logo

শবেবরাতেও যারা ক্ষমা পাবে না

শবেবরাতেও যারা ক্ষমা পাবে না

বরাতের রাতে আল্লাহ তাআলা মানুষের প্রতি বিশেষ রহমতের দৃষ্টি দেন। মানুষকে ক্ষমা করেন। তবে কিছু মানুষ আছে, যারা মহিমান্বিত এ রাতেও আল্লাহর ক্ষমা পায় না। আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হয়। আলি ইবনে আবু তালিব (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা শাবানের মধ্যরাতে মুশরিক (আল্লাহর সঙ্গে অংশীদার সাব্যস্তকারী) ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করেন। কাফেরদের অবকাশ দেন। বিদ্বেষ পোষণকারীদের বিদ্বেষে রেখে দেন, ব্যভিচারীদের ব্যভিচারে রেখে দেন, মদপানকারীদের মদপানে রেখে দেন, সুদখোরদের সুদে রেখে দেন এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারীদের সম্পর্ক ছিন্ন অবস্থায় রেখে দেন।’ (শুআবুল ইমান, বায়হাকি, হাদিস : ৩৫৫৬)

উল্লিখিত হাদিসে শবেবরাতেও যাদের ক্ষমা করা হয় না, তাদের কথা বলেছেন নবীজি (সা.)। এখানে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো—

মুশরিক
যারা আল্লাহর সঙ্গে অংশীদার সাব্যস্ত করে, তারা এ রাতের ক্ষমা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত। কোরআনে আছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সঙ্গে শিরক করার অপরাধ ক্ষমা করেন না। এ ছাড়া অন্যান্য অপরাধ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন।’ (সুরা নিসা, আয়াত : ৪৮)

শিরক হচ্ছে সবচেয়ে বড় পাপ এবং সবচেয়ে বড় জুলুম। কোরআনে আরও আছে, ‘নিশ্চয়ই শিরক হচ্ছে বড় জুলুম।’ (সুরা লুকমান, আয়াত : ১৩)। শিরক থেকে তওবা না করা পর্যন্ত ইবাদত গৃহীত হয় না। ক্ষমাও পাওয়া যায় না। 

হিংসুক ও বিদ্বেষ পোষণকারী
যারা অন্যের কল্যাণ দেখে হিংসা, বিদ্বেষ পোষণ এবং তাদের ক্ষতি চায়, তারা শবেবরাতের রাতে ক্ষমা পাবে না। হিংসা এমন এক মারাত্মক ব্যাধি—যা মানুষের সব নেক আমল ধ্বংস করে দেয়। 

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা হিংসা থেকে বেঁচে থাকো। কারণ হিংসা নেক আমলকে এমনভাবে খেয়ে ফেলে যেমন আগুন শুকনো লাকড়ি খেয়ে ফেলে।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ৪৯০৩)

 

ব্যভিচারী
যারা ব্যভিচারে লিপ্ত থাকে, তারা এ রাতে ক্ষমা পায় না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয়ই এটা অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ।’ (সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত : ৩২)। পবিত্র কোরআনে ব্যভিচারকে কবিরা গুনাহ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তির বিধান। 

মদপানকারী ও নেশাগ্রস্ত
যারা মদ, মাদক ও অন্যান্য নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করে, তারা শবেবরাতে ক্ষমা পাবে না। আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনগণ, নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, মূর্তিপূজার বেদি ও ভাগ্য নির্ণায়ক শর শয়তানের কাজ ছাড়া কিছু নয়। সুতরাং তোমরা এগুলো থেকে বেঁচে থাকো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।’ (সুরা মায়িদা, আয়াত : ৯০)

সুদখোর
যারা সুদের লেনদেনে জড়িত, তারা এ রাতের ক্ষমা থেকে বঞ্চিত। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সুদের যা বকেয়া আছে তা ছেড়ে দাও, যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাকো। যদি তোমরা তা না করো, তাহলে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হও।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ২৭৮-২৭৯)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সুদ সত্তরটি গুনাহের সমান এবং এর সবচেয়ে হালকা গুনাহ হলো মায়ের সঙ্গে ব্যভিচারের সমান।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২২৭৪)

আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী
যারা আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সম্পর্ক রাখে না, তাদের সঙ্গে কথা বলে না বা তাদের হক আদায় করে না, তারা এ রাতের রহমত থেকে বঞ্চিত। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা কি এ আশা রাখো যে, ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলে তোমরা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে? এরাই তারা যাদের আল্লাহ অভিসম্পাত করেছেন।’ (সুরা মুহাম্মদ, আয়াত : ২২-২৩)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৯৮৪)

অবাধ্য সন্তান
যারা পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান, তারা এ রাতের বরকত থেকে বঞ্চিত। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমার প্রতিপালক নির্দেশ দিয়েছেন যে, তিনি ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করবে না এবং পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণ করবে।’ (সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত : ২৩)

গিবতকারী বা পরনিন্দাকারী
যারা অন্যের দোষ-ত্রুটি ও গোপন বিষয় প্রচার করে বেড়ায়, তারাও এ রাতে ক্ষমা পাবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা গিবত করো না। তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে পছন্দ করবে? তোমরা তো তা ঘৃণাই করো।’ (সুরা হুজরাত, আয়াত : ১২)

চোগলখোর
যারা মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির জন্য একজনের কথা অন্যজনের কাছে বলে বেড়ায়, তারাও ক্ষমা থেকে বঞ্চিত হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘চোগলখোর জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬০৫৬)