অজুর পর নখ কাটলে কি অজু ভেঙে যায়

অজু ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত। নামাজের আগে অজু করা বাধ্যতামূলক। নামাজ ছাড়াও অনেক ইবাদতের জন্য অজু করতে হয়। যেমন- হজ ও কোরআন স্পর্শ করতে অজুর প্রয়োজন হয়।
পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনরা, যখন তোমরা নামাজের জন্য প্রস্তুত হবে তখন তোমাদের মুখ ও হাত কনুই পর্যন্ত ধৌত করবে এবং মাথা মাসেহ করবে আর পা টাখনু (গ্রন্থি) পর্যন্ত ধৌত করবে।’ (সুরা মায়েদা, আয়াত: ৬)
অজুর ফরজ চারটি। যথা: সমস্ত মুখ ধোয়া, উভয় কান কনুইসহ ধোয়া, গোড়ালিসহ দুই পা ধৌত করা ও মাথার চার ভাগের এক ভাগ মাসাহ (পানি দিয়ে স্পর্শ) করা। এই চারটির কোনো একটা বাদ পড়লে অজু হবে না। পরিপূর্ণভাবে এই চার কাজ করলে অজু হয়ে যায়।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অংশ হিসেবে আমরা দাড়ি-গোঁফ পরিপাটি রাখি, শরীরের লোম ছাঁটি, নিয়মিত গোসল করি, দাঁত মেজে পরিষ্কার রাখি এবং নখ কাটি। ইসলামি শরিয়তে নখ কাটা সুন্নত। সপ্তাহে একদিন নখ কাটাকে সুন্নত হিসেবে ধরা হয়। তবে নখ কাটা ঘিরে সমাজে ভুল ধারণা প্রচলিত আছে। কেউ কেউ মনে করেন, অজু করার পর নখ কাটলে অজু ভেঙে যায়।
অজু ভঙ্গের সাতটি কারণ রয়েছে। এই কারণগুলো পাওয়া গেলে অজু ভেঙে যাবে। অজু ভঙ্গের সাত কারণ হলো-
- পায়খানা ও প্রস্রাবের রাস্তা দিয়ে কোনো কিছু বের হওয়া।
- রক্ত, পূঁজ বা পানি বের হয়ে গড়িয়ে পড়া।
- মুখ ভরে বমি করা।
- থুথুর সঙ্গে রক্তের ভাগ সমান বা বেশি হওয়া।
- চিৎ বা কাত হয়ে হেলান দিয়ে ঘুম যাওয়া।
- পাগল, মাতাল বা অচেতন হওয়া।
- নামাজে উচ্চস্বরে হাসা।
অজু ভাঙার উল্লিখিত সাত কারণের মধ্যে নখ কাটার কথা নেই। তাই অজুর পর নখ কাটলে অজু ভাঙবে না। নতুন করে অজু করার কোনো প্রয়োজন নেই।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত আবুল হাসান মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ সম্পাদিত মাসিক আল-কাউসারের এক ফতোয়ায় বলা হয়েছে, ‘অজুর পর নখ কাটা হলে তা নতুন করে ধৌত করার প্রয়োজন নেই। এ কারণে অজুর কোনো ক্ষতি হয় না। তাবেয়ি ইউনুস (রহ.) বলেন, ‘হাসান বসরি (রহ.)-কে জিজ্ঞাসা করা হলো, অজুর পর চুল ও নখ কাটলে (পুনরায় ওই স্থান ধোয়া বা অজু করা) কি আবশ্যক? তিনি বললেন, কোনো কিছুই আবশ্যক নয়।’ (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, বর্ণনা: ৫৭৬)
