logo

স্বজনহারা মানুষকে সান্ত্বনা দিলে যে সওয়াব পাবেন 

স্বজনহারা মানুষকে সান্ত্বনা দিলে যে সওয়াব পাবেন 

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘মুমিনরা পরস্পর ভাই ভাই।’ (সুরা হুজুরাত, আয়াত: ১০)। পৃথিবীর এক প্রান্তের মুসলমান, আরেক প্রান্তের মুসলমানের ভাই। এখানে ধনী-গরিব, সাদা-কালোর কোনো পার্থক্য নেই। ভাই ভাইয়ের এ সম্পর্কে কোনো কৃত্রিমতা নেই। সীমানা, প্রাচীর, দূরত্বের বাধা নেই। এ সম্পর্কের নির্মাতা মহান আল্লাহ।  

মুসলমান একজনের বিপদে আরেকজন পাশে দাঁড়াবে। সুখে হাসবে। দুঃখে কাঁদবে। শোকাহতকে সান্ত্বনা দেবে। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই মুমিনরা পরস্পর প্রাচীরের মতো, যা একটি অপরটিকে শক্তিশালী করে। এই বলে নবী (সা.) তাঁর আঙুলগুলো পরস্পর মিলিয়ে দেখান।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৬৮০) 

স্বজনহারা মানুষকে রাসুলুল্লাহ (সা.) সান্ত্বনা দিতেন। তাকে বুঝাতেন। তার কষ্ট লাঘবের চেষ্টা করতেন। বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ালে আল্লাহ সওয়াব দেন। বান্দার প্রতি তিনি খুশি হন। তাকে সম্মানের পোশাক পরান। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে তার মুমিন ভাইয়ের বিপদে সান্ত্বনা দেবে, আল্লাহ কেয়ামতের দিন তাকে সম্মানের পোশাক পরাবেন।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৬০১) 

বিপন্নকে সান্ত্বনা দিলে সওয়াব পাওয়া যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে কোনো বিপন্নকে সান্ত্বনা দেয়, সে তার সমান প্রতিদান পায়।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১০৭৩) 

শোকাহতকে খুবই চমৎকার ভাষায় সান্ত্বনা দিতেন মহানবী (সা.)। তিনি এমন কথা বলে সান্ত্বনা দিতেন, যা ব্যক্তির দুনিয়া-আখেরাতে কল্যাণ সুনিশ্চিত করত। উসামা ইবনে জায়েদ (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মেয়ে (জয়নব) তাঁর খেদমতে লোক পাঠিয়ে বললেন, ‘আমার এক ছেলে মুমূর্ষু অবস্থায়, তাই আপনি আমাদের এখানে আসুন।’ তিনি বলে পাঠালেন, ‘(তাকে) সালাম দেবে এবং বলবে, সবকিছু আল্লাহরই অধিকারে যা-কিছু তিনি নিয়ে যান। আর তাঁরই অধিকারে যা-কিছু তিনি দান করেন। তাঁর কাছে সবকিছুর একটি নির্দিষ্ট সময় আছে। সুতরাং সে যেন ধৈর্যধারণ করে এবং প্রতিদানের আশায় থাকে।’ তখন তিনি তাঁর কাছে শপথ দিয়ে পাঠালেন, তিনি যেন অবশ্যই আসেন। তখন তিনি দাঁড়ালেন এবং তাঁর সঙ্গে ছিলেন সাদ ইবনে উবাদা, মুয়াজ ইবনে জাবাল, উবাই ইবনে কাব, জায়েদ ইবনে সাবেত (রা.) এবং আরও কয়েকজন। তখন শিশুটিকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে তুলে দেওয়া হলো। তখন তিনি মৃত্যুযন্ত্রণায় ছটফট করছিল। বর্ণনাকারী বলেন, ‘আমার ধারণা, তিনি এ বলেছিলেন, যেন তার শ্বাসে মশকের মতো (আওয়াজ হচ্ছিল)। আর রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দুচোখ বেয়ে অশ্রু ঝরছিল। সাদ (রা.) জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, এ কী?’ তিনি বললেন, ‘এ হচ্ছে রহমত, যা আল্লাহ তাঁর বান্দার অন্তরে আমানত রেখেছেন। আর আল্লাহ তো তাঁর দয়ালু বান্দাদের প্রতিই দয়া করেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১২২৪) 

মৃতের স্বজনদের সান্ত্বনা দিতেন হজরত মুহাম্মদ (সা.)। তিনি মৃতের স্বজনদের খোঁজ নিতেন। তাদের পাশে দাঁড়াতেন। স্বজনদের জন্য খাবার পাঠাতেন। আব্দুল্লাহ ইবেন জাফর (রা.) বলেন, ‘(আমার পিতা) জাফর (রা.)-এর শাহাদাতের সংবাদ যখন পৌঁছে, তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘোষণা দিলেন, ‘জাফরের পরিবারের জন্য খাবার তৈরি করো। কারণ, তাদের এমন খবর এসেছে, যা নিয়ে তারা ব্যতিব্যস্ত রয়েছে।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৯৯৮)