হই, তখন নুরুল হক নুরের নেতৃত্বে কোটা সংস্কার আন্দোলন পরিচালিত হয়। এরপর জেল থেকে বের হয়ে আমরা সম্মিলিতভাবে নেতৃত্ব দিয়েছি।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় আমি বিএনপিকে প্রস্তাব দিই যে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে শুধু কোটা সংস্কারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে রাষ্ট্রসংস্কার আন্দোলনে কীভাবে পরিণত করা যায়, সে জন্য কাজ করতে হবে। আমি বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে বলেছিলাম যে, তারেক রহমানকে আমার কথা বলেন। তখন সালাহউদ্দিন আহমদ প্রস্তাবটি দিয়েছিলেন। তারেক রহমান জানিয়েছিলেন, ঠিক আছে, তাহলে রাশেদ ও নুরুল হক নুরের সঙ্গে আপনি কাজ করেন।
আর এমপি না হলে কাজ করা যাবে না—আমি এটা মনে করি না। আমি জনগণের জন্য সংগ্রাম করেছি এবং লড়াইটা করে গেছি। আমি কোনো পদে না থেকেও কাজ করতে পারি।
এশিয়া পোস্ট: গণঅধিকার পরিষদ থেকে পদত্যাগের সময় আপনি সবার কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। দল পরিবর্তন করায় গণঅধিকার পরিষদ ক্ষতির মুখে পড়ল কি না? দলটিতে ফেরার ইচ্ছা আছে?
মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন: আমি গণঅধিকার পরিষদের সবার সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেছি। আমি কোনো অপরাধ করিনি, তাই ক্ষমা চাইনি। কেউ কষ্ট পেলে আমাকে ক্ষমা করবেন এ ধরনের আন্তরিক বক্তব্য হয়তো দিয়েছি। এটা সৌজন্যতা ও আন্তরিকতা মাত্র।
গণঅধিকার পরিষদ আমার ও আমার সহযোদ্ধাদের হাতে গড়া দল। ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনে যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন তারাই এই দল তৈরি করেছেন। এই দলের ব্যাকগ্রাউন্ড আছে, ভবিষ্যৎ আছে। নুরুল হক নুর প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন, ভবিষ্যতে আরও নেতা এখান থেকে তৈরি হবেন।
যেহেতু বিএনপিতে যোগ দিয়ে নির্বাচনে পরাজিত হয়েছি, এই মুহূর্তে আবার গণঅধিকার পরিষদে ফিরে এলে অনেকে নানা কটু কথা বলবে। বারবার দল পরিবর্তন করা ঠিক হবে না। আমি যেখানেই থাকি, দেশের জন্য কাজ করতে পারব।
এশিয়া পোস্ট: বিএনপিতে আপনার এখন পদবি কী?
মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন: আমি প্রথমে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হয়ে নির্বাচন করেছি। কেন্দ্রীয় বা অন্য কোনো সাংগঠনিক পদ নিয়ে এখনও আলোচনা হয়নি। পরবর্তী সময়ে দল নিশ্চয়ই নির্ধারণ করবে।
এশিয়া পোস্ট: কোটাবিরোধী আন্দোলনের সময় অভিযোগ উঠেছিল যে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের আহ্বায়ককে সাইড করে দেওয়া হয়েছে। আপনার মন্তব্য কী?
মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন: আমার কাছে মনে হয় আপনি খুব পেছনে ফিরে যাচ্ছেন। আমরা সামনে এগিয়ে যেতে চাই। যেটি বললেন, সেটি সত্য না। সে সময় আমি বেশি আন্দোলন গোছানোর কাজ করেছি, মিটিং আয়োজন করা ইত্যাদি। কে কোন পদে আছে, সেটা ওই সময় দেখার বিষয় ছিল না। যে আহ্বায়কের কথা বলছেন, হাসান আল মামুন, তিনি এখন গণঅধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক। আমার সঙ্গে তার খুব ভালো সম্পর্ক। একসঙ্গে দীর্ঘ সময় রাজনীতি করেছি। ওই ধরনের ঘটনা ঘটলে একসঙ্গে চলার সুযোগ থাকত না।
এশিয়া পোস্ট : গণভোটে বিপুল ব্যবধানে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়েছে এবং বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়াকে বিরোধীপক্ষ গণবিরোধী বলে অভিযোগ করছে। শপথ না নেওয়ার ব্যাপারে বিএনপির যুক্তি কতটা সংগত?
মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন: বাংলাদেশে কি সংবিধান নেই? থাকলে তো তা মানতে হবে। নাহিদ ইসলাম সাহেবরা, ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্যার—তারা তো সংবিধান মেনেই বর্তমান রাষ্ট্রপতির হাতে শপথ নিয়েছেন। শপথ নেওয়ার পরে যদি বলেন এই সংবিধান মানি না, এই রাষ্ট্রপতিকে মানি না—তাহলে মেনে নিয়ে আবার অমান্য করা যায়? ভুলটা করেছে এনসিপি এবং অন্তর্বর্তী সরকার। এই ভুলের খেসারত বিএনপি কেন দেবে?
সংবিধান স্থগিত করা বা বাতিল করার ক্ষমতা তখন গণঅভ্যুত্থানের নায়কদের হাতে ছিল। কিন্তু আর্মি ক্ষমতা দখল করে নেওয়ার ভয়ে তারা তাড়াহুড়ো করে সংবিধান মেনে রাষ্ট্রপতির হাতে শপথ নিলেন। তাহলে এই দোষ বিএনপিকে কেন দেবেন? ওই সময় বিএনপি ক্ষমতাহীন ছিল, করার কিছু ছিল না।
ঐকমত্য কমিশনের নয় মাসের আলোচনায় বিএনপি কি কখনও বলেছে যে, সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদের শপথ নেবে? কেউ দেখাতে পারবে না। যারা শপথ নিতে চেয়েছে, জামায়াত বা এনসিপি নিয়েছে। এই স্বাধীনতা বিএনপিরও আছে।
কথা হলো, সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ নিয়ে সংসদে আলোচনা হবে। সংবিধানের কোথায় পরিবর্তন লাগবে, কতটুকু লাগবে, কী বাদ দিতে হবে—আলোচনা হবে। আলোচনার পরে যদি মনে করেন আবার গণভোট দরকার, সেটাও করতে পারেন। এটাই সাংবিধানিক পদ্ধতি।
ঐকমত্য কমিশনে শুধু রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব ছিল। সেখানে জনগণের রিপ্রেজেন্টেশন ছিল না। সাংবাদিক, পেশাজীবী, শিক্ষক, শহীদ পরিবার—কেউ ছিল না। সুতরাং ঐকমত্য কমিশন সর্বজনীন কোনো জায়গা ছিল না। সর্বজনীন জায়গাটা হলো জাতীয় সংসদ, সেখানে দ্বিতীয়বার আলোচনা হতে হবে।
এশিয়া পোস্ট : বেগম খালেদা জিয়া একসময় বলেছেন, ‘বাহাত্তরের ফ্যাসিবাদী সংবিধান ছুড়ে ফেলব।’ আর এখন বিএনপি সংবিধান রক্ষার কথা বলছে—এটা কি সাংঘর্ষিক নয়?
মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন: সংবিধান ছুড়ে ফেলবেন—ফেলতেই পারেন। এই স্বাধীনতা আপনার আছে। দেশনেত্রী বেগম জিয়া ওই সময়কার বাস্তবতায় বক্তব্য রেখেছেন, যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে বাংলাদেশকে অনিশ্চয়তার দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।
সংবিধান ছুড়ে ফেলা মানে আওয়ামী লীগ সরকার সংবিধানে যেসব বিষয় একতরফাভাবে সংযোজন ও বিয়োজন করেছে, সেগুলো বাদ দিতে হবে এবং বিএনপি সেগুলো বাদ দেবে। কিন্তু এই ছুড়ে ফেলা একটি রূপক শব্দ। এর মানে এই নয় যে, জামায়াতের নেতারা যেমন টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে সংবিধান ছুড়ে ফেলছেন—ভাইরাল হওয়ার জন্য। সেটা কোনো লাভের কাজ না।
সংবিধানের যেসব বিষয় খারাপ মনে করেন সেগুলো কোথায় ছুড়ে ফেলতে হবে? জাতীয় সংসদে। সেখানে আলোচনা করেন যে, এই বিষয়টি অবৈধভাবে যুক্ত করা হয়েছে জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়া এটা বাদ দিতে হবে।
এশিয়া পোস্ট: গণভোটের ‘হ্যাঁ’ ফলাফল পরিপূর্ণভাবে কার্যকর করার জন্য কি সংসদে বসে সিদ্ধান্ত নিতে হবে?
মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন: আপনি গণভোট যেটা পরে করতেন সেটা আগে করেছেন, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়েছেন যে, জাতীয় সংসদে সংস্কার করবেন। এখন আলোচনা করেন সংসদে। সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদের শপথ পরেও নেওয়া যাবে—এমন না যে এখনই নিতে হবে, না দিলে হবে না।
সংসদের অধিবেশন শুরু হোক, আলোচনা হোক। অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই কেন বলছেন শপথ নিয়ে নেন? কার হাতে শপথ নেবে? এটা কি সংবিধানে বা কোনো আইনে লেখা আছে? নেই। জাতীয় সংসদ আইন তৈরির জায়গা, সেখানে গিয়ে আইন তৈরি করেন। আইন বাইরে তৈরি করলে হবে না।
এশিয়া পোস্ট: বিএনপি ক্ষমতায় আসার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগের অফিস খুলে দেওয়া হচ্ছে। কোনো সমঝোতা হয়েছে বলে কি আপনার মনে হয়?
মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন: কার সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে? আওয়ামী লীগের তো কার্যক্রম রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ। আমি যেটা এলাকায় দেখেছি, জামায়াতের সঙ্গে আওয়ামী লীগের এক ধরনের ন্যারেটিভ তৈরি হয়েছিল—বিএনপি ক্ষমতায় গেলে আওয়ামী লীগের ওপর অত্যাচার হবে, জামায়াত গেলে হবে না। আরেকটা ন্যারেটিভ ছিল—জামায়াত ক্ষমতায় গেলে আওয়ামী লীগের লোকজন ভালো থাকবে। প্রশাসনে জামায়াতের লোকজন থাকায় তারা ফোন দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের সরে পড়তে বলত।
ভোটের রাজনীতিতে বিএনপি আওয়ামী লীগের প্রতি নীরব ভূমিকায় ছিল—পক্ষেও না, বিপক্ষেও না। এর সঙ্গে বিএনপির কোনো হাত নেই।
আমার ব্যক্তিগত অভিমত হলো, যারা আওয়ামী লীগের মধ্যে অপরাধ করেছে তাদের বিচার করেন, যারা অপরাধ করেনি তাদের সঙ্গে রিকনসিলেশনের ব্যবস্থা করেন। এত বড় একটি দলকে আন্ডারগ্রাউন্ডে পাঠিয়ে দিলে দেশের জন্য ভালো হবে না। আন্ডারগ্রাউন্ড পার্টি নানা অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ে।
একটি ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলেশন কমিটি গঠন করে যারা অপরাধ করেনি তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা উচিত। পুরো সেটআপকে এক কাতারে ফেলে দিলে দেশের ক্ষতি হবে।
এশিয়া পোস্ট: জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ১ হাজার ৪০০ ছাত্র-জনতা হত্যার হুকুমের আসামি শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব কি না?
মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন: শেখ হাসিনা তার জীবদ্দশায় বাংলাদেশে আর ফিরবেন বলে আমার মনে হয় না। ভারতের সঙ্গে আওয়ামী লীগের যে সম্পর্ক ছিল, সেই সম্পর্কের জায়গা থেকে তাকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। শেখ হাসিনা নিজেই বলেছেন, ‘ভারতকে যা দিয়েছি আজীবন মনে রাখবে।’ ভারত আশ্রয় দিয়ে সেটি মনে রেখেছে। বন্দি বিনিময় চুক্তির কথা সরকার বলেছে। কিন্তু আমার মনে হয় না ভারত শেখ হাসিনাকে ফেরত দেবে।
একটি রাজনৈতিক সরকারের পক্ষে এত বড় একটি রাষ্ট্রকে অখুশি করে তাকে চ্যালেঞ্জ করে রাষ্ট্র পরিচালনা করা খুব কঠিন হবে। কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের হিসাব-নিকাশ আছে। এটা কঠিন পর্যায়ে চলে গেছে।
এশিয়া পোস্ট: দেশে বা বিদেশে থাকা গণহত্যার অন্য আসামিদের বিচারে সংশয় আছে কি না?
মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন: যারা আমেরিকা-ইউরোপে চলে গেছেন এবং অ্যাসাইলাম নিয়েছেন, তাদের ফেরত আনা খুব কঠিন। অভ্যুত্থানের পরপরই তারা যাতে দেশের বাইরে যেতে না পারতেন, সে ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া গেলে ভালো হতো—কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি। এখন তাদের ফিরিয়ে আনা খুব কঠিন।
এশিয়া পোস্ট: নির্বাচিত সরকারের কাছে মানুষের প্রত্যাশা বেশি নয় কি?
মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন: প্রত্যাশা বেশি, কিন্তু প্রক্রিয়া তো শুরু করা দরকার ছিল। ফেরত আনার প্রক্রিয়াটা অন্তর্বর্তী সরকার শুরু করেনি। ১৮ মাস ক্ষমতায় থেকে প্রশাসনকে একধরনের জামায়াতিকরণ করা হয়েছে। এখন সবকিছু নির্বাচিত সরকারের হাতে দিলে তো তারা সব দায় নিতে পারে না।
এখন সম্মিলিতভাবে চেষ্টা করতে হবে। শুধু সরকার চেষ্টা করলে হবে না, বিরোধী দলসহ সবাই মিলে চেষ্টা করলে হয়তো ফেরত আনা যাবে। কিন্তু বাস্তবসম্মতভাবে বলতে হবে, এটা খুব কঠিন।
এশিয়া পোস্ট: রাষ্ট্রপতি বলেছেন বিএনপি তাকে স্বপদে রাখায় বড় ভূমিকা রেখেছে। রাষ্ট্রপতি কি বিএনপির করুণা চাইছেন?
মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন: গণঅভ্যুত্থানের পরে স্বাভাবিকভাবে বর্তমান রাষ্ট্রপতির থাকার সুযোগ ছিল না। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার হাতেই শপথ নিয়ে তাকে রেখে দিলেন। গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখযোদ্ধা নাহিদ ইসলামরাও শপথ নিয়ে তাকে সেখানে রেখে দিলেন। পরে বিতর্ক সৃষ্টি হলে সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম গিয়ে বঙ্গবন্ধুর ছবি নামিয়ে ফেললেন। শুরুতে যে ভুল করলেন তার খেসারত দুই মাস-এক বছর পরে দিতে চাইলেন—সেটা সম্ভব হয়নি।
বিএনপি সংবিধান মেনে, আইন-কানুন মেনে রাষ্ট্রকে স্থিতিশীল রাখতে চেয়েছে। অন্যথায় নির্বাচনটা হতো না। রাষ্ট্র অস্থির হয়ে গেলে নির্বাচন হতো না। অন্তর্বর্তী সরকার যাকে রেখে দিয়েছে তাকে সরানোর খেসারত বিএনপি দিতে পারে না। বিএনপি সবসময় সচেতন ছিল যাতে আরেকটি একাদশ সৃষ্টি না হয়, আরেকটি ফখরুদ্দীন-মইনুদ্দীনের হাতে রাষ্ট্র না যায়।
এশিয়া পোস্ট: ২০১৮ সালের কোটা আন্দোলন কেন পরিণতির দিকে যায়নি, কিন্তু ২০২৪-এর আন্দোলন সফল হলো?
মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন: ২০১৮ সালেরটা ছিল সামাজিক আন্দোলন, ২০২৪ সালে সেটা গণঅভ্যুত্থানে রূপ নিল। কারণ, ১৮ সালে দাবি মেনে নিয়েছিল, ২৪ সালে মানেনি—বরং কোটা আবার ফিরিয়ে আনা হয়।
১৮ সালে আবু সাঈদরা হত্যাকাণ্ডের শিকার হননি, সবাই মাঠে নামেনি। ১৮ থেকে ২৪-এর মধ্যে অনেক ঘটনা ঘটেছে—আবরার ফাহাদকে হত্যা করা হয়েছে, ডামি নির্বাচন হয়েছে, গুম-খুন-নিপীড়ন হয়েছে। মানুষ ক্ষুব্ধ হয়েছে। ১৮ সালে চাইলেও মানুষকে এভাবে মাঠে পাওয়া যেত না। ২৪ সালে একটা পরিপক্ব মাঠ পাওয়া গেছে।
আন্দোলন তো এক মাস বা ছয় মাসে হয় না। ১৭ বছরের ধারাবাহিক লড়াইয়ের পরিণতি লাভ করেছে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে। এটা সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল, এককভাবে কেউ করেনি।
এশিয়া পোস্ট: বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ তখন শিলংয়ে অবরুদ্ধ ছিলেন। তার সঙ্গে কীভাবে যোগাযোগ করলেন?
মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন: প্রথমে নুরুল হক নুরের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। একদিন তিনি বললেন, ‘তোমার বিশ্বস্ত কারও নম্বর আমাকে দাও, যে কোনো সময় তুমি গ্রেপ্তার হতে পার।’ তখন নুরুল হক নুর আমার নম্বর সালাহউদ্দিন আহমদকে দেয় এবং তার নম্বর আমাকে দেয়।
এরপর মূলত ২৮ অক্টোবর ২০২৩ সালে যখন আন্দোলনটা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেল, তখন থেকে তার সঙ্গে আমার নিয়মিত যোগাযোগ। তিনি সবসময় বলতেন—রাশেদ, তরুণরাই নেতৃত্ব দেয়, তোমাদের কিছু একটা করতে হবে। প্রায় প্রতি রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আলোচনা হতো।
কোটা সংস্কার আন্দোলন ২০২৪ শুরু হলে একদিন আমি বলেছিলাম, ভাই, দমন-পীড়ন শুরু হয়েছে, আমরা কি সফল হব? তিনি বলেছিলেন, ‘ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যদি সফল হই, তাহলে ছাত্র-জনতাকে উৎসাহ দেবে, সাহস দেবে।’
এশিয়া পোস্ট: আপনি একবার বলেছেন, ‘জুলাইয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে আন্দোলন করেছেন।’ একটি পৃথক দলে থেকে এর সমন্বয় কীভাবে হয়েছে
মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন: ২০২২ সাল থেকে বিএনপির সঙ্গে আমরা যুগপৎ আন্দোলন শুরু করি। আমি যে বক্তব্য দিয়েছিলাম তা হলো—তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা ‘যুগপৎ’ আন্দোলন করেছি। কিছু মিডিয়া এটা মিসকোট করেছিল।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় যে রাজনৈতিক দলগুলো ছাত্র-জনতার সঙ্গে মাঠে নেমেছে—সেই যুগপৎ আন্দোলনের নেতৃত্ব তারেক রহমান দিয়েছেন। কিন্তু গণঅভ্যুত্থান ছিল সর্বজনীন নেতৃত্বের আন্দোলন। এককভাবে বিএনপি নেতৃত্ব দেয়নি, ছাত্ররাও একা নেতৃত্ব দেয়নি, জামায়াতও একা নেতৃত্ব দেয়নি।
মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের নেতৃত্বে নেমেছে, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষকদের নেতৃত্বে নেমেছে, পরিবার থেকে মা-বাবার নেতৃত্বে সন্তান নেমেছে। মোহাম্মদপুরে লুঙ্গি পরা রিকশাচালক পুলিশের দিকে ঢিল ছুড়েছে। গ্যারেজ থেকে ২০ জন রিকশাচালক একজনের নেতৃত্বে বেরিয়ে এসেছে। এটাই ছিল স্বতঃস্ফূর্ত সর্বজনীন গণঅভ্যুত্থান।
এশিয়া পোস্ট: রাজনৈতিক জীবনে সবচেয়ে সংকটময় মুহূর্ত কোনটি ছিল?
মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন: ২০১৮ সালের ১ জুলাই আমি গ্রেপ্তার হই। সাইবার ক্রাইম ইউনিটে নিয়ে যাওয়ার পর এডিসি ইশতিয়াক আহমেদ—যিনি এখন গ্রেপ্তার আছেন—চেয়ার থেকে উঠে এসে আমার বিশেষ স্থানে আঘাত করেন। এরপর কিল, থাপ্পড়, ঘুসি মারতে থাকেন। আমার হাত, মুখ, চোখবেঁধে ইচ্ছামতো মারা হয়। ৩০ মিনিট ধরে একটানা মার খেয়েছি। আমার একটি আঙুল ফেটে মেঝেতে রক্ত পড়ে। একসময় দাঁড়াতেই পারছিলাম না। মাংসে রক্ত জমাট বেঁধে গিয়েছিল। কারাগারে এক মাস ২১ দিন কোনো চিকিৎসা পাইনি। জেল থেকে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসা নিয়েছিলাম। এডিসি ইশতিয়াক আহমেদের চেহারা আমার চোখের সামনে সবসময় ভাসে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক বন্ধুর নাম ভুলে গেছি, কিন্তু তার নাম কখনও ভুলিনি। পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার নামে মামলা দিয়েছি।
দ্বিতীয় সংকটময় ঘটনা—আমাকে দুইবার গুম করার চেষ্টা করা হয়েছিল। মেজর জেনারেল ইব্রাহিমের বাসায় একজন কর্নেল শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে ২০২৪ সালের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। আমি প্রত্যাখ্যান করেছিলাম। সে কারণে দুইবার গুম করার চেষ্টা হয়েছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় নুরুল হক নুর গ্রেপ্তারের পর আমার বাসায় দুইবার অভিযান চালানো হয়। আমি একটি নিরাপদ আশ্রয়ে থেকে প্রায় ১৫ দিন কাটাই। ওই দিনগুলো ছিল বিভীষিকাময়। একদিন ৩ আগস্ট আমার ছেলে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়, কিন্তু বাবা হিসেবে আমি সঙ্গে সঙ্গে যেতে পারিনি। পরে মাস্ক ও ক্যাপ পরে পালিয়ে দেখতে গিয়েছিলাম। আরেক দিন স্যালুনে যাওয়ার পর ফেরার পথে আমাকে ধরার জন্য দুজন ডিবি পুলিশ এক পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। বৃষ্টি শুরু হওয়ায় তারা সেদিক দিয়ে বের হয়ে গিয়েছিল, আমি অন্য পাশ দিয়ে ঢুকেছিলাম। একটু হলেই গ্রেপ্তার হতাম।
২০২৪ সালে যখন ডামি নির্বাচনের আগে আমাদের এমপি হওয়ার প্রস্তাব দিল, তখন আমি নুরুল হক নুরকে বলেছিলাম—কোনোভাবেই নির্বাচনে যাওয়া যাবে না, তুমি একদিন মন্ত্রী হবে। আমার ভালো লাগে যে, নুরুল হক নুর প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন।
এশিয়া পোস্ট: আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন: মানুষ স্বপ্ন নিয়ে বাঁচে। একটা স্বপ্ন পূরণ না হলে আরেকটা স্বপ্ন দেখে। আমি এখন বিএনপিতে রাজনীতি করছি। বিএনপি আমার কাছে ভালো লাগে, কারণ তারেক রহমান আমাকে স্নেহ করেন, তার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়েছে। বিএনপি যেহেতু সরকারে আছে, দেশ গঠনে কাজ করার অনেক সুযোগ পাওয়া যাবে।
আমি কোনো পদে না থেকেও কাজ করতে পারি। যদি মন থাকে, আপনি যে কোনো জায়গা থেকে দেশের জন্য কাজ করতে পারেন। আর যদি মন না থাকে, বড় পদে গিয়েও কাজ করা যায় না। আমার ইচ্ছা আছে, আমি দৃঢ় বিশ্বাস করি এই ইচ্ছাশক্তি আমাকে সামনে নিয়ে যাবে।