ইসলামে সময় ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব

সময়ের সমষ্টির নাম জীবন। সময় ফুরিয়ে গেলে জীবন ফুরিয়ে যায়। নিভে যায় জীবনের প্রদীপবাতি। ছিন্ন হয়ে যায় পৃথিবীর সঙ্গে সম্পর্ক ও সব ধরনের আয়োজন। সময়কে কাজে লাগাতে হবে। সময়কে ধারণ করতে হবে। সময়ের অপব্যবহার ও অপচয় করা যাবে না।
একশ্রেণির মানুষ সময়ের মূল্য বোঝে। সময়কে কাজে লাগায়। তারা আল্লাহর ইবাদত করে। আল্লাহর বিধান মেনে চলে। কোরআন তেলাওয়াত করে। জিকির ও তাসবিহ পাঠ করে। হালাল রোজগার করে। হালাল খায়। মানুষকে ইসলামের পথে ডাকে। তারা সময়ের সঠিক ব্যবহারে আখেরাত ও পৃথিবীর সাফল্য নিশ্চিত করে। সময়ের গুরুত্বের বিষয়ে আল্লাহ বলেন, ‘সময়ের শপথ! মানুষ অবশ্যই ক্ষতির মধ্যে রয়েছে। তবে তারা নয়, যারা ইমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, একে অপরকে সত্যের উপদেশ দিয়েছে এবং ধৈর্যের উপদেশ দিয়েছে।’ (সুরা আসর, আয়াত : ১-৩)
ভোগবিলাস আর কামনা-বাসনা পূরণের নাম জীবন নয়। জীবন ও সময়ের ওপর অত্যাচার করা যাবে না। আজকাল অধিকাংশ মানুষ ইসলাম পালনের দিক দিয়ে সময়কে মূল্যায়ন করার ব্যাপারে গুরুত্ব দেয় না। সময়ের অবমূল্যায়নে নিজেকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে প্রতিনিয়ত। সময়ের অপচয় করা মানে জীবনকে ধ্বংস করা। বিপদ ডেকে আনা। আল্লাহ বলেন, ‘বলুন, আমি কি তোমাদের সেসব লোকের সংবাদ দেব, যারা কর্মের দিক দিয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। তারাই সেসব লোক, যাদের প্রচেষ্টা পার্থিব জীবনে বিভ্রান্ত হয়; অথচ তারা মনে করে যে তারা সৎকর্ম করছে।’ (সুরা কাহাফ, আয়াত : ১০৩-১০৪)
শয়তান মানুষকে ভালো কাজ করা থেকে বিরত রাখে। বাধা দেয়। মন্দ কাজের দিকে প্ররোচিত করে। প্রলোভন দেখায়। কোরআনে আছে, ‘শয়তানরাই মানুষকে সৎপথে চলতে অবশ্যই বাধা দেয়, আর মানুষ মনে করে যে, তারা সঠিক পথে রয়েছে।’ (সুরা জুখরুফ, আয়াত : ৩৭)
প্রতিটি মুহূর্ত ইবাদতে ব্যয় করা মুসলিমের নৈতিক দায়িত্ব। ইসলামে সময়ের অপব্যবহারের সুযোগ নেই। যারা হেলায় খেলায় সময় কাটায় তাদের ব্যাপারে আল্লাহ বলেন, ‘যখন তাদের কারও কাছে মৃত্যু আসে, তখন সে বলে দুনিয়ায় ফেরত পাঠান।’ (সুরা মুমিনুন, আয়াত : ৯৯)
যারা সময়ের সঠিক ব্যবহার করেনি, সময়কে আল্লাহর জন্য ব্যয় করেনি, তারা মৃত্যুর পর আফসোস করবে। তারা পুনরায় পৃথিবীতে আসার আকুতি জানাবে। সৎ কাজের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করবে। কোরআনে আছে, ‘যাতে আমি সৎ কাজ করতে পারি, যা আমি ছেড়ে দিয়েছিলাম।’ (সুরা মুমিনুন, আয়াত : ১০০)। আরেক আয়াতে আছে, ‘জাহান্নামকে সেদিন (সামনাসামনি) আনা হবে। সেদিন মানুষ উপলব্ধি করবে, কিন্তু তখন এ উপলব্ধি তার কী কাজে আসবে?’ (সুরা ফাজর, আয়াত : ২৩)
একজন মানুষের জীবনের মৌলিক দিক হলো যৌবনকাল। অনেকের যৌবনকালই কাটে হেলায় খেলায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘পাঁচটি বিষয়কে পাঁচটি বিষয়ের আগে মূল্যায়ন করো। এক. তোমার যৌবনকে বার্ধক্যের আগে। তোমার সুস্থতাকে অসুস্থতার আগে। তোমার ধনাঢ্যকে দারিদ্র্যের আগে। তোমার অবসরতাকে ব্যস্ততার আগে। পাঁচ. তোমার জীবনকে মৃত্যুর আগে।’ (মুসতাদরাকুল হাকিম, হাদিস : ৭৮৮৬)
অপ্রয়োজনীয় কাজ, অলসতা, ফেসবুক বা টিভিতে অতিরিক্ত সময় নষ্ট করা এবং অযথা কথাবার্তায় লিপ্ত হওয়া— এসবই সময়ের অপচয়। কিয়ামতের দিন সময়ের অপচয়ের হিসাব দিতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন বান্দার পা এক জায়গা থেকে সরবে না যতক্ষণ না সে চারটি প্রশ্নের জবাব দেবে— এক. জীবনে কীভাবে সময় কাটিয়েছিল? দুই. যৌবনকাল কীভাবে কাটিয়েছিল? তিন. সম্পদ কোথায় উপার্জন করেছিল এবং কোথায় ব্যয় করেছিল? চার. যে জ্ঞান অর্জন করেছিল, তা কতটুকু আমল করেছিল?’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ২৪১৭)